নাট্য উপস্থাপনায় আধুনিকতা থাকবে by শফিক আল মামুন

সৈয়দ শামসুল হকের লেখা নাগরিক নাট্যসম্প্রদায়ের অপেক্ষমাণ নাটকটি ইতিমধ্যে ঢাকার মঞ্চে বেশ আলোচনায় এসেছে। সম্প্রতি কলকাতার অন্য থিয়েটারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতেও নাটকটির আমন্ত্রণ এসেছে। এ বছরের শেষে যাচ্ছে নেপালে। নাটকটির নির্দেশনায় আছেন আতাউর রহমান। আজকের সাক্ষাৎকার তাঁর সঙ্গে।


অপেক্ষমাণ নাটকটি ঢাকার মঞ্চে তো বেশ আলোচনায় এসেছে। এ ব্যাপারে আপনার অনভূতি কী?
অনুভূতি ভালো। নিজের কাজ দর্শকের আলোচনায় এলে তো ভালো লাগারই কথা। তা ছাড়া আমি নিজেও নাটকটিতে অভিনয় করি। এ ছাড়া আরও দুজন জনপ্রিয় অভিনেতা ও অভিনেত্রী পান্থ শাহরিয়ার ও অপি করিম নাটকটিতে কাজ করছেন। ফলে দর্শক সহজেই নাটকের সঙ্গে এগিয়ে যেতে পারে। দর্শকের কাছে নাটকটি ভালো লাগার আরও কারণ হলো, নাটকটি সৈয়দ হক পাশ্চাত্যের সঙ্গে প্রাচ্যের মিশ্রণ ঘটিয়েছেন। নাটকটির মধ্যে একটা চিরকালীন ছাপ লক্ষ করা যায়। আলোচনায় আসার কারণে নাটকটির ইতিমধ্যে দেশের বাইরে থেকেও আমন্ত্রণ এসেছে।
আমন্ত্রণটি কীভাবে এল?
কলকাতার অন্য থিয়েটারের প্রধান বিভাষ চক্রবর্তী তাঁদের দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আমন্ত্রণ করেছেন। তিনি আমাকে তাঁদের উৎসবে নাটকটি মঞ্চস্থ করার জন্য ই-মেইলে বার্তা পাঠিয়েছেন। আমি সাদরে তা গ্রহণ করেছি। যদিও এখনো উৎসবের সময়সূচি চূড়ান্ত হয়নি। তার পরও আশা করছি, ৩১ আগস্ট অথবা ১ সেপ্টেম্বর আমার উৎসবে নাটক মঞ্চায়ন করব। আমাদের নাটকের স্থায়িত্বকাল এক ঘণ্টা ১৫ মিনিট। ওখানে আমাদের এক দিনে দুটি প্রদর্শনীর কথা বলা হয়েছে।
শুনলাম, আপনারা নেপালেও নাটকটি মঞ্চায়নের জন্য আমন্ত্রণ পেয়েছেন?
হ্যাঁ। তবে এটি নভেম্বরের দিকে হতে পারে। ওখানে ইবসেনের নাটক নিয়ে ইবসেন নাট্যোৎসব হবে। ওই উৎসবে আমাদের এ নাটকটি মঞ্চায়নের কথা বলা হয়েছে। পুরো বিষয়টি প্রাথমিকভাবে চূড়ান্ত হয়েছে। আন্তর্জাতিক থিয়েটার ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশের সেন্টার ফর এশিয়ান থিয়েটার ও ওখানকার বেশ কিছু নাটকের দল মিলে এ উৎসবের আয়োজন করবে।
বাংলার মাটি বাংলার জল কবে মঞ্চে আসবে?
নাটকটি পালাকার থেকে মঞ্চে আসছে। ইতিমধ্যে নাটকটির চার ভাগের তিন ভাগ কাজই হয়েছে। কয়েক দিন আগে নাটকটির নায়ক রবীন্দ্রনাথ চরিত্রে যিনি অভিনয় করছেন, তিনি দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন। ফলে কাজ কয়েক দিনের জন্য বন্ধ আছে। তবে নাটকের সেট, আলোক ও পোশাক পরিকল্পনার কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। আশা করছি, রোজার পর পরই টানা ১৫ দিন মহড়া করে নাটকটি মঞ্চে আনব।
আপনি অনেক আগেই ঘোষণা দিয়েছিলেন সিরাজউদ্দৌলা মঞ্চে আনবেন। নাটকটির খবর কী?
ছোটবেলায় সিরাজউদ্দৌলার যে গল্প শুনেছি, সেই শচীন সেনগুপ্তের লেখা সিরাজউদ্দৌলাই মঞ্চে আনব। এটি একটি ঐতিহাসিক নাটক। মঞ্চে আনতেও অনেক সময়ের ব্যাপার। তবে অনেক দিন থেকেই আমি নাটকটির প্রস্তুতি নিচ্ছি। বাংলার মাটি বাংলার জল নাটকটি যেদিন মঞ্চে আসবে, তার পরের দিন থেকেই সিরাজউদ্দৌলা নাটকটির কাজ শুরু করব। নাটকটির ডিজাইনটা মোটামুটিভাবে করা আছে। এ নাটকটির উপস্থাপনাটা সেই পুরোনো দিনের মতো করে হবে না। নাট্য উপস্থাপনায় আধুনিকতা থাকবে। নাটকটির মধ্যে আমি নিজেই আধুনিক মনন যোগ দেওয়ার চেষ্টা করব।

No comments

Powered by Blogger.