Monday, January 16, 2012
প্রচ্ছদ রচনা-লিবিয়া যুদ্ধের দশটি মিথ্যা
প্রচ্ছদ রচনা-লিবিয়া যুদ্ধের দশটি মিথ্যা
শেষ পর্যন্ত গাদ্দাফিকে 'ক্রসফায়ারে' হত্যার মধ্য দিয়ে পশ্চিমা আগ্রাসী শক্তির মরিয়া নোংরামি আরেকবার প্রমাণিত হলো। কিন্তু গাদ্দাফিকে হত্যার পরিকল্পনা শুরু হয়েছিল অনেক আগেই। পশ্চিমা আশীর্বাদপুষ্ট মিডিয়া প্রতিদিন একটু একটু করে এই কাজটি করেছে সুকৌশলে। আরব বিশ্বে তেললোভী পশ্চিমাদের ষড়যন্ত্রের শিকার আর কে হবে, তা বোঝার আগে মিডিয়ার এই ষড়যন্ত্র বোঝা জরুরি।
বিদেশি গবেষকদের তথ্য নিয়ে তেমনই ১০টি 'তৈরি করা সংবাদ' জানাচ্ছেন তানজীর মেহেদী মার্কিন বিরোধিতার পরিণতি যা হওয়ার, তা-ই হলো লিবীয় নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির বেলায়ও। দিনটি ছিল ২০ অক্টোবর, ২০১১। পশ্চিমা আশীর্বাদপুষ্ট অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ (এনটিসি) আর ন্যাটোর বিমান হামলায় ক্রমেই পিছু হটতে হটতে উপায়ান্তর না দেখে পালানোর সিদ্ধান্ত নিলেন গাদ্দাফি। পালানোর সময় একসঙ্গে হামলা চালায় ব্রিটিশ, আমেরিকান ও ফরাসি যুদ্ধবিমান। নিরুপায় হয়ে রাস্তার পাশেই নেমে একটি পাইপের ভেতরে আশ্রয় নেন এককালের প্রতাপশালী শাসক মুয়াম্মার আল গাদ্দাফি। আন্তর্জাতিক আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলেও দেখামাত্রই গুলির নির্দেশ কিন্তু দেয়নি। তবুও 'গুলি করো না' বলেও অনুকম্পা পাননি। পাইপ থেকে টেনে-হিঁচড়ে তাঁকে বের করে আনে এনটিসি সেনারা। এর আগেই আহত হয়েছিলেন। এরপর যা ঘটল, তার সচিত্র প্রতিবেদন দেখেছে গোটা বিশ্ব। শত অন্যায়ও যেন ওই বর্বরতার সাফাই গাইতে পারে না। আহত গাদ্দাফিকে মারধর, এমনকি জুতোপেটাও করেছে এনটিসি সেনারা। কেউ কেউ ময়লাও ছুড়ে মারে। এরপর গাদ্দাফির মৃতদেহ নিয়ে উল্লাসে মাতে এনটিসির সেনারা। আর ব্ল্যাকবেরি ফোনে এসব ভিডিও ফুটেজ দেখে উচ্ছ্বসিত হিলারি ক্লিনটন বলেন, 'ওয়াও!', ফেলেছেন স্বস্তির নিঃশ্বাস। উল্লাস প্রকাশ করেছেন ওবামা, সারকোজি ও ক্যামেরনরা। কিন্তু এনটিসি সেনাদের ওই 'কাণ্ড' মেনে নেয়নি অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর। গাদ্দাফি হত্যাকাণ্ডের চুলচেরা তদন্ত দাবি করেছে সংস্থাগুলো। কারণ জীবিতই আটক করা হয়েছিল গাদ্দাফিকে। চাইলে বিচারের মুখোমুখি করা যেত তাঁকে। এদিকে মৃত্যুর আগেই অবসান ঘটে গাদ্দাফির ৪২ বছরের শাসনের। মার্কিন আশীর্বাদপুষ্ট এনটিসিই গ্রহণ করেছে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির দায়িত্ব। আট মাসের মধ্যে নির্বাচনের ঘোষণাও দিয়েছেন এনটিসিপ্রধান মাহমুদ জিবরিল। কিন্তু ঝামেলা আছে খোদ এনটিসির মধ্যেই। তবুও পশ্চিমা শক্তিদের দ্বিধাহীন সমর্থন আপাতত তাদের দিকেই। ইতিমধ্যে ওবামা প্রশাসন লিবিয়ার জব্দ করা সব অর্থ ফেরত দেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছে। তবুও সংশয় কাটছে না দেশটির পুনর্গঠন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে। আর যুদ্ধকালীন লিবিয়া পরিস্থিতি নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের অযাচিত হস্তক্ষেপ ও বাড়াবাড়ি জন্ম দিয়েছে নানা প্রশ্নের। তাদের ছুড়ে দেওয়া কিছু অভিযোগ তো এরই মধ্যে অসত্য মিথ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন কানাডার মন্ট্রিলের কনকর্ডিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান ও নৃতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ম্যাঙ্িিমলিয়ান ফোর্ট। মিথগুলোর মধ্যে আছে লিবিয়া যুদ্ধ, গাদ্দাফি ও তাঁর শাসনামল নিয়ে বারবার ঘুরে-ফিরে আসা অভিযোগ। অভিযোগগুলো উত্থাপন করেছে ন্যাটো, ইউরোপীয় নেতারা, ওবামা প্রশাসন, মূলধারার গণমাধ্যম, তথাকথিত 'আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত' ও বিদ্রোহীরা। আসলেই কি অভিযোগগুলোর মধ্যে সত্যতা ছিল? আসুন খতিয়ে দেখি।
গণহত্যা!
ফেব্রুয়ারি, ২০১১। লিবিয়ার রাজপথে কেবল দানা বাঁধতে শুরু করেছে বিক্ষোভ। তার দিনকয়েক না ঘুরতেই ২১ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘে লিবিয়ার উপস্থায়ী প্রতিনিধি ইব্রাহিম দাব্বাশি নিজ দেশের শাসকের বিরুদ্ধাচরণ করে মন্তব্য করে বসলেন। তিনি বললেন, 'আমরা ত্রিপোলিতে প্রকৃতার্থেই একটি ভয়াবহ গণহত্যার আভাস পাচ্ছি। বিমানগুলো এখন ভাড়াটে সেনাদের বিমানবন্দরে নিয়ে আসছে।' দাব্বাশির এই অতিকথন জন্ম দিল আরো কিছু অতিকথনের। একটি বক্তব্যের ভেতর দিয়ে দাব্বাশি আসলে তিনটি বিষয়ের ইঙ্গিত করেছেন। প্রথমত, বিমানবন্দরের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আসলে সেনা হস্তক্ষেপের বিষয়টিকে উস্কে দিয়েছেন। দ্বিতীয়ত, ভাড়াটে সেনা দিয়ে বুঝিয়েছেন কৃষ্ণাঙ্গ মানুষগুলোকে, যা বর্ণবাদকেও নির্দেশ করে। আর তৃতীয়ত, 'গণহত্যার হুমকি' কথাটি বলে জাতিসংঘকে তাত্তি্বকভাবে দায় গ্রহণের বিষয়টি নিয়ে একটু নড়েচড়ে বসতে বাধ্য করলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতেই ঠিক দুই দিন পরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা জানালেন, 'আমি আমার প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছি, তারা যেন গাদ্দাফির বিরুদ্ধে সবভাবে প্রস্তুত থাকে।'
কিন্তু গণহত্যা নিয়ে তো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত আইনি সংজ্ঞা রয়েছে। গণহত্যার মতো অপরাধ রোধ ও দণ্ড নির্ধারণে ১৯৪৮ সালের জাতিসংঘ সম্মেলনে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। সেখানে বলা হয়_'একটি জাতিগত, নৃতাত্তি্বক, সাম্প্রদায়িক বা ধর্মীয় গ্রুপকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হত্যা করা হলে সেটাই হবে গণহত্যা।' কিন্তু সব সহিংসতামূলক ঘটনা গণহত্যা নয়। গৃহবিবাদ, আন্তকলহ কোনোভাবেই গণহত্যার শামিল নয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও পশ্চিমা ন্যাটো বাহিনী যখন লিবিয়ায় বিমান হামলা চালাল, ওই হামলায়ও প্রাণ হারিয়েছে অসংখ্য মানুষ। তখন কি সেটা গণহত্যা নয়?
নিজের লোকের ওপর বোমা ছুড়েছে গাদ্দাফি!
একটু ভাবুন তো, কোনো বিচার-বিবেচনা না করেই প্রাথমিকভাবে লিবিয়াকে 'নো ফ্লাই জোন'-এর আওতায় আনা হয়েছিল কেন? কারণটা আর কিছুই নয়, গাদ্দাফি যেন বিমানযোগে তাঁর লোকদের ওপর বোমা হামলা চালাতে না পারেন, সে ব্যবস্থাটাই করা হয়। আসলেও কি তাই? এমন অশুভ চাল অবশ্য সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধেও দেওয়া হয়েছিল। 'সতর্ককারী' যখন 'গণহত্যা' প্রসঙ্গে সতর্কবার্তা ছুড়ল, সঙ্গে সঙ্গে লিবিয়াবিরোধীরাও সেই সুরে কথা বলা শুরু করল। আল-জাজিরা ও বিবিসি উভয় গণমাধ্যই দাবি করল, গাদ্দাফি তাঁর বিমানবাহিনীকে বিক্ষোভ দমনে ব্যবহার করছেন। চ্যানেলগুলো প্রচার করল, প্রতক্ষ্যদর্শীরা শহরে বিমান হামলা হতে দেখেছে। মার্চের প্রথম দিনে পেন্টাগনে এক সংবাদ সম্মেলন করেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্ট গেটস। তাঁর কাছে গাদ্দাফির বিমান হামলার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, 'আমরা আসলে প্রতিবেদনে সেটা দেখেছি। কিন্তু এ বিষয়ে আমাদের কাছে এখনো কোনো প্রমাণ নেই।' তাঁর পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা অ্যাডমিরাল মুলেনও জানালেন, 'এটাই সত্য, আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।' অথচ নিরস্ত্র বিক্ষোভাকারীদের ওপর গাদ্দাফি হেলিকপ্টার যোগেও হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ তোলা হয়। আসলে এর মধ্য দিয়ে একটু অন্য ভাবেই খেলেছেন খেলাটা। পশ্চিমা বিমানগুলো যেন সহজেই লিবিয়ার আকাশসীমায় প্রবেশ করতে পারে, সে পথটা সুগম করাই ছিল মুখ্য উদ্দেশ্য।
বেনগাজি বাঁচাও!
একে একে সব শহরের দখল নিল এনটিসি। সর্বশেষ গাদ্দাফির জন্ম শহর সার্তে দখলের মধ্য দিয়ে এনটিসির কবজায় এল গোটা লিবিয়ার নিয়ন্ত্রণ। প্রায় ৯ মাসের যুদ্ধে প্রকম্পিত হয়েছে লিবিয়ার শহরগুলো। গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে কত শত স্থাপনা। তবে একটা বিষয় বেশ লক্ষণীয়, বেনগাজিটা কিভাবে যেন ধ্বংসস্তূপ হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পেয়ে গেল! আর, জানেন তো আন্তর্জাতিক বিচারে বেনগাজিকে 'পবিত্র শহর' হিসেবেই কিন্তু দেখা হচ্ছে। ত্রিপোলি, সার্তে, সাবাহ_এসব শহর চুলোয় যাকগে, কার কী? কিন্তু বেনগাজির জন্য রয়েছে ওবামার বিশেষ দৃষ্টি, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভালোবাসা আর ন্যাটোর কড়া নজরদারি। 'আমরা যদি আরেকটি দিনও দেরি করি' উল্লেখ করে ২৮ মার্চ ওবামা তো বলেই ফেলেছেন, 'বেনগাজি নির্বিচারে নৃশংসতার শিকার হতে পারে। আর তাই যদি হয় তবে গোটা অঞ্চলে এই ক্ষত প্রতিধ্বনিত হবে এবং তা বিশ্ব চেতনাতেও আঘাত হানবে।' মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামা, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরন ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস সারকোজির যৌথ স্বাক্ষরিত এক পত্রেও বলা হয়, 'খুব দ্রুততার সঙ্গেই আমাদের দেশের সেনারা এগিয়ে যাচ্ছে। ক্রমেই পিছু হটছে গাদ্দাফি বাহিনী। এই রক্তস্নান থেকে বেনগাজিকে রক্ষা করায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলাম আমরা, এতে সক্ষম হয়েছি। ১০ হাজারেরও বেশি লোকের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।' উল্লেখ্য, গোটা লিবিয়ার অর্থনীতির সিংহভাগ নিয়ন্ত্রণ হয় এই বন্দরনগরী থেকেই। এখানেই গড়ে ওঠেছে দেশটির বেশির ভাগ শিল্পপ্রতিষ্ঠান। তেলনির্ভর অর্থনীতির এই দেশটির প্রধান দুই প্রতিষ্ঠান আল-ব্রেগা ও অ্যারাবিয়ান গলফ অয়েল কম্পানি তাদের কর্ম পরিচালনা করে এ শহর থেকেই।
আফ্রিকার ভাড়াটে সেনা
ফেব্রুয়ারি থেকেই গাদ্দাফিবিরোধীরা (শুরু থেকেই যারা বিদেশি শক্তির সমর্থন পেয়ে আসছে) দাবি করার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠা করারও চেষ্টা করেছে, চলমান যুদ্ধে দুটি পক্ষ রয়েছে। একদিকে আছে কেবল গাদ্দাফি ও তাঁর পরিবার, আর অন্যদিকে রয়েছে সব লিবীয় জনগণ। আর গাদ্দাফি বাহিনী নিয়ে তাদের ভাষ্য ছিল, তাদের সবাই ভাড়াটে, তাদের সবাই আফ্রিকার কৃষ্ণাঙ্গ, আর তাদের উদ্দেশ্য যুদ্ধের বিনিময়ে অর্থ প্রাপ্তি। 'আফ্রিকান মার্চেনারি' সম্পর্কিত পশ্চিমা মিথটির 'প্রায়োগিক ব্যবহার' নিয়ে সবচেয়ে ভালো সার-সংক্ষেপ টেনেছেন প্যাট্রিক ককবার্ন। তিনি উল্লেখ করেন, জেনেভা সম্মেলনের পরিপন্থী হলেও কৃষ্ণাঙ্গ কয়েদিদের মিডিয়ার মুখোমুখি করা হয়েছে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল প্রমাণ করেছে, মুক্তি পাওয়া কারাবন্দিদের কেউই আসলে যোদ্ধা ছিল না। তারা সবাই ছিল অবৈধ শ্রমিক। যাদের ঠিকানা মালি, শাদ ও পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলো। এই মিথটি প্রতিষ্ঠার পেছনের যুক্তি হচ্ছে, তারা আন্তর্জাতিক বিশ্বকে দেখাতে চেয়েছে গাদ্দাফির প্রতি কোনো লিবীয় নাগরিকের সমর্থন নেই। মিথ্যাকে আশ্রয় করে এমন প্রকাণ্ড ও প্রকৃত (!) গল্প তৈরি করল মিডিয়া ও পশ্চিামারা, যা শুনলে 'খুব মজাদার' গল্প হিসেবে কেবল শিশুরাই বিশ্বাস করতে পারে! পশ্চিমা সমর্থিত 'নতুন লিবিয়া' ও প্যান-আফ্রিকানিজম লিবিয়ার মধ্যে পার্থক্য দেখাতেও এই মিথটি বেশ উপযুক্ত ছিল। প্রকৃতার্থে অনেক বিদ্রোহী আসলে এটাই চেয়েছিল। মিথটি প্রতিষ্ঠা করতে কিছু মিডিয়া উঠে-পড়ে লাগলেও, শেষ রক্ষাটা হয়নি।
ভায়াগ্রা সেবন ও গণধর্ষণ
গাদ্দাফির শাসনামলে এত বেশি মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে, যা বলার অপেক্ষা রাখে না। মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো শুনে বিস্মিত হবেন যে কেউই। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এর পরও কেন নতুন গল্প তৈরির প্রয়োজনীয়তা দেখা দিল? কেন প্রচার করা হলো, গাদ্দাফি সমর্থকরা ভায়াগ্রা সেবন করে গণধর্ষণ করছে লিবীয় নারীদের? এ ধরনের গল্প ফেরি করার সম্ভাব্য কারণ হলো, ভারাক্রান্ত সাধারণ জনতার দৃষ্টি আকর্ষণ করা। অনেকে না বুঝেই লিবিয়াতে ভায়াগ্রা বিক্রি বন্ধে নানা পদক্ষেপও নিতে শুরু করেছিল। অথচ লিবীয় নাগরিকরা একবারও ভেবে দেখেনি, অন্যের দ্বারা প্ররোচিত হয়ে নিজেদের নামেই কুৎসা রটাচ্ছে তারা।
কাতারভিত্তিক টিভি চ্যানেল আল-জাজিরা তার অংশীদার 'বিদ্রোহী'দের নিয়েই সর্বপ্রথম ভায়াগ্রার গল্পটি ফাঁদে। পরে পশ্চিমা মিডিয়াগুলো এই সংবাদ পরিবেশনে উদগ্রীব হয়ে ওঠে। এমনকি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রধান আইনবিদ লুইস মরেনো-ওক্যাম্পো বিশ্বগণমাধ্যমের সামনে দাঁড়িয়ে বলেন, 'আমাদের কাছে প্রমাণ আছে, ধর্ষণের আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলতে গাদ্দাফি তাঁর অনুগত বাহিনীর কাছে ভায়াগ্রা বিতরণ করছেন।' সেনাদের শত শত নারীকে ধর্ষণের নির্দেশও দিয়েছেন গাদ্দাফি বলেও জানান ওক্যাম্পো। তিনি আরো বলেন, 'আমরা জানতে পেরেছি, গাদ্দাফি নিজেও ধর্ষণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যারা গাদ্দাফির বিরোধিতা করবে তাদের সবাইকে ধর্ষণ করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে গাদ্দাফি সমর্থকরা।' এমনকি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের মার্কিন দূত সুসান রাইচও ভায়াগ্রা নিয়ে গাদ্দাফির বিরুদ্ধে একই অভিযোগ উত্থাপন করেন। যদিও তথ্য-প্রমাণাদির প্রশ্নে বরাবরের মতো চুপ মেরে যান তিনিও। তবে মার্কিন সেনা ও গোয়েন্দা সূত্রগুলো এনবিসি নিউজের কাছে বলেছে, লিবীয় সেনা কর্তৃক ভায়াগ্রা সেবন করে কিংবা বলপ্রয়োগ করে ধর্ষণের বা ধর্ষণচেষ্টার কোনো তথ্য-প্রমাণ মেলেনি। বিদ্রোহী এলাকাগুলোতে কোনো ধর্ষণের ঘটনারও প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলেও জানায় তারা। মার্কিন সেনাদের এমন স্বীকারোক্তির পর একটু সুর পাল্টে কথা বলেন 'লেডি ক্লিনটন'। মার্কিন এই পররাষ্ট্রমন্ত্রী গাদ্দাফির নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি দোষ চাপালেন তৃতীয় আরেকটি দলের ওপর। তারা আসলে কারা হিলারি নিজেও জানতেন না! তবে নিজেও একজন নারী বলেই হয়তো বিষয়টি নিয়ে বেশ 'উদ্বিগ্ন' দেখা গেছে হিলারি ক্লিনটনকে। কিন্তু জুনের ১০ তারিখে পাল্টে যায় সব হিসাব-নিকাশ। লিবিয়ায় ধর্ষণের অভিযোগটি খতিয়ে দেখার পর জাতিসংঘের মানবাধিকার কর্মকর্তা শেরিফ ব্যাসিওনি বলেন, ধর্ষণের অভিযোগটি 'বড় ধরনের স্নায়ুবৈকল্য' ছাড়া কিছুই নয়। তবুও থামানো যায়নি গণমাধ্যমগুলোকে। এক হাত দেখে নিতে চাইল বিবিসি। এই বার্তাসংস্থাটি জানাল, এমন বক্তব্য প্রদানের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ও গণমাধ্যমকে হেয়প্রতিপন্ন করেছেন ব্যাসিওনি।
রক্ষার দায়!
ভুল হলেও আমরা জেনেছিলাম, গাদ্দাফি বাহিনীর নেতৃত্বেই লিবিয়াতে 'গণহত্যা' সংঘটিত হতে যাচ্ছে। আর এই প্রচারণাটা সুগম করে দিল পশ্চিমাদের অবৈধ হস্তক্ষেপের পথ। জাতিসংঘের ২০০৫ সালের 'রেসপনসিবিলিটি টু প্রোটেক্ট (আর টু পি)' নীতি কার্যকর করতে মরিয়া হয়ে উঠল পশ্চিমা জোট। এদিকে লিবিয়া পরিস্থিতিও মিসর, সিরিয়া ও ইয়েমেনের মতো রূপ নিতে শুরু করেছে। কিন্তু জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ১৯৭৩ সালের প্রস্তাবনা অনুসারে, একটা বিষয় তখনো পরিষ্কার হয়নি যে 'মানবতা রক্ষায় হস্তক্ষেপ' অজুহাত দিয়ে পশ্চিমা সেনাদের লিবিয়ায় প্রবেশ করার যৌক্তিকতা কতখানি। কিন্তু পশ্চিমারা সব জায়গায় যেতে না পারার অর্থ কিন্তু এই নয়, তারা লিবিয়ায় হস্তক্ষেপ করতে পারবে না! কিন্তু পশ্চিমাদের কাছে লিবিয়া কেন লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হলো, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যাখ্যা দাঁড় করাতে পারেনি তারা। আর এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। জাতিসংঘের 'আর টু পি' নীতির বিরুদ্ধে নানা সমালোচনা রয়েছে। এই নীতিকে আধিপত্য ও প্রভুত্ববাদী ভূ-রাজনীতির লজ্জাস্থান ঢাকার 'ডুমুর পাতা' হিসেবেই দেখছেন অনেকেই। কেননা গাজায় যখন সাধারণ ফিলিস্তিনিরা আক্রমণের শিকার হয়, তখন এ নীতি নিয়ে কেউই কোনো প্রশ্ন তোলে না। তাহলে কি নীতিটাই পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে? ফলে মানবতা রক্ষার অজুহাতে বিদেশি সেনারা প্রবেশ করল লিবিয়ায়। আর এই মিথকে কার্যকর করতে এড়িয়ে যেতে হলো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো, আফ্রিকার প্রতি চীনের দৃষ্টিভঙ্গি। কেননা পশ্চিমাদের সঙ্গে স্নায়ু-লড়াই করে আফ্রিকার মাটিতে নিজেদের স্বার্থ ও প্রভাব তৈরি করতে বেশ প্রস্তুত চীনারাও।
গাদ্দাফি_দ্য ডেমন
নিজের প্রতি বিশ্বস্ত থেকে বলুন তো, গাদ্দাফি কি নায়কোচিত বিপ্লবী, যিনি পরে পশ্চিমাদের কূটচালেই চরম আকার ধারণ করেছিলেন, না কি গাদ্দাফি আসলেই একজন বদ লোক? তবে এটাও সত্য যে উভয় ক্ষেত্রে গাদ্দাফির পাশবিক হয়ে ওঠা ছিল প্রয়োজনহীন ও অযৌক্তিক। আর গাদ্দাফির ক্ষমতা, শাসন ও ইতিহাসকে কলুষিত করতে পশ্চিমাদের কাছে এই মিথটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ ছিল। 'গাদ্দাফি কিছু করে দেখাতে চাননি, তিনি আগাগোড়াই একজন শয়তান ছিলেন'_এমন মিথ পরিবেশনের মধ্য দিয়ে পশ্চিমারা দেখাতে চেয়েছে, লিবিয়ায় গাদ্দাফির অনুগতরা তাদের সমর্থনের কথা স্বীকার করতে যেন লজ্জাবনত হয়ে পড়ে। আর প্রকাশ্যে যারা ন্যাটোর সঙ্গে রয়েছে, তারাই যেন বুক চিতিয়ে বলতে পারে 'আমরাই প্রকৃত লিবীয়'। যুদ্ধকালীন লিবিয়ায় একটু নজর দিলেই দেখা যাবে, সেখানে গাদ্দাফিবিরোধী এবং একই সঙ্গে বিদেশি হস্তক্ষেপ, তথা ন্যাটোর বিপক্ষে কথা বলছে_এমন কোনো দল বা ব্যক্তি নেই। এমনটা যেন না হয় সেই ব্যবস্থাটাও সেখানে বিরাজ করছিল। ফলে লিবীয়রা দুই ভাগেই বিভক্ত হয়ে পড়ে। ওই সময়টাতে ইতিহাস ঘেঁটে গাদ্দাফির মন্দ দিকগুলো বেশ গুরুত্বসহকারে উত্থাপন করা হয়েছিল। গ্লেন গ্রিনওয়ার্ল্ড নামের একজন তো বলেছেন, 'একজন মানুষ কোনোভাবেই গাদ্দাফির জন্য সহানুভূতি দেখাতে পারে না।' অথচ নিকারাগুয়া, ত্রিনিদাদ, ডমিনিকা, মন্ট্রিলের সাধারণ মানুষ গাদ্দাফির অন্ধভক্ত। কেবল বিভিন্ন দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের পক্ষে ছিলেন বলেই নয়, দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদের বিরুদ্ধাচরণের কারণেও তিনি পেয়েছেন জনপ্রিয়তা। গাদ্দাফি প্রশাসনের বেশ কয়টি মুখ ছিল। যাদের কেউ তাঁর বিরুদ্ধাচরণ করত, কেউ তাঁর মুখাপেক্ষী ছিল, আবার কেউ কেউ সারকোজি, কন্ডোলিৎসা রাইস, হিলারি ক্লিনটন ও বারাক ওবামার আশীর্বাদ পেয়ে মুচকি হাসত এবং এই মুখগুলোর সব কয়টি ছিল প্রকৃত সত্য।
এত কিছুর পরও মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট ও সংবাদমাধ্যম বিবিসি গাদ্দাফির কিছু সাফল্যকে স্বীকার করেছে। বিশেষ করে স্বাস্থ্য, আবাসন ও শিক্ষা খাত নিয়ে গাদ্দাফির প্রশংসা করতে বাধ্য হয়েছে ঘোর বিরোধীরাও। উল্লেখ্য, আফ্রিকার দেশগুলোর মধ্যে লিবিয়ায় শিক্ষার হার সবচেয়ে বেশি।
মুক্তিযোদ্ধা_দ্য অ্যাঞ্জেল
গাদ্দাফির বিরুদ্ধে প্রচারণার মধ্য দিয়ে আসলে 'বিদ্রোহীদের' বন্দনাই গাওয়া হয়েছে। যেন দেশটির সাধারণ নাগরিকরা বিদ্রোহীদের পক্ষে যেতে বাধ্য হয়। অথচ দীর্ঘ একটা সময় গেছে, যখন সংবাদকর্মীরা বিদ্রোহীদের সংগঠন ন্যাশনাল ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের (এনটিসি) সঙ্গে কোনো যোগাযোগই করতে পারেনি। তখন এনটিসির কার্যালয় ছিল বেনগাজি শহরে। এমনকি তারা জানায়নি কিভাবে, কারা গাদ্দাফিবিরোধী আন্দোলনের ছক-পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে বা হয়েছে। জানায়নি, এটা কি সম্পূর্ণ আলাদা একটি সংগঠন, নাকি বেশ কয়টি দল নিয়েই গঠিত হয়েছে। বলা হয়নি, এনটিসি গঠনের উদ্দেশ্য ও বিধেয়। তবুও বেশ কিছু সংবাদমাধ্যম বলার চেষ্টা করেছে, গাদ্দাফিবিরোধী আন্দোলনটি লিবীয় জনগণের স্বতঃস্ফূর্ততার বহিঃপ্রকাশ মাত্র। হয়তো আংশিকভাবে এ কথাটা সত্য অথবা গোটা বিষয়টি অতিরিক্ত সহানুভূতির অংশ। কিন্তু ২০০৫ সাল থেকে লিবিয়ায় কর্মরত ইউএসএইড, ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক ইনস্টিটিউট, ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট, ন্যাশনাল ইনডোমেন্ট ফর ডেমোক্রেসির মতো বহিরাগত প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সিআইএর আলোচনার খবরটি বেশ সাড়া ফেলে বিশ্লেষকদের মধ্যে। দানা বাঁধতে থাকে নানা সন্দেহ। যদিও অনেকেই 'ভালো ছেলেদের' তথা বিদ্রোহীদের প্রয়োজনেই এসব করা হয়েছে বলে মত দিয়েছেন। কিন্তু আমেরিকা তো এমন একটা বিশ্ব চায়, যেখানে সবাই দেখবে কেবল তারাই সব ভালো কাজ করে। তারা আরো দেখাতে চায়, পৃথিবীর জন্য তারা শুধু অপরিহার্যই নয়, নিষ্কলঙ্কও বটে! সত্য হলো, এটি এমন একটি বিশ্ব, যা আমেরিকার জন্য নিরাপদ। একই সঙ্গে এটি এমন একটি বিশ্ব, যা মন্দদের জন্য খুবই অনিরাপদ।
লিবীয় নাগরিকদের জয়
যুদ্ধ থেমে গেছে। জয়ও পেয়ে গেছে এনটিসি। গোটা লিবিয়ায় এখন অন্তর্বর্তী সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন। কিন্তু জয় অনেকাংশেই নিশ্চিত হওয়ার পরও কিংবা জয়লাভের পরও একটা চেষ্টা এখনো শেষ হয়নি। আর সেটা হলো, পশ্চিমাদের অনুপ্রেরণায় এনটিসি এখন দেখাতে চায়, দেশটির সাধারণ নাগরিকরা নিজেদের প্রয়োজনে এই বিজয় ছিনিয়ে এনেছে। এনটিসি চাচ্ছে, লিবিয়ার জনগণের পাশাপাশি গোটা বিশ্ব জানুক, নিজেদের ভাগ্য নিজেরা গড়তেই ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে প্রতাপশালী গাদ্দাফিকে। তারা পুরোপুরি অস্বীকার করতে চায় কিংবা করাতে চায় এ যুদ্ধে গাদ্দাফিরও জনসমর্থন থাকার বিষয়টি। শুরুর দিকে অর্থাৎ ২৫ ফেব্রুয়ারি রাস্তায় বিক্ষোভকারীদের নামতে দেখেই সারকোজি মন্তব্য করেছিলেন, গাদ্দাফিকে এবার 'অবশ্যই ক্ষমতা ছাড়তে' হবে। এর ঠিক তিন দিন পরই কোনো কূটনৈতিক আলাপ কিংবা কোনো ধরনের শান্তি আলোচনার প্রস্তাব ব্যতিরেকেই ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরন 'নো-ফ্লাই জোন' প্রস্তাবনা নিয়ে ব্যতিব্যস্ত হয়ে ওঠেন। ৩০ মার্চ প্রকাশিত দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কয়েক সপ্তাহ ধরেই সিআইএর একটি দল লিবিয়ার অভ্যন্তরে রয়েছে। এর মানেই হলো, আন্দোলন শুরু হওয়া মাত্রই সেখানে পেঁৗছে গেছে সিআইএ। একই সময়ে লিবিয়ায় অবস্থান নেন ডজনখানেক ব্রিটিশ স্পেশাল ফোর্স ও এমআই-সিঙ্রে কর্মকর্তা। ওই প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ওবামা একটি গোপন চিঠিতে স্বাক্ষর করে লিবিয়ার বিদ্রোহীদের অস্ত্র ও সব ধরনের সাহায্য প্রদানের নির্দেশ দেন সিআইএকে। শেষ পর্যন্ত পশ্চিমা জোট সেনাদের পাশাপাশি বিদ্রোহীদের জয় নিশ্চিত করতে আরো এসেছে জর্দান আর কাতারের সেনারাও। হাস্যকর বিষয় হলো, এত কিছুর পরও বলা হচ্ছে, লিবিয়ার জনগণই এ যুদ্ধে জয়লাভ করেছে।
'দ্য লেফট'-এর জন্য পরাজয়
২০০৯ সালে প্রথমবারের মতো 'দ্য লেফট'-এর ধারণাটা আমরা পেয়েছিলাম। সেই বছর ইরানের নির্বাচনে যারা বিরোধিতা করেছিল, তাদেরই 'লেফট' বলা হয়েছিল। কিন্তু লিবিয়ায় 'লেফট' আসলে কারা? সমজাতিক মনোভাবাপন্ন কোনো দল? নাকি সাম্রাজ্যবাদবিরোধী মার্কসপন্থী 'লেফট' বলতে যা বোঝানো হয়, তাই? কিন্তু তেমন কোনো কিছু লিবিয়ায় এখন পর্যন্ত নেই। তবে হ্যাঁ, একটা বিষয় নিয়ে আসলেই ভাবার সুযোগ আছে। আর সেটা হচ্ছে, বিদেশি হস্তক্ষেপ নিয়ে কি কারো প্রশ্ন তোলার আশঙ্কা রয়েই যাচ্ছে? নতুন লিবিয়ার পররাষ্ট্রনীতি নিয়েও হয়তো আসতে পারে কিছু প্রতিবন্ধকতা। এমন বিষয়গুলো প্রকৃতার্থেই পশ্চিমা বিশ্বের জন্য চিন্তার কারণ। আর তেমন কিছু ঘটলে বলে ফেলা যায়, 'লেফট' আসলেই সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে নতুন লিবিয়ায়।
প্রত্যাশার চেয়েও বেশি সময় নিয়ে শেষ হলো লিবিয়ার গৃহযুদ্ধ। বিজয় নিশ্চিত হয়ে গেলেও কাটছে না সংশয়। ২০০১ সালে কাবুলে কিংবা ২০০৩ সালে বাগদাদে যখন এ রকম পরিস্থিতিতে ক্ষমতাসীনদের হটানো হয়েছিল, তখনো নেমে আসে নানা সংকট। যদিও সমর্থকরা 'অনতিক্রম্য' শাসকের বিরুদ্ধে বিজয় পেয়ে মেতেছিল উল্লাসে। লিবিয়াজুড়েও এখন চলছে সেই রকম বিজয় উৎসব। কর্নেল গাদ্দাফির ক্ষমতাচ্যুতির পাশাপাশি মৃত্যুটাও নিশ্চিত হয়ে গেছে। কিন্তু গাদ্দাফির পরাজয়ে কাঙ্ক্ষিত 'ক্ষমতা' কারা অর্জন করল, নিশ্চিত হয়নি সেই উত্তরটি। এখন যারা বিজয় উল্লাস করছে, পরবর্তী ভাবনা নিয়ে কি আদৌ তারা ভেবেছে? পশ্চিমা আশীর্বাদপুষ্ট এনটিসি ও তাদের কর্তৃপক্ষকে ঘিরেও আছে সংশয়।
লিবিয়ার ভবিষ্যত কী
লিবিয়ার এ যুদ্ধটি শেষ হয়ে জন্ম দিয়েছে আরেকটি সমস্যার। যুদ্ধে অংশ নেওয়া দল দুটির (গাদ্দাফি বাহিনী ও বিদ্রোহী) মধ্যে কারা শক্তিশালী, তার কোনো উত্তর মেলেনি। কেননা বিদ্রোহীদের জয়ে বিশাল ভূমিকা রেখেছে ন্যাটোর বিমান হামলা। গাদ্দাফিকে দমন করতে বিদ্রোহীদের সমর্থনে হাজার দশেক বিমান হামলা চালিয়েছে ন্যাটো বাহিনী। তাই প্রশ্ন আসাটা স্বাভাবিক, পশ্চিমা সাহায্য নিয়ে লিবিয়ার বিদ্রোহীদের এই জয় দেশটিতে শান্তি ফিরিয়ে আনতে কতটা সফল হবে?
ইরাক আক্রমণে সাদ্দামকে পরাজিত করার পর বেশ আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছিল মার্কিন বাহিনী। ওই সময় ইরাকি সামরিক বাহিনীকে অচল করে দেওয়ার পাশাপাশি বাথ পার্টির সব সদস্যকে ক্ষমতা ও চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়েছিল তারা। ফলে সংঘাতে জড়িত হওয়া ছাড়া আর কোনো পথ ছিল না তাদের। যদিও সাদ্দামের পতনে বেশির ভাগ ইরাকি সেদিন খুশি হয়েছিল। কিন্তু সাদ্দামের স্থলে দেশের শাসনকর্তা কে হবেন, সেটা ঠিক করতেই ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এসে ঠেকেছে দেশটি।
লিবিয়ায়ও কি তাই ঘটতে যাচ্ছে? তেলনির্ভর দেশটিতে পুরনো শাসকের আমলের অনেকেই চাকরি পেয়েছেন, যাঁদের সবাই দেশের স্বার্থেই কাজ করছেন। কিন্তু ইরাকের পুনরাবৃত্তি যদি এখানেও ঘটে, তাঁদের কী হবে? টিএনসি তাদের যোদ্ধাদের প্রতিশোধপরায়ণতা থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিলেও পরিস্থিতি কতক্ষণ অনুকূলে থাকে, সেটাও দেখার বিষয়। এখনো বেঁচে আছে গাদ্দাফিপুত্র সাইফ আল ইসলাম ও তাঁর নিরাপত্তাপ্রধান আবদুল্লাহ সানুচি। ফলে সমর্থকদের নিয়ে তাঁরাই এনটিসির কাল হয়ে দাঁড়ান কি না, ঘুরে-ফিরে আসছে সে প্রশ্নটিও। বর্তমান অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, এনটিসিকে ছেড়ে কথা বলবেন না গাদ্দাফি সমর্থকরা। লিবিয়া দীর্ঘ একটি যুদ্ধের দিকে ধাবিত হচ্ছে, এটা চিন্তা করাও কিন্তু অমূলক নয়। লিবিয়া-বিশেষজ্ঞ জন হ্যামিলটন বলেন, 'এনটিসি লিবিয়ার জনগণের জন্য সহজে ভালো কিছু করতে পারবে, এটা ভাবা ঠিক হবে না।' তিনি আরো বলেন, 'বর্তমান যুগে গণতন্ত্র এখনো অধরা। যদিও গণতন্ত্রের জন্যই লড়েছে তারা। এনটিসি কি পারবে লিবীয়দের কাঙ্ক্ষিত গণতন্ত্রের স্বাদ এনে দিতে? মনে হয়, এত সহজে তাদের জন্য গণতন্ত্র নিশ্চিত করতে পারবে না এনটিসি। লিবিয়ায় স্থিতিশীলতা আনতে আরো দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হবে এনটিসির।'
দেশটিতে বাস করছে একাধিক উপজাতি গোষ্ঠী। যাদের অধিকাংশ গাদ্দাফি অনুগত। তারাও গাদ্দাফি সমর্থকদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে লড়েছে এনটিসির বিরুদ্ধে। গাদ্দাফি নেই তাতে কী_এনটিসিকে নতুন চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে এসব উপজাতীয়রাও। লিবিয়া-বিশেষজ্ঞ অ্যালেঙ্ ওয়ারেন বলেন, দেশটিতে গাদ্দাফি অনুগত বাহিনী এখনো এনটিসির কাছে আত্মসমর্পণ করেনি। ফলে এখনই বলা যাবে না, গৃহযুদ্ধ শেষ হয়ে গেছে।
এত কিছুর পরও আফগানিস্তান কিংবা ইরাকের চেয়ে কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে আছে লিবিয়া। কেননা দেশটিতে জনসংখ্যার চাপ কম। তা ছাড়া খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থানহীনতায় ভুগছে এমন নাগরিকের সংখ্যাও সীমিত। ফলে এখন দরকার দক্ষ চালিকাশক্তি।
আফগানিস্তান ও ইরাকে বহিঃশক্তিগুলো সব কিছুতেই নিজেদের প্রভাব খাটিয়েছে। শত্রুদের প্রতি তারা ছিল ক্ষমাহীন। বিদেশি শক্তিগুলো দেশ দুটির জনগণকে বোঝাতে চেয়েছে, তাদের বর্তমান শাসক আগের চেয়ে নির্ভরযোগ্য ও বন্ধুত্বপূর্ণ। আর এটাই হলো বিজয়ের হঠকারী মুহূর্ত। কারণ এগুলোই ভবিষ্যতের বিপর্যয়ের জন্য দায়ী। তাই বিদেশি শক্তির প্রতি অনুগত না হয়ে লিবিয়ার উচিত নিজেদের শাসক নিজেরাই নির্বাচিত করা।
লিবিয়ার অন্তর্বর্তী পরিষদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে দেশটির ৬০ লাখ মানুষের স্বপ্ন পূরণ। গাদ্দাফির স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে যারা অস্ত্র হাতে নেমেছে, তাদের জন্য কী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এনটিসি, সেটাই এখন দেখার বিষয়। জনগণের প্রত্যাশা, লিবিয়ার তেলকে দেশ গড়ার কাজে লাগাবে বর্তমান সরকার। গাদ্দাফি সাম্রাজ্যের পতন ঘটলেও এখনো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে তাঁর অনুসারীরা।
মার্কিন সিনেটর জন ম্যাকেইন সম্প্রতি লিবিয়া সফরে এসে বলেন, সেখানে কোনো রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান এখনো গড়ে ওঠেনি। এনটিসি কোনো রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান নয়। আবার এনটিসি প্রধান মোস্তাফা আবদুল জলিলের ওপর সবার সমান আস্থা নেই বলেও জানিয়েছিলেন ম্যাকেইন। তাই ওয়ারেন মনে করেন, লিবিয়ায় সহসা রাজনৈতিক সমাধান দুরাশা মাত্র। ফলে চলমান গৃহযুদ্ধ আরো দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা উঁকি দিচ্ছে।
গণহত্যা!
ফেব্রুয়ারি, ২০১১। লিবিয়ার রাজপথে কেবল দানা বাঁধতে শুরু করেছে বিক্ষোভ। তার দিনকয়েক না ঘুরতেই ২১ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘে লিবিয়ার উপস্থায়ী প্রতিনিধি ইব্রাহিম দাব্বাশি নিজ দেশের শাসকের বিরুদ্ধাচরণ করে মন্তব্য করে বসলেন। তিনি বললেন, 'আমরা ত্রিপোলিতে প্রকৃতার্থেই একটি ভয়াবহ গণহত্যার আভাস পাচ্ছি। বিমানগুলো এখন ভাড়াটে সেনাদের বিমানবন্দরে নিয়ে আসছে।' দাব্বাশির এই অতিকথন জন্ম দিল আরো কিছু অতিকথনের। একটি বক্তব্যের ভেতর দিয়ে দাব্বাশি আসলে তিনটি বিষয়ের ইঙ্গিত করেছেন। প্রথমত, বিমানবন্দরের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আসলে সেনা হস্তক্ষেপের বিষয়টিকে উস্কে দিয়েছেন। দ্বিতীয়ত, ভাড়াটে সেনা দিয়ে বুঝিয়েছেন কৃষ্ণাঙ্গ মানুষগুলোকে, যা বর্ণবাদকেও নির্দেশ করে। আর তৃতীয়ত, 'গণহত্যার হুমকি' কথাটি বলে জাতিসংঘকে তাত্তি্বকভাবে দায় গ্রহণের বিষয়টি নিয়ে একটু নড়েচড়ে বসতে বাধ্য করলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতেই ঠিক দুই দিন পরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা জানালেন, 'আমি আমার প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছি, তারা যেন গাদ্দাফির বিরুদ্ধে সবভাবে প্রস্তুত থাকে।'
কিন্তু গণহত্যা নিয়ে তো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত আইনি সংজ্ঞা রয়েছে। গণহত্যার মতো অপরাধ রোধ ও দণ্ড নির্ধারণে ১৯৪৮ সালের জাতিসংঘ সম্মেলনে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। সেখানে বলা হয়_'একটি জাতিগত, নৃতাত্তি্বক, সাম্প্রদায়িক বা ধর্মীয় গ্রুপকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হত্যা করা হলে সেটাই হবে গণহত্যা।' কিন্তু সব সহিংসতামূলক ঘটনা গণহত্যা নয়। গৃহবিবাদ, আন্তকলহ কোনোভাবেই গণহত্যার শামিল নয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও পশ্চিমা ন্যাটো বাহিনী যখন লিবিয়ায় বিমান হামলা চালাল, ওই হামলায়ও প্রাণ হারিয়েছে অসংখ্য মানুষ। তখন কি সেটা গণহত্যা নয়?
নিজের লোকের ওপর বোমা ছুড়েছে গাদ্দাফি!
একটু ভাবুন তো, কোনো বিচার-বিবেচনা না করেই প্রাথমিকভাবে লিবিয়াকে 'নো ফ্লাই জোন'-এর আওতায় আনা হয়েছিল কেন? কারণটা আর কিছুই নয়, গাদ্দাফি যেন বিমানযোগে তাঁর লোকদের ওপর বোমা হামলা চালাতে না পারেন, সে ব্যবস্থাটাই করা হয়। আসলেও কি তাই? এমন অশুভ চাল অবশ্য সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধেও দেওয়া হয়েছিল। 'সতর্ককারী' যখন 'গণহত্যা' প্রসঙ্গে সতর্কবার্তা ছুড়ল, সঙ্গে সঙ্গে লিবিয়াবিরোধীরাও সেই সুরে কথা বলা শুরু করল। আল-জাজিরা ও বিবিসি উভয় গণমাধ্যই দাবি করল, গাদ্দাফি তাঁর বিমানবাহিনীকে বিক্ষোভ দমনে ব্যবহার করছেন। চ্যানেলগুলো প্রচার করল, প্রতক্ষ্যদর্শীরা শহরে বিমান হামলা হতে দেখেছে। মার্চের প্রথম দিনে পেন্টাগনে এক সংবাদ সম্মেলন করেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্ট গেটস। তাঁর কাছে গাদ্দাফির বিমান হামলার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, 'আমরা আসলে প্রতিবেদনে সেটা দেখেছি। কিন্তু এ বিষয়ে আমাদের কাছে এখনো কোনো প্রমাণ নেই।' তাঁর পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা অ্যাডমিরাল মুলেনও জানালেন, 'এটাই সত্য, আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।' অথচ নিরস্ত্র বিক্ষোভাকারীদের ওপর গাদ্দাফি হেলিকপ্টার যোগেও হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ তোলা হয়। আসলে এর মধ্য দিয়ে একটু অন্য ভাবেই খেলেছেন খেলাটা। পশ্চিমা বিমানগুলো যেন সহজেই লিবিয়ার আকাশসীমায় প্রবেশ করতে পারে, সে পথটা সুগম করাই ছিল মুখ্য উদ্দেশ্য।
বেনগাজি বাঁচাও!
একে একে সব শহরের দখল নিল এনটিসি। সর্বশেষ গাদ্দাফির জন্ম শহর সার্তে দখলের মধ্য দিয়ে এনটিসির কবজায় এল গোটা লিবিয়ার নিয়ন্ত্রণ। প্রায় ৯ মাসের যুদ্ধে প্রকম্পিত হয়েছে লিবিয়ার শহরগুলো। গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে কত শত স্থাপনা। তবে একটা বিষয় বেশ লক্ষণীয়, বেনগাজিটা কিভাবে যেন ধ্বংসস্তূপ হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পেয়ে গেল! আর, জানেন তো আন্তর্জাতিক বিচারে বেনগাজিকে 'পবিত্র শহর' হিসেবেই কিন্তু দেখা হচ্ছে। ত্রিপোলি, সার্তে, সাবাহ_এসব শহর চুলোয় যাকগে, কার কী? কিন্তু বেনগাজির জন্য রয়েছে ওবামার বিশেষ দৃষ্টি, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভালোবাসা আর ন্যাটোর কড়া নজরদারি। 'আমরা যদি আরেকটি দিনও দেরি করি' উল্লেখ করে ২৮ মার্চ ওবামা তো বলেই ফেলেছেন, 'বেনগাজি নির্বিচারে নৃশংসতার শিকার হতে পারে। আর তাই যদি হয় তবে গোটা অঞ্চলে এই ক্ষত প্রতিধ্বনিত হবে এবং তা বিশ্ব চেতনাতেও আঘাত হানবে।' মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামা, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরন ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস সারকোজির যৌথ স্বাক্ষরিত এক পত্রেও বলা হয়, 'খুব দ্রুততার সঙ্গেই আমাদের দেশের সেনারা এগিয়ে যাচ্ছে। ক্রমেই পিছু হটছে গাদ্দাফি বাহিনী। এই রক্তস্নান থেকে বেনগাজিকে রক্ষা করায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলাম আমরা, এতে সক্ষম হয়েছি। ১০ হাজারেরও বেশি লোকের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।' উল্লেখ্য, গোটা লিবিয়ার অর্থনীতির সিংহভাগ নিয়ন্ত্রণ হয় এই বন্দরনগরী থেকেই। এখানেই গড়ে ওঠেছে দেশটির বেশির ভাগ শিল্পপ্রতিষ্ঠান। তেলনির্ভর অর্থনীতির এই দেশটির প্রধান দুই প্রতিষ্ঠান আল-ব্রেগা ও অ্যারাবিয়ান গলফ অয়েল কম্পানি তাদের কর্ম পরিচালনা করে এ শহর থেকেই।
আফ্রিকার ভাড়াটে সেনা
ফেব্রুয়ারি থেকেই গাদ্দাফিবিরোধীরা (শুরু থেকেই যারা বিদেশি শক্তির সমর্থন পেয়ে আসছে) দাবি করার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠা করারও চেষ্টা করেছে, চলমান যুদ্ধে দুটি পক্ষ রয়েছে। একদিকে আছে কেবল গাদ্দাফি ও তাঁর পরিবার, আর অন্যদিকে রয়েছে সব লিবীয় জনগণ। আর গাদ্দাফি বাহিনী নিয়ে তাদের ভাষ্য ছিল, তাদের সবাই ভাড়াটে, তাদের সবাই আফ্রিকার কৃষ্ণাঙ্গ, আর তাদের উদ্দেশ্য যুদ্ধের বিনিময়ে অর্থ প্রাপ্তি। 'আফ্রিকান মার্চেনারি' সম্পর্কিত পশ্চিমা মিথটির 'প্রায়োগিক ব্যবহার' নিয়ে সবচেয়ে ভালো সার-সংক্ষেপ টেনেছেন প্যাট্রিক ককবার্ন। তিনি উল্লেখ করেন, জেনেভা সম্মেলনের পরিপন্থী হলেও কৃষ্ণাঙ্গ কয়েদিদের মিডিয়ার মুখোমুখি করা হয়েছে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল প্রমাণ করেছে, মুক্তি পাওয়া কারাবন্দিদের কেউই আসলে যোদ্ধা ছিল না। তারা সবাই ছিল অবৈধ শ্রমিক। যাদের ঠিকানা মালি, শাদ ও পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলো। এই মিথটি প্রতিষ্ঠার পেছনের যুক্তি হচ্ছে, তারা আন্তর্জাতিক বিশ্বকে দেখাতে চেয়েছে গাদ্দাফির প্রতি কোনো লিবীয় নাগরিকের সমর্থন নেই। মিথ্যাকে আশ্রয় করে এমন প্রকাণ্ড ও প্রকৃত (!) গল্প তৈরি করল মিডিয়া ও পশ্চিামারা, যা শুনলে 'খুব মজাদার' গল্প হিসেবে কেবল শিশুরাই বিশ্বাস করতে পারে! পশ্চিমা সমর্থিত 'নতুন লিবিয়া' ও প্যান-আফ্রিকানিজম লিবিয়ার মধ্যে পার্থক্য দেখাতেও এই মিথটি বেশ উপযুক্ত ছিল। প্রকৃতার্থে অনেক বিদ্রোহী আসলে এটাই চেয়েছিল। মিথটি প্রতিষ্ঠা করতে কিছু মিডিয়া উঠে-পড়ে লাগলেও, শেষ রক্ষাটা হয়নি।
ভায়াগ্রা সেবন ও গণধর্ষণ
গাদ্দাফির শাসনামলে এত বেশি মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে, যা বলার অপেক্ষা রাখে না। মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো শুনে বিস্মিত হবেন যে কেউই। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এর পরও কেন নতুন গল্প তৈরির প্রয়োজনীয়তা দেখা দিল? কেন প্রচার করা হলো, গাদ্দাফি সমর্থকরা ভায়াগ্রা সেবন করে গণধর্ষণ করছে লিবীয় নারীদের? এ ধরনের গল্প ফেরি করার সম্ভাব্য কারণ হলো, ভারাক্রান্ত সাধারণ জনতার দৃষ্টি আকর্ষণ করা। অনেকে না বুঝেই লিবিয়াতে ভায়াগ্রা বিক্রি বন্ধে নানা পদক্ষেপও নিতে শুরু করেছিল। অথচ লিবীয় নাগরিকরা একবারও ভেবে দেখেনি, অন্যের দ্বারা প্ররোচিত হয়ে নিজেদের নামেই কুৎসা রটাচ্ছে তারা।
কাতারভিত্তিক টিভি চ্যানেল আল-জাজিরা তার অংশীদার 'বিদ্রোহী'দের নিয়েই সর্বপ্রথম ভায়াগ্রার গল্পটি ফাঁদে। পরে পশ্চিমা মিডিয়াগুলো এই সংবাদ পরিবেশনে উদগ্রীব হয়ে ওঠে। এমনকি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রধান আইনবিদ লুইস মরেনো-ওক্যাম্পো বিশ্বগণমাধ্যমের সামনে দাঁড়িয়ে বলেন, 'আমাদের কাছে প্রমাণ আছে, ধর্ষণের আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলতে গাদ্দাফি তাঁর অনুগত বাহিনীর কাছে ভায়াগ্রা বিতরণ করছেন।' সেনাদের শত শত নারীকে ধর্ষণের নির্দেশও দিয়েছেন গাদ্দাফি বলেও জানান ওক্যাম্পো। তিনি আরো বলেন, 'আমরা জানতে পেরেছি, গাদ্দাফি নিজেও ধর্ষণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যারা গাদ্দাফির বিরোধিতা করবে তাদের সবাইকে ধর্ষণ করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে গাদ্দাফি সমর্থকরা।' এমনকি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের মার্কিন দূত সুসান রাইচও ভায়াগ্রা নিয়ে গাদ্দাফির বিরুদ্ধে একই অভিযোগ উত্থাপন করেন। যদিও তথ্য-প্রমাণাদির প্রশ্নে বরাবরের মতো চুপ মেরে যান তিনিও। তবে মার্কিন সেনা ও গোয়েন্দা সূত্রগুলো এনবিসি নিউজের কাছে বলেছে, লিবীয় সেনা কর্তৃক ভায়াগ্রা সেবন করে কিংবা বলপ্রয়োগ করে ধর্ষণের বা ধর্ষণচেষ্টার কোনো তথ্য-প্রমাণ মেলেনি। বিদ্রোহী এলাকাগুলোতে কোনো ধর্ষণের ঘটনারও প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলেও জানায় তারা। মার্কিন সেনাদের এমন স্বীকারোক্তির পর একটু সুর পাল্টে কথা বলেন 'লেডি ক্লিনটন'। মার্কিন এই পররাষ্ট্রমন্ত্রী গাদ্দাফির নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি দোষ চাপালেন তৃতীয় আরেকটি দলের ওপর। তারা আসলে কারা হিলারি নিজেও জানতেন না! তবে নিজেও একজন নারী বলেই হয়তো বিষয়টি নিয়ে বেশ 'উদ্বিগ্ন' দেখা গেছে হিলারি ক্লিনটনকে। কিন্তু জুনের ১০ তারিখে পাল্টে যায় সব হিসাব-নিকাশ। লিবিয়ায় ধর্ষণের অভিযোগটি খতিয়ে দেখার পর জাতিসংঘের মানবাধিকার কর্মকর্তা শেরিফ ব্যাসিওনি বলেন, ধর্ষণের অভিযোগটি 'বড় ধরনের স্নায়ুবৈকল্য' ছাড়া কিছুই নয়। তবুও থামানো যায়নি গণমাধ্যমগুলোকে। এক হাত দেখে নিতে চাইল বিবিসি। এই বার্তাসংস্থাটি জানাল, এমন বক্তব্য প্রদানের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ও গণমাধ্যমকে হেয়প্রতিপন্ন করেছেন ব্যাসিওনি।
রক্ষার দায়!
ভুল হলেও আমরা জেনেছিলাম, গাদ্দাফি বাহিনীর নেতৃত্বেই লিবিয়াতে 'গণহত্যা' সংঘটিত হতে যাচ্ছে। আর এই প্রচারণাটা সুগম করে দিল পশ্চিমাদের অবৈধ হস্তক্ষেপের পথ। জাতিসংঘের ২০০৫ সালের 'রেসপনসিবিলিটি টু প্রোটেক্ট (আর টু পি)' নীতি কার্যকর করতে মরিয়া হয়ে উঠল পশ্চিমা জোট। এদিকে লিবিয়া পরিস্থিতিও মিসর, সিরিয়া ও ইয়েমেনের মতো রূপ নিতে শুরু করেছে। কিন্তু জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ১৯৭৩ সালের প্রস্তাবনা অনুসারে, একটা বিষয় তখনো পরিষ্কার হয়নি যে 'মানবতা রক্ষায় হস্তক্ষেপ' অজুহাত দিয়ে পশ্চিমা সেনাদের লিবিয়ায় প্রবেশ করার যৌক্তিকতা কতখানি। কিন্তু পশ্চিমারা সব জায়গায় যেতে না পারার অর্থ কিন্তু এই নয়, তারা লিবিয়ায় হস্তক্ষেপ করতে পারবে না! কিন্তু পশ্চিমাদের কাছে লিবিয়া কেন লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হলো, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যাখ্যা দাঁড় করাতে পারেনি তারা। আর এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। জাতিসংঘের 'আর টু পি' নীতির বিরুদ্ধে নানা সমালোচনা রয়েছে। এই নীতিকে আধিপত্য ও প্রভুত্ববাদী ভূ-রাজনীতির লজ্জাস্থান ঢাকার 'ডুমুর পাতা' হিসেবেই দেখছেন অনেকেই। কেননা গাজায় যখন সাধারণ ফিলিস্তিনিরা আক্রমণের শিকার হয়, তখন এ নীতি নিয়ে কেউই কোনো প্রশ্ন তোলে না। তাহলে কি নীতিটাই পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে? ফলে মানবতা রক্ষার অজুহাতে বিদেশি সেনারা প্রবেশ করল লিবিয়ায়। আর এই মিথকে কার্যকর করতে এড়িয়ে যেতে হলো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো, আফ্রিকার প্রতি চীনের দৃষ্টিভঙ্গি। কেননা পশ্চিমাদের সঙ্গে স্নায়ু-লড়াই করে আফ্রিকার মাটিতে নিজেদের স্বার্থ ও প্রভাব তৈরি করতে বেশ প্রস্তুত চীনারাও।
গাদ্দাফি_দ্য ডেমন
নিজের প্রতি বিশ্বস্ত থেকে বলুন তো, গাদ্দাফি কি নায়কোচিত বিপ্লবী, যিনি পরে পশ্চিমাদের কূটচালেই চরম আকার ধারণ করেছিলেন, না কি গাদ্দাফি আসলেই একজন বদ লোক? তবে এটাও সত্য যে উভয় ক্ষেত্রে গাদ্দাফির পাশবিক হয়ে ওঠা ছিল প্রয়োজনহীন ও অযৌক্তিক। আর গাদ্দাফির ক্ষমতা, শাসন ও ইতিহাসকে কলুষিত করতে পশ্চিমাদের কাছে এই মিথটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ ছিল। 'গাদ্দাফি কিছু করে দেখাতে চাননি, তিনি আগাগোড়াই একজন শয়তান ছিলেন'_এমন মিথ পরিবেশনের মধ্য দিয়ে পশ্চিমারা দেখাতে চেয়েছে, লিবিয়ায় গাদ্দাফির অনুগতরা তাদের সমর্থনের কথা স্বীকার করতে যেন লজ্জাবনত হয়ে পড়ে। আর প্রকাশ্যে যারা ন্যাটোর সঙ্গে রয়েছে, তারাই যেন বুক চিতিয়ে বলতে পারে 'আমরাই প্রকৃত লিবীয়'। যুদ্ধকালীন লিবিয়ায় একটু নজর দিলেই দেখা যাবে, সেখানে গাদ্দাফিবিরোধী এবং একই সঙ্গে বিদেশি হস্তক্ষেপ, তথা ন্যাটোর বিপক্ষে কথা বলছে_এমন কোনো দল বা ব্যক্তি নেই। এমনটা যেন না হয় সেই ব্যবস্থাটাও সেখানে বিরাজ করছিল। ফলে লিবীয়রা দুই ভাগেই বিভক্ত হয়ে পড়ে। ওই সময়টাতে ইতিহাস ঘেঁটে গাদ্দাফির মন্দ দিকগুলো বেশ গুরুত্বসহকারে উত্থাপন করা হয়েছিল। গ্লেন গ্রিনওয়ার্ল্ড নামের একজন তো বলেছেন, 'একজন মানুষ কোনোভাবেই গাদ্দাফির জন্য সহানুভূতি দেখাতে পারে না।' অথচ নিকারাগুয়া, ত্রিনিদাদ, ডমিনিকা, মন্ট্রিলের সাধারণ মানুষ গাদ্দাফির অন্ধভক্ত। কেবল বিভিন্ন দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের পক্ষে ছিলেন বলেই নয়, দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদের বিরুদ্ধাচরণের কারণেও তিনি পেয়েছেন জনপ্রিয়তা। গাদ্দাফি প্রশাসনের বেশ কয়টি মুখ ছিল। যাদের কেউ তাঁর বিরুদ্ধাচরণ করত, কেউ তাঁর মুখাপেক্ষী ছিল, আবার কেউ কেউ সারকোজি, কন্ডোলিৎসা রাইস, হিলারি ক্লিনটন ও বারাক ওবামার আশীর্বাদ পেয়ে মুচকি হাসত এবং এই মুখগুলোর সব কয়টি ছিল প্রকৃত সত্য।
এত কিছুর পরও মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট ও সংবাদমাধ্যম বিবিসি গাদ্দাফির কিছু সাফল্যকে স্বীকার করেছে। বিশেষ করে স্বাস্থ্য, আবাসন ও শিক্ষা খাত নিয়ে গাদ্দাফির প্রশংসা করতে বাধ্য হয়েছে ঘোর বিরোধীরাও। উল্লেখ্য, আফ্রিকার দেশগুলোর মধ্যে লিবিয়ায় শিক্ষার হার সবচেয়ে বেশি।
মুক্তিযোদ্ধা_দ্য অ্যাঞ্জেল
গাদ্দাফির বিরুদ্ধে প্রচারণার মধ্য দিয়ে আসলে 'বিদ্রোহীদের' বন্দনাই গাওয়া হয়েছে। যেন দেশটির সাধারণ নাগরিকরা বিদ্রোহীদের পক্ষে যেতে বাধ্য হয়। অথচ দীর্ঘ একটা সময় গেছে, যখন সংবাদকর্মীরা বিদ্রোহীদের সংগঠন ন্যাশনাল ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের (এনটিসি) সঙ্গে কোনো যোগাযোগই করতে পারেনি। তখন এনটিসির কার্যালয় ছিল বেনগাজি শহরে। এমনকি তারা জানায়নি কিভাবে, কারা গাদ্দাফিবিরোধী আন্দোলনের ছক-পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে বা হয়েছে। জানায়নি, এটা কি সম্পূর্ণ আলাদা একটি সংগঠন, নাকি বেশ কয়টি দল নিয়েই গঠিত হয়েছে। বলা হয়নি, এনটিসি গঠনের উদ্দেশ্য ও বিধেয়। তবুও বেশ কিছু সংবাদমাধ্যম বলার চেষ্টা করেছে, গাদ্দাফিবিরোধী আন্দোলনটি লিবীয় জনগণের স্বতঃস্ফূর্ততার বহিঃপ্রকাশ মাত্র। হয়তো আংশিকভাবে এ কথাটা সত্য অথবা গোটা বিষয়টি অতিরিক্ত সহানুভূতির অংশ। কিন্তু ২০০৫ সাল থেকে লিবিয়ায় কর্মরত ইউএসএইড, ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক ইনস্টিটিউট, ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট, ন্যাশনাল ইনডোমেন্ট ফর ডেমোক্রেসির মতো বহিরাগত প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সিআইএর আলোচনার খবরটি বেশ সাড়া ফেলে বিশ্লেষকদের মধ্যে। দানা বাঁধতে থাকে নানা সন্দেহ। যদিও অনেকেই 'ভালো ছেলেদের' তথা বিদ্রোহীদের প্রয়োজনেই এসব করা হয়েছে বলে মত দিয়েছেন। কিন্তু আমেরিকা তো এমন একটা বিশ্ব চায়, যেখানে সবাই দেখবে কেবল তারাই সব ভালো কাজ করে। তারা আরো দেখাতে চায়, পৃথিবীর জন্য তারা শুধু অপরিহার্যই নয়, নিষ্কলঙ্কও বটে! সত্য হলো, এটি এমন একটি বিশ্ব, যা আমেরিকার জন্য নিরাপদ। একই সঙ্গে এটি এমন একটি বিশ্ব, যা মন্দদের জন্য খুবই অনিরাপদ।
লিবীয় নাগরিকদের জয়
যুদ্ধ থেমে গেছে। জয়ও পেয়ে গেছে এনটিসি। গোটা লিবিয়ায় এখন অন্তর্বর্তী সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন। কিন্তু জয় অনেকাংশেই নিশ্চিত হওয়ার পরও কিংবা জয়লাভের পরও একটা চেষ্টা এখনো শেষ হয়নি। আর সেটা হলো, পশ্চিমাদের অনুপ্রেরণায় এনটিসি এখন দেখাতে চায়, দেশটির সাধারণ নাগরিকরা নিজেদের প্রয়োজনে এই বিজয় ছিনিয়ে এনেছে। এনটিসি চাচ্ছে, লিবিয়ার জনগণের পাশাপাশি গোটা বিশ্ব জানুক, নিজেদের ভাগ্য নিজেরা গড়তেই ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে প্রতাপশালী গাদ্দাফিকে। তারা পুরোপুরি অস্বীকার করতে চায় কিংবা করাতে চায় এ যুদ্ধে গাদ্দাফিরও জনসমর্থন থাকার বিষয়টি। শুরুর দিকে অর্থাৎ ২৫ ফেব্রুয়ারি রাস্তায় বিক্ষোভকারীদের নামতে দেখেই সারকোজি মন্তব্য করেছিলেন, গাদ্দাফিকে এবার 'অবশ্যই ক্ষমতা ছাড়তে' হবে। এর ঠিক তিন দিন পরই কোনো কূটনৈতিক আলাপ কিংবা কোনো ধরনের শান্তি আলোচনার প্রস্তাব ব্যতিরেকেই ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরন 'নো-ফ্লাই জোন' প্রস্তাবনা নিয়ে ব্যতিব্যস্ত হয়ে ওঠেন। ৩০ মার্চ প্রকাশিত দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কয়েক সপ্তাহ ধরেই সিআইএর একটি দল লিবিয়ার অভ্যন্তরে রয়েছে। এর মানেই হলো, আন্দোলন শুরু হওয়া মাত্রই সেখানে পেঁৗছে গেছে সিআইএ। একই সময়ে লিবিয়ায় অবস্থান নেন ডজনখানেক ব্রিটিশ স্পেশাল ফোর্স ও এমআই-সিঙ্রে কর্মকর্তা। ওই প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ওবামা একটি গোপন চিঠিতে স্বাক্ষর করে লিবিয়ার বিদ্রোহীদের অস্ত্র ও সব ধরনের সাহায্য প্রদানের নির্দেশ দেন সিআইএকে। শেষ পর্যন্ত পশ্চিমা জোট সেনাদের পাশাপাশি বিদ্রোহীদের জয় নিশ্চিত করতে আরো এসেছে জর্দান আর কাতারের সেনারাও। হাস্যকর বিষয় হলো, এত কিছুর পরও বলা হচ্ছে, লিবিয়ার জনগণই এ যুদ্ধে জয়লাভ করেছে।
'দ্য লেফট'-এর জন্য পরাজয়
২০০৯ সালে প্রথমবারের মতো 'দ্য লেফট'-এর ধারণাটা আমরা পেয়েছিলাম। সেই বছর ইরানের নির্বাচনে যারা বিরোধিতা করেছিল, তাদেরই 'লেফট' বলা হয়েছিল। কিন্তু লিবিয়ায় 'লেফট' আসলে কারা? সমজাতিক মনোভাবাপন্ন কোনো দল? নাকি সাম্রাজ্যবাদবিরোধী মার্কসপন্থী 'লেফট' বলতে যা বোঝানো হয়, তাই? কিন্তু তেমন কোনো কিছু লিবিয়ায় এখন পর্যন্ত নেই। তবে হ্যাঁ, একটা বিষয় নিয়ে আসলেই ভাবার সুযোগ আছে। আর সেটা হচ্ছে, বিদেশি হস্তক্ষেপ নিয়ে কি কারো প্রশ্ন তোলার আশঙ্কা রয়েই যাচ্ছে? নতুন লিবিয়ার পররাষ্ট্রনীতি নিয়েও হয়তো আসতে পারে কিছু প্রতিবন্ধকতা। এমন বিষয়গুলো প্রকৃতার্থেই পশ্চিমা বিশ্বের জন্য চিন্তার কারণ। আর তেমন কিছু ঘটলে বলে ফেলা যায়, 'লেফট' আসলেই সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে নতুন লিবিয়ায়।
প্রত্যাশার চেয়েও বেশি সময় নিয়ে শেষ হলো লিবিয়ার গৃহযুদ্ধ। বিজয় নিশ্চিত হয়ে গেলেও কাটছে না সংশয়। ২০০১ সালে কাবুলে কিংবা ২০০৩ সালে বাগদাদে যখন এ রকম পরিস্থিতিতে ক্ষমতাসীনদের হটানো হয়েছিল, তখনো নেমে আসে নানা সংকট। যদিও সমর্থকরা 'অনতিক্রম্য' শাসকের বিরুদ্ধে বিজয় পেয়ে মেতেছিল উল্লাসে। লিবিয়াজুড়েও এখন চলছে সেই রকম বিজয় উৎসব। কর্নেল গাদ্দাফির ক্ষমতাচ্যুতির পাশাপাশি মৃত্যুটাও নিশ্চিত হয়ে গেছে। কিন্তু গাদ্দাফির পরাজয়ে কাঙ্ক্ষিত 'ক্ষমতা' কারা অর্জন করল, নিশ্চিত হয়নি সেই উত্তরটি। এখন যারা বিজয় উল্লাস করছে, পরবর্তী ভাবনা নিয়ে কি আদৌ তারা ভেবেছে? পশ্চিমা আশীর্বাদপুষ্ট এনটিসি ও তাদের কর্তৃপক্ষকে ঘিরেও আছে সংশয়।
লিবিয়ার ভবিষ্যত কী
লিবিয়ার এ যুদ্ধটি শেষ হয়ে জন্ম দিয়েছে আরেকটি সমস্যার। যুদ্ধে অংশ নেওয়া দল দুটির (গাদ্দাফি বাহিনী ও বিদ্রোহী) মধ্যে কারা শক্তিশালী, তার কোনো উত্তর মেলেনি। কেননা বিদ্রোহীদের জয়ে বিশাল ভূমিকা রেখেছে ন্যাটোর বিমান হামলা। গাদ্দাফিকে দমন করতে বিদ্রোহীদের সমর্থনে হাজার দশেক বিমান হামলা চালিয়েছে ন্যাটো বাহিনী। তাই প্রশ্ন আসাটা স্বাভাবিক, পশ্চিমা সাহায্য নিয়ে লিবিয়ার বিদ্রোহীদের এই জয় দেশটিতে শান্তি ফিরিয়ে আনতে কতটা সফল হবে?
ইরাক আক্রমণে সাদ্দামকে পরাজিত করার পর বেশ আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছিল মার্কিন বাহিনী। ওই সময় ইরাকি সামরিক বাহিনীকে অচল করে দেওয়ার পাশাপাশি বাথ পার্টির সব সদস্যকে ক্ষমতা ও চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়েছিল তারা। ফলে সংঘাতে জড়িত হওয়া ছাড়া আর কোনো পথ ছিল না তাদের। যদিও সাদ্দামের পতনে বেশির ভাগ ইরাকি সেদিন খুশি হয়েছিল। কিন্তু সাদ্দামের স্থলে দেশের শাসনকর্তা কে হবেন, সেটা ঠিক করতেই ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এসে ঠেকেছে দেশটি।
লিবিয়ায়ও কি তাই ঘটতে যাচ্ছে? তেলনির্ভর দেশটিতে পুরনো শাসকের আমলের অনেকেই চাকরি পেয়েছেন, যাঁদের সবাই দেশের স্বার্থেই কাজ করছেন। কিন্তু ইরাকের পুনরাবৃত্তি যদি এখানেও ঘটে, তাঁদের কী হবে? টিএনসি তাদের যোদ্ধাদের প্রতিশোধপরায়ণতা থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিলেও পরিস্থিতি কতক্ষণ অনুকূলে থাকে, সেটাও দেখার বিষয়। এখনো বেঁচে আছে গাদ্দাফিপুত্র সাইফ আল ইসলাম ও তাঁর নিরাপত্তাপ্রধান আবদুল্লাহ সানুচি। ফলে সমর্থকদের নিয়ে তাঁরাই এনটিসির কাল হয়ে দাঁড়ান কি না, ঘুরে-ফিরে আসছে সে প্রশ্নটিও। বর্তমান অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, এনটিসিকে ছেড়ে কথা বলবেন না গাদ্দাফি সমর্থকরা। লিবিয়া দীর্ঘ একটি যুদ্ধের দিকে ধাবিত হচ্ছে, এটা চিন্তা করাও কিন্তু অমূলক নয়। লিবিয়া-বিশেষজ্ঞ জন হ্যামিলটন বলেন, 'এনটিসি লিবিয়ার জনগণের জন্য সহজে ভালো কিছু করতে পারবে, এটা ভাবা ঠিক হবে না।' তিনি আরো বলেন, 'বর্তমান যুগে গণতন্ত্র এখনো অধরা। যদিও গণতন্ত্রের জন্যই লড়েছে তারা। এনটিসি কি পারবে লিবীয়দের কাঙ্ক্ষিত গণতন্ত্রের স্বাদ এনে দিতে? মনে হয়, এত সহজে তাদের জন্য গণতন্ত্র নিশ্চিত করতে পারবে না এনটিসি। লিবিয়ায় স্থিতিশীলতা আনতে আরো দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হবে এনটিসির।'
দেশটিতে বাস করছে একাধিক উপজাতি গোষ্ঠী। যাদের অধিকাংশ গাদ্দাফি অনুগত। তারাও গাদ্দাফি সমর্থকদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে লড়েছে এনটিসির বিরুদ্ধে। গাদ্দাফি নেই তাতে কী_এনটিসিকে নতুন চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে এসব উপজাতীয়রাও। লিবিয়া-বিশেষজ্ঞ অ্যালেঙ্ ওয়ারেন বলেন, দেশটিতে গাদ্দাফি অনুগত বাহিনী এখনো এনটিসির কাছে আত্মসমর্পণ করেনি। ফলে এখনই বলা যাবে না, গৃহযুদ্ধ শেষ হয়ে গেছে।
এত কিছুর পরও আফগানিস্তান কিংবা ইরাকের চেয়ে কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে আছে লিবিয়া। কেননা দেশটিতে জনসংখ্যার চাপ কম। তা ছাড়া খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থানহীনতায় ভুগছে এমন নাগরিকের সংখ্যাও সীমিত। ফলে এখন দরকার দক্ষ চালিকাশক্তি।
আফগানিস্তান ও ইরাকে বহিঃশক্তিগুলো সব কিছুতেই নিজেদের প্রভাব খাটিয়েছে। শত্রুদের প্রতি তারা ছিল ক্ষমাহীন। বিদেশি শক্তিগুলো দেশ দুটির জনগণকে বোঝাতে চেয়েছে, তাদের বর্তমান শাসক আগের চেয়ে নির্ভরযোগ্য ও বন্ধুত্বপূর্ণ। আর এটাই হলো বিজয়ের হঠকারী মুহূর্ত। কারণ এগুলোই ভবিষ্যতের বিপর্যয়ের জন্য দায়ী। তাই বিদেশি শক্তির প্রতি অনুগত না হয়ে লিবিয়ার উচিত নিজেদের শাসক নিজেরাই নির্বাচিত করা।
লিবিয়ার অন্তর্বর্তী পরিষদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে দেশটির ৬০ লাখ মানুষের স্বপ্ন পূরণ। গাদ্দাফির স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে যারা অস্ত্র হাতে নেমেছে, তাদের জন্য কী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এনটিসি, সেটাই এখন দেখার বিষয়। জনগণের প্রত্যাশা, লিবিয়ার তেলকে দেশ গড়ার কাজে লাগাবে বর্তমান সরকার। গাদ্দাফি সাম্রাজ্যের পতন ঘটলেও এখনো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে তাঁর অনুসারীরা।
মার্কিন সিনেটর জন ম্যাকেইন সম্প্রতি লিবিয়া সফরে এসে বলেন, সেখানে কোনো রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান এখনো গড়ে ওঠেনি। এনটিসি কোনো রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান নয়। আবার এনটিসি প্রধান মোস্তাফা আবদুল জলিলের ওপর সবার সমান আস্থা নেই বলেও জানিয়েছিলেন ম্যাকেইন। তাই ওয়ারেন মনে করেন, লিবিয়ায় সহসা রাজনৈতিক সমাধান দুরাশা মাত্র। ফলে চলমান গৃহযুদ্ধ আরো দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা উঁকি দিচ্ছে।
About: নিজাম কুতুবী
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1266)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
-
▼
2012
(33842)
-
▼
January
(4234)
-
▼
Jan 16
(144)
- গণতন্ত্রবিরোধী এখতিয়ার অর্জনের চেষ্টা ইনডেমনিটি by...
- শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে by আতাউস সামাদ
- শীতে কাঁপছে দুস্থ মানুষঃ সহায়তার হাত বাড়ান
- প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন দিল্লি সফরঃ জনগণকে জানিয়েই চু...
- বিদেশি ঋণ-লুটপাটের বিবর্ণ চিত্র মুছে ফেলুন
- বেহাল চিকিৎসাসেবা-জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে হবে
- চরাচর-ভেষজ অরণ্যের গল্প by রাজীব নন্দী
- সহজ-সরল-মানুষ থেকে অ্যামিবা সবাই ভালো আছে তো? by ক...
- কল্পকথার গল্প-কিছুটা রিমেক, কিছুটা রিসাইকল by আলী ...
- কালান্তরের কড়চা-শীতলক্ষ্যার তীরে নির্বাচনযুদ্ধ এক...
- স্লিপগল্প-ভুরুঙ্গামারীর আন্দোলনে একজন সফেদ দেবদূত!...
- শ্রদ্ধা : প্রীতিলতা ওয়াদ্দাদার-জন্মশতবাষির্কীর শ্র...
- শিক্ষাঙ্গন-সিলেটে ব্যবসায়ীদের ওপর তাণ্ডবের নতুন ছা...
- অসময়ের স্বপ্ন-জুকোতি পার্ক থেকে রাজু ভাস্কর্য! by ...
- একজন মোজাম্মেল হক by শওকত মাহমুদ
- হে প্রণম্য অগ্নিদেব by মুহম্মদ নূরুল হুদা
- অভিমতঃ শূন্য পদ পূরণ যেন পলিসি বিক্রির মতো না হয় b...
- সাম্প্রতিক : ক্ষমতার ঘোড়দৌড়ে বিএনপি-সমস্যায় জর্জর...
- বিএনপির কাউন্সিল ও ভবিষ্যত্ রাজনীতি by ড. তারেক শা...
- পোস্টাল ক্রেডিট কার্ড-রপ্ত হোক আধুনিক প্রযুক্তি
- সত্যিই অভূতপূর্ব by হায়দার আকবর খান রনো
- ভোজ্যতেলের দাম-স্বস্তির আশ্বাসে উদ্বেগের বীজ
- সম্ভাবনার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় by মোঃ জিয়াউল হক শেখ
- পাঠ্যবই সংক্রান্ত জটিলতাঃ শিক্ষামন্ত্রীর কথার যেন ...
- তাহরির থেকে জুকোটি পার্ক-প্রতিবাদের বিশ্বায়ন by সু...
- বাংলাদেশ-ভারত পানি চুক্তির ১৪ বছরঃ ১৩ বছরই ন্যায্য...
- তমোহরকে মনে পড়ে by কণিকা মাহফুজ
- সরকার কোম্পানি না কৃষকের পক্ষে?-ঝলক বীজ by রুদ্র ম...
- প্রধানমন্ত্রী কি ভারত সফরের প্রাক্কালে ভেবে দেখবেন...
- আন্তর্জাতিক : ফিলিস্তিন-ইসরায়েল-শালিতের মুক্তির পথ...
- অভ্রভেদী আমার দেশ by আতাউর রহমান
- প্রচ্ছদ রচনা-লিবিয়া যুদ্ধের দশটি মিথ্যা
- হুবহু-বর্তমান সরকার যুক্তরাষ্ট্রের ফর্মুলা অনুযায়ী...
- ডিজিটাল বাংলাদেশের এনালগ আমলা
- প্রস্তাবিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০০৯ by আবুল...
- বিএনপির পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিল by ড.মাহবুব উল্লাহ্
- নানা আনুষ্ঠানিকতায় বিশ্ব মানবাধিকার দিবস পালিতঃ বি...
- মন্ত্রী-এমপিরা এখনও দিলেন না সম্পদের হিসাবঃ এভাবে ...
- ফেসবুক দেখে যায় চেনা by ইকবাল খন্দকার
- পরিবহন সম+আচার (সমগ্র বাংলাদেশ ৫ টন)
- একখানা ভাউচার by ইকবাল খন্দকার
- দূর ঘটনা (দুর্ঘটনা) এখন কাছেই! by মোঃ রায়হান কবির
- সাফল্য পেয়েছে কাশফিয়া by ফারজানা আক্তার
- স্বপ্নের সঙ্গে পথ চলা by হারুনুর রশিদ শাহীন
- প্রস্তুতির সময় এখনই by জাহাঙ্গীর আলম
- হারিয়ে যেতে নেই মানা by আকাশ মামুন ষ
- জবির আন্দোলন স্থগিত দুই হাজার টাকা উন্নয়ন ফি মওকুফ
- সবচেয়ে দ্রুতগামী সাপ ব্ল্যাক মাম্বা!
- দেশের ভেতরে দেশ
- ইপিজেডে রেকর্ড বিনিয়োগ-অর্থ বছরের প্রথম ছয় মাস by ...
- বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর স্টলে ভিড় বাড়ছে
- রাতারাতি ধনী বানানো আর নয় !-এমএলএম আইনের খসড়া আজ ম...
- একই বৃত্তে বন্দি দেশের উন্নয়ন কার্যক্রম by জাফর আহমদ
- সিটিকে ছুঁয়ে ফেলল ম্যানইউ
- শেষ টেস্টে নিষিদ্ধ ধোনি-প্রশ্ন উঠেছে নেতৃত্ব নিয়েও
- ভারতের পার্থ লজ্জা-ইনিংস ও ৩৭ রানে হারল ভারত
- মিরপুরে বিধ্বস্ত বিমান
- মন্ত্রিত্ব নিতে প্রস্তুত সু চি!
- সিরিয়ায় সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা-হত্যা বন্ধ করুন :আসাদকে...
- অপরাধের মাধ্যমে অর্জিত আয় পুঁজিবাজারে নয় :এনবিআর b...
- জাবিতে মশাল মিছিল-প্রক্টরের পদত্যাগ দাবিতে বহিষ্কৃ...
- ঐতিহ্য-আগৈলঝাড়ায় মার্বেল খেলার মেলা by কেএম আজাদ র...
- জঙ্গি নূরের জন্য আটকে আছে চার্জশিট by সাহাদাত হোসে...
- '৭১ থেকে পাকিস্তান শিক্ষা নেয়নি :ইমরান খান
- নরসিংদীতে মন্ত্রীর ভাই বাচ্চু রিমান্ডে
- বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বে লাখ লাখ মুসলি্লর মোনাজাত...
- সচিবদের কাজে সন্তুষ্ট নয় সরকার by শরীফুল ইসলাম
- কণ্ঠে মোদের কুণ্ঠাবিহীন নিত্যকালের ডাক by সুপা সাদিয়া
- পতন ঠেকাতে 'গ্রান্ড বার্গেন'-ইউরো জোন by এম. আবদুল...
- ভারত চীন নয়
- শুদ্ধ শিল্পের সাধনা-সংস্কৃতি by আমিরুল আলম খান
- রাজনৈতিক সংকট নিরসনেও উদ্যোগ নিন-রাষ্ট্রপতির সংলাপ...
- সাতক্ষীরার ২৭ প্রবাহ-নদী আর কত কাঁদবে?
- যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন-অগ্রাধিকারে আসুক রেলওয়ে খাত
- শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনভিপ্রেত ঘটনা-শিক্ষার্থীরা নিরা...
- ১১ কনটেইনার রাসায়নিক ভুয়া ছাড়পত্র বানিয়ে গায়েব! by...
- মাছ ধরতে নৌপথ বন্ধ! by উজ্জ্বল মেহেদী ও সালেহ আহমদ
- লোকমান হত্যাকাণ্ড-মন্ত্রীর ভাইয়ের আত্মসমর্পণ রিমান্ডে
- রেলইঞ্জিন থেকে তেল চুরি-রেলওয়ের আরও চার কর্মচারী ব...
- আখেরি মোনাজাতে বিশ্বশান্তি কামনা by আশীষ-উর-রহমান
- প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগ-এবার দোলেশ্বরের শিকার ব্রাদার্স
- স্কোলসের হয়ে ফার্গুসনের জবাব
- অস্ট্রেলিয়ান ওপেন-জোকোভিচের বড় স্বপ্ন
- এক গোলেই নায়ক ক্যালিয়ন
- পার্থ টেস্ট-আড়াই দিনেই শেষ ভারত
- পুঁজিবাজারে বড় বিনিয়োগ-বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আ...
- পবিত্র কোরআনের আলো-প্রত্যেক ইবাদতের সময়ই পোশাকে যথ...
- দূরের দূরবীনে-শতায়ু বটবৃক্ষ ও ছায়াহীন হওয়ার আগে...
- বিশেষ সাক্ষাৎকার : রাশেদ খান মেনন-গভীর সমুদ্রে গ্য...
- জাতিসংঘ দিবস-বিশ্ব-অভিভাবকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
- ব্রিটেনে যুদ্ধাপরাধী বাঁচানোর ডাকাডাকি by ফারুক যোশী
- নিত্যজাতম্-বৃহন্নলার সুখের খোঁজে by মহসীন হাবিব
- সময়ের প্রতিধ্বনি-ট্রানজিট নিয়ে এত লুকোচুরি কেন? ...
- গ্যাস সংকট-সরবরাহ নিশ্চিত করুন
- নির্বাচন কমিশন গঠন-স্বাধীন ও শক্তিশালী করাটা বেশি ...
- পবিত্র কোরআনের আলো-আরব ভূমিতে একক মুসলিম সমাজ প্রত...
- এম জে আকবর-ত্রিমাত্রিক সংকটে পাকিস্তান
- বিশেষ সাক্ষাৎকার : ড. ফাহমিদা খাতুন-স্বাধীনতার চার...
- মার্চেন্ট ব্যাংককে মূল কাজে থাকার আহ্বান
- বছরের সর্বনিম্ন লেনদেন
- জাহাজ নির্মাণ নিয়ে প্রদর্শনী ১৯ জানুয়ারি থেকে-১০ ব...
- বিমা প্রতিনিধিদের বিষয়ে আইডিআরএর প্রজ্ঞাপন-আগে প্র...
- লেনদেনযোগ্য শেয়ারের সংজ্ঞা নির্ধারণ-বাদ পড়বে পাঁচ ...
- চরাচর-মকরসংক্রান্তি by সুজন মঞ্জুর
- সরকারের দায়িত্বশীল পদে যোগ দিতে আগ্রহী সু চি
- সিরিয়ায় আরব দেশগুলোর সেনা পাঠাতে চায় কাতার
- ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা-তেল উৎপাদন না বাড়ানোর আহ্বান...
- বিক্ষোভের আগুনে পুড়ছে মিসরের ইতিহাস
- সেনাদের পিঠ চাপড়ে শান্তির হাত বাড়ালেন গিলানি
- বরিশালে চোর সন্দেহে তরুণকে পিটিয়ে হত্যা
- ফসলি জমির মাটি বিক্রি, হারাচ্ছে উর্বরতা শক্তি by এ...
- সবার গন্তব্য ছিল তুরাগ নদের তীর
- ঢাকা মেডিকেলকে বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষণার আগেই আন্দোলন! ...
- মৃত্যুবার্ষিকীতে সমাবেশ-মানিক সাহার হত্যার পুনঃ তদ...
- এখনই হাসপাতাল ছাড়ছেন না গোলাম আযম
- শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের শোক র্যালি, মশাল মিছিল
- ছাড়া হচ্ছে ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে-লোকালয়ে বাঘ, ন...
- শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ সময়ের দাবি by ড. নিয়াজ আহম...
- নিত্যজাতম্-আমাজনের জঙ্গলেও কাজ খুঁজছে বাংলাদেশের ম...
- ভিন্নমত-ধনীরা গ্লোবাল সিটিজেন গরিবরা লোকাল সিটিজেন...
- কাঁচাবাজারে শেয়ারবাজারের প্রভাব by নাসিফ চৌধুরী
- চারদিক-এই তো নূরজাহান কবিরাজ!
- দূরদেশ-মিয়ানমার-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক ও বাংলাদেশের ...
- শিক্ষাঙ্গন-উপাচার্যগণের ফাউস্টীয় বাতিক by জোবাইদা ...
- গ্রামীণ জীবন-তিন নারীর জীবনে দিনবদল by বদিউল আলম ম...
- অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজি বন্ধ করুন-গুঁড়ো দুধ, ভোজ...
- টহলে লোকবল বাড়ানোই আশু প্রতিকার-রাজধানীতে ছিনতাই
- গোলাম আযম-জেলের দিনলিপি
-
▼
Jan 16
(144)
-
▼
January
(4234)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
স্পেশাল প্রতিবেদন
মধ্যপ্রাচ্য
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ক্রিকেট
ইরান
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
দুর্নীতি
শিশু
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
খালেদা জিয়া
অর্থ ও বাণিজ্য
শিল্প বাণিজ্য
কালবেলা
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
ফুটবল
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
মুসলিম
জাতিসংঘ
মুক্তিযুদ্ধ
রাশিয়া
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
সোহরাব হাসান
ইউরোপ
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
আলোকিত চট্টগ্রাম
সৌদি আরব
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সৈয়দ আবুল মকসুদ
সংখ্যালঘু
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
ইউক্রেন
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
তরুণ প্রজন্ম
মানবাধিকার
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আলী যাকের
আইন ও বিচার
রুদ্র মিজান
হিন্দু
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
তারেক শামসুর রেহমান
আসিফ নজরুল
নেপাল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
মালয়েশিয়া
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
স্বাস্থ্য
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
রংপুর
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
জ্যোতির্বিজ্ঞান
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
শিল্প ও সাহিত্য
সংবিধান ও রাষ্ট্র
বগুড়া
মিয়ানমার
ঢাকা
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
গবেষণা
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
মিসর
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
শুভ্র দেব
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
স্বপ্ন নিয়ে
ইরাক
টাঙ্গাইল
HotTopic
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
জীবনযাপন
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
মেহেদী হাসান
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
বরগুনা
কাজী সোহাগ
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কলকাতা
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
অস্ট্রেলিয়া
তথ্য প্রযুক্তি
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
মানসুরা হোসাইন
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
প্রকৃতি ও পরিবেশ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ফেনী
বরিশাল
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
মসজিদ
অরুণ কর্মকার
মোস্তফা হোসেইন
একরামুল হক
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
আশীষ-উর-রহমান
ইয়েমেন
একরামুল হক শামীম
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
Exclusive
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
জাতীয় নাগরিক পার্টি
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
চারু শিল্প
শওকত হোসেন
উচ্চশিক্ষা
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
ভেনেজুয়েলা
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
বিজ্ঞান
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
জনস্বাস্থ্য
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
ফরিদপুর
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লাতিন আমেরিকা
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
আরব আমিরাত বা দুবাই
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
আবিষ্কার
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
মণিপুর
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
মহাকাশচারী
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
দৈনিক সংগ্রাম
যৌন অপরাধ
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
কাদির কল্লোল
জোহরান মামদানি
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
শিশুসাহিত্য
Hit
ইহুদি
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
Asia
আর্জেন্টিনা
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
স্পেন
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বেলজিয়াম
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জর্দান
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
বিশ্বকাপ ফুটবল
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
আহমেদ মুনির
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হুগজিল্ট
No comments:
Post a Comment