হাতছাড়া হচ্ছে শ্রমবাজার-অবস্থার অবসান হওয়া দরকার

লিবিয়া ও ইরাকের শ্রমবাজার হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে- সহযোগী একটি জাতীয় দৈনিক এ দুঃসংবাদ দিয়েছে। যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে দেশ দুটিতে বিদেশি শ্রমিকের চাহিদা বাড়লেও বাংলাদেশ সরকারের তরফে এ ব্যাপারে জোরদার কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, সে কথাও বলা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে। এর সুযোগ নিচ্ছে প্রতারকরা।


অসাধু জনশক্তি রপ্তানিকারকরা অবৈধভাবে দেশ দুটিতে শ্রমিক পাঠানোর নামে ভয়াবহ প্রতারণা শুরু করেছে। জনশক্তি রপ্তানির নামে এই তুঘলকি কাণ্ড নতুন কিছু নয়; এবং এর বিরূপ প্রভাব পড়েছে আমাদের শ্রমবাজারে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আমাদের শ্রমিকদের চাহিদা থাকা সত্ত্বেও এই অপক্রিয়া যে কালো ছায়া ফেলেছে, এর ধাক্কা লাগছে অর্থনীতিতে। সরকার এ ব্যাপারে কঠোর কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি বারবার ব্যক্ত করলেও তার কোনো সুফল মিলছে না।
লিবিয়া ও ইরাকের শ্রমবাজারে ভারত, ফিলিপাইন, পাকিস্তান, নেপালসহ প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলো জনশক্তি পাঠানো শুরু করেছে। তাদের কূটনৈতিক তৎপরতা যথেষ্ট বেগবান; এবং এর ফলে এই দেশগুলোর শ্রমবাজার আমাদের হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জনশক্তি রপ্তানির ওপর সরকার দৃশ্যত গুরুত্বারোপ করলেও বিদ্যমান বাস্তবতা ভিন্ন কথা বলে। আমাদের হৃত শ্রমবাজার পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি নতুন নতুন শ্রমবাজার সন্ধানের কর্মফলও ইতিবাচক নয়। কারণ এ ক্ষেত্রে যথাযথ কূটনৈতিক তৎপরতার অভাব রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত আমাদের দূতাবাসগুলোর মধ্যে কোনো কোনো দূতাবাসে দায়িত্বরত ব্যক্তিদের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। এ ব্যাপারে প্রবাসীদের যেমন বিস্তর অভিযোগ আছে, পাশাপাশি শ্রমবাজার চাঙ্গা করার ক্ষেত্রেও তাদের ব্যর্থতা স্পষ্ট। বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের শ্রমবাজার সংকুচিত হওয়ার এই চিত্র উদ্বেগজনক। দক্ষতার কথা যদি বলা হয়, তাহলে বোধ হয় যুক্তি জোরালো হবে না। করণ ভারত, পাকিস্তান ও নেপাল থেকে যেসব শ্রমিক বিভিন্ন দেশে আছে, তাদের মধ্যে বেশির ভাগ কিংবা সবাই যে দক্ষ, সে কথা বলা যাবে না। তাহলে বাংলাদেশের শ্রমিকদের ক্ষেত্রে এ অচলাবস্থা কেন? প্রতিবন্ধকতা কোথায় তা খুঁজে দেখা উচিত। একই সঙ্গে এই প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। ইতিমধ্যে বাংলাদেশের শ্রমিকদের সম্পর্কে যেসব দেশে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে, সেগুলোও বিবেচনায় আনতে হবে। তা ছাড়া বিভিন্ন দেশে শ্রমবাজার হারানোর যে আশঙ্কা দেখা যাচ্ছে, তাকে অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের বৃহৎ এ খাতটির সামনে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা-প্রতিকূলতা দূর করে এর বিকাশে স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করে এ সমস্যার সমাধান করতে হবে। দক্ষ শ্রমিক তৈরির বিষয়টিও আমলে নিতে হবে। সে অনুযায়ী প্রশিক্ষণব্যবস্থাও উন্নত করা জরুরি। একই সঙ্গে প্রতারিত ব্যক্তিদের অভিযোগ আমলে নিয়ে সত্যাসত্য যাচাইক্রমে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। যাঁরা ভাগ্যান্বেষণে বিদেশে পাড়ি জমাতে চান, তাঁদেরও সচেতন হওয়া জরুরি। লিবিয়া ও ইরাকের শ্রমবাজারে ব্যাপকভাবে আমাদের প্রবেশ নিশ্চিত করার সময় এখনো ফুরিয়ে যায়নি। সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর কালবিলম্ব না করে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।

No comments

Powered by Blogger.