আশার আলো ফুটছে by শবনম হক

মাটিতে লবণাক্ততা বেশি থাকায় সুবিস্তীর্ণ এলাকায় কোনো ফসলের চিহ্ন নেই। যেদিকে চোখ যায় সেদিকে কাদামাটি আর জলাশয়। ইচ্ছা থাকলেও শস্য ফলানোর কোনো উপায় নেই। আবার জলবায়ু পরিবর্তনে নানা সমস্যায় জর্জরিত বাগেরহাটের মংলা এলাকার লোকজন।


তবে আশার কথা হচ্ছে_ এ সমস্যা মোকাবেলা করেও এখানকার মানুষ এখন চাষবাসে মনোযোগী হয়ে উঠেছেন। কয়েকটি উন্নয়ন সংস্থার সম্মিলিত প্রয়াসে বাগেরহাট জেলার মংলা, রামপাল ও শরণখোলা উপজেলায় ক্রমবর্ধমান জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ ঝুঁকির প্রেক্ষাপটে খাদ্য ও জীবিকা নিরাপত্তার উন্নয়ন (আইএফএলএস) প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। তিন বছরের এ প্রকল্পটি ২০১০ সালের মার্চে শুরু হয়। শেষ হবে ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে। ৭৫০০টি উপকারভোগীর পরিবারের মধ্যে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পের উপকারভোগীরা বেশিরভাগই হতদরিদ্র নারী ও প্রতিবন্ধী। এতদিন যারা নানা সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিল। এ কর্মসূচির ফলে তাদের মুখে ফুটতে শুরু করেছে হাসি।
প্রকল্পটির আওতায় উপকূলীয় অঞ্চলের দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস বিকল্প কর্মসংস্থান ও লবণসহিষ্ণু ফসল উৎপাদনে ৭৫০০টি পরিবারকে এ প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে। পরিকল্পিত উপায়ে চিংড়ি চাষে ঘের মালিক, চিংড়িচাষি ও নীতিনির্ধারক এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীরা উৎসাহিত হচ্ছে। লবণসহিষ্ণু ধান এবং সবজি চাষ ও বৃক্ষরোপণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিকল্প কর্মসংস্থানের প্রতি জনগণ আগ্রহী হচ্ছে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব ও দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাসে ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা পরিষদের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ প্রকল্পের কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে উপকারভোগীরা জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবেলা করতে পারবে এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে বলে আশা করা যায়।
৩৬ উপকারভোগীকে দক্ষতা উন্নয়নবিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান করে খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে এবং পারিবারিক আয় বৃদ্ধির জন্য বসতবাড়িতে শাকসবজি বাগানের ১৮টি প্রদর্শনী পল্গট তৈরি করা হয়েছে। ৩০ উপকারভোগীকে পোলট্রি ও ক্ষুদ্র ব্যবসার ওপর প্রশিক্ষণ প্রদান ও আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করা হয়। এ ছাড়া ২৫০ উপকারভোগীর মধ্যে উন্নত জাতের মুরগি বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি ৭৫০টি পরিবারের মধ্যে ৩০০০টি লবণসহিষ্ণু গাছের চারা বিতরণ করে। এ প্রকল্পের একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক উপকারভোগী হচ্ছে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি।
প্রকল্পের উপকারভোগীদের মধ্যে স্বল্পমূল্যে সোলার (সৌরবিদ্যুৎ) এবং সোলার বেজড ওয়াটার পিউরিফিকেশন সিস্টেম চালু করা হয়েছে। এতে কিছু উপকারভোগীদের বিদ্যুৎ ও পানির সমস্যার সমাধান হচ্ছে। সরেজমিনে চিলা ইউনিয়নের কাননবালা মলি্লকের টমেটো চাষের প্রদর্শনী পল্গট এলাকার সবাইকে উৎসাহিত করেছে। ইতিমধ্যে কাননবালা বিকল্প কর্মসংস্থানের মাধ্যমে নিজের পরিবারকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

No comments

Powered by Blogger.