চিলমারী কত দূর! by নাহিদ নলেজ

চিলমারী নদীবন্দরের গুরুত্বের কথা নতুন করে বলার কিছু নেই। খ্রিস্টপূর্ব তিন অব্দ থেকে ৭০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত দক্ষিণ এশীয় ভূমিকা, সুলতানী আমল, ব্রিটিশ পর্ব, পাকিস্তান আমলসহ ঐতিহাসিক মুক্তিযুুদ্ধে চিলমারী নদীবন্দরের ভৌগোলিক, সামরিক, অর্থনৈতিক ভূমিকা ইতিহাসের ছাত্র মাত্রই অবগত।


এ কথাও কাউকে স্মরণ করিয়ে দিতে হবে না_ সস্তা, নিরাপদ, পরিবেশসম্মত যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে নৌপথ ও রেলপথের গুরুত্ব। বিনা মাসুলে ভারত সরকার যে নৌ-ট্রানজিটের প্রস্তাব দিয়েছে তাতে চিলমারী নদীবন্দরকে কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। কয়েকদিন আগে ভুটানের রাষ্ট্রদূত চিলমারী নদীবন্দর ও বন্দরসংলগ্ন রমনা রেলস্টেশন পরিদর্শন করেছেন। কিন্তু চিলমারী থেকে বাহাদুরাবাদ ঘাট ফেরি যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে প্রায় ৩০ বছর। অন্যদিকে প্রায়ই বিশাল বিশাল ভারতীয় জাহাজ চলাচল করছে। নিজ দেশে পরবাসী জনগণ অভ্যন্তরীণ নৌরুটের সেবা থেকে বঞ্চিত হলেও, প্রতি বছর ড্রেজিং বাবদ ও নৌ-মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেছনে হাজার কোটি টাকা খরচ হলেও, ভারত সরকারের কাছ থেকে পুরো বছরে পাওয়া যায় মাত্র ৫ কোটি টাকা। সে যা-ই হোক, যে যা-ই বলুক, ধান ভানতে শিবের গীত গাওয়া না হলে পুরো ব্যাপারটি বোঝা যায় না।
এবার ধান ভানার ব্যাপারটি হলো_ এই অতি গুরুত্বপূর্ণ বন্দরটির পরিপূরক হিসেবে ছিল এককালের চিলমারী বন্দর রেলস্টেশন, যা বর্তমানে রমনা রেলস্টেশন নামে পরিচিত। কুড়িগ্রামের সবচেয়ে ব্যস্ত, গুরুত্বপূর্ণ রমনা রেলস্টেশনের ওপর নির্ভরশীল ব্রহ্মপুত্র নদের পূর্বপাড়ের দুটি উপজেলা রৌমারী ও রাজিবপুর এবং তিস্তা নদীর উত্তরের সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নসহ চিলমারী উপজেলার জনগণ। ২০ বছর আগেও রমনা রেলস্টেশনে সকাল ১০টায়, দুপুর ১টায়, রাত ১০টায় ও ভোর ৪টায় অর্থাৎ ৪টি মেইল ট্রেন চলত। কিন্তু কয়েক বছর ধরে তিন বগি নিয়ে চলছে একটি মেইল, যা আসত পার্বতীপুর থেকে এবং যেত পার্বতীপুরেই। কিন্তু গত ১ এপ্রিল থেকে ওই মেইলটি রমনায় আসছে সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে এবং ফিরে যাচ্ছে তিস্তা জংশনে। পুনরায় এটি উলিপুর স্টেশনে ফেরত আসছে ১২টা ২০ মিনিটে ৪১৬নং নাম নিয়ে। এটি যাতে উলিপুর পর্যন্ত ফেরত না এসে চিলমারী পর্যন্ত আসে, চারটি উপজেলার জনগণও যাতে সরাসরি রংপুর-পার্বতীপুর যেতে পারে, এরই জন্য এত কথা, এত আন্দোলন। এ জন্য ওই ৪ উপজেলার জনগণ গত ১৫ মার্চ চিলমারীতে ও ২২ মার্চ কুড়িগ্রামে বিশাল মানববন্ধন করেছে ও রেলমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে। কিন্তু বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার ও ট্রাফিক সুপার যে কারণগুলো ফোনে ব্যক্ত করেছেন, তা শুনলে মনে হবে এলাকার এমপি-মন্ত্রী ছাড়া রাষ্ট্রের মালিক জনগণের কথার কোনো মূল্যই নেই। সব শান্তিপূর্ণ পথ শেষে এই দাবিতে গত ২২ মে স্থানীয় জনগণ সংবাদ সম্মেলন করে আগামী ২৪ জুন জেলাব্যাপী রেলপথ অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে। তাতেও এই সামান্য দাবি মানা না হলে টানা অবরোধ কর্মসূচি দেওয়ার গণদাবি উঠছে। নতুন কোনো ট্রেনেরও দাবি নয়, শুধু ২০ মিনিট পরবর্তী স্টেশনে ট্রেনটি আসুক, এটুকুই দাবি।
nahiduttar@yahoo.com
 

No comments

Powered by Blogger.