শিক্ষকদের প্রত্যাশার আলো যেন নিভে না যায়-প্রাথমিক শিক্ষা by মোঃ সিদ্দিকুর রহমান

যুগ যুগ ধরে প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য প্রতি সরকার ইতিবাচক ঘোষণা দিয়ে আসছে। কেবল জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শিক্ষকদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং আর্থিক দীনতার করাল গ্রাস থেকে মুক্ত করার জন্য প্রাথমিক শিক্ষকদের চাকরি সরকারি করেছেন। তার শাহাদাতবরণের পর প্রাথমিক শিক্ষকদের মর্যাদা ভূলুণ্ঠিত করার লক্ষ্যে সরকারের মধ্যে টানাপড়েন পরিলক্ষিত হয়। যার ফলে ১৯৮১ সালে বাংলাদেশের পেশাজীবীদের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষকরা সর্ববৃহৎ


আন্দোলন পরিচালনা করেন। শাসকশ্রেণীর অসৎ উদ্দেশ্য ব্যর্থ হওয়ায় শুরু হয় প্রাথমিক শিক্ষকদের ঐক্য প্রক্রিয়া বিনষ্টের ষড়যন্ত্র, যা আজও অব্যাহত আছে। নতুন প্রজন্মের শিক্ষকদের মধ্যে ঐক্য সমুন্নত রাখতে হবে।
হতাশাব্যঞ্জক বেতন স্কেলের দীনতা থেকে বেরিয়ে আসা শিক্ষকদের অন্যতম প্রত্যাশা। বিগত সরকারের আমলে শুভঙ্করের ফাঁকির মতো উন্নীত বেতন স্কেলের আন্দোলনে হাজতবাসের সৌভাগ্য হওয়ায় আমি গর্বিত। ষড়যন্ত্রকারীদের কবলে পড়ে শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধির পরিবর্তে বেতন কমার নজির ইতিহাসে বিরল। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই শিক্ষকদের হতাশার আগুন থেকে আশার আলো জ্বালিয়ে দিল। স্বতন্ত্র বেতন স্কেলের মাধ্যমে শিক্ষকদের আর্থিক দীনতা দূর করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। দীর্ঘ তিন বছর কার্যক্রম বাস্তবায়নের কোনো ফলপ্রসূ পদক্ষেপ না নেওয়ায় হতাশার সেই আগুন আবার জ্বলতে শুরু করেছে।
বিগত সরকারের মেয়াদের মাঝামাঝি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটি সর্বসম্মতক্রমে প্রধান শিক্ষক পদকে দ্বিতীয় শ্রেণীর গেজেটেড মর্যাদা দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। শিক্ষক সমাজ তখন স্বপ্নে বিভোর হয়ে আশার আলো দেখছিল। কী অশুভ শক্তির আশীর্বাদে সে সিদ্ধান্ত আজও কার্যকর হয়নি। ইদানীং বর্তমান সরকারের সংসদীয় কমিটির একই সিদ্ধান্ত অনেকটা নতুন বোতলে পুরনো মদের মতো।
সমস্যার আবর্তে ডুবে আছেন প্রাথমিক শিক্ষকরা। প্রকল্পভুক্ত শিক্ষকদের রাজস্ব খাতে নেওয়ার পরও নানা জটিলতায় আটকে আছে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি। এ যেন করুণা, দয়া। অধিকার হিসেবে মানতে নারাজ কর্তৃপক্ষ। হাইকার্টের রায় শিক্ষকদের অনুকূলে থাকা সত্ত্বেও পদোন্নতি বন্ধ থাকায় প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো প্রশাসনিক জটিলতায় স্থবির হয়ে আছে।
পদোন্নতিপ্রাপ্তির পরও সমস্যা আছে। শিক্ষকতার শেষ পর্যায়ে কারও কারও ভাগ্যে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির সুযোগ হয়। এই পদোন্নতিটা অবৈতনিক। পদোন্নতিপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের অবৈতনিক বদনাম ঘুচানোর জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় কর্তৃক পরবর্তী স্কেল দেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়। এই আদেশ উপজেলা পর্যায়ে পেঁৗছার পরপরই বিজলির ঝলকানির মতো দেখা দিয়ে তা আবার মিলিয়ে যায়। উপরোক্ত বিষয়ে মিরপুরের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক নেত্রী মনোয়ারা বেগম জানান, ঢাকা শহরের প্রচণ্ড যানজট সহ্য করেও যাত্রীরা এক সময় তাদের গন্তব্যে পেঁৗছতে সক্ষম হন, অথচ ২১ আগস্ট '০৬ থেকে অদ্যাবধি পদোন্নতিপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের বেতন নির্ধারণের সমস্যার আজও সমাধান সম্ভব হয়নি। প্রাথমিক শিক্ষকদের এই সীমাহীন জটের কথা চিন্তা করলে মনে হয়, ২০২১ সালের ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে।
শিক্ষকদের প্রত্যাশার আলো না জ্বালিয়ে যদি দীর্ঘ সময় ধরে হতাশার আগুন জ্বালিয়ে রাখা হয়, তাহলে শিক্ষার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নসহ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার কতটুকু পূরণ হবে? বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। শিক্ষকদের প্রত্যাশার এই আলো জ্বালিয়ে রাখার দায়িত্ব পালনে শিগগিরই কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেবে? উত্তরটা জানা জরুরি।

মোঃ সিদ্দিকুর রহমান :শিক্ষক নেতা

No comments

Powered by Blogger.