তত্ত্বাবধায়ক সরকার-বিভ্রান্ত নাগরিক ও অসহায় নির্বাচন কমিশন by বদিউল আলম মজুমদার

কাজের সুবাদে প্রতিনিয়ত বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে আমার যাতায়াত ঘটে। সমাজের সর্বস্তরের জনগণের মতামত শোনার সুযোগ হয়। এসব আলাপ-আলোচনা থেকে আমার মনে হয়, বাংলাদেশের রাজনীতিতে সাম্প্রতিক কালে যেসব ঘটনা ঘটছে, তা নিয়ে অনেক নাগরিক বিভ্রান্ত। তাঁদের কাছে অনেক কিছুই বোধগম্য নয়।


বিশেষত আমাদের রাজনৈতিক নেতাদের অনেক বক্তব্যের আদ্যোপান্ত তাঁরা খুঁজে পান না। একই সঙ্গে তাঁরা অনুভব করেন নির্বাচন কমিশনের অসহায়ত্ব।
একটি বড় বিভ্রান্তির কারণ হলো নির্বাচন নিয়ে বর্তমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পরস্পরবিরোধী বক্তব্য। গত ২৭ সেপ্টেম্বরের সমাবেশ থেকে বিএনপির প্রধান বেগম খালেদা জিয়া সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা দেন যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার পুনঃপ্রবর্তন ছাড়া তাঁর দল নির্বাচনে অংশ নেবে না। তিনি একতরফা নির্বাচন প্রতিহত করারও ঘোষণা দেন। তাঁর দলীয় সহকর্মীরাও একই বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করেন। এর পরপরই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একবার নিউইয়র্কে, পরে ঢাকায় ফিরে অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়াই যথাসময়ে নির্বাচন হবে এবং এতে সবাই অংশ নেবে। তাঁর মন্ত্রিপরিষদ ও দলীয় সহকর্মীরাও একাধিকবার একই বক্তব্য দেন। দুই বড় দলের এমন বিপরীতমুখী বক্তব্যে জনগণ বিভ্রান্ত না হয়ে পারে না।
বিভ্রান্তিতে আরও নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে যখন সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিরা বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার কোনো সুযোগ নেই এবং এ ব্যাপারে তাঁরা সুপ্রিম কোর্টের রায়ের দোহাই দেন। অনেক নাগরিকই অবগত আছেন যে উচ্চ আদালত তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাকে ভবিষ্যতের জন্য অবৈধ ঘোষণা করেছেন এবং আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী সংসদ ইচ্ছা করলে বিচার বিভাগকে বিযুক্ত করে আগামী দুই মেয়াদের জন্য এটি পুনর্বহাল করতে পারে। এ ছাড়া আদালত শুধু একটি সংক্ষিপ্ত আদেশ দিয়েছেন, পূর্ণ রায় এখনো প্রকাশ করেননি। তাই অনেকের কাছে এটি সুস্পষ্ট যে বর্তমান সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার পুনর্বহাল করতে অনিচ্ছুক এবং তা না করার জন্য তারা আদালতের আদেশকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করছে। এ ছাড়া অনেকেরই স্মরণ আছে, গত ৩০ জুন সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী পাসের আগে ও পরে সরকারের সঙ্গে জড়িত অনেকেই প্রয়োজনে ষষ্ঠদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার আশ্বাস দেন। অর্থাৎ অনেক নাগরিকের মতে, বর্তমান সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে এক ধরনের ছলনার আশ্রয় নিয়েছে।
এই ছলনার কারণ অনেকের কাছেই পরিষ্কার, তারা পরবর্তী সংসদ নির্বাচন দলীয় সরকারের অর্থাৎ নিজেদের অধীনে করতে বদ্ধপরিকর। এখন অবশ্য কেউ কেউ এই দলীয় সরকারব্যবস্থার ওপর চিনির প্রলেপ লাগিয়ে এটিকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বলে চালিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টায় লিপ্ত, যদিও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বলতে আমাদের সংবিধানে কিছুই নেই। আবার অনেকে বলছেন, নির্বাচন কমিশনের অধীনে ভবিষ্যতে নির্বাচন হবে। কিন্তু সরকারের অধীনে রাষ্ট্র পরিচালিত হয়, আর নির্বাচন কমিশন সেই রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মধ্যে থেকে নির্বাচন পরিচালনা করে মাত্র এবং সংবিধানের ১১৯ অনুচ্ছেদে কমিশনের দায়িত্ব সুস্পষ্ট করা আছে। অর্থাৎ কমিশন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিকল্প হতে পারে না।
অনেকেই জানেন, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে এক প্রবল আন্দোলনের মুখে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা আমাদের সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয়। যুক্তি ছিল, বিশেষত ১৯৯৪ সালের মাগুরার উপনির্বাচনের অভিজ্ঞতার আলোকে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন নিরপেক্ষ হয়নি। অনেকে আরও জানেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে দলীয় সরকারের অধীনে অতীতে যতগুলো নির্বাচন হয়েছে, সবগুলোতেই ক্ষমতাসীনরা জয়লাভ করেছেন এবং নির্বাচন নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। পক্ষান্তরে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত সবগুলো নির্বাচনেই বিরোধী দল উত্তরোত্তর আরও বড় মার্জিনে বিজয়ী হয়েছে। আর গত দুই দশকে আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটেনি, বরং পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটেছে। তাই অনেকের মনেই আজ প্রশ্ন, গত নির্বাচনে মহাবিজয়ের পর আওয়ামী লীগ কি জনগণের হূদয়-মন জয় করতে ব্যর্থ? আগামী নির্বাচনে পরাজয়ের ভয়ে তারা ভীত?
কেউ কেউ অবশ্য দাবি করেন, আওয়ামী লীগের অধীনে উপনির্বাচন, উপজেলা, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন মোটামুটিভাবে নিরপেক্ষই হয়েছে এবং এগুলোতে বিরোধী দল জয়ীও হয়েছে। কিন্তু নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও এর প্রায় তিন সপ্তাহ পর অনুষ্ঠিত উপজেলা নির্বাচনের গুণমান নিয়ে স্বয়ং নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।
আরেকটি বিষয় বোধগম্য নয়। সংবিধান সংশোধনের আগে ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকে বারবার আহ্বান করা হয়, বিরোধী দলের যদি এ ব্যাপারে কিছু বলার থাকে, তারা যেন সংসদে এবং সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে গঠিত বিশেষ কমিটির সামনে এসে তা বলে। কিন্তু সংসদে বা সংসদীয় কমিটির সামনে এসে বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা অব্যাহত রাখার কথা বললেও কোনো লাভ হতো বলে অনেকেই মনে করেন না, যদিও বিএনপির না যাওয়া ছিল অন্যায়। কারণ কমিটির সামনে উপস্থিত হয়ে তিন সাবেক প্রধান বিচারপতি ও অর্ধশতাধিক সংবিধান বিশেষজ্ঞ, বুদ্ধিজীবী ও সম্পাদক মতামত দেন। কিন্তু তাঁদের কোনো কথাই কমিটির সুপারিশে স্থান পায়নি। তাঁদের অধিকাংশই বিরোধী দলকে ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাদ দিয়ে সংবিধান সংশোধনের বিপক্ষে মত দেন কিন্তু এসব সুপারিশের প্রতি কমিটি কোনোরূপ কর্ণপাতই করেনি। যদিও সংবিধান বাংলাদেশের ‘জনগণের অভিপ্রায়ের অভিব্যক্তিস্বরূপ’ এবং একতরফাভাবে তা পরিবর্তন করা অযৌক্তিক। আর গত দুই দশকে প্রতিটি বিরোধী দল লাগাতারভাবে সংসদ বর্জন করেছে। বিপরীতে প্রতিটি সরকার সর্বদা বিরোধী দলকে সংসদে এসে কথা বলতে আহ্বান করছে। এটা যেন ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে।
সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর ফলে বর্তমান সংসদের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার আগেই দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। অর্থাৎ সাংসদদের অনেকেই তাঁদের পদে বহাল থেকেই নির্বাচনে অংশ নেবেন। তাঁদের অনেকের অপকর্ম নিয়ে, বিশেষত প্রশাসন ও থানা পুলিশকে ব্যবহার করে স্থানীয় পর্যায়ে এক ধরনের ‘রাজত্ব’ সৃষ্টির অভিযোগসম্পর্কিত প্রতিবেদন ইতিমধ্যে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়া শুরু করেছে। নির্বাচনের সময় এসব ক্ষমতাধর ব্যক্তি তাঁদের ‘ক্ষমতা’ কাজে লাগিয়ে যে নির্বাচনকে প্রভাবিত করবেন না, সেই গ্যারান্টি কে দেবে? অনেকের আশঙ্কা, অনেক সরকারি দলের সাংসদ তাঁদের প্রভাব খাটিয়ে প্রতিপক্ষকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখার অপচেষ্টায়ও লিপ্ত হতে পারেন।
সর্বোপরি, নাগরিকদের অনেকেরই আশঙ্কা, দলের প্রতি অনুগত কর্মকর্তারাই নির্বাচনকালে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে আসীন থাকবেন। ফলে দলতন্ত্র ও ফায়দাতন্ত্রে লিপ্ত প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের নিজেদের স্বার্থেই ক্ষমতাসীনদের পক্ষে নির্বাচনকে প্রভাবিত করবে; এর জন্য রাজনীতিবিদদের কিছুই করতে হবে না। অর্থাৎ দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করলে ক্ষমতাসীনদের পক্ষে নির্বাচন প্রভাবিত হওয়ার একটি ‘বিল্ট ইন ইনসেন্টিভ’ থাকবে। অনেকের মতে, প্রধানত এ কারণেই আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে গঠিত মহাজোট ২০০৭ সালের ২২ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে অংশ নেয়নি।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের প্রেক্ষাপটে নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন ও শক্তিশালী করার সরকারের অঙ্গীকার সম্পর্কেও নাগরিকের মনে অনেক প্রশ্ন। নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন ও শক্তিশালী করতে হলে কমিশনকে একটি যথোপযোগী আইনি কাঠামো দিতে হবে, যাতে প্রতিষ্ঠানটি নির্বাচন পরিচালনা করার সাংবিধানিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারে। একই সঙ্গে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সৎ, যোগ্য, সাহসী ও নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের কমিশনে নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগ নিতে হবে। আরও প্রয়োজন হবে রাজনৈতিক দল ও তাদের মনোনীত প্রার্থীদের নির্বাচনী আইন মেনে চলা এবং কমিশনের ক্ষমতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া।
সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন পরিচালনার স্বার্থে একটি যুগোপযোগী আইনি কাঠামো সৃষ্টির লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন গত জুন-জুলাই মাসে রাজনৈতিক দল ও অন্য স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় শুরু করে। বিএনপি এতে সাড়া দেয়নি। আওয়ামী লীগ সাড়া দিলেও কোনোরূপ মতামত প্রদান থেকে বিরত থাকে এবং পরে এ ব্যাপারে কমিশনকে জানানোর কথা বলে। কিন্তু এ পর্যন্ত তারা তা করেছে কি না, সে সম্পর্কে আমরা কিছুই শুনিনি। অর্থাৎ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কারের বিষয়ে প্রধান দলগুলোর আন্তরিকতা নিয়েই গুরুতর সন্দেহ আছে।
সংস্কার প্রস্তাবের অংশ হিসেবে কমিশন ভবিষ্যতে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের বিষয়ে একটি আইনের খসড়া প্রস্তাব করে। প্রস্তাবিত খসড়ায় একটি অনুসন্ধান কমিটির মাধ্যমে কমিশনার নিয়োগের সুপারিশ করা হয়, এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ কোনো মতামত দেয়নি। এই প্রস্তাব নিয়ে অনেকে সন্দিহান, কারণ বাছাই কমিটির মাধ্যমে অতীতে নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের প্রায় সবার বিরুদ্ধেই দলীয় আনুগত্যের অভিযোগ রয়েছে। তাই অনেকের মতে, প্রস্তাবিত অনুসন্ধান কমিটি গঠনের ব্যাপারে সাবধানতা অবলম্বন করতে এবং এতে নির্দলীয় নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে। এ ছাড়া কমিটিকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করতে হবে, যাতে কাদের কমিটি বিবেচনা করছে, সে সম্পর্কে নাগরিকেরা আগে থেকেই জানতে ও মতামত দিতে পারেন।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, সরকার দ্রুতই দুজন নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে বলে অনেকের ধারণা। এমনকি মহাজোটের শরিকেরাও একতরফাভাবে কমিশনে নিয়োগ দেওয়া থেকে বিরত থাকতে সরকারের প্রতি প্রকাশ্য অনুরোধ করেছে। এ ছাড়া সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে কমিটির আর্থিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে।
নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন ও শক্তিশালী এবং যথাযথ ব্যক্তিদের কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দিলেও কোনো লাভ হবে না, যদি রাজনৈতিক দলগুলো এবং তাদের মনোনীত প্রার্থীরা কমিশনকে মেনে না চলেন। এ ব্যাপারে অতীতের অভিজ্ঞতা ভালো নয়। নিবন্ধনের শর্ত হিসেবে রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের চর্চা এবং দলের অঙ্গ/সহযোগী সংগঠন ও বিদেশি শাখা বিলুপ্ত করার কথা। একইভাবে নির্দলীয় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তাদের দলীয় মনোনয়ন প্রদান থেকে বিরত থাকার কথা। কিন্তু নির্বাচন কমিশন এসব শর্ত প্রয়োগ করতে অপারগ। কারণ দলগুলো কমিশনকে অমান্য করছে, এমনকি কমিশনকে বিভিন্নভাবে হুমকিও দিচ্ছে। যেমন: ঢাকা সিটি করপোরেশনের নির্বাচন করার জন্য কমিশন সব প্রস্তুতি নিলেও সরকার এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপই নেয়নি। তাই আজ অনেক নাগরিকের কাছেই কমিশনের অসহায়ত্ব প্রকাশ পাচ্ছে।
বদিউল আলম মজুমদার, সম্পাদক, সুজন—সুশাসনের জন্য নাগরিক।

No comments

Powered by Blogger.