কিশোরদের পেটানোর ঘটনার আইনি প্রতিকার চাই-ক্ষমতার সীমা, আচরণের সীমা

আইনত সব মানুষই সমান, কিন্তু আইনের প্রয়োগ সমান হতে দেখা যায় না। সমাজে সব মানুষই পরস্পরের সহনাগরিক, কিন্তু সমান সহমর্মিতা সবাই মনে ধারণ করেন না। আবার সবার অপরাধও সমান নয়, বিশেষ করে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত, সম্মানিত ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের অন্যায় আচরণকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।


রাজধানীর বারিধারার অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের আবাসস্থল ডিওএইচএসে চার কিশোরকে খুঁটিতে দড়ি দিয়ে বেঁধে মারপিট করা তেমনই এক অন্যায়, যার আইনি বিহিত হতে হবে। কিন্তু এ-বিষয়ক মীমাংসা বৈঠকে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হাজির না হয়ে কিশোরদের পরিবারকে আরও ক্ষুব্ধ করে তোলেন। তাঁরা এখন আইনি ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছেন।
ঘটনার সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়। এ-লেভেল পড়ুয়া চার কিশোর পার্কে ঘুরতে যায়। পার্কের ভেতরের সরু রাস্তার উল্টো-সোজা হয়তো তারা বুঝতে পারেনি। তারা দুঃখপ্রকাশও করে। কম বয়সীদের মামুলি ভুলকে হাসিমুখে শুধরে দেওয়াই সঠিক নিয়ম, সেটাই সুস্থ সংস্কৃতির লক্ষণ। কিন্তু চার কিশোরকে তুমুল প্রহার করা হয় এমনকি ‘পিটিয়ে মেরে ফেলার’ নির্দেশও আসে। প্রহারকারীরা সেনাবাহিনীর সাবেক তিন কর্মকর্তা এবং একজন অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট। তাঁরা কেউই ভাবলেন না, ব্যাপারটা কেবল আইনের লঙ্ঘনই নয়, অমানবিকও বটে। অথচ আইন ও দায়িত্বশীলতার প্রতি নিষ্ঠা তাঁদের কাছেই বেশি আশা করা হয়।
কিছুদিন আগে কক্সবাজার সৈকতে কয়েকজন সেনাসদস্য এক তরুণীকে উত্ত্যক্ত করছেন, এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মেয়েটির ভাই প্রতিবাদ করে প্রহূত হন। এমনকি তাঁদের বাঁচাতে আসা পুলিশও রেহাই পায়নি। এ ধরনের ঘটনার ইঙ্গিত একটাই—সীমা লঙ্ঘন। নাগরিকেরা যাতে নিজ নিজ সীমা মেনে চলেন, আইনের সৃষ্টি তা দেখার জন্যই।
বাংলাদেশের পুলিশ ও সামরিক বাহিনী উভয়েরই জন্ম একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ফসল হিসেবে, মুক্তিযুদ্ধে উভয় বাহিনীর অনন্য অবদান আছে। তা ছাড়া সুশৃঙ্খল বাহিনীর সদস্য বা প্রাক্তন সদস্য হিসেবে আইনকানুন তাঁদের ভালো জানার কথা। সাধারণ নাগরিক অজ্ঞতাবশত বেআইনি কিছু করতে পারেন; কিন্তু সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বেলায় সেই যুক্তি খাটে না। আমরা আশা করব, বারিধারার ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত হবে এবং ক্ষতিগ্রস্তরা আইনি প্রতিকার পাবে; এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি বন্ধে তা জরুরিও বটে।

No comments

Powered by Blogger.