গ্যাস সঙ্কটের প্রতিবাদ : চট্টগ্রামে রি-রোলিং মালিক ও শ্রমিকদের মানববন্ধন

গ্যাস স্ট্যাগারিংয়ের প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে চট্টগ্রামের স্টিল রি-রোলিং মালিক ও শ্রমিকরা। গতকাল তারা রচনা করেন কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ মানববন্ধন। এ সময় সমাবেশে মালিক শ্রমিকরা বলেন, সরকার চট্টগ্রামের প্রতি বিমাতাসুলভ আচরণ করছে। পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ করা না হলে গড়ে তোলা হবে বৃহত্তর আন্দোলন।চট্টগ্রাম স্টিল রি-রোলিং মিলস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের ডাকে এ মানববন্ধন পালিত হয়। সকাল ১০টায় বিভিন্ন কারখানার সামনে শত শত শ্রমিক-কর্মচারী ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে অবস্থান নিয়ে মানববন্ধন রচনা করেন।


একঘণ্টা কর্মসূচি পালনের পর সকাল ১১টায় তারা কারখানায় ফিরে যান। এ সময় কারখানাগুলোর সামনে খণ্ড খণ্ড মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া সীতাকুণ্ডে অবস্থিত আরও ১০-১২টি রি-রোলিং মিলের কয়েক হাজার শ্রমিক ঢাকা-চট্টগ্রাম
মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে।
নগরীর পূর্ব-নাসিরাবাদ শিল্প এলাকায় বিএসআরএম, বায়েজিদ স্টিল, আরএসআরএম, ইসলাম স্টিলসহ অন্তত ১০-১৫টি কারখানার কয়েক হাজার শ্রমিক মানববন্ধনে অংশ নেয়। তারা রচনা করে দুই কিলোমিটারব্যাপী মানবপ্রাচীর।
মানববন্ধন চলাকালে বিভিন্ন স্থানে সমাবেশে বক্তারা বলেন, গ্যাস স্ট্যাগারিংয়ের নামে চট্টগ্রামে ষড়যন্ত্র করে কৃত্রিমভাবে গ্যাস সঙ্কট সৃষ্টি করা হয়েছে। ঈদের আগে কারখানা বন্ধ রাখতে হচ্ছে। তাই শ্রমিকদের বেতন-বোনাস অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বক্তারা বলেন, এমনিতেই পিডিবি একদিন কারখানাগুলোতে বিদ্যুত্ সরবরাহ বন্ধ রাখছে। এর ওপর কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল) স্ট্যাগারিংয়ের নামে সপ্তাহে তিনদিন গ্যাস সরবরাহ করছে না। এ নিয়ে সপ্তাহে ৪ দিনই বন্ধ রাখতে হচ্ছে কারখানা। তারা বলেন, বাংলাদেশের অন্য কোথাও গ্যাস স্ট্যাগারিং করা হচ্ছে না। শুধু চট্টগ্রামের কারখানাগুলোকেই এর আওতায় আনা হয়েছে। এটা চট্টগ্রামের প্রতি গভীর ষড়যন্ত্র। চট্টগ্রামের শিল্প বাণিজ্য ধ্বংস করে দেয়ার জন্যই এমন আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বক্তারা আরও বলেন, বিগত ১০ বছরে চট্টগ্রামে শুধু গ্যাস সংযোগের অভাবে ৩৮টি মিল বন্ধ হয়ে গেছে। গ্যাস সঙ্কটের কথা বলা হলেও ঢাকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে চট্টগ্রামের তুলনায় প্রায় ২০ গুণ বেশি গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। উত্পাদিত সারের ক্ষেত্রে প্রায় ৬০০-৭০০ টাকা ভর্তুকি দিতে হয় যার তুলনায় সার আমদানি খরচ অনেক কম। তাই সরকার সার আমদানি করলে একদিকে গ্যাসের অপচয় রোধ হবে অন্যদিকে সরকার লাভবান হবে।
প্রসঙ্গত, চট্টগ্রামে ছোটবড় ৭২টি স্টিল রি-রোলিং মিল রয়েছে।

No comments

Powered by Blogger.