পরমাণু নিয়ে সংলাপ প্রচেষ্টায় সংকট সৃষ্টির আশঙ্কা



কিম জং-ইলের মৃত্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার এশীয় মিত্রদের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু-সংকট নিয়ে নতুন করে সংলাপের প্রচেষ্টা বিঘ্নিত হতে পারে। উত্তরাধিকারী প্রশ্নেও দেশটিতে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এ আশঙ্কা বিশ্লেষকদের। ওয়াশিংটন ও তার ঘনিষ্ঠ মিত্র সিউলের কাছে তাৎক্ষণিকভাবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে, কিম জংয়ের মৃত্যুর পর তাঁর কঠোর নিয়ন্ত্রণে থাকা দেশটি ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারবে কি না এবং তাঁর ছেলে অপেক্ষাকৃত অপরিচিত


মুখ কিম জং উনের হাতে দেশ পরিচালনার ভার অর্পণের কাজটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে কি না। ক্যানবেরার অস্ট্রেলিয়ান স্ট্র্যাটেজিক পলিসি ইনস্টিটিউটের কোরিয়া বিশ্লেষক রড লিওনের মতে, কিম জং-ইলের মৃত্যুর ঘটনাটি সবাই নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে তার কারণ এটা নয় যে তাঁরা উত্তর কোরিয়ার ধ্বংস প্রত্যাশা করেন। প্রকৃত বিষয় হচ্ছে, তাঁর মৃত্যুর পর দেশটিতে জটিল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। সেখানে উত্তরাধিকার নির্বাচন নিয়ে দ্বন্দ্ব দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া দেশটির আরও কয়েকটি বিষয় নিয়েও দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হতে পারে। যেমন: দেশটির সেনাবাহিনী কার নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং দেশটির প্লুটোনিয়ামের নিয়ন্ত্রণ কে করবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা পরিস্থিতি নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের সঙ্গে আলোচনা করছেন। উত্তর কোরিয়ার পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ছয়-জাতি সংলাপের সদস্য এ দুটি দেশ।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব জে কার্নি এক লিখিত বিবৃতিতে বলেন, ‘কোরীয় উপদ্বীপে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং সেখানে আমাদের মিত্র দেশগুলোর স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা অটুট রাখতে আমরা বদ্ধপরিকর।’
চীনের সাংহাইয়ের ফুদান বিশ্ববিদ্যালয়ের কোরিয়া বিষয়ে বিশেষজ্ঞ কাই ঝিয়ানের মতে, উত্তর কোরিয়ার স্থিতিশীলতা চীনের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়। সেখানে স্থিতিশীল অবস্থা বজায় থাকুক, তা নিশ্চিত করাই হবে চীনের মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, উত্তর কোরিয়ায় নিরাপত্তাব্যবস্থা বাড়ানো হবে এবং চীনও তার সীমান্তে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করবে। যদি তাঁর (কিমের) মৃত্যু বিশৃঙ্খলার জন্ম দেয়, তবে আমরা সীমান্তজুড়ে শরণার্থী আসতে দেখব।’
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বলছেন, পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে শিগগিরই পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরুর কোনো সম্ভাবনা নেই। তবে খাদ্যসহায়তা নিয়ে দেশটির কূটনীতিকদের সঙ্গে সম্প্রতি শুরু হওয়া আলোচনা ইতিবাচক ইঙ্গিত। বিশ্লেষকদের মতে, পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার যে সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছিল, কিমের মৃত্যু এবং তাঁর ছেলে কিম উনের কাছে ক্ষমতা চলে যাওয়ায় আবার অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে।
ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির নিরাপত্তা শিক্ষা প্রোগ্রামের কোরিয়াবিষয়ক বিশেষজ্ঞ জিম ওয়ালশ বলেন, সবাই স্বৈরশাসক বিদায় নিয়েছে বলে তৃপ্তির ঢেকুর তুলছে। তবে প্রকৃতপক্ষে এটা দুঃসংবাদ। কারণ, এর মধ্য দিয়ে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার সম্পর্ক নতুন বিপজ্জনক অধ্যায়ে প্রবেশ করল। উত্তর কোরিয়া এখন আরও বেশি মারমুখী হবে। নতুন তরুণ নেতা নিজের ক্ষমতা জাহির করার চেষ্টা করবে।
স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা: এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার বার্তা সংস্থা ইয়নাপ দাবি করেছে, কিম জংয়ের মৃত্যুর কথা ঘোষণার দিন গতকাল উত্তর কোরিয়ার পূর্ব উপকূলীয় এলাকায় স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উত্তর কোরিয়ার একজন কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে বার্তা সংস্থাটি জানায়, কিমের মৃত্যুর খবর ঘোষণার সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার কোনো যোগসূত্র নেই। এ ক্ষেপণাস্ত্র ১২০ কিলোমিটার দূরে আঘাত হানতে সক্ষম। রয়টার্স ও এএফপি।

No comments

Powered by Blogger.