Sunday, June 21, 2026
'বাবা' নিয়ে জনপ্রিয় পাঁচটি গানের গল্প by অর্চি অতন্দ্রিলা
জনপ্রিয়তা, সাংস্কৃতিক প্রভাব এবং দীর্ঘ দিন ধরে শ্রোতাদের মনে জায়গা করে নেওয়ার মতো বিষয় বিবেচনায় কয়েকটি গান বিশেষভাবে উল্লেখ করার মতো।
এসব গান তৈরির পেছনের গল্প বা ইতিহাস সম্পর্কে কী জানা যায়?
'বাবা' - জেমস
বাংলাদেশের ব্যান্ডসংগীতের ইতিহাসে নগর বাউলখ্যাত জেমসের কণ্ঠে গাওয়া 'বাবা' গানটির অবস্থান অনেক এগিয়ে। "বাবা কতদিন, কতদিন দেখিনা তোমায়, কেউ বলেনা তোমার মত কোথায় খোকা ওরে বুকে আয়" এই গানটিকে বাংলাদেশের শ্রোতাদের কাছে বাবাকে নিয়ে সবচেয়ে আবেগঘন আধুনিক গানের একটি হিসেবেও দেখেন অনেকে।
গানটির গীতিকার এবং সুরকার প্রিন্স মাহমুদ একটি সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ফারুক মাহফুজ আনাম বা জেমস নাকি এই গানটি গাইতেই আগ্রহী ছিলেন না। শিল্পী ও সুরকার তানভীর তারেকের সাথে একটি সাক্ষাৎকারে সেটি উল্লেখ করেন তিনি।
"রেকর্ডিং-এ জেমস ভাই গানটি শুনে… এই কয়েকদিন আগে মা বললাম, এখন কী বাবা... কেমন কেমন জানি হয়ে যাচ্ছে প্রিন্স। তখন আমি বললাম জেমস ভাই, এটা গাইতে হবে। জেমস ভাই বলে কী, আরেকটা গান দে আমারে," সে সাক্ষাৎকারে বলছিলেন মি. মাহমুদ।
তখন স্টুডিওতে প্রয়াত শিল্পী হাসান আবেদুর রেজা জুয়েলও ছিলেন এবং প্রিন্স মাহমুদ তাকে বলার পর তখন তিনি গানটি গাইতে রাজি হন। "জুয়েল ভাই তখন 'বিদায় শব্দটা কেন এত যন্ত্রণাময়' এটা গেয়ে ফেলছে, তখন আমি জুয়েল ভাইকে বললাম আপনি বাবা গানটি গান, জেমস ভাইকে এটা দিয়ে দেই" বলছিলেন তিনি।
পরের দিন আবারও স্টুডিওতে আসেন তারা তিনজন। জেমস তখন 'বিদায় শব্দটা কেন এত যন্ত্রণাময়' গানটা শুনে রেকর্ডিং শুরুর ঠিক আগে আবার বাবা গানটা শুনতে চান। "এদিকে জুয়েল ভাই তো বাবা গানটা মোটামুটি বোধহয় তুলে ফেলছে, কিন্তু জুয়েল ভাই এত ভালো মানুষ ছিল… পরে জেমস ভাই এসে বলে ঠিক আছে এটাই গাই।"
নব্বই দশকের শেষদিকে এসে প্রকাশিত সেই গান এখনও বাবা দিবসের বিভিন্ন অনুষ্ঠান এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাবাকে স্মরণ করার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। বাবাকে হারানোর বেদনা আর স্মৃতিমেশানো সেই গান অনেকের জন্য গভীর আবেগের কারণ হয়।
'আয় খুকু আয়' - হেমন্ত মুখোপাধ্যায় ও শ্রাবন্তী মজুমদার
বাবাকে নিয়ে বাংলা গানের ইতিহাসে বড় সাড়া জাগানো গান 'আয় খুকু আয়'। গানটি প্রকাশের ৫০ বছর হয়েছে।
এর গীতিকার ছিলেন পুলক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সুরকার ছিলেন পণ্ডিত ভি. বালসারা। হেমন্ত মুখোপাধ্যায় ও শ্রাবন্তী মজুমদারের কণ্ঠে গানটি জনপ্রিয়তা পায়।
গানটি পরবর্তীতে আরও অনেকেই নতুন করে গেয়েছেন। কিন্তু সত্তরের দশকের সেই গানটিই আবেদন ধরে রেখেছে মানুষের মনে।
গানটি মূলত শ্রাবন্তী মজুমদারের অ্যালবামের জন্য তৈরি করা হয়েছিল। এর সুরকার ভি. বালসারার প্রাথমিকভাবে গানটি পছন্দ হয়নি, কারণ এতে কিছু ইংরেজি শব্দ বা আধুনিক ধাঁচের রূপ ছিল সেটার তেমন প্রচলন সেসময় ছিল না; কলকাতার ডিডি বাংলার এক সাক্ষাৎকারে এভাবে বর্ণনা করেছিলেন মিজ মজুমদার।
তার আগ্রহেই সুরকার বালসারা রাজি হন এবং তিনি চেয়েছিলেন গানটি তার সাথে হেমন্ত মুখোপাধ্যায় গাইবেন। তারা একসাথে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের কাছে যান।
"আমার বুক দুরু দুরু করছে যদি হেমন্তদা বলেন আমি করবো না… হেমন্তদা পড়েই বললেন- আমি গাইবো" বলেন মিজ মজুমদার।
তিনি ভি. বালসারাকে অনুরোধ করেন যেন সুরটা খুব 'সিম্পল ও মনোটনাস' হয় যেন সবাই সহজে গাইতে পারে।
এরপর বাধা হয়ে দাঁড়ালো গানটা লম্বা হয়ে যাওয়া।
"গানটা এত বড়, আমাদের তো তখন সাড়ে ছয় মিনিটের বেশি করা যাবে না। তো মি. বালসারা, আমি আর পুলকদা গেলাম হেমন্তদার কাছে। মি. বালসারা গিয়ে বললেন যে হেমন্তদা, যদি শেষের দুটা ভার্স (লাইন) বাদ দিয়ে দেওয়া যায় তাহলে গানটা ঠিকমতো মিউজিকে আসে"।
এভাবে বেশ অনেকগুলো সাক্ষাৎকারেই বর্ণনা করেন মিজ মজুমদার।
তার ভাষায়, হেমন্ত মুখোপাধ্যায় বলেছিলেন "গানের ওই ভার্স যদি বাদ দাও তাহলে আর গানটা দাঁড়ায় না, তুমি তোমার মিউজিক বাদ দিয়ে দাও, ফেলে দাও। এই দুটো ভার্স থাকতেই হবে"।
পরে সেসব রেখেই মিউজিক কম্পোজ করেন মি. বালসারা।
সেসময় গানের রেকর্ডিং এখনকার মতো বারবার করার সুযোগ ছিল না। সবাই মিলে একসাথে এক-দুইবারে যেমন হয়। এইটা তিনবার রেকর্ড করা হয়েছিল।
পরবর্তীতে গানটি পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশে ব্যাপক পরিচিতি পায়।
'বাবার মুখে শুনেছিলাম গান' - এন্ড্রু কিশোর
"আমার বাবার মুখে প্রথম যেদিন শুনেছিলাম গান, সেদিন থেকে গানই জীবন, গানই আমার প্রাণ" গানটি ১৯৮৪ সালের নয়নের আলো চলচ্চিত্রের জন্য তৈরি করা হয়েছিল।
গানটির সুরকার ও গীতিকার আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল এবং গেয়েছিলেন এন্ড্রু কিশোর।
নয়নের আলো চলচ্চিত্রের শুধু এই গানটিই না, প্রায় সবগুলো গানই ব্যাপক জনপ্রিয় হয়। যেমন আমার বুকের মধ্যেখানে, আমার সারা দেহ খেও গো মাটি, আমি তোমার দুটি চোখে দুটি তারা হয়ে থাকবো, এমন বেশ কিছু গান।
প্রয়াত আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল ২০১৪ সালে বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, এই চলচ্চিত্রের গানের কাজ পাওয়া 'হিমালয় পর্বতের চূড়ায় ওঠা'র মতো ছিল।
সেসময় অনেকের মাঝে বসিয়ে কড়া মন্তব্যের মুখে তাকে পড়তে হতো বলছিলেন তিনি।
"ঐ সময় তো সাউন্ডপ্রুফ রুম ছিল না, আমার বাসায় বসে বসে টিউন করতাম, ক্যাসেট রেকর্ডারে গানগুলো ধারণ করতাম। তো কখন মুরগি ডাকলো কখন কুকুর ডাকলো সেটা আমি শুনতে পেতাম না। ওরা ঠিকই গান শুনতে গিয়ে বলতো, এই মুরগী ডাকলো কেন, কুকুর ডাকলো কেন? গান আবার ঠিক করে নিয়ে আসো। এটা করতে করতে আমার জীবন বার হয়ে গেছে, এটা আমার মনে পড়ে" বলেছিলেন তিনি। আগে দেশাত্মবোধক গান করলেও নয়নের আলো'র জন্য গান তৈরিকে নিজ ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট বলে জানান তিনি।
সুরকার ও সংগীত পরিচালক ইমন সাহা বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, ক্যারিয়ারের প্রথম দিককার সময়ে মি. বুলবুল তার বাবা সত্য সাহার কাছ থেকে নানা ধরনের পরামর্শ নিতেন।
"বাবা বলছে দেখ, যেটাই, করিস না কেন, আমাদের গ্রামীণ অডিএন্সটাকে, মাথায় রাখিস। ফিল্মের অডিএন্স কিন্তু গ্রামের অডিএন্স, ফোক বেজ যদি কিছু করিস তাহলে দেখবি যে জিনিসটা খুব সহজে মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে। নয়নের আলো ছবির গানগুলি শুনলেই বুঝবেন যে কোথায় জানি, একটা মাটির গন্ধ আছে" বলছিলেন ইমন সাহা।
ব্যক্তিগতভাবে বাবা নিয়ে নয়নের আলো চলচ্চিত্রের গানটি ছোটবেলা থেকেই গুনগুন করে গাইতেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সরাসরি বাবা নিয়ে না, কিন্তু
এমন বেশ কিছু গান রয়েছে যেগুলো ঠিক বাবাকে নিয়ে গান না, কিন্তু মানুষের কাছে ব্যাপক পরিচিত। এর মাঝে প্রথমেই থাকবে মান্না দের 'তুই কি আমার পুতুল পুতুল সেই ছোট্ট মেয়ে' যেটি মেয়েকে নিয়ে বাবার গান।
গানটি নিয়ে মান্না দে তার আত্মজীবনী 'জীবনের জলসা ঘরে' বইতে উল্লেখ করেছেন, গীতিকার মিল্টু ঘোষের লেখা গানটি সুপর্ণকান্তি ঘোষকে গানটি সুর করতে বলেছিলেন তিনি সঙ্গীত পরিচালক নচিকেতা ঘোষের ছেলে সুপর্ণকান্তিকে তিনি খোকা বলতেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সেই খোকার গানটির কথা সেভাবে পছন্দ হয়নি। কিন্তু সেটা অবিবাহিত তরুণ খোকার জন্য স্বাভাবিক বলেই বর্ণনা করেন তিনি।
"মেয়েকে বিদায় দেওয়ার নাড়ী-ছেঁড়া অসহ্য যন্ত্রণার সে অভিজ্ঞতা আমার আছে। দু'-দু'বার সেই নাড়ী-ছেঁড়া যন্ত্রণায় কেঁদেছি আমি। তাই আমি জানি ভাষাটা সত্যিই মনের কথা থেকেই হয়েছে" মান্না দে লেখেন।
দুই জন কন্যাসন্তানের পিতা হিসেবে মান্না দে'র মন ছুঁয়েছিল সেই গান।
আরেকটি 'গান বাবা বলে গেল আর কোনোদিন গান করো না' যেটি লিখেছেন আমজাদ হোসেন, সুর করেছেন আলাউদ্দিন আলীর ও গেয়েছেন শামীমা ইয়াসমিন দিবা। বাবার শাসন থেকে শুরু হওয়া এই গানটির মূল থিম অবশ্য 'গান গাওয়া', বাবা নয়। তবে 'জন্ম থেকে জ্বলছি' চলচ্চিত্রের এই গানটি অনেক বেশি পরিচিত।
বাবা তুমি আমার বেঁচে থাকার কারণ - তানভীর ইভান
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খুব পরিচিত হয়ে ওঠা গান 'বাবা তুমি আমার বেঁচে থাকার কারণ, বলো তোমার মতো করবে কে শাসন'। পিরান খানের সুরে গাওয়া এই গানটি মূলত 'আপন' নামের একটি নাটকের জন্য গাওয়া হয়েছিল।
এনিয়ে শিল্পী তানভীর ইভান দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় এক সাক্ষাৎকারে বলেন নাটকটির "পরিচালক অমি ভাই পিরানকে ফোন করে বলেন, বাবাকে নিয়ে একটা গান লাগবে। পরিস্থিতি বুঝিয়ে দিয়েছিলেন। এরপর আমরা বসে গানটা তৈরি করি। তানজিব সৌরভের লেখা কথায় সুর করেন পিরান। মেহেদীবাগের (চট্টগ্রাম) স্টুডিওতে গানটা তৈরি করি"।
এই গানটির ব্যাপক পরিচিতি পাওয়া ছাড়াও গানটি শুনে মি. ইভানের বাবা-মা আবেগে কেঁদেছেন, সেটা তার জন্য একটা বড় পাওয়া।
আরও অনেক গানই আছে বাবা নিয়ে যেগুলো মানুষের কাছে পরিচিতি পেয়েছে। যেমন গাজী মাজহারুল আনোয়ারের লেখা সৈয়দ আব্দুল হাদীর গাওয়া 'বাবার কথা মনে পড়ে,' আইয়ুব বাচ্চুর কণ্ঠে 'বাবা তোমার কথা মনে পড়ে' আসিফ আকবরের 'বাবা নেই', গীতিকবি মিল্টন খন্দকারের 'আমি যাচ্ছি বাবা' (গেয়েছেন ঝিনুক) বা 'বাবা তোমার ছেলে আজ বড় হয়েছে' (গেয়েছেন মনির খান), এমন অনেক গানই রয়েছে। আর সাম্প্রতিক সময়ে 'জংলি' চলচ্চিত্রে প্রিন্স মাহমুদের পরিচালনায় 'বাবা তোমায় ছাড়া' গানটিও বেশ পরিচিতি পেয়েছে।

About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
যুক্তরাষ্ট্রের আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়েই শেষ হলো ইরান যুদ্ধ by মুসা মনির
রক্ষণশীল বিশ্লেষক এরিক এরিকসন লিখেছেন, ‘ট্রাম্প ইরানের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন।’
টেক্সাসের সিনেটর টেড ক্রুজ সতর্ক করে বলেছেন, ‘যেসব ধর্মীয় উন্মাদ আমাদের হত্যা করতে চায়, তাদের হাতে শত শত কোটি ডলার তুলে দেওয়া কোনো ভালো সিদ্ধান্ত নয়।’
লুইজিয়ানার সিনেটর বিল ক্যাসিডি ক্ষোভ প্রকাশ করে একে ‘কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় পররাষ্ট্রনীতিগত ভুল’ বলে অভিহিত করেছেন।
সমালোচকদের মতে, এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বড় ধাক্কা। কারণ এর মাধ্যমে ইরান তাৎক্ষণিকভাবে অবরুদ্ধ থাকা শত শত কোটি ডলার ফেরত পাচ্ছে এবং পরবর্তীতে দেশ পুনর্গঠনের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিলও পাবে।
এ ছাড়া চুক্তি অনুযায়ী, আগামী ৬০ দিন পর ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে ফি বা শুল্ক আদায়ের আংশিক সুযোগ পেতে যাচ্ছে।
তবে এই সমালোচকরা মূল বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছেন। ট্রাম্পের আসল ভুল যুদ্ধ শেষ করা নয়, বরং এই অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধে জড়ানো। বর্তমান পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের যুদ্ধ থেকে পিছিয়ে আসার সিদ্ধান্তটিই সঠিক ছিল। কারণ যুদ্ধ চালিয়ে গেলে আরো অনেক মানুষের প্রাণহানি ঘটত। এই যুদ্ধ ইতোমধ্যে বিশ্ব অর্থনীতি এবং মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জয়ের সম্ভাবনাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছিল।
ট্রাম্প নিজেই বলেছেন, ‘আমরা যদি এই চুক্তি না করতাম, তবে আরো কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক বছর বোমা ফেলা যেত, কিন্তু হরমুজ প্রণালি কখনোই উন্মুক্ত হতো না। আমি কোনো অর্থনৈতিক বিপর্যয় দেখতে চাইনি।’
অপ্রিয় সত্য হলো, ইরান এই যুদ্ধে জয়ী হয়েছে এবং সে কারণেই তারা আলোচনায় আধিপত্য বিস্তার করেছে। ট্রাম্প চুক্তি করতে যতটা সম্ভব দেরি করেছিলেন, কারণ তিনি জানতেন যেকোনো চুক্তিই তার জন্য অপমানজনক হবে। কিন্তু যুদ্ধে ব্যর্থতার কারণে তার সামনে আর কোনো ভালো পথ খোলা ছিল না। এই বিপর্যয় থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত যে অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধ এড়িয়ে চলতে হবে এবং বৈশ্বিক সমস্যা সমাধানে কূটনীতির ওপর জোর দিতে হবে।
২০১৫ সালে বারাক ওবামার আমলে ইরান পারমাণবিক সমস্যার একটি সমাধান হয়েছিল। তখন ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের প্রায় পুরোটাই দেশের বাইরে পাঠিয়ে দিয়েছিল এবং কঠোর পরিদর্শনের অনুমতি দিয়েছিল। কিন্তু ট্রাম্প, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং মার্কিন যুদ্ধবাজরা সেটির বিরোধিতা করেছিলেন।
ট্রাম্প ২০১৮ সালে ওবামা আমলের চুক্তিটিকে অত্যন্ত খারাপ বলে বাতিল করেন এবং দাবি করেছিলেন যে তিনি হলে আরো ভালো চুক্তি করতে পারতেন। কিন্তু আট বছর পর ট্রাম্পের যুদ্ধ শুরুর হঠকারী সিদ্ধান্তের কারণে পরিস্থিতি আরো জটিল হয়। তিনি হরমুজ প্রণালি বন্ধের প্রভাব বিবেচনা না করেই বোমা হামলা শুরু করেছিলেন।
নতুন এই চুক্তিটি ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতার মূল প্রশ্নগুলোকে পরবর্তী আলোচনার ওপর ছেড়ে দিয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এই যুদ্ধের ফলে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে আরো বেশি আগ্রহী হবে।
ধারণা করা হচ্ছে, ৬০ দিনের আলোচনার মেয়াদ আরো বাড়বে এবং ইরান এই আলোচনাকে দীর্ঘায়িত করবে। আমেরিকার মানুষের মধ্যেও নতুন করে কোনো ইরান যুদ্ধের আগ্রহ থাকবে না। এর ফলে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) উত্তর কোরিয়ার কৌশল অবলম্বন করে পারমাণবিক অস্ত্রাগার গড়ে তুলতে পারে।
এই যুদ্ধের ফলে আমেরিকা অর্থনৈতিক ও সামরিকভাবে দুর্বল হয়েছে এবং ১৩ জন মার্কিন সেনাসহ হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। যুদ্ধ অর্থায়ন বিশেষজ্ঞ লিন্ডা বিলমেসের মতে, ঘাঁটির মেরামত, গোলাবারুদ প্রতিস্থাপন এবং আহত সেনাদের দীর্ঘমেয়াদি ভাতাসহ এই যুদ্ধের চূড়ান্ত খরচ প্রায় ১ লাখ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে। আমেরিকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য বা মানবিক সহায়তায় ব্যয় হতে পারত এমন বিপুল অর্থ পারস্য উপসাগরে অপচয় করা হয়েছে।
এই যুদ্ধের মাধ্যমে সাধারণ ইরানিদের সবচেয়ে বেশি প্রতারিত করা হয়েছে। গত জানুয়ারিতে ইরানি সরকারের দমনপীড়নের পর ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘সহায়তা আসছে।’ কিন্তু এখন ইরানিদের আরো বেশি অত্যাচারী সরকারের অধীনে রেখে আসা হয়েছে। এমনকি এই মাসে ট্রাম্প প্রশাসন এক ইরানি নারীকে মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে ফেরত পাঠিয়েছে, যেখানে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টই নিজ নাগরিকদের যেতে নিষেধ করে। সুতরাং, এই ব্যর্থ ইরান যুদ্ধ চুক্তির সমালোচনা অবশ্যই করা উচিত, তবে ট্রাম্পের যুদ্ধ থেকে বের হয়ে আসাটা ট্র্যাজেডি নয়, বরং যুদ্ধটাই ছিল আসল ট্র্যাজেডি।
![]() |
| যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি : সংগৃহীত |
About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন ‘ব্রেকিং ব্যাড’ খ্যাত মার্কিন অভিনেতা এস্পোসিতো
সৌদি আরবের জেনারেল এন্টারটেইনমেন্ট অথরিটির প্রধান তুর্কি আল-শেখ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এস্পোসিতো শাহাদাহ পাঠের মাধ্যমে ইসলামে দীক্ষিত হন। শুটিং চলাকালে তিনি একটি মসজিদে সহকর্মীদের সঙ্গে নামাজেও অংশ নেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে তাকে মুসল্লিদের সঙ্গে কাতারে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করতে দেখা গেছে।
তুর্কি আল-শেখ জানান, সৌদি আরবে অবস্থানকালে স্থানীয় মুসলিম সমাজের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ পরিচয়, তাদের জীবনযাপন ও ইতিবাচক আচরণ এস্পোসিতোর ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছে। দেশটির মানুষের আন্তরিকতা, অতিথিপরায়ণতা এবং সামাজিক সম্প্রীতিরও প্রশংসা করেছেন এই হলিউড অভিনেতা।
দীর্ঘ কয়েক দশকের অভিনয়জীবনে জিয়ানকার্লো এস্পোসিতো টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র অঙ্গনে বিশেষ অবস্থান তৈরি করেছেন। ‘ব্রেকিং ব্যাড’-এ তার অভিনয় ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে এবং তাকে একাধিক আন্তর্জাতিক পুরস্কারের মনোনয়ন এনে দিয়েছে। এছাড়া ‘বেটার কল সল’ ও ‘দ্য ম্যান্ডালোরিয়ান’-এর মতো জনপ্রিয় সিরিজেও তার অভিনয় দর্শক ও সমালোচকদের সমানভাবে মুগ্ধ করেছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এস্পোসিতো বর্তমানে ‘সেভেন ডগস’ নামের একটি উচ্চ বাজেটের চলচ্চিত্রের কাজ নিয়ে সৌদি আরবে ব্যস্ত সময় পার করছেন। আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র নির্মাতা ও তারকাদের আকৃষ্ট করে দেশটির বিনোদন খাতকে আরও বিকশিত করার যে পরিকল্পনা সৌদি আরব বাস্তবায়ন করছে, এই প্রকল্পকে তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
![]() |
| মার্কিন টেলিভিশনের জনপ্রিয় অভিনেতা জিয়ানকার্লো এস্পোসিতো। ছবি : সংগৃহীত |
About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির অন্তরালের নাটকীয় গল্প
মার্কিন শীর্ষ কূটনীতিক এরইমধ্যে প্রাসাদে যাওয়ার পথে খবর পেয়েছিলেন যে চুক্তির নথি চূড়ান্ত হয়েছে। পরিকল্পনা ছিল, দুই দিন পর সুইজারল্যান্ডের লেক লুসার্নের তীরে অবস্থিত একটি অভিজাত অবকাশকেন্দ্রে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হবে। ওই অনুষ্ঠানে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, যিনি এই সমঝোতার প্রধান মার্কিন আলোচক ছিলেন, ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করে পরবর্তী কারিগরি আলোচনা শুরু করার কথা ছিল।
কিন্তু ট্রাম্প তার সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন, চুক্তি অবিলম্বে কার্যকর হোক এবং সেদিন রাতেই তিনি এতে স্বাক্ষর করবেন। ম্যাক্রোঁ জানান, তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা দ্রুত আয়োজন করতে পারবেন। ওই ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত কর্মকর্তারা এসব তথ্য জানিয়েছেন।
ভার্সাই প্রাসাদের বিখ্যাত ‘হল অব মিররস’-এ দুই প্রেসিডেন্ট যখন হাঁটছিলেন, তখন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে চুক্তির কপি ছাপানোর জন্য একটি প্রিন্টারের ব্যবস্থা করছিলেন।
শেষ পর্যন্ত শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের লুসার্নে নির্ধারিত অনুষ্ঠানটি হয়নি। ইসরাইল ও লেবাননে হিজবুল্লাহর মধ্যে নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে ইরান বৈঠক থেকে সরে দাঁড়ায়। যদিও শুক্রবার সকালে নতুন যুদ্ধবিরতিতে সম্মতি হয়েছিল, তবুও ট্রাম্প চুক্তিতে স্বাক্ষর করার কয়েক দিনের মধ্যেই ইরান চুক্তির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
চুক্তির পরবর্তী ধাপে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি আদায়ের কাজ শুরু করার জন্য ট্রাম্প ও ভ্যান্স আগ্রহী। কিন্তু এই চুক্তি তাদের রাজনৈতিক সমর্থকদের একাংশের কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েছে।
সমালোচকদের অভিযোগ, এতে তেহরানকে ছাড় দেয়া হয়েছে, অথচ বিনিময়ে খুব সামান্য অর্জন করা হয়েছে।
সিনেটের সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান রজার উইকার বলেন, চুক্তির ষষ্ঠ অনুচ্ছেদে অন্তর্ভুক্ত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন তহবিলের বিষয়টি ওবামা আমলের পারমাণবিক চুক্তির অর্থায়নকে “অতি সামান্য” বলে মনে করায়।
তবে সমালোচনার জবাবে ট্রাম্প দাবি করেন, মার্কিন সামরিক শক্তির কারণেই ইরান আলোচনায় বসতে বাধ্য হয়েছে।
তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেন, আমরা হতাশ হয়ে আলোচনায় যাইনি, ইরান গেছে। তারা শেষ হয়ে গেছে। আমরা ৬০ দিনের সময় দেব। তারা কোনো অর্থ পাবে না, এক পয়সাও নয়।
তবে কয়েক মাসের যুদ্ধের পর ১৪ দফার এই সমঝোতা স্মারক ট্রাম্পের জন্য স্বস্তির বিষয় হয়ে ওঠে। তার উপদেষ্টারা সতর্ক করেছিলেন যে বৈশ্বিক তেলের মজুত কমে আসছে এবং আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রিপাবলিকানদের উদ্বেগ বাড়ছে।
ট্রাম্প নিজেও স্বীকার করেন, অর্থনৈতিক উদ্বেগই তাকে চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে উদ্বুদ্ধ করেছে। তিনি বলেন, তিনি চাননি অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের জন্য তাকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হার্বার্ট হুভারের সঙ্গে তুলনা করা হোক।
জি-৭ সম্মেলন শেষে ফ্রান্সের এভিয়াঁ-লে-বাঁ শহরের একটি হোটেলে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমি অর্থনৈতিক বিপর্যয় দেখতে চাইনি।
সেই রাতেই স্থানীয় সময় রাত ১১টার পর ভার্সাই প্রাসাদের একটি গ্যালারিতে দীর্ঘ ভোজের টেবিলে বসে ট্রাম্প কালো মার্কার কলম দিয়ে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
উপস্থিত অতিথিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এটি সহজ ছিল না, আমি বলতে পারি। তিনি স্বাক্ষরিত নথি তুলে ধরলে ম্যাক্রোঁ বলেন, “ব্রাভো।” এরপর নথির ছবি তুলে ইরানে পাঠানো হয়।
বিশৃঙ্খল প্রক্রিয়া
এই আকস্মিক স্বাক্ষর ছিল দীর্ঘ ও জটিল আলোচনার চূড়ান্ত অধ্যায়। পুরো প্রক্রিয়াটি নানা টানাপোড়েন, অচলাবস্থা এবং অনিশ্চয়তায় ভরা ছিল।
ট্রাম্প কখনও চুক্তি আসন্ন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন, আবার কখনও ইরান তার শর্ত না মানলে সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করার হুমকি দিয়েছেন। চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পরও এর পূর্ণাঙ্গ পাঠ কয়েক দিন গোপন রাখা হয়।
মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীরা জানিয়েছিলেন, ইরান অভ্যন্তরীণ কারণে প্রকাশ বিলম্ব করতে চায়।
অবশেষে এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা সাংবাদিকদের সামনে চুক্তিটি পড়ে শোনান। কর্মকর্তারা আরও জানান, আনুষ্ঠানিক নথির বাইরে কিছু ‘জেন্টলম্যানস অ্যাগ্রিমেন্ট’ বা অনানুষ্ঠানিক সমঝোতাও রয়েছে।
জেডি ভ্যান্স সাংবাদিকদের বলেন, সমঝোতা স্মারক, অনানুষ্ঠানিক সমঝোতা, চূড়ান্ত চুক্তি-শব্দগুলো গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো যাচাই-বাছাই।
যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার তাগিদ
হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরে বহুদিন ধরেই যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার উপায় খোঁজা হচ্ছিল। ট্রাম্পের রাজনৈতিক উপদেষ্টারা মনে করছিলেন, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত রিপাবলিকানদের নির্বাচনী সম্ভাবনা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট বিশ্ব জ্বালানি বাজারের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন।
এক কর্মকর্তা বলেন, সবার মধ্যে একটি উপলব্ধি তৈরি হয়েছিল- যদি পরিস্থিতি এভাবেই চলতে থাকে, তাহলে তা আরও খারাপ হবে। জুনের শুরুতে হোয়াইট হাউসের এক বৈঠকে ট্রাম্প ও তার উপদেষ্টারা ইরানের সঙ্গে একটি প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছানোর সিদ্ধান্ত নেন, যার লক্ষ্য ছিল হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়া এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংসের জন্য একটি বিস্তৃত কাঠামো নির্ধারণ করা।
ইসরাইলের সঙ্গে উত্তেজনা
চুক্তি চূড়ান্ত করার পথে আরেকটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় ইসরাইল-হিজবুল্লাহ উত্তেজনা। বৈরুতের উপকণ্ঠে ইসরাইলি হামলার পর ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তিনি মনে করেন, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু চুক্তি বানচাল করার চেষ্টা করছেন।
এক উত্তপ্ত ফোনালাপে ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে তীব্র ভাষায় ভর্ৎসনা করেন বলে সূত্র জানিয়েছে।
একই সময়ে কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা তেহরানে ম্যারাথন বৈঠক চালিয়ে যান। ১৭ ঘণ্টার আলোচনার পর ইরান ইসরাইলের দিকে নিক্ষেপের জন্য প্রস্তুত রাখা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সরিয়ে নিতে সম্মত হয়।
তবে ইরান একটি বিষয়ে অনড় ছিল- তারা চায়নি ট্রাম্পের জন্মদিনে চুক্তির ঘোষণা দেয়া হোক। শেষ পর্যন্ত মধ্যস্থতাকারীরা একটি সমঝোতা বের করেন। তেহরানের স্থানীয় সময় মধ্যরাত পেরোনোর পর চুক্তি ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, যা ওয়াশিংটনের সময়ের প্রায় সাড়ে সাত ঘণ্টা আগে।
এর ফলে ট্রাম্প যখন হোয়াইট হাউসের দক্ষিণ লনে জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখনই বিশ্বের সামনে ইরানের সঙ্গে তার প্রশাসনের বহুল আলোচিত সমঝোতার ঘোষণা আসে।

About: Mids
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তিতে কী আছে, ইরান কেন চুক্তিতে রাজি হলো? by হামিদরেজা আজিজি
এদিকে ইরানের অভ্যন্তরে এই চুক্তি নিয়ে সংশয় আরও গভীর। গত এক বছরে ইরানের বিরুদ্ধে দুটি মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধ এবং আলোচনার টেবিলে বসার পরও দফায় দফায় হামলা তেহরানের চুক্তির ব্যাপারে তাদের অবিশ্বাসকে আরও উসকে দিয়েছে।
কী আছে এই চুক্তিতে?
এই প্রাথমিক চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো আপাতত যুদ্ধ বন্ধ করা এবং একটি স্থায়ী কূটনৈতিক সমাধানের পথ তৈরি করা। চুক্তি অনুযায়ী, লেবাননসহ সব ফ্রন্টে অবিলম্বে এবং স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে দুই দেশ। একে অপরের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে তারা ৬০ দিনের আলোচনায় বসবে।
ওয়াশিংটন ইরানের ওপর থেকে নৌ অবরোধ তুলে নিতে রাজি হয়েছে, আর তেহরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুদ্ধ–পূর্ববর্তী সময়ের মতো বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে সম্মত হয়েছে।
৪০ দিনের এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলায় ইরানের প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। ইরান সরকারের হিসাব অনুযায়ী, এই যুদ্ধে তাদের ক্ষতি হয়েছে প্রায় ২৭০ বিলিয়ন ডলার। ওয়াশিংটন এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে নিয়ে অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি ‘পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন তহবিল’ গঠনে সম্মত হয়েছে।
ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী কার্যকর হবে, যা ওয়াশিংটন ও তেহরানকে পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারণ করতে হবে। এই প্রক্রিয়ার আওতায় জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার গভর্নিং বডি কর্তৃক ইরানের ওপর আরোপিত সব শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও তুলে নেওয়া হবে। অন্যদিকে, ইরান পুনর্ব্যক্ত করেছে যে তারা কেবল বেসামরিক উদ্দেশ্যেই পরমাণু কর্মসূচি চালিয়ে যাবে।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি ধ্বংস এবং সরকার পরিবর্তনের প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এই যুদ্ধ শুরু করলেও প্রাথমিক চুক্তির ভারসাম্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, পাল্লা তেহরানের দিকেই ভারী।
চুক্তিতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধের কোনো শর্ত নেই। ইরান সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ স্থগিত রাখতে আগ্রহ দেখিয়েছে তবে একই সাথে তারা নিজেদের মাটিতে বেসামরিক উদ্দেশ্যে পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণের অধিকারের বিষয়ে নিজেদের দাবিতে অনড় রয়েছে।
এ ছাড়া ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ওপর থেকে প্রাথমিক মার্কিন নিষেধাজ্ঞাগুলো তুলে নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে রাজি হয়েছে। এটি ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তির চেয়েও বড় একটি অগ্রগতি।
ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে কেবল বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে এবং সেখানে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে, সামরিক যান চলাচল আপাতত এর বাইরে থাকবে। অন্যদিকে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও আঞ্চলিক সহযোগী গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থনের বিষয়টি এই চুক্তিতে রাখা হয়নি।
এই চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশটি হলো লেবানন প্রসঙ্গ। ইরান সফলভাবে নিজের দেশের সঙ্গে লেবানন ফ্রন্টকে যুক্ত করেছে এবং ওয়াশিংটনের মাধ্যমে ইসরায়েলকে বাধ্য করছে, যাতে তারা হিজবুল্লাহর ওপর হামলা বন্ধ করে।
তবে এ প্রাথমিক চুক্তিটি এতটাই অস্পষ্ট যে বিভিন্ন পক্ষ এর দুই রকম ব্যাখ্যা দাঁড় করাতে পারে। বড় ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো সব আগামী ৬০ দিনের আলোচনার ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এমনকি যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধ হওয়াটাও নির্ভর করছে একটি চূড়ান্ত চুক্তির ওপর।
আপাতত এই চুক্তির তাৎক্ষণিক লাভ খুবই সীমিত: সাময়িকভাবে যুদ্ধ থামানো, কূটনীতির সুযোগ তৈরি করা, মার্কিন ছাড়ের আওতায় ইরানের তেল রপ্তানি পুনরায় শুরু করা এবং সাগরে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা।
কেন তেহরান এই চুক্তি মেনে নিল?
২০১৫ সালে ইরানের পারমাণবিক চুক্তির কালে তীব্র বিরোধিতার সৃষ্টি হলেও এবার ইরানের পুরো ব্যবস্থা এককাট্টা হয়েছে। সব প্রমাণ ইঙ্গিত করছে যে দেশটির নীতিনির্ধারকদের মধ্যে এবার প্রায় সবার ঐকমত্য রয়েছে। বিশেষ করে, সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির মতো প্রভাবশালী নেতাদের হারানোর পর থেকে ইরানের এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া এখন অনেক বেশি যৌথ এবং নিরাপত্তাভিত্তিক হয়ে উঠেছে।
গত রবিবার বৈরুতে ইসরায়েলি হামলার পর ইরানের কট্টরপন্থীদের একটি অংশ যখন প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিল, তখন দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে কূটনৈতিক পথকেই সমর্থন করেছেন।
শীর্ষ নেতাদের এই তৎপরতার মূল উদ্দেশ্য ছিল নিজেদের কট্টরপন্থী সমর্থকদের আশ্বস্ত করা। এখানে দুটি বিষয় পরিষ্কার। প্রথমত, ইরানের প্রায় পুরো নেতৃত্ব এই চুক্তি ও আগামী দিনের আলোচনাকে সমর্থন করছে। দ্বিতীয়ত, সমাজ ও এলিট শ্রেণির একটি কট্টরপন্থী অংশ এখনো এর বিরোধিতায় অনড়।
এমনকি চুক্তির সমর্থক ইরানি কর্মকর্তারাও ভেতরে-ভেতরে চরম সন্দিহান। কারণ, এই সমঝোতা হয়েছে গভীর অবিশ্বাসের আবহে। তাঁরা মনে করছেন আমেরিকার কূটনীতি আসলে পরবর্তী হামলার একটি অজুহাত মাত্র। অনেক ইরানি নীতিনির্ধারক তো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যকার আপাত বিরোধকে কোনো কৌশলগত দূরত্ব মনে করেন না বরং একে চাপ সৃষ্টির একটি পরিকল্পিত ‘গুড-কপ, ব্যাড-কপ’ কৌশল হিসেবে দেখেন।
ইরান এখন বড় ধরনের অভ্যন্তরীণ চাপের মুখে। যুদ্ধের সময় সরকার তার কট্টরপন্থী সমর্থকদের প্রতিনিয়ত রাস্তায় নামালেও, সাধারণ জনগণের সঙ্গে রাষ্ট্রের দূরত্ব বেড়েছে, বিশেষ করে গত জানুয়ারির বিক্ষোভ দমনের পর এই ফাটল আরও বড় হয়েছে। কট্টরপন্থীরা যেখানে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে, সাধারণ মানুষ সেখানে যুদ্ধ নিয়ে ক্লান্ত এবং শান্তি চায়।
এই সামাজিক চাপ ও ওয়াশিংটনের প্রতি চরম অবিশ্বাসই মূলত ইরানের বর্তমান কৌশল নির্ধারণ করছে। ইরান তার পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংস বা পরমাণু সামগ্রী রপ্তানি করতে রাজি নয়। তাদের ভয়, পরমাণু কর্মসূচি না থাকলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আবারও নির্দ্বিধায় হামলা চালাবে।
ইরানের পরমাণু সক্ষমতার এই অস্পষ্টতা মূলত প্রতিপক্ষকে হামলার হাত থেকে বিরত রাখার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছিল। তবে এটি মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলা ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে। তা সত্ত্বেও, যুদ্ধ শেষ করতে এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানাতে এ কৌশলটি তেহরানের হাতে একটি বড় শক্তি হিসেবে কাজ করেছে। এমন পরিস্থিতিতে ইরানি নীতিনির্ধারকেরা ‘রিভার্সিবল জিরো এনরিচমেন্ট’ নীতি বেছে নিচ্ছেন। এর অর্থ হলো—ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সাময়িক বন্ধ থাকলেও এর গবেষণা ও অবকাঠামো অক্ষত থাকবে।
একই কৌশল খাটানো হচ্ছে হরমুজ প্রণালির ক্ষেত্রেও। ইরান আগামী ৬০ দিনের জন্য এই জলপথ দিয়ে টোলমুক্ত জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে। তবে এরপর ওমানের সঙ্গে মিলে নতুন একটি পারাপারব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করছে তারা। তেহরানের মূল লক্ষ্য রাজস্ব আয় নয় বরং নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা।
লেবানন নিয়েও তেহরানের একই কৌশল। কেবল আদর্শগত কারণে নয় বরং আবারও যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা থেকেই লেবাননকে এই চুক্তির ভেতরে রাখার ব্যাপারে অনড় অবস্থান নিয়েছে তেহরান।
সামগ্রিকভাবে, ইরান এই চুক্তিকে এমনভাবে দেখছে যে এটি হয়তো ৬০ দিনের বেশি টিকবে না। গত তিন বছরে এ অঞ্চলের অভিজ্ঞতা তেহরানকে এই সতর্ক হতে বাধ্য করেছে।
তবে শেষ পর্যন্ত যে বিষয়টি তেহরানকে এই চুক্তিতে সই করতে বাধ্য করেছে, তা হলো চরম বাধ্যবাধকতা। যুদ্ধে ইতিমধ্যে তাদের প্রায় ২৭০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং মার্কিন নৌ অবরোধের কারণে দেশের মুদ্রাস্ফীতি ৮০ শতাংশ ছাড়িয়েছে। এই অবস্থায় এমন একটি সাময়িক সমঝোতাও তেহরানের জন্য লাভজনক, যা অন্তত তাদের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে কিছুটা স্থিতিশীল করবে, কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করবে এবং সামরিক শক্তি পুনর্গঠনের জন্য কিছুটা সময় দেবে।
তিনটি কারণে চুক্তি ভেস্তে যেতে পারে
প্রধান তিনটি কারণে যেকোনো সময় এই চুক্তি ভেস্তে যেতে পারে। প্রথম সমস্যাটি হলো লেবানন। ইরান এই চুক্তিতে লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষার শর্ত জুড়ে দিয়েছে। যেকোনো চূড়ান্ত চুক্তির জন্য তারা লেবানন থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের শর্ত দিচ্ছে এবং দিন দিন এই দাবি নিয়ে নিজেদের অবস্থান আরও কঠোর করছে।
এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার এই চুক্তি মানতে তিনি বাধ্য নন এবং লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহারের কোনো ইচ্ছাও তাঁর নেই।
দ্বিতীয় বড় সংকটটি হলো পারমাণবিক কর্মসূচি এবং ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি, যা প্রযুক্তিগত ও কূটনৈতিক দিক থেকে সবচেয়ে জটিল। সাধারণত এগুলো পুরো প্রক্রিয়াকে ভেস্তে দিতে পারে। আসল জটিলতা লুকিয়ে আছে এখনো না লেখা শর্তগুলোর ভেতরে।
তার ওপর ওয়াশিংটনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এই সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, যেকোনো চূড়ান্ত চুক্তি তিনি কংগ্রেসের অনুমোদনের জন্য পাঠাবেন। এই আইনপ্রণেতাদের প্রক্রিয়াটি নিজেই একটি বড় বাধা হয়ে উঠতে পারে।
তৃতীয় যে বিষয়টি এই চুক্তিকে গুঁড়িয়ে দিতে পারে, তা হলো হরমুজ প্রণালি। এই প্রণালির ওপর নিজেদের কার্যকর নিয়ন্ত্রণকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে তেহরান। যদিও তারা কোনো ট্রানজিট টোল বা শুল্ক নেবে না বলেছে, তা–ও এই নিয়ন্ত্রণ ভবিষ্যতে বড় ধরনের সংঘাতের পথ তৈরি করছে।
আগামী সপ্তাহগুলো মূলত একটি পরীক্ষামূলক ধাপ হিসেবে কাজ করবে। এই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একে অপরের সদিচ্ছা ও চুক্তির শর্ত বাস্তবায়নের মানসিকতা পরিমাপ করবে, একই সঙ্গে বোঝার চেষ্টা করবে একটি স্থায়ী শান্তির জন্য প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক ও কৌশলগত পরিবেশ আদৌ আছে কি না।
* হামিদরেজা আজিজি, জার্মানিভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ‘জার্মান ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাফেয়ার্স’-এর একজন ভিজিটিং ফেলো। টাইম থেকে অনূদিত।
![]() |
| যুক্তরাষ্ট্র–ইরানের এই প্রাথমিক চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো আপাতত যুদ্ধ বন্ধ করা এবং একটি স্থায়ী কূটনৈতিক সমাধানের পথ তৈরি করা। ফাইল ছবি |
About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
শিশুর জ্বরে কখন ও কীভাবে প্যারাসিটামল খেতে দেবেন by ডা. মানিক মজুমদার
কখন শুরু করবেন প্যারাসিটামল
শরীরের তাপমাত্রা ১০১ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার বেশি হলেই প্যারাসিটামল প্রয়োজন হয়। এর মাত্রা নির্ধারিত হয় শিশুর ওজনের ভিত্তিতে, বয়সের ভিত্তিতে নয়। সাধারণ হিসাব প্রতি কেজি ওজনের জন্য প্রায় ১৫ মিলিগ্রাম।
উদাহরণ দেওয়া যাক তাহলে। প্রায় ৮ কেজি ওজনের একটি শিশুর জন্য সিরাপের পরিমাণ এক চা-চামচ অথবা পাঁচ মিলিলিটার আর ১৬ কেজি ওজনের শিশুর জন্য তা দ্বিগুণ অর্থাৎ দুই চা-চামচ। এই সিরাপ প্রতি ছয় ঘণ্টা অন্তর দেওয়া যায়। দিনে সর্বোচ্চ চারবার। যদি জ্বর ১০২ ডিগ্রি বা তার বেশি হয় ও শিশু সিরাপ খাওয়ার অবস্থায় না থাকে, তখন ওজন অনুযায়ী পায়ুপথে সাপোজিটরি দিতে পারেন আট ঘণ্টা অন্তর এক দিনে সর্বোচ্চ তিনবার।
প্যারাসিটামল কতটা নিরাপদ
নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধান না মেনে বা অতিরিক্ত মাত্রায় প্যারাসিটামল দিলে শিশুর লিভার ও কিডনির ক্ষতি হতে পারে। শিশুর শরীরে র্যাশ, ফুসকুড়ি, মুখ অথবা ঠোঁট ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত ঘুম, খিঁচুনি বা জন্ডিসও হতে পারে। তাই এই ওষুধকে নিরাপদ মনে করে নিজের ইচ্ছামতো বারবার প্রয়োগ করাটা মোটেও উচিত নয়।
অ্যান্টিবায়োটিক কি জরুরি
আরেকটি বিষয়ে অভিভাবকদের মধ্যে বিভ্রান্তি থাকে, তা হলো জ্বরের সঙ্গে অ্যান্টিবায়োটিকের সম্পর্ক। শিশুর জ্বর হলেই অনেক মা-বাবা মনে করেন, দ্রুত অ্যান্টিবায়োটিক দিলেই সমস্যা মিটবে। বাস্তবতা হলো, শিশুদের অধিকাংশ জ্বরের কারণ ভাইরাসজনিত, যেখানে অ্যান্টিবায়োটিকের ভূমিকা নেই। জ্বর এলে শরীরের স্বাভাবিক প্রতিরক্ষা প্রক্রিয়া, জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের একটি অংশ। অপ্রয়োজনে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করলে তা শুধু শিশুর শরীরের উপকারী জীবাণুর ভারসাম্য নষ্ট করে না, ভবিষ্যতে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স অথবা প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করার ঝুঁকিও বাড়িয়ে দেয়। এতে পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনের সময় চিকিৎসা কঠিন করে তোলে।
শিশুর জ্বর হলে কী করবেন
শিশুর জ্বর হলে প্রথমেই তাপমাত্রা মেপে দেখুন। প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক মাত্রায় প্যারাসিটামল দিন। নিজে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক দেবেন না। জ্বর তিন দিনের বেশি থাকলে অথবা শিশুর অস্বাভাবিক দুর্বলতা, খিঁচুনি বা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত একজন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
* ডা. মানিক মজুমদার, শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ, পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার লিমিটেড, ময়মনসিংহ
| জ্বর হলেই তাড়াহুড়ো করে প্যারাসিটামল খাওয়ানো ঠিক নয়। ছবি: সাবিনা ইয়াসমিন |
About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘সিরিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে জড়াবে ইসরায়েল’, পরবর্তী নিশানা কে—তুরস্ক না পাকিস্তান
গত বুধ ও বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমকে দেওয়া একাধিক সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলের প্রবাসীবিষয়ক মন্ত্রী আমিচাই চিকলি এ মন্তব্য করেন। সাক্ষাৎকারগুলোয় মধ্যপ্রাচ্যে একটি ‘উগ্র সুন্নি অক্ষ’ গড়ে উঠছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সিরিয়ার বর্তমান ইসলামপন্থী প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সরকারের দিকে ইঙ্গিত করে এ কট্টরপন্থী মন্ত্রী বলেন, ‘আইএস ও আল-কায়েদার আদর্শে বিশ্বাসী একটি “জিহাদি” শাসনব্যবস্থা, যাদের মূল লক্ষ্য জেরুজালেম দখল করা, তারা কখনো ইসরায়েল রাষ্ট্রের পাশাপাশি শান্তিতে বসবাস করতে পারে না।’
বৃহস্পতিবার ইসরায়েলের আর্মি রেডিওর সঙ্গে আলাপকালে আমিচাই চিকলি তাঁর দৃষ্টিতে গড়ে ওঠা এক নতুন ইসরায়েলবিরোধী জোটের রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান, তুরস্ক ও কাতার মিলে এ নতুন জোট গঠন করেছে।’
এ জোট নিয়ে চিকলি এতটাই চিন্তিত যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া সাম্প্রতিক শান্তিচুক্তির চেয়েও এটি তাঁকে বেশি উদ্বিগ্ন করছে।
লিকুদ পার্টির এই মন্ত্রী অবশ্য স্বীকার করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে ইরান বড় ধরনের কিছু সাফল্য অর্জন করেছে। তবে তিনি বলেন, ‘এর চেয়েও অনেক বেশি উদ্বেগের বিষয় হলো মধ্যপ্রাচ্যে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা নতুন এ অক্ষ বা জোট।’
ইসরায়েলি এই মন্ত্রীর মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আলোচনা ও সমঝোতায় পাকিস্তান ও তুরস্ক বড় ধরনের ভূমিকা রেখেছে। আর এর মধ্য দিয়েই তারা এই নতুন জোটের অংশ হয়ে উঠেছে।
বৃহস্পতিবার ‘কোল বারামা’রেডিওকে দেওয়া অন্য এক সাক্ষাৎকারে চিকলি এই নতুন জোটে কাতারের ভূমিকা কেমন, তা ব্যাখ্যা করেন। পারস্য উপসাগরীয় এই দেশটিকে তিনি ‘জিহাদিদের জনসংযোগ শাখা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
‘উগ্র সুন্নি অক্ষ’
আমিচাই চিকলি বিশ্বজুড়ে কট্টরপন্থী রাজনীতিবিদ ও সরকারগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার কাজ করছেন। চলতি সপ্তাহে যুক্তরাজ্যের কট্টরপন্থী উসকানিদাতা টমি রবিনসনের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন। রবিনসনের আসল নাম স্টিফেন ইয়াক্সলে-লেনন।
রাশিয়া থেকে যুক্তরাজ্যে ফেরার পর ব্রিটিশ পুলিশ রবিনসনকে আটকে দেয় এবং তাঁর মুঠোফোনগুলো জব্দ করে।
এ ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করে মন্ত্রী চিকলি বলেন, ‘প্রকৃত “ইসলামি সন্ত্রাসের” বিরুদ্ধে ব্রিটেনের অন্যতম স্পষ্ট এক কণ্ঠস্বরকে এখন সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় হেনস্তা করা হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ব্রিটেন খুব দ্রুতই ইউরোপের দ্বিতীয় ইসলামি প্রজাতন্ত্রে পরিণত হবে।’
‘কোল বারামা’রেডিওকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলি এই মন্ত্রী বলেন, পাকিস্তান ও তুরস্ক হলো ভারত, গ্রিস ও সাইপ্রাসের শত্রু, যারা (এই তিন দেশ) আবার ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র।
বুধবার ‘১০৩এফএম’রেডিওকে চিকলি বলেন, ‘আমরা আমাদের চোখের সামনে একটি নতুন অক্ষ বা জোটের উত্থান প্রত্যক্ষ করছি।’ তুরস্ক, কাতার ও পাকিস্তানকে ইঙ্গিত করে তিনি কথিত এ জোটকে ‘একটি উগ্র সুন্নি অক্ষ, যা তাঁর আগে দেখা যেকোনো কিছুর চেয়েও বেশি বিপজ্জনক’ বলে বর্ণনা করেন।
সাক্ষাৎকারে চিকলি কাতার ও পাকিস্তান—উভয় দেশের কথা উল্লেখ করলেও মূল মনোযোগ ছিল তুরস্কের ওপর। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের দূরদর্শিতা বা লক্ষ্যকে তিনি ‘আমাদের জন্য একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক সংমিশ্রণ’ বলে আখ্যা দেন।
চিকলি বলেন, তুরস্ক মূলত সিরিয়ায় ‘একটি তুর্কি নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল’ প্রতিষ্ঠা করেছে। তিনি আরও বলেন, ‘তুরস্ক ও সিরিয়া আমাদের জন্য ইরানের চেয়ে ১০ হাজার গুণ বেশি উদ্বেগের কারণ।’
লিকুদ দলীয় এই মন্ত্রীর মন্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন তুরস্ক ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমাগত বাড়ছে। সম্প্রতি এরদোয়ান বলেছেন, সিরিয়া ও লেবাননে ইসরায়েলের হামলা তাঁর দেশের জন্য হুমকিস্বরূপ।
চলতি মাসের শুরুর দিকে তুর্কি নেতা বলেছিলেন, ‘ইসরায়েলকে অবশ্যই থামাতে হবে, এটি মানবতার দায়িত্ব।’
অন্যদিকে তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মুস্তফা চিফৎচি সম্প্রতি জেরুজালেম মুক্ত করার বিষয়ে কথা বলেছেন।
তুরস্কের কাছ থেকে হুমকি আসার কথা বলা প্রথম ইসরায়েলি রাজনীতিবিদ নন চিকলি। গত সপ্তাহে লিকুদ পার্টিরই আরেক আইনপ্রণেতা আরিয়েল কেলনার তুরস্ককে একটি ‘শত্রু রাষ্ট্র’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। এ ছাড়া গত মাসে ইসরায়েলি সংস্কৃতি ও ক্রীড়ামন্ত্রী মিকি জোহর বলেছিলেন, ইসরায়েলের ‘অবশ্যই তুরস্ককে শত্রু রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।’ ইসরায়েলের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতে তুরস্ককে ভারী আঘাত সইতে হবে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি।
গত ফেব্রুয়ারিতে সাবেক ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তিনি তুরস্ককে শত্রু হিসেবে দেখেন। তিনি মন্তব্য করেছিলেন, ‘তুরস্ক হলো নতুন ইরান।’
বৃহস্পতিবার চিকলিকে যখন জিজ্ঞেস করা হয়, আড়াই বছরের যুদ্ধের পর ইসরায়েলিরা কি এখন একটু শান্তিময় সময়ের আশা করতে পারে? জবাবে বলেন, তিনি তেমনটাই আশা করেন, তবে তা দীর্ঘস্থায়ী হবে না।
চিকলির মতে, তুরস্কের ‘খুব স্পষ্ট উচ্চাকাঙ্ক্ষা রয়েছে’ এবং তারা ইসরায়েলের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইসরায়েলের আঙ্কারা জয়ের কোনো উচ্চাকাঙ্ক্ষা নেই এবং সিরিয়া ও তুরস্কের সঙ্গে যুদ্ধ না হলে তিনি খুবই খুশি হবেন।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বাধীন হামলার ঘটনা থেকে তিনি কী শিক্ষা পেয়েছেন, তা মনে করিয়ে দিয়ে চিকলি বলেন, ‘শত্রু যখন কিছু বলে, আমি তা মনোযোগ দিয়ে শুনি।’
![]() |
| জেরুজালেমে ইহুদিবিদ্বেষ–বিষয়ক এক সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন ইসরায়েলের প্রবাসীবিষয়ক মন্ত্রী আমিচাই চিকলি (ডানে)। তাঁর পাশে বসে আছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার। ২৭ মার্চ, ২০২৫ ছবি: এএফপি |
About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বলশেভিকরা কেন দ্বিতীয় বিপ্লব বেছে নিয়েছিল by মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম
১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লব ছিল বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রভাব সৃষ্টিকারী রাজনৈতিক ঘটনা। এই রক্তক্ষয়ী বিপ্লবের শুরু হয়েছিল সে বছরের গোড়ার দিক থেকে। এর মধ্য দিয়ে ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিনের নেতৃত্বে বলশেভিকরা দীর্ঘদিনের জার শাসনকে উচ্ছেদ করে নতুন শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলে। লেনিনের অনুসারী বলশেভিকদের এই বিপ্লব খুব কাছ থেকে দেখেছিলেন মার্কিন সাংবাদিক জন রিড। সেই অভিজ্ঞতা থেকে তিনি লিখেছিলেন, ‘দুনিয়া কাঁপানো দশ দিন’।
এই বিপ্লবের পর রাশিয়ায় গড়ে ওঠে বিশ্বের প্রথম সমাজতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা। ১৯২২ সালের ৩০ ডিসেম্বর গঠিত হয় সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রসমূহের ইউনিয়ন—সোভিয়েত ইউনিয়ন। এর মাধ্যমে তৈরি হয়েছিল দুই মেরুর আদর্শিক বিশ্বের পুঁজিবাদী শাসনব্যবস্থা আর সমাজতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা। সেই সময় থেকে ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন অবধি বলশেভিক বিপ্লবের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক ও মতাদর্শগত দাপট ছিল বিশ্বজুড়ে।
বিপ্লবের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছিল যেভাবে
কৃষক অসন্তোষ: রুশ কৃষকেরা বিশ্বাস করতেন, জমি কেবল তাঁদেরই হওয়া উচিত, যাঁরা তা চাষ করেন। জার দ্বিতীয় আলেক্সান্দার কর্তৃক ১৮৬১ সালে যদিও ভূমি দাসপ্রথা থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল, তবু গ্রামীণ কৃষকদের মধ্যে এক গভীর ক্ষোভ ছিল। কারণ, তাঁদের সামান্য যে জমি বরাদ্দ করা হয়েছিল, সে জন্য সরকারকে অর্থ পরিশোধ করতে বাধ্য করা হয়। কিন্তু তাঁরা যে জমিতে কাজ করতেন, সেটার মালিকানা দাবি করতে থাকেন। বিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে দুর্বল ভূমি সংস্কারের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও ভূমির মালিকানার ক্ষেত্রে ছিল এক চরম বৈষম্য। দেশের মোট জমির ২৫ শতাংশ ছিল মাত্র ১ দশমিক ৫ শতাংশের দখলে।
শ্রমিক অসন্তোষ: উনিশ শতকের শেষের দিকে দারিদ্র্য থেকে বাঁচতে লাখো মানুষ গ্রাম ছেড়ে শহরাঞ্চলে চলে আসায় নতুন ‘প্রলেতারিয়েত’ বা ‘শ্রমিকশ্রেণি’ তৈরি হয়। শিল্পবিপ্লব রাশিয়ার শ্রমিকদের জন্য অনিরাপদ কাজের পরিবেশ, কম মজুরি এবং সীমিত শ্রমিক অধিকার নিয়ে এসেছিল। পশ্চিম ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমিকেরা শিল্পবিপ্লবের কারণে যে সম্পদ ও সমৃদ্ধি অর্জন করেছিলেন, রুশ শ্রমিকদের ভাগ্যে তা জোটেনি। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। কৃষকশ্রেণির তুলনায় এই নতুন শ্রমিকশ্রেণি ধর্মঘটে যাওয়া এবং প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করার প্রবণতা বেশি দেখায়। ১৯১৪ সালে যখন রাশিয়া প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে, তখন যুদ্ধসামগ্রী উৎপাদনের জন্য কলকারখানার ওপর পড়া বিশাল চাপ আরও বেশি শ্রমিক দাঙ্গা ও ধর্মঘটের জন্ম দেয়। যুদ্ধের প্রতি এমনিতেই রাশিয়ার বেশির ভাগ মানুষের বিরোধিতা ছিল। ফলে তারা এই শ্রমিকদের সমর্থন জানায়।
অজনপ্রিয় সরকার: প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আগেও রাশিয়ার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ জার দ্বিতীয় নিকোলাসের স্বৈরাচারী শাসনের ওপর অসন্তুষ্ট হয়ে উঠেছিল। তাঁর স্লোগান ছিল, ‘এক জার, এক চার্চ, এক রাশিয়া।’ তাঁর বাবা তৃতীয় আলেক্সান্দারের মতোই দ্বিতীয় নিকোলাস একটি অপ্রিয় নীতি—‘রুশিফিকেশন’ বা রুশকরণ নীতি প্রয়োগ করেছিলেন। এই প্রক্রিয়ায় বেলারুশ ও ফিনল্যান্ডের মতো অজাতিগত রুশ সম্প্রদায়গুলোকে তাদের নিজ সংস্কৃতি ও ভাষা ত্যাগ করে রুশ সংস্কৃতি গ্রহণ করতে বাধ্য করা হয়েছিল।
গির্জা ও জারতন্ত্র সম্পর্ক: জার ছিলেন রুশ অর্থোডক্স চার্চেরও প্রধান। চার্চ স্বৈরাচারী শাসনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে কাজ করত। জারের কর্তৃত্বকে আরও সুদৃঢ় করতে চার্চ ঘোষণা করে, জার ঈশ্বর কর্তৃক নিযুক্ত। তাই ‘খুদে পিতা’র প্রতি যেকোনো চ্যালেঞ্জ ঈশ্বরের অবমাননা হিসেবে গণ্য করা হতো। ওই সময়ে রাশিয়ার অধিকাংশ মানুষ ছিল নিরক্ষর। তারা চার্চের বক্তব্য মেনে চলত। জারের পক্ষে প্রচার চালানোর জন্য প্রায়ই পাদরিদের আর্থিকভাবে পুরস্কৃত করা হতো। কিন্তু ধীরে ধীরে কৃষকেরা পাদরিদের প্রতি শ্রদ্ধা হারাতে শুরু করেন। কারণ, তাঁরা ক্রমেই পাদরিদের দুর্নীতিগ্রস্ত ও ভণ্ড হিসেবে দেখতে পান। সামগ্রিকভাবে দ্বিতীয় নিকোলাসের শাসনামলে চার্চ এবং এর শিক্ষা প্রত্যেক মানুষের শ্রদ্ধা হারাতে শুরু করে।
সেনা অসন্তোষ: প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার দ্বিতীয় নিকোলাসের অধীনে রুশ সেনাবাহিনীর যুদ্ধের ক্ষতি দ্রুত বাড়তে থাকে। ১৯১৬ সালের নভেম্বর মাসের মধ্যে ৫০ লাখের বেশি রুশ সেনা নিহত, আহত বা বন্দী হয়েছিলেন। এর ফলে সেনাদের মধ্যে বিদ্রোহ ও দলত্যাগ শুরু হয়। খাদ্য, গোলাবারুদ এবং এমনকি অস্ত্রের অভাবে অসন্তোষ আর দুর্বল মনোবল আরও ভয়াবহ সামরিক পরাজয়ের কারণ হয়েছিল। এই যুদ্ধ রুশ জনগণের ওপরও এক বিধ্বংসী প্রভাব ফেলেছিল। এ জন্য সবাই জারকে দুষতে থাকে।
বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা: রাশিয়ায় দীর্ঘদিনের স্বৈরতান্ত্রিক জার শাসন, রাশিয়া-জাপান যুদ্ধে পরাজয় এবং প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ব্যর্থতা রাশিয়ার মানুষের মনে অসন্তোষ তীব্র হয়। তা ছাড়া প্রথম বিশ্বযুদ্ধ–পরবর্তী সময়ে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মারাত্মক খারাপ হওয়ায় অনেক মানুষ কর্মসংস্থান হারিয়ে ফেলে। ফলে রাশিয়ায় একটি বিপ্লব অনিবার্য হয়ে ওঠে। এ সময় কার্ল মার্ক্সের সমাজতান্ত্রিক চিন্তাধারায় প্রভাবিত লেনিন রাশিয়ায় শ্রমিকশ্রেণির প্রথম বিপ্লব ঘটানোর সিদ্ধান্ত নেন।
যেভাবে জারতন্ত্রের পতন
অক্টোবর বিপ্লবের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল বছরের পর বছর। ১৯০৫ সালে রাশিয়ায় একের পর এক শ্রমিক ধর্মঘট সংঘটিত হয়। ‘রক্তাক্ত রবিবার’-এ জারের প্রাসাদ অভিমুখে শ্রমিকদের শান্তিপূর্ণ অভিযাত্রায় হাজারো শ্রমিক নিহত হন। শ্রমিক বিদ্রোহে কেঁপে ওঠে রাশিয়া। স্বতঃস্ফূর্তভাবে কারখানায় কারখানায় গড়ে উঠতে থাকে সংগ্রাম কমিটি তথা সোভিয়েত।
১৯১৭ সালে বিপ্লবের সূচনা হয় জুলিয়ান বা পুরোনো পঞ্জিকা অনুযায়ী ৯ জানুয়ারি (২২ জানুয়ারি/গ্রেগরিয়ান পঞ্জিকা) ‘রক্তাক্ত রবিবার’-এর ১২ বছর পূর্তি উদ্যাপনের মাধ্যমে। ১১৪টি শ্রমিক সংগঠন ধর্মঘট আহ্বান করে। পরের মাসে আন্তর্জাতিক নারী দিবসে নারীরা রাস্তায় নামে খাদ্যের দাবিতে। মাসের শেষ দিকে সশস্ত্র শ্রমিক ধর্মঘটে রূপ নেয়। শ্রমিকেরা পুলিশ ও সেনাদের অস্ত্র কেড়ে নেয়। লেনিন ছিলেন সুইজারল্যান্ডে। জোসেফ স্তালিন ছিলেন সাইবেরিয়ায় নির্বাসনে। পেত্রোগ্রাদে পার্টির সদর দপ্তরের দায়িত্বে ছিলেন কমরেড মলটভ। সদর দপ্তর থেকে নির্দেশ প্রচারিত হলো, ‘অভ্যুত্থান চালিয়ে যাও, জারতন্ত্র উচ্ছেদ করো।’
এরপর ২৭ ফেব্রুয়ারি (১২ মার্চ/গ্রেগরিয়ান পঞ্জিকা) সকালে অভ্যুত্থানে যোগ দেওয়া সেনার সংখ্যা ছিল ১০ হাজার। সন্ধ্যায় তা হয়ে যায় ৬০ হাজার। সাধারণ জনতা, কৃষক ও শ্রমিকেরা পেত্রগ্রাদ দখল নেয়। সেনারা জারের মন্ত্রীদের গ্রেপ্তার করে এবং রাজবন্দীদের মুক্ত করে দেয়। ২ মার্চ (১৫ মার্চ/গ্রেগরিয়ান পঞ্জিকা) জার দ্বিতীয় নিকোলাস পদত্যাগ করেন। জারতন্ত্রের অবসান ঘটে। রাশিয়ায় বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লব সফল হয়।
কেন দ্বিতীয় বিপ্লব
১৯১৭ সালে ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের পর ক্ষমতায় আসে সাময়িক (অন্তর্বর্তী) সরকার। একপর্যায়ে মেনশেভিক ও কৃষকদের পার্টি সোশ্যালিস্ট রেভ্যলুশনারিরা সেই সরকারে বুর্জোয়াদের সঙ্গে যোগ দেয়। মেনশেভিকরা ছিল অনেকটা পশ্চিমা ভাবধারার। জারতন্ত্রের পতন ঘটানোর বাইরে তেমন রাজনৈতিক এজেন্ডা তাদের সেই অর্থে ছিল না। জারতন্ত্রের জায়গায় পশ্চিমা ভাবধারার একটি উদারনৈতিক শাসনব্যবস্থার মধ্যেই মেনশেভিকদের দৃষ্টি সীমাবদ্ধ ছিল।
বিপরীতে সমাজতান্ত্রিক চিন্তাধারার বলশেভিকরা সাময়িক সরকারে যোগ দেয়নি। লেনিন রাশিয়ায় ফিরে এসে লেখেন বিখ্যাত ‘এপ্রিল থিসিস’। এতে তিনি লেখেন, বিপ্লবের প্রথম পর্বে ক্ষমতা তুলে দেওয়া হয়েছে বুর্জোয়াদের হাতে। এখন দ্বিতীয় পর্বে শ্রমিকশ্রেণি ও কৃষকদের মেহনতি অংশের ঐক্য গড়ে তাদের কাছে ক্ষমতা দিতে হবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সাময়িক সরকারকে কোনো সহযোগিতা নয়, সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধের অবসান ঘটাতে হবে। লেনিন ঘোষণা করেন, রাশিয়ায় বুর্জোয়া গণতন্ত্রের কোনো প্রয়োজন নেই, রাশিয়ার সরকার পরিচালিত হবে শ্রমিক ও কৃষকের দ্বারা।
১৯০৫ সালেই লেনিন সোভিয়েতের বিপ্লবী সক্ষমতা আন্দাজ করতে পেরেছিলেন। মেনশেভিক ও সোশ্যাল রেভল্যুশনারিদের বিপরীতে বলশেভিকদের ‘রুটি, জমি, শান্তি’ এবং ‘সমস্ত ক্ষমতা বুর্জোয়া পার্লামেন্টের বদলে চাই সোভিয়েতের হাতে’ স্লোগান মানুষকে আকৃষ্ট করেছিল। এভাবে নানা ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে ১৯১৭ সালের ২৫ অক্টোবর (৭ নভেম্বর/গ্রেগরিয়ান পঞ্জিকা) বলশেভিকদের নেতৃত্বে রাশিয়ায় সংঘটিত হয় সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব। জুলিয়ান পঞ্জিকা অনুযায়ী অক্টোবরে হয়েছে বলে এটি ‘অক্টোবর বিপ্লব’ নামে পরিচিত। আর লেনিনের কমিউনিস্ট পার্টির সমর্থকদের বলশেভিক নামে ডাকা হতো। ফলে এই বিপ্লবকে ‘বলশেভিক বিপ্লব’ও বলা হয়ে থাকে।
মার্কিন সাংবাদিক জন রিড তাঁর ‘দুনিয়া কাঁপানো দশ দিন’ বইয়ে লিখেছিলেন, মার্চে জারের স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটার সময় রাশিয়ার বিত্তশালী শ্রেণিগুলো শুধু রাজনৈতিক বিপ্লব চেয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল, এর মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা চলে আসবে তাদের হাতে। কিন্তু প্রথম বিশ্বযুদ্ধে বিধ্বস্ত রাশিয়ার শ্রমিক, কৃষকসহ শ্রমজীবী জনগণের বড় অংশই তাতে সন্তুষ্ট ছিল না। তারা চাইছিল যুদ্ধের সমাপ্তি আর শিল্প এবং কৃষিক্ষেত্রের ব্যাপক গণতান্ত্রিকীকরণ। সেই আকাঙ্ক্ষারই ফল ‘রাজনৈতিক বিপ্লবের’ পরে আরেকটি ‘সামাজিক বিপ্লব’ ঘটে, যার মধ্য দিয়ে লেনিনের নেতৃত্বে বলশেভিকরা রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে।
১৯৯১ সালে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের আঁতুড়ঘর সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন হলেও নানা আদলে বিশ্বের নানা প্রান্তে এখনো এই লাল ঝান্ডা উড্ডীন রয়েছে। এর প্রভাব বাড়ছে খোদ পশ্চিমা পুঁজিবাদী দেশগুলোতেও। অর্থনৈতিক বৈষম্য, পরিবেশ ধ্বংস, বিশ্ব উষ্ণায়নসহ যুদ্ধবাজ নয়া উদারবাদী পুঁজিবাদী ব্যবস্থা এখন বহুমুখী সংকটে। এই সংকট থেকে বের হতে এবং ভবিষ্যতে একটি স্থিতিশীল ও জনমুখী আর্থসামাজিক ব্যবস্থা বিনির্মাণে মার্ক্সবাদ প্রভাবিত ‘অক্টোবর বিপ্লব’ সাম্যবাদে বিশ্বাসীদের জন্য যুগের পর যুগ প্রেরণা হয়ে থাকবে।
তথ্যসূত্র: থট কো, সাপ্তাহিক একতা, বিবিসি, আনন্দবাজার
![]() |
| ১৯১৭ সালে অক্টোবর বিপ্লবের সময় ভ্লাদিমির লেনিন। ছবি: উইকিমিডিয়া কমনস |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নাগা মরিচ দিয়ে কখনো ইলিশ রেঁধেছেন? দেখুন রেসিপি
উপকরণ: ইলিশ মাছ ৬ টুকরা, লবণ পরিমাণমতো, পানি পরিমাণমতো, মাঝারি নাগা মরিচ ১টি, পেঁয়াজবাটা আধা কাপ, রসুনবাটা আধা চা-চামচ, লেবুর রস ১ চা-চামচ, হলুদগুঁড়া আধা চা-চামচ, মরিচগুঁড়া ১ চা-চামচ, লবণ স্বাদমতো, শর্ষের তেল আধা কাপ।
প্রণালি: নাগা মরিচ মাঝবরাবর কেটে নিন। বিচি বাদ দিয়ে লবণপানিতে ২ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখুন। এবার তেল বাদে নাগা মরিচসহ বাকি সব উপকরণ ভালোভাবে পেস্ট করে নিন। কড়াইয়ে তেল দিন।
এবার পেস্ট দিয়ে ভালোভাবে নেড়ে কষিয়ে নিন। মাছগুলো দিয়ে পরিমাণমতো পানি দিয়ে ঢেকে দিন। মাছ উল্টে দিয়ে চুলার আঁচ কমিয়ে দিতে হবে। মাখো মাখো হয়ে এলে নামিয়ে গরম ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করুন।
![]() |
| ইলিশ রান্নার জন্য নাগা মরিচ মাঝবরাবর কেটে নিতে হবে। ছবি: সুমন ইউসুফ |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
-
▼
2026
(1288)
-
▼
June
(267)
-
▼
Jun 21
(9)
- 'বাবা' নিয়ে জনপ্রিয় পাঁচটি গানের গল্প by অর্চি অতন...
- যুক্তরাষ্ট্রের আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়েই শেষ হলো ইরা...
- ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন ‘ব্রেকিং ব্যাড’ খ্যাত মার্ক...
- ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির অন্তরালের নাটকীয় গল্প
- যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তিতে কী আছে, ইরান কেন চুক্তি...
- শিশুর জ্বরে কখন ও কীভাবে প্যারাসিটামল খেতে দেবেন b...
- ‘সিরিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে জড়াবে ইসরায়েল’, পরবর্তী নিশা...
- বলশেভিকরা কেন দ্বিতীয় বিপ্লব বেছে নিয়েছিল by মুহাম...
- নাগা মরিচ দিয়ে কখনো ইলিশ রেঁধেছেন? দেখুন রেসিপি
-
▼
Jun 21
(9)
-
▼
June
(267)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...





