মেলবোর্ন টেস্ট-ভারতের দিনে টেন্ডুলকার-হতাশা

চা-বিরতিতে কী পান করেছিলেন, কে জানে! বিরতির পর প্রথম বলেই পিটার সিডলকে আপার কাটে ছয়। পরবর্তী দুই ঘণ্টায় কী হতে যাচ্ছে, সেটার একটা বার্তাও যেন দিয়ে দিলেন। ঝুলি থেকে বের করলেন দৃষ্টিনন্দন সব কভার, স্কয়ার আর স্ট্রেট ড্রাইভ, কাট, ফ্লিক। ৫৫ বলে ফিফটি ছুঁয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন আরও। তিন অঙ্ক ছোঁয়ার সময় কাল ছিল না, তবে আশা জিইয়ে রেখে কালকের দিন শেষ আর আজকের দিন শুরু করার সুযোগ ছিল। কিন্তু শেষ বিকেলের মরে


আসা আলোয় আরেকবার শেষ হলো আশা। রোমাঞ্চকর সব শটের শুরু হয়েছিল যে সিডলকে দিয়ে, সেই সিডলের এক গোলা ব্যাট-প্যাডের ফাঁক গলে নাড়িয়ে দিল স্টাম্প। শচীন টেন্ডুলকার ব সিডল ৭৩, দিনের খেলার তখন মাত্র ৩ বল বাকি!
যেদিন সেঞ্চুরিটা পেয়ে যাবেন, খবরের শিরোনাম অবশ্যই হবেন। তবে অর্জনের মাহাত্ম্যটা এমন যে, যত দিন না হচ্ছে, শিরোনাম হতে থাকবেন তত দিনই! শততম সেঞ্চুরির অপেক্ষা আরও বাড়ল টেন্ডুলকারের। শেষ মুহূর্তে তাঁর বিদায়েই ভারতীয় শিবিরে যা একটু বিষাদ ছড়াল, তবু মেলবোর্নের কালকের দিনটা ভারতেরই। ৬ উইকেটে ২১৪ রান বিবেচনায় অস্ট্রেলিয়ার ৩৩৩ রান শেষ পর্যন্ত হয়তো মন্দ নয়। তবে ৬ উইকেটে ২৮৪ থেকে অস্ট্রেলিয়াকে ৩৩৩ রানে গুটিয়ে দেওয়ায় স্বস্তি পাবে ভারতও। দিনশেষে ৭ উইকেট হাতে নিয়ে ব্যবধানটা কমিয়ে এনেছে ১১৯ রানে। আবারও বড় কিছুর ইঙ্গিত নিয়ে উইকেটে রাহুল দ্রাবিড়। লক্ষ্মণ-কোহলি-ধোনিরা অপেক্ষায়।
মেলবোর্নের চকচকে রোদে কাল সকালেই অস্ট্রেলিয়ার বড় স্কোরের আশা ঘোলাটে করে দেন জহির খান। ব্র্যাড হাডিনকে ফেরান দিনের দ্বিতীয় ওভারে। আগের দিনের আরেক অপরাজেয় পিটার সিডলকে ফেরান খানিক পরই, অস্ট্রেলিয়ার তখন ৩০০ নিয়েই টানাটানি। হিলফেনহস-প্যাটিনসনের প্রতিরোধে তবু তারা পেয়ে যায় ‘ট্রিপল নেলসন’। ফিরেই ৪ উইকেট নিয়ে জহির খান বুঝিয়ে দিয়েছেন, কেন তিনি বাইরে থাকলে ভারতের বোলিং আক্রমণ এতটা ভোঁতা হয়ে যায়। ৮১ রানে ৩ উইকেট অশ্বিনের, অস্ট্রেলিয়ায় অভিষেকেই ছাড়িয়ে গেলেন প্রতিদ্বন্দ্বী হরভজন সিংকে। অস্ট্রেলিয়ায় ৪ ম্যাচে ‘ভাজ্জির’ সেরা ছিল ৩/১০০।
গৌতম গম্ভীরের অস্ট্রেলিয়া অভিষেক সুখকর হয়নি। তবে শুরুর ধাক্কা দ্রুতই সামলে ওঠে ভারত। বীরেন্দর শেবাগের ইনিংসটা ছিল ‘টিপিক্যাল শেবাগীয়’। ১১ ও ৫৮ রানে দুবার জীবন পেয়েছেন, এর মাঝে খেলেছেন নিজের মতো সব শটও। ২০ রানের মাথায় পঞ্চম ভারতীয় হিসেবে ছুঁয়েছেন ৮ হাজার টেস্ট রান। আবার আউটও হয়েছেন বাইরের বল স্টাম্পে টেনে। ইনিংসের শুরুতেই প্যাটিনসন ও সিডলের সঙ্গে বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত উইকেটটি দিয়েও এসেছেন প্যাটিনসনকে।
ভারতের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সবচেয়ে নড়বড়ে ছিলেন যিনি, তিনিই দিন শেষ করেছেন অপরাজিত থেকে। উইকেটে যাওয়ার মিনিট দশেকের মধ্যে চারবার অল্পের জন্য ব্যাটের কানা নেয়নি বল, দিনশেষের মিনিট দশেক আগে বোল্ড হয়েছিলেন ‘নো’ বলে। আর রাহুল দ্রাবিড় উইকেটে পড়ে থেকেছেন স্বভাবজাত সংগ্রামে। টেন্ডুলকারের সঙ্গে গড়েছেন বিশতম সেঞ্চুরি জুটি। বছরের ষষ্ঠ সেঞ্চুরিটাও হাতছানি দিচ্ছিল। পেরেছেন কি না, এতক্ষণে হয়তো জানা হয়ে গেছে আপনার! ওয়েবসাইট।

No comments

Powered by Blogger.