সেপ্টেম্বরে উদ্বোধন বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রের by নিজাম সিদ্দিকী

দেশের প্রথম ও একমাত্র বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রের (ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার) নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। বর্তমানে ২১ তলাবিশিষ্ট এ ভবনের ছাদে হেলিপ্যাড তৈরির কাজ চলছে। এ বছরের সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এটির উদ্বোধন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।


প্রায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স নগরের আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকায় আন্তর্জাতিক মানের এ বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্র তৈরি করছে।
চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোরশেদ মুরাদ ইব্রাহিম প্রথম আলোকে বলেন, ‘ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের নির্মাণকাজ প্রায় শেষ। মাস খানেকের মধ্যেই আমরা চেম্বার কার্যালয় সেখানে স্থানান্তর করব। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে একটি তারিখ ঠিক করা হবে। আশা করি আগামী সেপ্টেম্বরে এর উদ্বোধন করা সম্ভব হবে।’
জানা গেছে, ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে আন্তর্জাতিক মানের সব সুযোগ-সুবিধাই থাকছে। থাকছে বিশ্বখ্যাত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়, ব্যাংক, পাঁচ তারা হোটেল, হেলথ ক্লাব, হেলিপ্যাড, সুপরিসর বেজমেন্ট প্রভৃতি। এসব ব্যাপারে ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রায় সব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চেম্বার কর্তৃপক্ষের আলাপ হয়েছে বলে চেম্বারের সভাপতি জানান।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকায় রাস্তার পাশে বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রের দৃষ্টিনন্দন বিশাল ভবন। আশপাশে চলাচলকারী লোকজন একনজর তাকিয়ে দেখছে ভবনটি। চেম্বার সূত্রে জানা গেছে, এখানকার বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রটি নিউইয়র্কভিত্তিক ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য। এর নির্মাণকাজ পরিচালনা করছে কনকর্ড ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। আর এটির নকশা করেছে কনকর্ড আর্কিটেক্টস অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড। ২০০৬ সালের ২৯ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। বাণিজ্যকেন্দ্রের নির্মাণব্যয় ধরা হয় প্রায় ২০০ কোটি টাকা।
ভবনে তিনটি বেজমেন্ট রয়েছে। নিচতলায় থাকছে ব্যাংক ও অস্থায়ী প্রদর্শনী (এক্সিবিশন হল) মিলনায়তন। দ্বিতীয় তলায়ও থাকছে ব্যাংক। এ ছাড়া রয়েছে শপিং মল ও ফুড কোর্ট। তৃতীয় তলায় বরাদ্দ রাখা হয়েছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ের জন্য। চতুর্থ তলায় স্থায়ী ও অস্থায়ী প্রদর্শনীর মিলনায়তন রয়েছে। বর্তমান চেম্বার কার্যালয়টি এখানেই স্থানান্তর করা হবে।
বাণিজ্যকেন্দ্রের পঞ্চম তলায় বসবে আইটি জোন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ইনস্টিটিউট, আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র, সভাকক্ষ, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম কেন্দ্র (মিডিয়া সেন্টার) ও ভাষাকেন্দ্র (ল্যাংগুয়েজ সেন্টার)। ষষ্ঠ ও সপ্তম তলা থাকছে অফিসপাড়ার জন্য নির্ধারিত। হেলথ ক্লাব, ব্যাংকুয়েট হল ও স্নুকার রুম থাকছে অষ্টম তলায়। নবম তলায় রয়েছে টেনিস কোর্ট, সুইমিং পুল ও বিলিয়ার্ড রুম। ১০ম থেকে ২০তম তলায় থাকবে পাঁচতারা হোটেল।
জানা গেছে, বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রের রয়েছে নিজস্ব বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র। এ ছাড়া স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হলে বিদ্যুৎব্যবস্থা সচল রাখার জন্য সার্বক্ষণিক গ্যাস জেনারেটরও রাখা হচ্ছে।
লোকজন ও মালামাল ওঠানামার জন্য থাকছে পর্যাপ্ত সংখ্যক লিফট ও চলন্ত সিঁড়ির (এসকেলেটরের) ব্যবস্থা। থাকছে জরুরি প্রবেশ ও বহির্গমনের সিঁড়ি।
চেম্বারের সাবেক সভাপতি সাংসদ এম এ লতিফ বলেন, ‘বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্র আমাদের দেশের উন্নয়নের একটি মাইলফলক। বিশ্ব বাণিজ্যে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি, এটি তার সাক্ষ্য বহন করে। বর্তমানে চীন-ভারতের মতো দেশগুলোর সঙ্গে আমাদের প্রতিযোগিতায় নামার মতো অবস্থান তৈরি হয়েছে। এই বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্র আমাদের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য প্রসারে ব্যাপক প্রভাব রাখবে।’
চেম্বারের প্রধান প্রকৌশলী এ এস এম নাসির উদ্দিন জানান, বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রটি স্বয়ংক্রিয় ভবন ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির (্অটোমেটিক ইন্টিগ্রেটেড বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম-এআইবিএমএস) আওতায় একটি নিরাপদ ও সর্বাধুনিক ভবন হিসেবেই গড়ে তোলা হয়েছে। বিদ্যুৎ, পানি ও লিফট কিংবা অগ্নি দুর্ঘটনাসহ যেকোনো সমস্যা সমাধানের স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা এখানে রয়েছে।

No comments

Powered by Blogger.