‘দায়ী জামায়াত-শিবির ও সাকার অনুসারীরা’-‘পুরো ঘটনাই পরিকল্পিত’

গত রোববার বিকেলে নগরে পরিকল্পিতভাবে সহিংস ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এর জন্য জামায়াত-শিবির এবং বিএনপির বিতর্কিত নেতা সালাহউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর অনুসারীরা দায়ী বলে মনে করছেন পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।


সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, রোববার জামায়াতের সাবেক আমীর গোলাম আযমের আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। অন্যদিকে ঢাকায় গাড়ি ভাঙচুরের মামলায় ১৮ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন উচ্চ আদালত। এসব ঘটনায় জামায়াত-শিবির ও সাকার অনুসারীরা ক্ষুব্ধ হয়। এর জের ধরেই তাঁরা পরিকল্পিতভাবে পুলিশের ওপর হামলা চালান।
নগর গোয়েন্দা পুলিশের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে প্রথম আলোকে বলেন, পুরো ঘটনাই পরিকল্পিত। জামায়াত-শিবির ও সাকার ক্যাডাররা নগরজুড়ে হামলা চালিয়েছে। পরে বিএনপির কিছুসংখ্যক কর্মী-সমর্থক এ ঘটনায় জড়িয়ে যায়।
এক প্রশ্নের জবাবে এই গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, জামায়াত-শিবির ও সাকার ক্যাডারদের নাশকতা করার পরিকল্পনার কথা আগেই জানা ছিল।
এ কারণে নগরজুড়ে বিপুলসংখ্যক পুলিশকে প্রয়োজনীয় রসদসহ মোতায়েন করা হয়। কাজীর দেউড়ি এলাকায় পুলিশের ওপর হামলার খবর দ্রুতগতিতে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। ফলে নগরের বিভিন্ন মোড়ে ১৮ দলীয় কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত রোববারের ঘটনায় জামায়াত-শিবির নেতা-কর্মীদের বেশ সক্রিয় দেখা গেছে। তাঁরা নগরের কাজীর দেউড়ি মোড় ছাড়াও লাভলেইন, ডিসি হিল-বৌদ্ধমন্দির এবং জুবিলি রোডের এনায়েত বাজারের মুখে সক্রিয় ছিলেন। পুলিশের টিয়ার গ্যাসের নিক্ষিপ্ত সেল তুলে নিয়ে পাল্টা পুলিশের দিকে ছুড়ে মারেন শিবিরের কর্মীরা। এ ছাড়া বৃষ্টির মতো ইটপাটকেল মেরেছেন তাঁরা। পরে তাঁদের সঙ্গে যুক্ত হন বিএনপির কিছুসংখ্যক কর্মী-সমর্থক।
পুলিশ সূত্র জানায়, বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সাকার অনুসারীরাও জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে মিশে গিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালান। তাঁদের অধিকাংশই রাউজান-রাঙ্গুনিয়ার বাসিন্দা। সূত্রমতে, সাকার অনুসারীদের খরচ যোগান দিয়ে আসছেন সাকার ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তি, যিনি নগরের পাঁচলাইশ থানাধীন অভিজাত এলাকায় বসবাস করেন। তাঁর ওপর পুলিশের নজরদারি আছে বলে জানা গেছে। যোগাযোগ করা হলে নগর জামায়াতের আমীর ও সাংসদ শামসুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে প্রথম আলোকে বলেন, ‘গোলাম আযমের আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু ও শীর্ষ নেতাদের নিম্নআদালতে আত্মসমর্পণের কারণে রোববারের ঘটনা ঘটেছে বলে যা বলা হচ্ছে তা অবাস্তব ও ভিত্তিহীন। এই তথ্য আসলে পুলিশের আবিষ্কার। তাঁরা বিরোধীদলকে সহ্য করতে পারেন না।
আমাদের আন্দোলন বানচাল করতে তাঁরা বিভিন্ন দমন-নিপীড়নমূলক পদক্ষেপ নিয়েছেন। তারই অংশ হিসেবে রোববার বিরোধীদলের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়।’
সাংসদ শামসুল ইসলাম আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক দেশ। বিরোধীদল সরকারের সমালোচনা করবে। আমরাও সরকারের ব্যর্থতা ও স্বৈরাচারী আচরণের প্রতিবাদ জানাতে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী নাসিমন ভবনে জড়ো হচ্ছিলাম।
নগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে নাসিমন ভবনের দিকে যাচ্ছিলেন। এ অবস্থায় মিছিল ও সমাবেশ পণ্ড করতে বিনা উসকানিতে পুলিশ এই কাণ্ড ঘটিয়েছে।’
এ প্রসঙ্গে নগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার এস এম তানভীর আরাফাত জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে জামায়াত-শিবির ও সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ করে ছয়টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

No comments

Powered by Blogger.