বিশেষ সাক্ষাৎকার-পাটের সাফল্য কৃষির অন্যান্য ক্ষেত্রেও ছড়িয়ে দিতে হবে by মাহবুব হোসেন

মাহবুব হোসেন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক। এর আগে তিনি আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক ছিলেন। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।


তিনি ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটসহ বেশ কয়েকটি কৃষি ও উন্নয়ন অর্থনীতি-বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গেও জড়িত। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক জার্নাল এবং সংবাদপত্রে কৃষি ও খাদ্যনিরাপত্তা বিষয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন। সম্প্রতি বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা পাটের জীবনরহস্য উন্মোচন করেছেন। এ প্রেক্ষাপটে কৃষি-গবেষণার উন্নয়নে প্রস্তাবিত বাজেটে বরাদ্দ এবং সরকারি ও বেসরকারি খাতের করণীয় সম্পর্কে প্রথম আলোর পক্ষে তাঁর মুখোমুখি হই।
 সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সোহরাব হাসান ও ইফতেখার মাহমুদ

প্রথম আলো  বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা পাটের জীবনরহস্য উন্মোচন করলেন। পাট তথা সামগ্রিকভাবে কৃষি খাত এ থেকে কীভাবে সুবিধা পেতে পারে।
মাহবুব হোসেন  আমাদের দেশের অন্যতম অর্থকরী ফসল পাটের জীবনরহস্য উন্মোচন হওয়াটা অনেক বড় সুসংবাদ। বিশ্বজুড়ে বায়োটেকনোলজি নিয়ে গবেষণা অনেক দূর এগিয়েছে। চীন ও যুক্তরাষ্ট্র ধানের জিনোম সিকোয়েন্সিং বা জীবনরহস্য উন্মোচন করে ফেলেছে। দেশে বেশ কিছু বছর ধরেই পাটকে ধানের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছিল। কোনো একটি জমিতে পাটের চাষ করলে সেখানে ধান করা যেত না।
এ গবেষণার মাধ্যমে এমন জাতের পাট উদ্ভাবন করা যাবে, যা ধান রোপণ মৌসুম শুরুর আগেই কাটা যাবে। কোন জিনটা পাটের উৎপাদন বাড়াবে, কোনটা পোকামাকড়ের আক্রমণ ঠেকাবে, পাট পচাতে সহায়তা করবে, তা চিহ্নিত করতে হবে। জিনে পরিবর্তন এনে উন্নত জাতের পাটবীজ উৎপাদনের দিকে যেতে হবে আমাদের। গবেষণার ফলাফল নিয়ে বসে থাকলে হবে না।
প্রথম আলো  দেশের কৃষি গবেষণা ও উদ্ভাবনকে কি পর্যাপ্ত মনে করেন?
মাহবুব হোসেন  কৃষি-গবেষণায় আমাদের অর্জন একবারে কম নয়। স্বাধীনতার পর অনেকেই বলেছিলেন, বাংলাদেশ টিকবে না। প্রাকৃতিক সম্পদ না থাকায় এ দেশ খুব দ্রুতই খাদ্যঘাটতিতে পড়বে। কিন্তু তাঁদের ধারণা মিথ্যা প্রমাণ করে বাংলাদেশে খাদ্য-উৎপাদন কয়েকগুণ বেড়েছে। দাতাদের আর্থিক সহায়তায় তৈরি করা আন্তর্জাতিক গবেষণা-প্রতিষ্ঠানগুলো এ জন্য দেশীয় গবেষণা-প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা করেছে। যেমন: আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা প্রতিষ্ঠান (ইরি), গম ও ভুট্টা নিয়ে গবেষণাকারী প্রতিষ্ঠান সিমিট কাজ করছে। পেরুতে আলু নিয়ে গবেষণার জন্য একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। দাতাদের অর্থায়নে তৈরি এ রকম ১৫টি আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা রয়েছে, যারা বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোর বিজ্ঞান ও কারিগরি গবেষণায় সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।
১৫টি প্রতিষ্ঠান মিলে একটি জোট আছে, যাকে বলে সিইজিআইআর। এ প্রতিষ্ঠানগুলো উন্নয়নশীল দেশগুলোয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও গবেষক তৈরি করে। বাংলাদেশের ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট ইরির সহায়তায় তৈরি হয়েছিল। BARI ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সহায়তা আর বিরির ৬০-৭০ শতাংশ গবেষক ইরিতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। ইরির ল্যাবরেটরি-সুবিধা বিরি পায়। ইরি ধানের প্রথম লাইনগুলো বিরিতে পাঠায়, সেখানে তা গবেষণা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে স্থানীয় আবহাওয়া ও পরিবেশ অনুযায়ী নতুন জাত বের করা হয়। আমরা যে ধান উৎপাদনে সফলতা পেয়েছি, তাতে বিরির বিশাল ভূমিকা আছে। আমাদের যে ৫৩-৫৪টি উফশী ধানের জাত আছে, তা ইরির সহায়তায় উদ্ভাবন করা হয়েছে।
প্রথম আলো  চীন ধানের অনেক উন্নত জাত উদ্ভাবন করেছে। তা থেকে আমরা কি শিক্ষা নিতে পারি?
মাহবুব হোসেন  চীনও ইরি থেকে সহায়তা নিয়ে দেশীয় বিজ্ঞানীদের দিয়ে উন্নত জাত উদ্ভাবন করেছে। তারা গবেষণা খাতে প্রচুর বিনিয়োগ করেছে। আমরা ততটা করতে পারিনি।
প্রথম আলো  প্রস্তাবিত বাজেটে কৃষি গবেষণায় বরাদ্দ কি যথেষ্ট বলে মনে করেন? কৃষি গবেষণাকে কীভাবে সরকারি আমলাতন্ত্রের বাইরে নিয়ে যাওয়া যায়?
মাহবুব হোসেন  বাজেটে বরাদ্দ সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর বরাদ্দ। সরকারি গবেষণা-প্রতিষ্ঠানগুলো বাজেটের বরাদ্দ দিয়েই চলে। কৃষি বাজেটের একটা বড় অংশ যায় ভর্তুকি বাবদ। এ বছর চার হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি ধরা হয়েছে। ভর্তুকি মূলত উপকরণ বাবদ। বর্তমান কৃষিমন্ত্রী উপকরণ বণ্টনে অত্যন্ত দক্ষ। কৃষকের জন্য বরাদ্দ বের করতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেই দেনদরবার করায়ও তিনি সফলতা দেখিয়েছেন। আমরা বলি, প্রতিবছর ১ শতাংশ জমি কমছে। ফলে অল্প জমিতে বেশি ফলন দরকার। এ জন্য গবেষণা-প্রতিষ্ঠান ও গবেষক বাড়াতে হবে, বাড়াতে হবে বরাদ্দও।
প্রথম আলো  সরকারি গবেষণা-প্রতিষ্ঠানগুলোতে গবেষকেরা বেশি দিন থাকছেন না, বিআর-৩৩ বিআর-৪৭-এর উদ্ভাবক ইরি ও ব্র্যাকে যোগ দিয়েছেন। তাঁদের সরকারি গবেষণা-প্রতিষ্ঠানে ধরে রাখার উপায় কি?
মাহবুব হোসেন  স্বাধীনতার পর আমরা এসব বিজ্ঞানীকে বিদেশ থেকে প্রশিক্ষণ দিয়ে এনেছি। কিন্তু তাঁদের বেশির ভাগই দেশে থাকছেন না। অনেকে বিদেশে লেখাপড়া করতে যান, আর ফেরেন না। তাঁরা বলেন, আমাদের দেশে গবেষণার সুষ্ঠু পরিবেশ নেই। এ জন্য গবেষকদের সংসার চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ ও সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, এখানে গবেষণার সুষ্ঠু পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। তাঁরা যে গবেষণাগুলো করছেন, তা বিদেশের জার্নালে প্রকাশ করা ও সেমিনারে উত্থাপন করার ব্যবস্থা করতে হবে। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য বিভিন্ন কর্মশালায় পাঠাতে হবে। বিজ্ঞানীদের পোস্ট ডক্টরাল ফেলোশিপের ব্যবস্থা করতে হবে। আমাদের দেশের বিজ্ঞানীরা পিএইচডি ডিগ্রির পর আর পড়াশোনা করেন না। বিশ্বের নামকরা বিজ্ঞানীদের আওতায় উচ্চতর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করলে তাঁদের মাধ্যমে উচ্চতর প্রযুক্তি আনার সুযোগ তৈরি হয়।
বেতনের দিক থেকেও আমরা দেখি, আমলারা যে ক্ষমতা ভোগ করেন, তা বিজ্ঞানীরা করেন না। তাঁদের যা অবদান, তা দীর্ঘ মেয়াদে দেশের কাজে লাগে। বিজ্ঞানীদের বেতন বাড়ানো ও বিদেশযাত্রা নিয়ে আমলাতান্ত্রিক জটিলতাও সৃষ্টি করা হয়। এ ক্ষেত্রে গবেষণা-প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বায়ত্তশাসন দেওয়ার কথা আমরা অনেক দিন ধরে বলে আসছি।
প্রথম আলো  আপনি তো বিআইডিএসে অনেক দিন গবেষণা করেছেন। মহাপরিচালক ছিলেন। বিআইডিএস কি স্বায়ত্তশাসনকে কাজে লাগাতে পেরেছে?
মাহবুব হোসেন  অধ্যাপক রেহমান সোবহান থাকা অবস্থায় বিআইডিএসের স্বায়ত্তশাসনের ব্যবস্থা করেছিলেন। সরকারের সচিব-মন্ত্রীদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ভালো। ফলে বিআইডিএস একধরনের সুবিধা পেয়েছে। আমরা নিজেরাও গবেষণার একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা করেছি। একটি গবেষণাপত্র একাধিক জন মিলে লেখা, একজনের লেখা আরও কয়েকজন মিলে দেখে দেওয়ার রেওয়াজ চালু করেছিলাম। বাইরে থেকে গবেষকদের আয় বাড়ানোর জন্য আমরা যেটা করেছিলাম তা হলো, কোনো গবেষক বিদেশ থেকে একটি প্রকল্প আনতে পারলে তাঁর একটি অংশ তাঁকে বেতন হিসেবে দেওয়া।
প্রথম আলো  ভারতে স্বাধীনতার পর প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু বিজ্ঞান গবেষণার বিষয়টি আমলাদের হাতে ছেড়ে না দিয়ে নিজের হাতে রেখেছিলেন। তার সুফলও ভারত পেয়েছে। এখানেও এমনটি করা যায় কি না?
মাহবুব হোসেন  আমাদের অনেক গবেষণা-প্রতিষ্ঠানই স্বায়ত্তশাসিত। কিন্তু এর প্রধানেরা তা চর্চা করতে সাহস পান না।
সরকারের আমলারা চান, গবেষণা-প্রতিষ্ঠানগুলো তাঁদের নিয়ন্ত্রণে থাকুক। টাকা-পয়সার জন্য গবেষণা-প্রতিষ্ঠানগুলোকে যখন সরকারের কাছে যেতে হয়, তখনই এর স্বায়ত্তশাসন চলে যায়। তাই এ প্রতিষ্ঠানগুলোর বরাদ্দগুলো যদি আলাদাভাবে করা যায়, তাহলে আমলাতন্ত্রের প্রভাব কিছুটা কমে আসবে।
প্রথম আলো  সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে দাতা সংস্থাগুলোর যৌথ প্রকল্প আছে, কিন্তু এতে দাতা সংস্থার মতামতই প্রাধান্য পায়। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে গবেষণার কাজও বন্ধ হয়ে যায়।
মাহবুব হোসেন  বিরির প্রতিষ্ঠা কিন্তু ইরির সহায়তায় হয়েছিল। গবেষণার সরকারি বরাদ্দ অতীতে খুব কমই ছিল। এখানে প্রধান সমস্যা, আমাদের এ নিয়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা না থাকা। এ জন্য আমাদের গবেষণা-প্রতিষ্ঠান ও গবেষণার জন্য একটি কৌশলগত পরিকল্পনা নিতে হবে। কী ধরনের গবেষণা আমাদের প্রয়োজন, তা ঠিক করে দাতাদের অর্থ ব্যবহার করতে হবে। আমাদের অগ্রাধিকার অনুযায়ী সেই অর্থ ব্যবহার করতে হবে।
প্রথম আলো  ইরি ও বিরি মিলে পেট্রা প্রকল্প ছিল। প্রকল্প শেষ হওয়ার পর এর কাজও শেষ হয়ে গেছে।
মাহবুব হোসেন  পেট্রা প্রকল্পে বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমিও যুক্ত ছিল। তারা নারীদের মাধ্যমে ফসলের বীজ সংরক্ষণে একটি মডেল স্থাপন করেছিল, যা ‘মারিয়া ভিলেজ মডেল’ নামে বিখ্যাত হয়। পল্লী উন্নয়ন একাডেমি এখনো এ মডেলটা ধরে রেখে বীজ সংরক্ষণে স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। কিন্তু বিরি তা ধরে রাখেনি।
প্রথম আলো  এ ক্ষেত্রে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরেরও তেমন অগ্রগতি নেই। কারণ কি?
মাহবুব হোসেন  এ জন্য বিজ্ঞানীদের ভেতর থেকে ভালো নেতৃত্ব দরকার। যেমন, বিআইডিএস খ্যাতি লাভ করেছিল সেখানকার গবেষকদের জন্য। অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এভাবে গড়ে তুলতে হবে। প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি বলেছেন, বিজ্ঞানীদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা বাড়াবেন, গবেষণার উন্নয়নে সব কিছু করবেন। কিন্তু দেড় বছর ধরে তিনি যা বলে আসছেন, আমলারা তা বাস্তবায়ন করছেন না। পাটের জিনোম সিকোয়েন্সিং নিয়ে যে উদ্ভাবনটা হলো, তার সবচেয়ে বড় গুরুত্ব হচ্ছে আমাদের বিজ্ঞানীরাও যে বড় কিছু করতে পারেন, তা প্রতিষ্ঠিত হলো। এ অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বিজ্ঞানীদের আলাদা বেতন স্কেলের বিষয়টি ঠিক করা যেতে পারে। এ জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি করে দেওয়া যেতে পারে, যাঁরা পুরো বিষয়টি ঠিক করবেন। গবেষণার ক্ষেত্রে আমাদের অগ্রাধিকার কী হবে, সেই দিকনির্দেশনা দিতে হবে।
প্রথম আলো  কমিটির কথা বললেন, তাতে যদি আমলারাই থাকেন, তাহলে তো আগের মতোই স্থবিরতা কাজ করবে।
মাহবুব হোসেন  সব গবেষণা-প্রতিষ্ঠানের একটি অ্যানেক্স বডি আছে, যেখানে সরকারের বাইরের লোকেরা থাকেন। কিন্তু তাঁদের মতামতকে বাস্তবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। এ জন্য সত্যিকার স্বায়ত্তশাসনের নিশ্চয়তাসহ একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি করা উচিত। সেখানে প্রধান হিসেবে মন্ত্রী থাকলেও বেসরকারি খাতের লোকেরা থাকতে পারেন। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বার্ক) এ দায়িত্বটি নিতে পারত।
প্রথম আলো  বেসরকারি খাতের গবেষণা কী পর্যায়ে আছে?
মাহবুব হোসেন  ইদানীং কিছু বেসরকারি বীজ কোম্পানি বেশ ভালো করছে। সরকারি সংস্থাগুলো বীজের জাত উদ্ভাবন করে তা সম্প্রসারণের দায়িত্ব বীজ কোম্পানিগুলোকে দিতে পারে। ব্র্যাক থেকে আমরা এবং অন্য এনজিওগুলো সরকার ও ব্যবসায়ীদের মাঝামাঝি অবস্থানে থেকে কাজ করছি। ব্যবসায়ীরা মূলত লাভ করার জন্যই কাজ করেন, আমরাও খরচ উঠিয়ে সামান্য লাভ রেখে কাজ করি। টেকসইভাবে কাজ করার জন্য আমরাও অন্যত্র ছড়িয়ে দিতে লাভের অংশটি খরচ করছি। ইদানীং আমরা হাওর এলাকা ও লবণাক্ত এলাকার জন্য ধানের জাত উদ্ভাবনের কাজ করছি। বিরি থেকে অবসর নেওয়া গবেষণা-পরিচালক আবদুস সালামকে দিয়ে একটি গবেষণা ইউনিট তৈরি করে তাঁর অধীনে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা কিছু মেধাবী শিক্ষার্থী যোগ দিয়েছেন। হাওরে বছরে একটি ফসল হয় এবং দু-তিন বছর পরপর তা ভেসে যায়। আমরা এমন জাত উদ্ভাবনের চেষ্টা করছি, যা মার্চের ১৫ তারিখের মধ্যে তোলা যায়। মার্চের শেষে আসা বন্যা থেকে ফসল রক্ষা করতে এ চেষ্টা চলছে।
সেখানে শীতসহিষ্ণু ধানের উদ্ভাবনের চেষ্টা করছেন তিনি। অন্যদিকে দেশে উচ্চ-মধ্যবিত্তের সংখ্যা বাড়ছে। দেশি জাতের সুগন্ধি চাল উৎপাদন করা যায়। কিন্তু এসব জাতের ফলন এখনো কম। তাই কৃষক তা চাষ করছেন না। এ জন্য আমরা এগুলোর উফশী জাত উদ্ভাবনের চেষ্টা করেছি। সামনের দিনে এ জাতগুলোর ভালো বাজার পাওয়া যাবে।
প্রথম আলো  জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় কী করা উচিত?
মাহবুব হোসেন  আমরা দেখেছিলাম, বিআর-৪৭ লবণাক্তসহিষ্ণু জাত। কিন্তু আইলার পর আমরা এ জাতের কিছু দুর্বলতা দেখলাম। তা হচ্ছে, ধান পেকে যাওয়ার কিছুদিনের মধ্যে তা মাটিতে ঝরে যায়। উপকূলের জোয়ার-ভাটা এলাকার জন্য পানিতে হতে পারে, এমন জাত উদ্ভাবন করা দরকার। ফলে উপকূলের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর জন্য জাত উদ্ভাবন প্রয়োজন।
প্রথম আলো  আপনাকে ধন্যবাদ।
মাহবুব হোসেন  ধন্যবাদ।

No comments

Powered by Blogger.