হরতাল বন্ধের আইন

অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রতিবন্ধকতা কাম্য নয় সরকার নয়, এবার ব্যবসায়ীরা সরব। হরতাল চান না তাঁরা। হরতালে বিরক্ত দেশের মানুষ। বিদেশেও দেশের ভাবমূর্তি আবার নষ্ট হওয়ার পথে। একটি অনির্বাচিত সরকারের পর নির্বাচিত গণতান্ত্রিক দেশে রাজনৈতিক আন্দোলনের নামে হরতাল করতে গিয়ে অর্থনীতির চাকা অচল হওয়ার পথে।


ব্যাহত হচ্ছে বিনিয়োগ। হরতালের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। স্বাভাবিকভাবেই ব্যবসায়ীরা হরতালের পক্ষে নন। সরকার ও বিরোধী দল- উভয় পক্ষের মিলিত সম্মতিতে ব্যবসায়ীদের সংগঠন এফবিসিসিআই এখন হরতাল বন্ধে জাতীয় সংসদে আইন চাইছে।
দেশে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা নতুন করে বহাল হওয়ার পর অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশ একটি স্থিতিশীল অবস্থার দিকে যাবে, এমনটাই আশা ছিল সবার। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, অতীতের ভুল থেকে কেউই শিক্ষা গ্রহণ করেনি। রাজনৈতিক দলগুলো সামান্য কারণে সর্বোচ্চ রাজনৈতিক রণকৌশলটি ব্যবহার করছে। তারা এমন অবস্থানে চলে যাচ্ছে, যেখান থেকে ফিরে আসার কোনো সুযোগ নেই। রাজনৈতিক বৈরিতা থেকে নতুন করে আবারও একটি তিক্ত পরিবেশ সৃষ্টি হতে চলেছে বলে অনেকের আশঙ্কা। এই আশঙ্কা বেশি কাজ করছে ব্যবসায়ীদের মধ্যে। একদিকে নানা প্রতিবন্ধতা ঠেলে ব্যবসায়ীরা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য কাজ করেন। গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটকে এখন স্বাভাবিক প্রতিবন্ধক হিসেবে ধরে নেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ সংকটের কারণে নতুন শিল্প বিকশিত হতে পারছে না। অন্যদিকে, ব্যাহত হচ্ছে উৎপাদন। এ অবস্থায় রাজনৈতিক প্রতিবন্ধকতা সামনে এসে দাঁড়ালে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হবে, এটাই স্বাভাবিক। হরতাল বন্ধের আইন সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি সেদিকেই দৃষ্টিপাত করেছেন।
রাজনৈতিক মতভেদ উন্নত বিশ্বেও আছে। কিন্তু হরতালের মতো একটি বিধ্বংসী কর্মসূচি সেখানে পালিত হয় না। আমাদের দেশেও বিকল্প রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে। বিধ্বংসী রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করা থেকে বিরত থাকতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোকে নিজেদের মতো করে দলের মধ্যে পরিবর্তন আনতে হবে। জনমত গড়ে তোলার নানা পথ আছে। কিন্তু চাপিয়ে দেওয়া কর্মসূচি সব সময়ই বিরক্তিকর। এতে রাজপথে কিংবা রাজনীতিতে দলের উপস্থিতি জানান দেওয়া যায়, কিন্তু সাধারণ মানুষের মনে ছাপ ফেলা যায় না। এর জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন। রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন না এলে দেশ পিছিয়ে যাবে। সৃষ্টি হবে সংঘাতময় পরিস্থিতি। রাজনৈতিক সংঘাত দেশের জন্য মঙ্গল বয়ে আনে না। একদিকে উৎপাদন বন্ধ, বন্ধ ব্যবসা-বাণিজ্য, অন্যদিকে দেশের ভাবমূর্তির যে ক্ষতি, তার আর্থিক মূল্যও কম নয়। সব দিক বিবেচনা করে এখন হরতাল নামের রাজনৈতিক রণকৌশলটিকে সামাজিকভাবে বর্জন করার সময় এসেছে।
বাংলাদেশের মতো একটি দেশে রাজনৈতিক মতানৈক্য থাকবেই। কিন্তু সেই মতানৈক্য থেকে সংঘাতময় পরিস্থিতি সৃষ্টি হোক, এটা কারো কাম্য নয়। ব্যবসায়ীরা হরতাল বন্ধে আইন চেয়েছেন। রাজনীতিকরা হরতালের বিকল্প নিয়ে ভাবতে পারেন। রাজনৈতিক সংঘাত বন্ধের পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও উৎপাদনশীলতার স্বার্থে হরতাল বন্ধ করতে হবে।

No comments

Powered by Blogger.