ইলিয়াস আলী নিখোঁজ রহস্য-প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসের পরও নেই কোনো অগ্রগতি

নিখোঁজ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর উদ্ধার তৎপরতায় কোনো অগ্রগতি নেই র‌্যাব-পুলিশের। ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা গত বুধবার সন্ধ্যায় সন্তানদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করার পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ঘটনাটি অধিকতর গুরুত্বের সঙ্গে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


কিন্তু পুলিশ ও র‌্যাব কর্মকর্তারা গতকাল বৃহস্পতিবার কালের কণ্ঠকে বলেছেন, সর্বোচ্চ প্রচেষ্টার ওপরে আর কিছু নেই। তাঁরা শুরু থেকেই সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে ইলিয়াস আলীর পারিবারিক সূত্র বলছে, তারা আশাহত। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে আসার পর তদন্তে নতুন কোনো মোড় নিয়েছে বলে তাদের কাছে মনে হচ্ছে না।
বুধবার ইলিয়াসের স্ত্রী-সন্তানরা প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে ইলিয়াস আলী উদ্ধারের আশ্বাস নিয়ে বাড়ি ফেরে। এর প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর গতকাল যোগাযোগ করলে ইলিয়াস আলীর পারিবারিক সূত্র থেকে জানানো হয়, তাহসিনা রুশদীর লুনা অসুস্থ। তাঁর ছেলে লাবিব শারার কালের কণ্ঠকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে আসার পর নতুন কোনো অগ্রগতি নেই। তাঁদের ধারণা ছিল, হয়তো তৎপরতা বাড়বে। কিন্তু তার কিছুই ঘটেনি। গতকাল র‌্যাব বা পুলিশের কোনো কর্মকর্তা কেউই তাঁদের সঙ্গে নতুন করে যোগাযোগ করেনি বা তাঁদের বাসায়ও আসেননি। কোনো অগ্রগতির কথাও কেউ জানায়নি। তাঁরা এখন দুশ্চিন্তায় আছেন বলে লাবিব জানান।
তবে পুলিশের আইজি হাসান মাহমুদ খন্দকার কালের কণ্ঠকে গতকাল বলেন, ইলিয়াস আলীর স্ত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করার পর প্রধানমন্ত্রী তাঁকে যে আশ্বাস দিয়েছেন, তার একটা প্রভাব অবশ্যই আইনশৃঙ্খলা রক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্তদের ওপর পড়েছে। তাঁরা ইলিয়াস আলীকে উদ্ধারের ব্যাপারে আগেও যতটা তৎপর ছিলেন, এখনো তাই আছেন। কারণ তাঁরা ঘটনার পর থেকেই সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে এখন পর্যন্ত তাঁর অবস্থান বা সন্ধানের ব্যাপারে সুস্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
র‌্যাবের মিডিয়া ও আইন শাখার পরিচালক কমান্ডার মোহাম্মদ সোহায়েল গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, তাঁরা তাঁদের প্রচেষ্টা অব্যহত রেখেছেন। সম্ভাব্য স্থানগুলোতে নজরদারি বাড়িয়েছেন। তবে তাঁদের কাছেও এখন পর্যন্ত নতুন কোনো তথ্য নেই।
র‌্যাবের অন্য এক কর্মকর্তা গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শুরু থেকেই ইলিয়াস আলী নিখোঁজ ঘটনাটির তদারকি করছিলেন। ফলে র‌্যাবও আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তাঁকে খুঁজে বের করার। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো ক্লু পাওয়া যায়নি। তাঁরা সম্ভাব্য বিভিন্ন কারণ এখনো খতিয়ে দেখছেন। বিশেষ করে ইলিয়াস আলীর দলীয় আর ব্যক্তিবিরোধের ঘটনাগুলোকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর আগে সিলেটে সংঘটিত কয়েকটি ঘটনার বিপরীতে দায়ের করা মামলা এবং দুই ছাত্রদল নেতার নিখোঁজ ঘটনাগুলোও তাঁরা পর্যালোচনা করছেন। তাঁরা এখনো মনে করেন, ইলিয়াসের নিজ বলয়ের বিরোধের মধ্যেই এই নিখোঁজ রহস্য লুকিয়ে আছে।
কর্মকর্তা আরো বলেন, এই নিখোঁজের ঘটনা সম্পর্কে জানতে এ পর্যন্ত শতাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এদের অধিকাংশই ইলিয়াস আলীর নিজস্ব বলয়ের লোক। এর বাইরেও তাঁর বলয়ের আরো অনেকের ওপর র‌্যাবের নজরদারি আছে। তাঁদের একটি টিম সিলেটেও এ ব্যাপারে কাজ করছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাঁদের সব প্রচেষ্টাই ব্যর্থ বলে কর্মকর্তা জানান।

No comments

Powered by Blogger.