স্থল সীমান্ত চুক্তি-সংসদে না তোলার কারণ জানেন না চিদাম্বরম

বাংলাদেশের সঙ্গে স্বাক্ষরিত স্থল সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য সংবিধান সংশোধনের বিল ভারতের সদ্য সমাপ্ত বাজেট অধিবেশনে না তোলার কারণ 'জানা নেই' বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদাম্বরম। গতকাল বৃহস্পতিবার দিল্লিতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ মন্তব্য করেন। দিল্লি থেকে বিবিসি এ খবর জানায়।


চিদাম্বরম বলেন, 'আমার আশা ছিল, বিলটি সংসদে পেশ করা হবে এবং তা পাসও হবে। আমার জানা নেই, কেন সংসদীয় কাজকর্ম পরিচালনাবিষয়ক মন্ত্রণালয় বিলটিকে (বাজেট) অধিবেশনে পেশ করল না। বিষয়টি খোঁজ করে দেখব।'
চিদাম্বরম আরো বলেন, সংসদে বিল আনা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।
উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারি মাসে দিল্লি সফরের সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদাম্বরমের সঙ্গে বৈঠকের পর সংবাদমাধ্যমকে জোর দিয়ে বলেছিলেন, ভারতের পক্ষ থেকে তাঁকে বলা হয়েছে দেশটির সংসদের বাজেট অধিবেশনে বিলটি পাস করানো হবে। ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার তারিক এ করিমও একই বক্তব্য রেখেছিলেন।
বিবিসি জানায়, ভারতের বাজেট অধিবেশন দুই মাস চলার পর গত সপ্তাহে শেষ হয়েছে। কিন্তু বিলটি পাস করা দূরের কথা, উত্থাপন পর্যন্ত করা হয়নি। এ বিল পাসের ওপর ছিটমহল বিনিময় ও অপদখলীয় ভূমি বিনিময়ের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সমস্যার সমাধান হবে বলে দৃশ্যত উভয় দেশ আশা করেছিল। বাংলাদেশ এ নিয়ে ভারতকে বারবার তাগিদ দিয়ে আসছে।
বিবিসি জানায়, মার্চ মাসের মাঝামাঝি থেকে মে মাসের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত বাজেট অধিবেশন চলাকালেই বোঝা গিয়েছিল, সীমান্ত নির্ধারণ ত্বরান্বিত করতে প্রয়োজনীয় সংবিধান সংশোধন বিলটি আসছে না। এর কারণ জানতেই ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস এম কৃষ্ণকে চিঠি দিয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের সংসদ সদস্য সি পি আইর প্রবোধ পাণ্ডা। এর জবাবে প্রবোধ পাণ্ডা বলেন, 'পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিখেছিলেন, একটি খসড়া সংবিধান সংশোধন বিল তৈরির প্রক্রিয়া চলছে। প্রটোকল ও সীমান্ত নির্ধারণ চুক্তি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এর ফলে ছিটমহল বিনিময় ত্বরান্বিত করা সম্ভব হবে বলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন।' কিন্তু খসড়া বিল তৈরির প্রক্রিয়াটি ঠিক কী তা জানানো হয়নি বলে প্রবোধ পাণ্ডা বিবিসিকে জানান।
উল্লেখ্য, ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ ও ভারত সীমান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যা মুজিব-ইন্দিরা চুক্তি নামে পরিচিত। ভারত এ চুক্তি এখনো অনুমোদন করেনি। মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশ ভারতকে এ ব্যাপারে চাপ দেয়। এরপর ওই চুক্তি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গত ৬ সেপ্টেম্বর ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা সফরের সময় প্রটোকল স্বাক্ষরিত হয়। ওই প্রটোকলটিও দুই দেশের সংসদে অনুমোদন হতে হবে।
ভারতের আইনমন্ত্রী সালমান খুরশিদ গত সপ্তাহে ঢাকা সফরকালে সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন ও তিস্তা চুক্তি স্বাক্ষরকে ভারতের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে আখ্যায়িত করেন। চুক্তি অনুমোদনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা ভারতে ক্ষমতাসীন কংগ্রেসের আছে কি না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে সালমান খুরশিদের সফরসঙ্গী বিরোধী দল বিজেপির সংসদ সদস্য ড. ভোলা সিং বলেন, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের পররাষ্ট্রনীতি পুরো দেশের পররাষ্ট্রনীতি।

No comments

Powered by Blogger.