যুদ্ধাপরাধের দায়ে বিচার-লাইবেরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট টেইলরের ৫০ বছরের জেল

লাইবেরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট চার্লস টেইলরের ৫০ বছরের জেল হয়েছে। সিয়েরা লিওনের বিদ্রোহীদের যুদ্ধাপরাধে সহযোগিতা করার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় দ্য হেগে প্রতিষ্ঠিত ও জাতিসংঘ সমর্থিত একটি যুদ্ধাপরাধ আদালত গতকাল বুধবার এ রায় ঘোষণা করেন।


১৯৯১-২০০২ সালে সিয়েরা লিওনে গৃহযুদ্ধ চলাকালে 'রেভল্যুশনারি ইউনাইটেড ফ্রন্ট' (আরইউএফ) বিদ্রোহীদের সহায়তা ও পৃষ্ঠপোষকতা করার অভিযোগে গত মাসে দোষী সাব্যস্ত হন টেইলর। দেশটির হীরার খনি কুক্ষিগত করার হীন স্বার্থে বিদ্রোহীদের মদদ দেন তিনি এবং অস্ত্র ও অর্থ দিয়ে তাদের সহযোগিতা করেন। কিন্তু সাধারণ মানুষের রক্তের বিনিময়ে পাওয়া হীরাই তাঁর কাল হয়ে দাঁড়ায়।
হেগে সিয়েরা লিওনের জন্য বসানো বিশেষ আদালতের বিচারক রিচার্ড লুসিক তাঁর রায়ে বলেছেন, এই সাজা রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে ওই সময়ে জনগণের বিশ্বাসের সঙ্গে তাঁর প্রতারণা ও অপরাধের প্রতিফলন। অবশ্য টেইলর নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন এবং এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন বলে জানা গেছে।
আদালতের বিচারক রিচার্ড লুসিক রায় প্রদানের সময় বলেন, আসামি মানবতার ইতিহাসের অন্যতম জঘন্য অপরাধের সাহায্যকারী এবং এই দুষ্কর্মের সহযোগী। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ পুরোপুরি প্রমাণিত হয়েছে। আদালত আরো জানান, যদিও আসামি কখনোই সিয়েরা লিওনে যাননি, কিন্তু অপরাধীদের প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতা করায় ওই দেশের মাটিতে তাঁর ভয়াল থাবার চিহ্ন রয়ে গেছে।
সিয়েরা লিওনে পাঁচ বছর ধরে মানবতাবিরোধী ওই অপরাধগুলো সংঘটিত হয়। এর মধ্যে বেসামরিক সাধারণ মানুষদের ধরে এনে হাত-পা কেটে পঙ্গু করে দেওয়া, গণধর্ষণ, গর্ভবতী মহিলাদের সন্তান নষ্ট করে দেওয়া, মহিলাদের যৌনসঙ্গী হিসেবে থাকতে বাধ্য করা এবং ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের যুদ্ধে অংশ নিতে বাধ্য করার মতো গুরুতর অপরাধও রয়েছে।
এ মাসের শুরুর দিকে শুনানির সময় বাদীপক্ষের আইনজীবীরা টেইলরকে ৮০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়ার দাবি জানান। কিন্তু সিয়েরা লিওনের অপরাধ পরিকল্পনায় টেইলর সরাসরি জড়িত নন বিবেচনায় আদালত এ দাবি বাড়াবাড়ি বলে নাকচ করে দেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের জন্য 'ন্যুরেমবার্গ আদালতে' নাৎসি অপরাধীদের বিচারের পর তিনিই প্রথম প্রেসিডেন্ট, যাঁর যুদ্ধাপরাধের জন্য সাজা হলো। সূত্র : এএফপি, বিবিসি।

No comments

Powered by Blogger.