ফেসবুক পেজ থেকে-আইনি জিজ্ঞাসা

প্রশ্ন: আমার এক বন্ধুর মা-খালারা তিন ভাই, তিন বোন। মেজো খালা নিঃসন্তান। খালু মারা গেছেন। তাঁর বাবার কাছ থেকে পাওয়া চার কাঠা জমি আছে রংপুর পৌরসভার মধ্যে। এখন বন্ধুর খালা তাঁর জমি দান করতে চান। কীভাবে এই হস্তান্তর-প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়, এ ব্যাপারে পরামর্শ চাই।


হেবা দলিল করা যায় কি না, অথবা অন্য কোনো উপায়, যার মাধ্যমে মামা ও খালারা পরে কোনো দাবি করতে পারবেন না। সমাধান দিলে বাধিত হব। রেজিস্ট্রিতে সম্ভাব্য কত টাকা লাগতে পারে তার একটা ধারণা দেবেন অনুগ্রহ করে। জমিটা খালা তাঁর মরহুম বাবার কাছ থেকে পেয়েছেন। বন্ধুর নানি, তিন মামা, খালারা বেঁচে আছেন।
আসিফ নিপ্পন।

উত্তর: খালা তাঁর সম্পত্তি কাকে দান করতে চান, তা উল্লেখ করেননি। হেবা বা দান করতে হয় নিঃশর্ত। দান করার জন্য তিনটি শর্ত পূরণ করতে হয়। প্রথমত, হেবাকারীকে হেবার ঘোষণা দিতে হবে অথবা পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বা আমমোক্তারনামা করেও ঘোষণা দিতে পারে। দ্বিতীয়ত, যাকে হেবা বা দান করা হচ্ছে, তার দ্বারা গ্রহণ।
তৃতীয়ত, হেবা করা সম্পত্তির দখল গ্রহণ। হেবা কিংবা দান করা সম্পত্তির দখল হস্তান্তর করা বাধ্যতামূলক এবং অবশ্যই রেজিস্ট্রি করে নিতে হবে। আইনগত শর্ত পালন করে দানসম্পন্ন করলে পরে কেউ দাবি করতে পারবে না।
দাদা-দাদি, মা-বাবা, ছেলেমেয়ে, নাতি-নাতনি, আপন ভাইবোন, স্বামী-স্ত্রীকে হেবা করার জন্য প্রতিটি হেবা দলিলে ১০০ টাকা রেজিস্ট্রেশন ফি দিতে হবে।

প্রশ্ন: আমার এক ভাই একটি সরকারি ব্যাংকে চাকরি করেন। বিয়ের পর স্ত্রীসহ তিনি তাঁর কর্মস্থলে ছিলেন। প্রথমে তাঁদের নিজেদের মধ্যে খাপখাওয়াতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছিল। আমার ভাইও ভাবির প্রতি কিছু অন্যায় আচরণ করেন। আবার ভাবিও কিছুটা অন্যায় আচরণ করেন ভাইয়ের প্রতি। ভাবি রাগ করে তাঁর বাবার বাড়ি চলে যান দেড় বছর হলো। এখন আমার ভাই বিষয়টি নিয়ে খুবই লজ্জিত ও অনুতপ্ত। তিনি ভাবিকে আনার অনেক চেষ্টাও করেছেন, এমনকি অনেকবার ক্ষমাও চেয়েছেন। ভাবিরও আসার ইচ্ছা আছে। কিন্তু সমস্যা করছেন ভাবির দুলাভাই। তিনি কিছুতেই ভাবিকে আসতে দিচ্ছেন না। ভাবিও বলেছেন, দুলাভাইকে রাজি করালে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। আমার ভাই ও তাঁর মা ভাবিকে আনতে গিয়েছিলেন কিন্তু তাঁর ওই দুলাভাই ভাবিকে শাশুড়ির কাছে দেননি। এতে ভাইয়ের পরিবার অনেক অপমানবোধ করেন কিন্তু তার পরও ভাবি যদি ফিরে আসেন, তবে ভাইয়ের পরিবার তাঁকে মেনে নেবেন বলে জানিয়েছেন। আমার প্রশ্ন, সমস্যা সমাধানের জন্য কী কী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে? ওই দুলাভাইয়ের বিরুদ্ধে কি কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ আছে?
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

উত্তর: কারও সম্মতি ছাড়া কাউকে আটক বা জিম্মি রাখা বেআইনি। আপনারা ফৌজদারি কার্যবিধির ১০০ ধারা অনুযায়ী দুলাভাইয়ের বিরুদ্ধে সার্চ ওয়ারেন্ট বা তল্লাশি পরোয়ানার মামলা করতে পারেন। এ মামলা করতে হয় নির্বাহী হাকিমের আদালতে। এ ছাড়া দাম্পত্য অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য পারিবারিক আদালতের আশ্রয়ও নেওয়া যেতে পারে।

No comments

Powered by Blogger.