জামিন পেয়ে ফের এসিড নিক্ষেপ

এই জঘন্য অপরাধীদের ঠেকানোর উপায় কী? কয়লা হাজার ধুলেও ময়লা যায় না- বহুল প্রচলিত একটি প্রবচন। প্রবচনটি যে অক্ষরে অক্ষরে সত্য, আবারও তা প্রমাণ করল নোয়াখালীর সুধারামের কিছু সন্ত্রাসী। ২০১০ সালের জুনে ফারজানা নামের এক মাদ্রাসাছাত্রীকে এসিডে ঝলসে দিয়েছিল সন্ত্রাসীরা।


তাদের ছয়জনকে গ্রেপ্তারও করেছিল পুলিশ। কিন্তু পরে তারা আদালত থেকে জামিনে বেরিয়ে আসে। কয়েক দিন আগে সেই মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন ফারজানার বড় বোন কলেজছাত্রী সেলিনা আক্তার। দুর্বৃত্তরা তাতে ক্ষিপ্ত হয় এবং রাতে সিঁদ কেটে ঘরে ঢুকে সেলিনাকেও এসিডে ঝলসে দেয়। সেলিনাকে প্রথমে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ও পরে ঢাকায় এসিড সারভাইভরস ফাউন্ডেশনে স্থানান্তর করা হয়েছে। পলাতক দুর্বৃত্তদের পুলিশ খুঁজছে। হয়তো ধরা পড়বে এবং আবারও জামিনে বেরিয়ে এসে এর চেয়েও বড় ধরনের সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটাবে। এদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার কি কোনো উপায় এ দেশে থাকবে না? আর তা যদি না থাকে, তাহলে কে এদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে যাবে? যাঁরা আইনের শাসনের কথা বলেন, তাঁরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন কি?
আমাদের মতো সাধারণ মানুষের একটাই জিজ্ঞাসা, এমন জঘন্য অপরাধীরা জামিন পায় কিভাবে? বলা হয়ে থাকে, আইনের ফাঁকফোকরের কারণেই এরা জামিন পায়। সেই ফাঁকফোকর কি বন্ধ করা সম্ভব নয়? আর তা করা যদি সম্ভব না হয়, তাহলে দেশে আইনের শাসন কিভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে? শোনা যায়, সন্ত্রাসীদের ভয়ে অনেকেই সাক্ষ্য দিতে যান না। এমনকি অনেকে থানায় অভিযোগ দায়ের করতেও যান না। এটি তো সন্ত্রাসীদের জন্য পোয়াবারো! এই পরিস্থিতিতে দেশে সন্ত্রাসী ঘটনা কমবে- এমন আশা করাটাও বাতুলতামাত্র। শুধু আইনের ফাঁকফোকর নয়, এর আগেও আমরা দেখেছি, আদালত থেকে, এমনকি উচ্চ আদালত থেকেও বহু জামিন জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। খুন, ডাকাতি, রাহাজানির মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা প্রতারণার মাধ্যমে জামিন নিয়ে বেরিয়ে যায়। যাবজ্জীবন, এমনকি ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরাও বেরিয়ে গেছে। আর এ ধরনের ঘৃণ্য তৎপরতায় জড়িত থাকেন এক শ্রেণীর আইনজীবীও। এর চেয়ে বড় লজ্জাকর ঘটনা আর কী হতে পারে! এ সবই আমাদের বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। বিচার বিভাগের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধাবোধ কমিয়ে দিচ্ছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
ন্যায়বিচার পাওয়া নাগরিকের মৌলিক অধিকার। নাগরিকের সেই মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা রাষ্ট্রকেই দিতে হবে। সেই ক্ষেত্রে বিচারপ্রার্থী ও সাক্ষীর এমন নিরাপত্তাহীনতা কোনোভাবেই কাম্য নয়। অপরাধীদের যথেচ্ছ জামিনপ্রাপ্তি রোধ করার বিষয়টি আমাদের বিচার বিভাগকেও ভেবে দেখতে হবে। আমরা এই জঘন্য এসিড-সন্ত্রাসীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কামনা করি।

No comments

Powered by Blogger.