প্রকৃতি-প্রাণী প্রজাতির স্বীকৃতি পেল মাংসাশী গাছ

সাত বছর আগে যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত চেলসি ফ্লাওয়ার শোতে অংশ নিয়ে পুরস্কার জিতেছিল গাছটি। গাছ হলেও অন্য যে কোনো প্রাণী প্রজাতির মতো তার আচরণ। মাংস খায়। সামনে ব্যাঙ কিংবা ইঁদুর পেলে তো মহাখুশি। কুইন অব হার্টস নামের এ গাছটিকে এখন ঘোষণা করা হয়েছে একটি নতুন প্রাণী প্রজাতি হিসেবে। আগে বিজ্ঞানীদের কাছে অজানা ছিল এ গাছ। তবে এখন প্রাণী প্রজাতির খাতায় নাম লিখিয়ে উদ্ভিদবিজ্ঞানের কল্পকাহিনী থেকেই বের হয়ে


এসেছে কুইন অব হার্টস। আশির দশকে বোর্নিও দ্বীপে প্রথম সন্ধান পাওয়া যায় এ গাছের। পৃথিবীতে এ পর্যন্ত দেখা যাওয়া মাংসাশী গাছগুলোর মধ্যে অন্যতম বৃহৎ এটি। ২ দশমিক ৫ মিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হয় এর ফুল। আশির দশকের শেষদিকে প্রথম গাছটির সন্ধান পান উদ্ভিদবিদ রব ক্যান্টলি। তার নামেই এর নাম রাখা হয়েছিল নেপেনথেস রব ক্যান্টলি।
যুক্তরাজ্যের চেলসি ফ্লাওয়ার শোতে অংশ নিয়ে অনেক তারকার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল এ গাছ। ওই শোতে এর আবিষ্কারকরা রাজকীয় হর্টিকালচারাল সোসাইটির চারটি স্বর্ণপদক পান। ভয়ঙ্কর গাছটি এখন পেয়েছে সরকারি স্বীকৃতি। যে প্রক্রিয়ায় এ স্বীকৃতি মিলেছে তা অনেকটাই ভিন্নধর্মী ও অগতানুগতিক। চেলসি ফ্লাওয়ার শোর পর যুক্তরাজ্যের কিউ সারের রয়েল বোটানিক গার্ডেনের ড. মার্টিন চিককে এর একটি পাতা ও ছবি দেখানো হয়। মাংসাশী গাছ বিশেষজ্ঞ চিক গাছটিকে চিহ্নিত করেন নতুন আবিষ্কার হিসেবে। তিনি বলেন, নতুন প্রাণী প্রজাতি যেভাবে আবিষ্কৃত হয় এটা ঠিক সেরকম নয়। এটা হচ্ছে অত্যন্ত অগতানুগতিক ও মহাবিস্ময়ের ব্যাপার। আমার কাছে এর উপাদান পেশ করার পর আমার এ সিদ্ধান্তে পেঁৗছতে খুব বেশি দেরি হয়নি যে, এটি বিজ্ঞানের এক নতুন বিস্ময়। গাছটি অত্যন্ত বড় এবং দৃষ্টি আকর্ষক। গাছটি প্রথম যিনি দেখতে পান সেই রব ক্যান্টলি বলেন, এর কুম্ভগুলো হচ্ছে বিভিন্ন রঙ ও আকারের পাতার আধার। দেখতে এগুলো ফুলের মতোই সুন্দর। ৪০ সেন্টিমিটার চওড়া কুম্ভগুলো যেন তৈরি করা হয়েছে শিকার প্রলুব্ধ করা ও ধরার উপযোগী করে। কীট-পতঙ্গের কাছেও এটা বেশ আকর্ষণীয়। ফলে শিকার পেতে অসুবিধা হয় না তার। আর শিকার কাছে এলেই একটু ঝুঁকে পাকড়াও করে মানুষের মতো হাইড্রোক্লোরিক এসিড ও এনজাইমের সাহায্যে তাকে সরাসরি পাঠায় পাকস্থলীতে।

No comments

Powered by Blogger.