পবিত্র কোরআনের আলো-ইহুদি ও খ্রিস্টানদের তাদের মতো করে চলতে দেওয়ার ইঙ্গিত

১৩. ফাবিমা নাক্বদ্বিহিম্ মীছাক্বাহুম লাআ'ন্না-হুম ওয়াজাআ'লনা ক্বুলূবাহুম ক্বা-ছিইয়াতান ইউহার্রিফূনাল কালিমা আ'ম্মাওয়া-দ্বিয়ি'হী ওয়ানাছূ হায্যাম্ মিম্মা- যুক্কিরূ বিহী; ওয়া লা- তাজআলু তাত্ত্বালিউ' 'আলা খা-য়িনাতিম্ মিনহুম ইল্লা ক্বালীলাম মিনহুম ফা'ফু 'আনহুম ওয়াস্ফাহ্; ইন্নাল্লা-হা ইউহিব্বুল মুহ্ছিনীন।


১৪. ওয়া মিনাল্লাযীনা ক্বা-লূ ইন্না নাসা-রা আখাজনা মীছা-ক্বাহুম ফানাছূ হায্যাম্ মিম্মা- যুক্কিরূ বিহি; ফাআগ্রাইনা বাইনাহুমুল আ'দা-ওয়াতা ওয়ালবাগদ্বা-আইলা ইয়াওমিল কি্বয়া-মাতি; ওয়াছাওফা ইউনাবি্বউহুমুল্লা-হু বিমা কা-নূ ইয়াসনাঊ'ন।
১৫. ইয়া-আহ্লাল কিতাবি ক্বাদ জা-আকুম রাসুলুনা ইউবায়্যিনু লাকুম কাছীরাম্ মিম্মা- কুনতুম তুখফূনা মিনাল কিতাবি ওয়া ইয়া'ফূ 'আন কাছীরিন ক্বাদ জা-আকুম মিনাল্লা-হি নূরুন ওয়া ওয়াকিতা-বুম্ মুবীন। [সুরা : আল মায়েদা, আয়াত : ১৩-১৫]
অনুবাদ : ১৩. সেসব অঙ্গীকার ভঙ্গ করার কারণে আমি তাদের ওপর অভিশাপ নাজিল করেছি এবং তাদের হৃদয় কঠিন করে দিয়েছি। তারা আল্লাহর কালামগুলোকে এর প্রকৃত অর্থ থেকে সরিয়ে বিকৃত করে দিত। সঠিক পথের দিকনির্দেশনা যা কিছু তাদের দেওয়া হয়েছিল, এর অনেক কিছুই তারা ভুলে গেল। সব সময়ই আপনি দেখতে পাবেন তাদের অতিক্ষুদ্র একটি অংশ ছাড়া অধিকাংশ মানুষই বিশ্বাসঘাতকতা করে চলেছে; অতএব আপনি তাদের ক্ষমা করে দিন এবং এদের সংশ্রব এড়িয়ে চলুন। অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা কল্যাণকামী মানুষদের ভালোবাসেন।
১৪. আর যারা বলে, আমরা নাসারা বা খ্রিস্টান তাদের কাছ থেকেও আমি অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলাম, অতঃপর এরাও সেই অঙ্গীকারের অনেক কিছু ভুলে গেল। অথচ তাদের সেগুলো স্মরণ করানো হয়েছিল। অতঃপর আমিও তাদের মধ্যে কিয়ামত পর্যন্ত শত্রুতা ও বিদ্বেষের বীজ বপন করে দিলাম। অচিরেই আল্লাহ তায়ালা তাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে জানিয়ে দেবেন।
১৫. হে আহলে কিতাব, তোমাদের কাছে আমার রাসুল এসেছেন, আর তিনি তোমাদের এমন অনেক কিছু বলে দিচ্ছেন, যা তোমরা এত দিন গোপন করে রেখেছিলে আগের কিতাবে বর্ণিত থাকা সত্ত্বেও, আবার অনেক কিছু তিনি এড়িয়েও যাচ্ছেন। তোমাদের কাছে তো আল্লাহর পক্ষ থেকে আলো এসেছে এবং সুস্পষ্ট কিতাবও এসেছে।
ব্যাখ্যা : এই আয়াতগুলোতে আহলে কিতাব তথা ইহুদি ও খ্রিস্টানদের ব্যাপারে কথা বলা হয়েছে। ইহুদিরা তাদের বংশের পয়গম্বরদের মাধ্যমে আল্লাহর সঙ্গে যে অঙ্গীকারে আবদ্ধ হয়েছিল, সেই অঙ্গীকার থেকে তারা সরে যায়। তারা আল্লাহর কালামকে এর প্রকৃত অর্থ থেকে বিচ্যুত করে বিকৃত অর্থে রূপ দেয়। তারা যদি আল্লাহর কালামের প্রকৃত অনুসারী হতো, তবে শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আবির্ভাবের সঙ্গে সঙ্গে তারা তাঁর ওপর ইমান আনত এবং ইসলামের অনুসারী হয়ে যেত। কিন্তু তারা তা করেনি বরং নিজেদের অঙ্গীকারের সঙ্গেই বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। সুতরাং এখানে রাসুলকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে তাদের ক্ষমা করে দিতে এবং তাদের এড়িয়ে চলতে। অর্থাৎ তাদের ব্যাপারে মুসলমানদের কোনো মোহ যেন না থাকে। তারা ইসলামের ডাকে সাড়া দেবে না; বরং তাদের মতো করেই চলবে।
১৪ নম্বর আয়াতে খ্রিস্টানদের ব্যাপারে বলা হয়েছে, খ্রিস্টানরাও ইহুদিদের মতো নিজেদের অঙ্গীকার থেকে সরে এসেছে। এভাবে তারা আল্লাহর অনুগ্রহ থেকেও সরে গেছে। তারা নিজেদের ধর্মের মধ্যে নানা অবান্তর মতবাদ দাঁড় করিয়েছে এবং দলে-উপদলে বিভক্ত হয়ে গেছে। তাদের সেই ধর্মতাত্তি্বক বিভক্তি কালক্রমে শত্রুতায় পরিণত হয়েছে। খ্রিস্টানরা তখন দৃশ্যতই তিন-চারটি দলে বিভক্ত হয়ে পড়ে এবং ধর্মীয় কলহ-বিবাদে লিপ্ত হয়। আল্লাহ তায়ালা এই আয়াতের মাধ্যমে ভবিষ্যদ্বাণী করছেন যে তাদের এই হিংসা-বিদ্বেষ ও কলহ-বিবাদ কিয়ামত পর্যন্ত চলবে। আল্লাহ তায়ালা তাদের মধ্যে শত্রুতার বীজ বপন করে দিয়েছেন বলতে তাদের অবাধ্যতা ও গোমরাহির কর্মফল হিসেবে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে_তা-ই বোঝানো হয়েছে। ১৫ নম্বর আয়াতে আহলে কিতাবদের পুনরায় সম্বোধন করে বলছেন, শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর মাধ্যমে আল্লাহর কাছ থেকে আলো এসেছে এবং সুস্পষ্ট কিতাব এসেছে; সুতরাং তাদেরও উচিত সঠিক পথে চলে আসা।
গ্রন্থনা : মাওলানা হোসেন আলী

No comments

Powered by Blogger.