একটি বাজে দৃষ্টান্ত-বিলখেলাপি সরকারি প্রতিষ্ঠান

ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) ২১৭ কোটি টাকার বিল অনাদায়ী পড়ে আছে। ১৫২টি প্রতিষ্ঠানের কাছে ডিপিডিসি এই টাকা পাবে। দীর্ঘদিন থেকে জমে থাকা বিলগুলো সুদে-আসলে এই বিরাট পরিমাণ হয়ে উঠেছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, এর মধ্যে পৌনে ২০০ কোটি টাকার বিল পাওনা রয়েছে ১২১টি সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে।


বিদ্যুৎ কোম্পানিও সরকারের। সরকারের কাছে সরকারের পাওনা। সরকারি প্রতিষ্ঠান বিলখেলাপি! এসব প্রতিষ্ঠানে যে কী পরিমাণ অর্থিক বিশৃঙ্খলা চলছে, এই একটি ছোট ঘটনা তার নমুনা।
বিদ্যুতের দুরবস্থার কথা আমরা প্রতিদিন জানতে পারি যখন দিনে-রাতে লোডশেডিং চলে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না পেলেও জনসাধারণকে নিয়মিত উচ্চ হারে বিদ্যুৎ বিল দিতে হয়। ভ্যাট দিতে হয়। কিন্তু কিছু সরকারি প্রতিষ্ঠান বিল না দিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে চলেছে। সাধারণত এক মাস বিল পরিশোধ না করলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার কথা। কিন্তু সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর বেলায় সে নিয়ম খাটানো যাচ্ছে না। তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সেটা জানতে মন্ত্রণালয়ের কাছে চিঠি দিতে হয়েছে। এর কোনো সদুত্তর পাওয়া যাবে কি না, তা নিশ্চিত নয়।
সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় খেলাপি ঢাকা ওয়াসা। এরা প্রায়ই পানির দাম বাড়ায়। তারপর আবার বিদ্যুতের বিল বাকি ফেলে। বিদ্যুৎ বিভাগের লোকসান বাড়ে। আবার বিদ্যুতের দামও সময় সময় বাড়ানো হয়। বলা হয় লোকসান পোষানোর কথা। অর্থাৎ সরকারের বিভিন্ন সেবাপ্রতিষ্ঠানের দুধারি ছুরিটি অর্থকষ্টে পীড়িত মানুষের পকেট কাটছে দুই দিক দিয়েই। একদিকে দুর্বল সেবা দিয়েও উচ্চ হারে বিল আদায় করা হয় আর অন্যদিকে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিলখেলাপির দায় ঘুরেফিরে, নানা অজুহাতে চাপানো হয় অসহায় গ্রাহকদের ওপরই।
অথচ এসব সরকারি প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুতের জন্য নির্দিষ্ট বরাদ্দ থাকার কথা। কিন্তু ওরা বলে বাজেট নাকি থাকে না, তাদের বিল নাকি পাস হয় না। এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখা দরকার। সরকারের বিল যদি সরকারই না দেয়, তাহলে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কেন দেবে? ওরা আদালতের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে চলছে।
সরকারি প্রতিষ্ঠানের বিলখেলাপি একটি বাজে দৃষ্টান্ত। এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

No comments

Powered by Blogger.