বিমানের সিডিউল বিপর্যয় চলবে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত- হজ ফ্লাইটে প্রভাব পড়বে না ॥ যাত্রীদের কাছে ভোগান্তির জন্য দুঃখ প্রকাশ

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটসূচী বিপর্যয় আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ভাড়ায় আনা একটি বোয়িং ৭৪৭ উড়োজাহাজ চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার আগেই গত ১২ সেপ্টেম্ব^র চলে যাওয়ায় নিয়মিত ফ্লাইটসূচী সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে বিমান।


এরপর এই প্রথম এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিল বিমান।
মঙ্গলবার বিমান সদরদফতর বলাকায় বিমানের বিপণন ও বিক্রয় বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ শাহ নেওয়াজ সাংবাদিকদের বলেন, চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই একটি ভাড়ায় আনা উড়োজাহাজ চলে যাওয়ার কারণে এ ধরনের অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ জন্য বিমান কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছে। আমরা পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করছি। তবে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বরের আগে তা সম্ভব হবে না।
নিয়মিত যাত্রীদের ভোগান্তি রোধে বিমান কী ব্যবস্থা নিয়েছে এমন প্রশ্ন করা হলে শাহনেওয়াজ বলেন, বোয়িং ৭৪৭ উড়োজাহাজের যাত্রীদের পরবর্তীতে ছোট উড়োজাহাজে করে গন্তব্যে পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বিমানের উড়োজাহাজে পরিবহন সম্ভব না হলে অন্য বিদেশী এয়ারলাইন্সগুলোর উড়োজাহাজে করে তাদের পৌঁছে দেয়া হচ্ছে।
এ ‘অনাকাক্সিক্ষত’ পরিস্থিতি এড়ানোর কোন উপায় ছিল না দাবি করে এই কর্মকর্তা জানান, বোয়িং ৭৪৭ চলে যাওয়ার পর আমরা ভেবেছিলাম আমাদের নিজস্ব বোয়িং ৭৭৭ দিয়ে ফ্লাইটগুলো পরিচালনা করব। কিন্তু বোয়িং ৭৭৭ শাহজালাল বিমানবন্দরে উড্ডয়নের সময় পাখির সঙ্গে ধাক্কা খায়। এতে এর ন’টি ব্লেড ভেঙে গিয়ে একদিনের জন্য অকেজো হয়ে পড়ে। আর এর ফলে পরিস্থিতি খারাপের দিকে চলে যায়। বোয়িং-৭৪৭ উড়োজাহাজটি দিয়ে কুয়ালালামপুর, জেদ্দা, রিয়াদ, মাস্কাটসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ফ্লাইট পরিচালনা করা হতো, যার অধিকাংশ যাত্রীই সেসব দেশে শ্রমিক হিসেবে কর্মরত।
এ কারণে যাত্রী পরিবহনের ক্ষেত্রে শ্রমিকদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে বলে জানান বিমান কর্মকর্তা শাহ নেওয়াজ। বিমানের নিয়মিত যাত্রীদের মধ্যে অনেকেরই ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে বলে আমাদের কাছে তথ্য আছে। আমি সেসব যাত্রীকে বলব তারা আগে থেকে বিষয়টি আমাদের জানিয়ে রাখলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তাদের পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। চুক্তি ভেঙ্গে চলে যাওয়ার কারণে এয়ার আটলান্টার বোয়িং ৭৪৭ উড়োজাহাজটির বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি। নতুন একটি উড়োজাহাজ ভাড়া নেয়ার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ২৭১ আসনের একটি বোয়িং ৭৬৭ উড়োজাহাজ আগামী ২৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিমান বহরে যুক্ত হবে। এটি চলে এলে আর কোন সমস্যা হবে না। তবে নিয়মিত ফ্লাইটসূচী বিপর্যয়ের প্রভাব হজ ফ্লাইটের ওপর পড়বে না বলে মনে করেন এই কর্মকর্তা।
এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, এ বছর শুধু হজযাত্রী পরিবহনে একটি ভাড়ায় আনা বোয়িং ৭৪৭, দুটি নিজস্ব বোয়িং ৭৭৭ এবং একটি ডিসি ১০ উড়োজাহাজ ব্যবহার করা হচ্ছে। এগুলো দিয়ে কোন নিয়মিত যাত্রী বহন করা হচ্ছে না। সুতরাং প্রভাব পড়ার কোন প্রশ্নই আসে না।
অবশ্য শাহ নেওয়াজের এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন বিমান পরিচালনা পর্ষদের সাবেক সদস্য এবং এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহেদুল আলম।
তিনি বলেন, সিডিউল অপারেশন বাদ দিয়ে চার্টার অপারেশন করার নজির বিশ্বের কোথাও আছে কিনা, আমার জানা নেই। বিমানের অনেক সঙ্কট সত্ত্বেও দেশের মানুষের কাছে বিমানের একটি আলাদা কদর ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক এ ঘটনার কারণে বিমান তা পুনরুদ্ধারে সক্ষম হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। এখানে পুরো তিনমাস (হজ মৌসুম) নিয়মিত ফ্লাইট বন্ধ করে হজ ফ্লাইট পরিচালনা বিমানের একটি অপরিনামদর্শী সিদ্ধান্ত। এর কারণে ভবিষ্যতে দীর্ঘ সময়ের জন্য বিমানকে ফল ভোগ করতে হবে।

যাত্রীদের ভোগান্তি কমেনি
ফ্লাইটসূচী বিপর্যয়ের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের যাত্রীদের ভোগান্তি অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার ফ্লাইটসূচী সামলাতে আটটি নিয়মিত ফ্লাইটের বিলম্ব হয়েছে। সরেজমিনে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দেখা যায়, ফ্লাইট বিলম্ব হওয়ায় অপেক্ষা করছেন কয়েক শ’ যাত্রী। এদের অনেকেই অভিযোগ করেন, ২/১ দিনের মধ্যে যেতে না পারলে তাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে।
এক নম্বর বহির্গমন টার্মিনালের বাইরে কথা হয় রিয়াদগামী যাত্রী আফজাল হোসেনের সঙ্গে। তিনি সৌদি আরবে চাকরি করেন।
আফজাল বলেন, তিন দিন হয়ে গেল বিমানবন্দরে ঘুরছি। ১৬ তারিখ ফ্লাইট ছিল, এখানে এলে বলা হয় পরের দিন দুপুর ২টায় যোগাযোগ করতে। এখনও যেতে পারিনি। ভিসার মেয়াদ আছে আর মাত্র ২ দিন। এর মধ্যে যেতে না পারলে আর যেতে পারব না।
একইভাবে আটকা পড়েছেন চাঁদপুরের মোঃ মাসুদ। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর তার ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে।
অন্যদিকে, যাত্রীরা যেন ভোগান্তিতে না পড়েন সেজন্য আগে থেকেই ফ্লাইটের খবর জেনে বিমানবন্দরে হাজির হতে অনুরোধ করেছে বিমান কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার বিমানের এক বিজ্ঞপ্তিতে যাত্রীদের জন্য ৬টি ফোন নম্বর দেয়া হয়। নম্বরগুলো হচ্ছে ৯৫৫৯৬২০, ৯৫৫৯৬১০, ৯৫৫৯৬৩২, ৮৯০১৩৯০, ৮৯০১৭০২, ৮৯০১৭৫৭।

No comments

Powered by Blogger.