বেহাল সড়ক: সংস্কারের দাবি-নীলফামারীতে প্রত্যাহার, যশোরে ধর্মঘট চলছে

ড়ক সংস্কারের দাবিতে নীলফামারীতে ডাকা ৪৮ ঘণ্টার পরিবহন ধর্মঘট গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। নীলফামারী-ডোমারের ২২ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারে যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের আশ্বাসের পর জেলা মোটর মালিক ও শ্রমিক সংগঠন ধর্মঘট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয় বলে জানা গেছে। এ দিকে সড়ক সংস্কারের দাবিতে যশোর-নড়াইল সড়কে গতকাল চতুর্থ দিনের মতো ধর্মঘট হয়েছে। সড়কটি সংস্কারের দাবিতে গতকাল


যশোর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে যোগাযোগমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে মহাজোট সরকারের শরিক বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি।
নীলফামারী: নীলফামারী-ডোমারের চলাচল অনুপযোগী সড়ক সংস্কারের দাবিতে গত মঙ্গলবার নীলফামারীতে ২২ কিলোমিটারজুড়ে মানববন্ধন করা হয়। দাবি আদায়ে ওই দিন জেলা বাস, মিনিবাস, ট্রাক, ট্যাংক লরি, মাইক্রোবাস, পিকআপ ভ্যান মালিক সমিতি ও পরিবহন শ্রমিক সংগঠন গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ছয়টা থেকে ৪৮ ঘণ্টার পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেয়।
ধর্মঘটের কারণে গতকাল সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জেলায় সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল।
জেলা সদরের চওড়া গ্রামের নূর ইসলাম (৫০) পরিবহন ধর্মঘটের কারণে প্রায় ১২ কিলোমিটার পথ রিকশা ভ্যানে এসেছেন। প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ডোমার-নীলফামারীর রাস্তাটা এত খারাপ যে প্রায় পাঁচ বছর ধরে ওই রাস্তায় চলাচল করা যাচ্ছে না। ওই রাস্তা করার জন্য ৪৮ ঘণ্টা কেন, ৪৮ দিনও কষ্ট করতে রাজি আছি। তবু যেন রাস্তাটা ঠিক হয়।’
গতকাল রাতে জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি শাহজাহান আলী চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের মুঠোফোনে আমাকে আশ্বাস দিয়েছেন, সড়কটি উন্নয়নে আগামী ১৫ জানুয়ারির মধ্যে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সঙ্গে যাবতীয় প্রক্রিয়া শেষ করে কাজ শুরু করা হবে। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূর ভাইও আমাকে ফোন আশ্বস্ত করে বলেন, সংস্কারকাজ শুরু করতে না পারলে তিনিও আমাদের সঙ্গে আন্দোলন করবেন।’
শাহাজাহান বলেন, ‘আমরা সব পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠন যৌথভাবে কথা বলে সন্ধ্যা ছয়টা থেকে পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছি।’
এ ব্যাপারে নীলফামারী-২ আসনের সাংসদ আসাদুজ্জামান নূর প্রথম আলোকে বলেন, ‘নীলফামারী-ডোমার সড়ক সংস্কারে আমি যোগাযোগমন্ত্রী এবং সড়ক ও জনপথের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে সকালে কথা বলেছি। এ ব্যাপারে আগামী ৩ জানুয়ারি এডিবির সঙ্গে আলোচনা হবে। আমি বাসমালিক ও শ্রমিক সংগঠনকে আশ্বস্ত করেছি, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব রাস্তার কাজ শুরু করা হবে।’
যশোর: গতকাল ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য ইকবাল কবির স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিতে বলা হয়, যশোর-নড়াইল ও যশোর-খুলনা সড়ক দুটি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সওজের উদাসীনতা ও দায়িত্বহীনতার কারণে সড়ক দুটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। স্থানীয় জনগণ, পরিবহনমালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলো সড়ক সংস্কারের দাবিতে লাগাতার আন্দোলন করছে। বর্তমানে যশোর-নড়াইল সড়কে ধর্মঘট চলছে। কিছুদিনের (৬ জানুয়ারি) মধ্যে যশোর-খুলনা সড়কেও ধর্মঘট শুরু হবে। বারবার সওজ কর্মকর্তা, সবশেষ যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সচিব যশোরে এসে সংস্কারের আশ্বাস দেওয়ার পরও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
যোগাযোগ করলে যশোর সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী জিয়াউল হায়দার প্রথম আলোকে বলেন, যশোর-নড়াইল সড়কের সংস্কারকাজ শুরু করতে সেল-পিএইএল-জেভি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে গতকাল তৃতীয়বারের মতো চিঠি দেওয়া হয়েছে।
সেল-পিএইএল-জেভির অংশীদার যশোর জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম চাকলাদার। এ ব্যাপারে গতকাল বিকেলে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

No comments

Powered by Blogger.