মিসরে অসম্পূর্ণ খসড়া সংবিধান প্রকাশ-খসড়া পর্যালোচনা শেষে গণভোট

মুবারক-পরবর্তী মিসরে খসড়া সংবিধান রচনার কাজ আংশিক শেষ হয়েছে। সর্বসাধারণের আলোচনার জন্য গত বুধবার অসম্পূর্ণ এই খসড়া সংবিধান প্রকাশ করা হয়েছে। সরকারনিয়ন্ত্রিত রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা মেনা এ কথা জানায়। তবে খসড়া সংবিধানে ইসলামপন্থী মূল্যবোধ প্রাধান্য পাওয়ায় এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনাও শুরু হয়ে গেছে।


পার্লামেন্টের সুপারিশ কমিশনের প্রধান মোহাম্মদ এল-বেলতাগির বরাত দিয়ে মেনা জানিয়েছে, নির্বাহী কর্তৃপক্ষ, সরকারি বিধিমালা (পাবলিক রেগুলেশনস) ও সামরিক বাহিনীর মর্যাদা সম্পর্কিত বেশ কয়েকটি অনুচ্ছেদ লেখার কাজ এখনো শেষ হয়নি। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এগুলো রচনার কাজ শেষ হবে। তবে সংবিধান রচনায় গঠিত প্যানেলের সদস্যরা জানিয়েছেন, অসম্পূর্ণ অনুচ্ছেদগুলোর রচনা আগামী মাসের প্রথম দিকে শেষ হবে।
১০০ সদস্যবিশিষ্ট সংবিধান রচনা কমিটির বেশির ভাগ সদস্য ইসলামপন্থী হওয়ায় অসম্পূর্ণ খসড়া সংবিধানের বেশ কয়েকটি অনুচ্ছেদে ইসলামী মূল্যবোধের প্রভাব সুস্পষ্ট। এরই মধ্যে এসব অনুচ্ছেদ নিয়ে 'সংবিধান জানো' শিরোনামে প্রচারাভিযানও শুরু করা হয়েছে। খসড়া সংবিধানের ২ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, মিসরের রাষ্ট্রীয় ধর্ম ইসলাম এবং আইনের ক্ষেত্রে ইসলামী আইন প্রধান উৎস। আরেকটি অনুচ্ছেদে সামাজিক লিঙ্গ সমতার বিষয়ে সীমাবদ্ধতা রাখা হয়েছে। এ ছাড়া রাষ্ট্রীয় বিষয়ে ধর্মের ভূমিকা, বিচার ব্যবস্থার স্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নারী অধিকার নিয়ে থাকা অনুচ্ছেদগুলো নিয়ে সমালোচনা রয়েছে।
উদারপন্থী ও মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো, নারী ও পুরুষের বৈষম্যমূলক অধিকার আইনের অনুচ্ছেদটি বাদ দেওয়ার দাবি করেছে। অন্যথায় তারা এর বিরুদ্ধে ব্যাপক আন্দোলনে নামার হুমকি দিয়েছে।
প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির ঘোষণা অনুযায়ী, খসড়া সংবিধানের ওপর গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এ প্রসঙ্গে বেলতাগি বলেন, 'খসড়া সংবিধানের পর্যালোচনা, পরামর্শ এবং কিভাবে এটা আরো ভালো করা যায় তা সম্পর্কে মতামত দেওয়ার অধিকার রয়েছে দেশের ভেতর ও বাইরে থাকা প্রত্যেক মিসরীয়র।' তিনি আরো বলেন, কোনো বিশেষ অনুচ্ছেদের ওপর নয় গণভোট সম্পূর্ণ সংবিধানের ওপর অনুষ্ঠিত হবে।
প্রসঙ্গত, মিসরে সর্বশেষ সংবিধান গৃহীত হয়েছিল ১৯৭১ সালে। গত বছর হোসনি মুবারকের পতনের পর আগের সংবিধানটি বাতিল হয়ে যায়। সূত্র : ওয়াশিংটন পোস্ট, জিনিউজ।

No comments

Powered by Blogger.