Friday, July 10, 2026

ইরানে খামেনির দাফনের দিন বিস্ফোরণের দায় নিচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র, তাহলে হামলার জন্য দায়ী কে

ইরানের বিভিন্ন প্রান্তে গতকাল বৃহস্পতিবার বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। অন্যদিকে মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা নতুন এ হামলায় তাঁদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেছেন।

ইরানের সংবাদমাধ্যম মেহর নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গতকাল বৃহস্পতিবার শেষ রাতের দিকে বুশেহর ও এর কাছের শহর চোগাদাকের আশপাশের এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। বুশেহর শহরে ইরানের একটি পারমাণবিক কেন্দ্র রয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দক্ষিণের শহর কোনারকেও আরও তিনটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

এর কিছুক্ষণ পরই মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড আল-জাজিরাকে জানায়, গত কয়েক ঘণ্টায় মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানে কোনো ধরনের হামলা চালায়নি।

গত মঙ্গলবার থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়ে আসছে। পাশাপাশি তেহরান কাতার, বাহরাইন, কুয়েতসহ পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতেও আঘাত হেনেছে। দুই দেশের পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে জুনের মাঝামাঝিতে হওয়া ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি আরও বড় ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

বিস্ফোরণের কারণ, ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে মেহর নিউজ এজেন্সি বিস্তারিত কোনো তথ্য দেয়নি।

বুশেহরের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাবিষয়ক ডেপুটি গভর্নর এহসান জাহানিয়ান রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ইরনাকে বলেন, শহরের বিস্ফোরণটি বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থার কারণে হয়েছিল।

জাহানিয়ান আরও জানান, বুশেহরের উপকণ্ঠে একটি সামরিক ঘাঁটিতে একটি ‘প্রজেক্টাইল’ বা ক্ষেপণাস্ত্রজাতীয় বস্তু আঘাত হেনেছে।

যুদ্ধ ‘শেষ হয়নি’

ইরান থেকে খবর আসার পরপরই ইসরায়েলের যুদ্ধবাজ প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর ফোনে কথা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতি অনুযায়ী, ‘ফোনে আলাপকালে তাঁরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখার বিষয়ে একমত হয়েছেন।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে ‘পারস্য উপসাগরে মার্কিন পদক্ষেপের’ সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে জানিয়েছেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার দক্ষিণ ইসরায়েলের হাতজেরিম বিমানঘাঁটিতে বিমানবাহিনীর স্নাতক অনুষ্ঠানে নেতানিয়াহু বলেছিলেন, ‘(ইরান) যুদ্ধ শেষ হয়নি। নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ রয়েছে।’

দৈনিক ইয়েদিওথ আহরোনথের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেতানিয়াহুকে বলতে শোনা যায়, ‘আকাশসীমায় আধিপত্য বজায় রাখা ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তানীতির একটি মৌলিক স্তম্ভ। অশান্ত মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

ইসরায়েলের সেনাপ্রধান ইয়াল জামিরও বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান ‘শেষ হয়ে যায়নি’।

মধ্যপ্রাচ্যে নৃশংশতা ছড়ানো ইসরায়েলি বাহিনীর প্রধান তাঁর সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, ‘আমাদের টেবিলে নতুন পরিকল্পনা রয়েছে। বড় ধরনের অভিযান এখনো আমাদের সামনে অপেক্ষা করছে বলে মনে হচ্ছে। প্রস্তুত থাকুন।’

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছেন, প্রয়োজনে ইরানে হামলা চালাতে ইসরায়েল প্রস্তুত।

নানা সময় উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে আসা ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বলেন, ‘আকাশসীমার আধিপত্য পুনরুদ্ধার করতে, ইরানে আবার আঘাত হানতে এবং হুমকি দূর করতে সেনাবাহিনী যুদ্ধ শুরু করতে প্রস্তুত। তারা সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। প্রয়োজনে তৃতীয়বারের মতো আঘাত হানতেও আমরা প্রস্তুত।’

হরমুজ প্রণালি নিয়ে মতবিরোধ

চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার পরই মূলত এই পাল্টাপাল্টি হামলার নতুন পর্ব শুরু হয়। কাতার ও সৌদি আরবের জাহাজসহ বেশ কিছু নৌযান যখন ওমান সীমান্তের কাছাকাছি রুট দিয়ে এই সংকীর্ণ জলপথ অতিক্রম করছিল, তখন সেগুলোর ওপর হামলা চালানো হয়।

ইরান বলছে, সব জাহাজকে ইরানি উপকূলের কাছাকাছি দিয়ে যেতে হবে। উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) সদস্যরা যৌথ এক বিবৃতি দিয়ে জাহাজ ও উপসাগরীয় দেশগুলোর ভূখণ্ডে এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

এ বিরোধের মূলে রয়েছে, কীভাবে সামনে এগিয়ে যাওয়া যায়, তা নিয়ে ভিন্ন দুই দৃষ্টিভঙ্গি। ট্রাম্প চান, আসন্ন গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির দাম কমাতে প্রণালিতে জাহাজ চলাচল দ্রুত স্বাভাবিক হোক। অন্যদিকে ইরান সেখানে জাহাজ চলাচলের ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ কমে যেতে পারে—এমন যেকোনো পদক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করছে।

জাহাজে হামলার ঘটনার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ট্রাম্প ইরানি নেতৃত্বকে ‘আবর্জনা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সমঝোতা স্মারক ‘শেষ’। তবে কোনো পক্ষই এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এটি থেকে পিছু হটেনি।

ট্রাম্প আরও যোগ করেছেন, তিনি আপাতত শান্তি আলোচনা চলতে দিতে পারেন। কিন্তু তাঁর হুমকিমূলক বক্তব্যে পুরো প্রক্রিয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ওয়াশিংটন ইরানের তেল রপ্তানির ওপর দেওয়া ছাড়ও প্রত্যাহার করে নিয়েছে।

যদিও যুদ্ধবিরতির মধ্যে দুই দেশের পাল্টাপাল্টি হামলা এটিই প্রথম নয়। আগেও এমনটা ঘটেছে। তবে আশঙ্কা বাড়ছে, উভয় দেশই হামলা জোরদার করতে পারে, যা এই অঞ্চলকে আবার বৃহত্তর যুদ্ধের দিকে টেনে নিয়ে যাবে।

এমন এক সময়ে এ পরিস্থিতি তৈরি হলো, যখন আলোচকদের সঙ্গে কারিগরি আলোচনা স্থগিত রাখা হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের প্রথম দিনে নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনীর দাফনপ্রক্রিয়ার জন্য এ স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আগামী সোমবার আলোচনা আবার শুরু হবে কি না, তা সাম্প্রতিক হামলার পর অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

ইরানের বুশেহর প্রদেশের বানুদে নৌকা থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা যাচ্ছে। বুশেহর পরমাণুকেন্দ্রের আশপাশের এলাকায় এ বিস্ফোরণ হয়। ৯ জুলাই ২০২৬, বুশেহর প্রদেশ
ইরানের বুশেহর প্রদেশের বানুদে নৌকা থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা যাচ্ছে। বুশেহর পরমাণুকেন্দ্রের আশপাশের এলাকায় এ বিস্ফোরণ হয়। ৯ জুলাই ২০২৬, বুশেহর প্রদেশ। ছবি: রয়টার্স

ইরানের কৌশলে কুপোকাত যুক্তরাষ্ট্র

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের ‘অসম যুদ্ধ’ কৌশলের মুখোমুখি হয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনী বেশ সংকটে পড়েছে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকেরা। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে নৌ-মাইনের হুমকি বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য চরম ঝুঁকি তৈরি করেছে। ওয়াশিংটন এখনো এই জটিল চ্যালেঞ্জের কোনো সমাধান খুঁজে পায়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের মেরিন কোরের সাবেক কর্মকর্তা ড্যান গ্রেজিয়ার এই মূল্যায়ন প্রকাশ করেছেন। তিনি একমত পোষণ করে বলেন, হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ কার্যকরভাবে বন্ধ করে দিতে ইরানকে খুব বেশি কিছু করতে হবে না। সামান্য কিছু পদক্ষেপই এর জন্য যথেষ্ট।

আল জাজিরাকে গ্রেজিয়ার বলেন, ‘মাইন যুদ্ধ সত্যিই খুব জটিল বিষয়। ইরানকে কেবল এক বা দুটি মাইন উৎক্ষেপণ করতে হবে। এরপর সেই নৌপথ মাইনমুক্ত করার কাজটি একটি বিশাল অভিযানে পরিণত হবে।’

তিনি আরো জানান, এই অঞ্চল দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলো অত্যন্ত মূল্যবান হওয়ায় এ ধরনের সামান্য ঘটনাও বিশ্ব বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।

সাবেক এই মার্কিন কর্মকর্তার মতে, এই পরিস্থিতি অসম যুদ্ধের মূল জটিলতাকে ফুটিয়ে তোলে। এটি মার্কিন নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি বড় দ্বিধা তৈরি করেছে। কারণ, নিজেদের দুর্বল না দেখিয়ে কীভাবে এই পরিস্থিতি থেকে তারা পিছু হটবেন, তা বুঝতে পারছেন না।

গ্রেজিয়ার ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘এটি ওয়াশিংটনের কর্মকর্তাদের জন্য একটি বড় ধাঁধা। কারণ ইরানের এখানে বড় সুবিধা রয়েছে। তাদের নিজেদের উপকূলের বাইরে সামরিক শক্তি প্রদর্শনের প্রয়োজন নেই।’

তিনি জানান, চলমান এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে বড় সমস্যায় ফেলতে ইরানকে কেবল ছোটখাটো কিছু বিঘ্নকারী পদক্ষেপ নিতে হবে।

এই পরিস্থিতিতে গ্রেজিয়ার ওয়াশিংটন নেতৃত্বকে দ্রুত সংঘাতের অবসান ঘটানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি মন্তব্য করেন, ‘এই ধরনের অসম যুদ্ধ একটি জটিল সামরিক সমস্যা। স্পষ্ট করে বলতে গেলে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখনো এর কোনো সমাধান বের করতে পারেনি।’

যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল পরিবর্তনের সময় পার হয়ে গেছে কি-না, এমন প্রশ্নে বর্তমান পরিস্থিতির জটিলতার কথা স্বীকার করেন গ্রেজিয়ার।

তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি এখন এমন যে আমরা বাঘের লেজ ধরে ফেলেছি।’

সংঘাতের মধ্যেও শিক্ষা নেওয়া সম্ভব উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তবে সংঘাত শেষ হওয়ার পর শিক্ষা নেওয়া এবং এসব সমস্যার সমাধান খোঁজা অনেক সহজ। এতে ভবিষ্যতে আরো ভালো কৌশল ব্যবহার করা যায়।’

ইরানের কৌশলে কুপোকাত যুক্তরাষ্ট্র
এআই দ্বারা নির্মিত ছবি।

গাজা ইস্যুতে ক্ষমা চাইলেন যুক্তরাজ্যের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী বার্নহ্যাম

গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানের বিষয়ে লেবার পার্টির প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ার জন্য ক্ষমা চেয়েছেন যুক্তরাজ্যের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে থাকা অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। সামাজিকমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, গাজায় ইসরাইলি হামলার বিষয়ে লেবার পার্টি যে অবস্থান নিয়েছিল, তা সঠিক ছিল না। তার মতে, বিষয়টি আরো ভালোভাবে সামলানো উচিত ছিল।

বার্নহ্যাম চলতি মাসের শেষ দিকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরের শেষ দিকে গাজায় যুদ্ধবিরতির দাবি করেছিলেন তিনি। তখন এ নিয়ে লেবার নেতা কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে মতবিরোধ তৈরি হয়।

সামাজিকমাধ্যমে তিনি লেখেন, ‘গাজায় যা ঘটেছিল, সে বিষয়ে লেবার পার্টির প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া অনেক মানুষকে কষ্ট দিয়েছে। আমরা ভুল করেছি এবং আমি এর জন্য দুঃখিত।’

এক ভিডিও বার্তায় ইসরাইলে হামাসের হামলা এবং যুক্তরাজ্যে ইহুদিবিদ্বেষী হামলারও সমালোচনা করেন তিনি।

যুদ্ধের শুরুর দিকে কিয়ার স্টারমার পূর্ণ যুদ্ধবিরতির দাবি করেননি। তিনি শুধু মানবিক বিরতির পক্ষে ছিলেন, যাতে কিছু সময়ের জন্য যুদ্ধ থামিয়ে গাজায় খাদ্য, ওষুধ ও অন্যান্য ত্রাণ পৌঁছানো যায়।

আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতির তুলনায় মানবিক বিরতিগুলো সাধারণত স্বল্প সময়ের জন্য, কখনো কখনো মাত্র কয়েক ঘণ্টার জন্য স্থায়ী হয় এবং দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক সমাধান অর্জনের পরিবর্তে শুধুমাত্র সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যেই এগুলো বাস্তবায়ন করা হয়।

বার্নহ্যাম বলেন, ‘আমি জানি, অনেকের কাছে মনে হয়েছে যে গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানের শুরুতে আমার দল ঠিকভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারেনি। আমি এজন্য দুঃখিত। আমাদের আরো ভালো করতে হবে। যুক্তরাজ্য যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানাতে অনেক দেরি করেছে।’

তিনি গাজায় প্রাণহানি ও মানবিক সংকটকে ‘যৌথ বিবেকের জন্য একটি ক্ষত’ বলে বর্ণনা করেন।

২০২৩ সালের ১১ অক্টোবর এক সাক্ষাৎকারে স্টারমারের কাছে জানতে চাওয়া হয়, ইসরাইল যদি গাজার বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ বন্ধ করে দেয়, তা ঠিক হবে কি না?

তিনি জবাবে বলেন, ‘ইসরাইলের আত্মরক্ষার অধিকার আছে।’

বার্নহ্যাম তার ভিডিওতে লেবার সরকারের নেওয়া বেশ কয়েকটি পদক্ষেপের প্রশংসা করেন। এগুলো হলো: ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়া, ইসরাইলি মন্ত্রী ও বসতি স্থাপনকারীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা এবং ইসরাইলের জন্য কিছু অস্ত্র রপ্তানির লাইসেন্স সীমিত করা।

তিনি ইসরাইলের নেতানিয়াহু সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ইসরাইলের উগ্রপন্থি মন্ত্রী ও বসতি স্থাপনকারীদের ওপর আরো কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ওপর জোর দিয়েছেন।

বার্নহ্যাম বলেন, ‘আমাদের কর্মপন্থাকে আরো শক্তিশালী করতে হবে। ইসরাইলি সরকার যাতে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলে তা নিশ্চিত করতে এবং দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের সম্ভাবনাকে বাঁচিয়ে রাখতে আরো অনেক কিছু করা প্রয়োজন।’

ফিলিস্তিনিদের ভূমি থেকে উচ্ছেদ এবং অবৈধ বসতি সম্প্রসারণের তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। এসব অবৈধ বসতির সাথে বাণিজ্য সম্পূর্ণ বন্ধ ও নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানান তিনি।

তিনি ইসরাইলকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের জন্য অভিযুক্ত করেন। বলেন, পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন, ‘নেতানিয়াহুর সরকার স্পষ্টতই দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানকে অসম্ভব করে তোলার চেষ্টা করছে।’

সূত্র: বিবিসি

গাজা ইস্যুতে ক্ষমা চাইলেন যুক্তরাজ্যের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী বার্নহ্যাম
অ্যান্ডি বার্নহ্যাম

তেলাপোকা বিলুপ্ত হয়ে গেলে কী ঘটবে by জাহিদ হোসাইন খান

ঘরে তেলাপোকার উপদ্রবে অতিষ্ঠ অনেকেই। ভয়ও পান কেউ কেউ। কিন্তু এই তেলাপোকা প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তেলাপোকার মতো স্থিতিস্থাপক পোকামাকড় বনাঞ্চলে পুষ্টির পুনর্ব্যবহারের জন্য অপরিহার্য। এসব পোকা বিভিন্ন প্রাণীর খাদ্যের উৎস হিসেবে কাজ করে এবং পচনে সহায়তা করে। এদের বিলুপ্তি ঘটলে খাদ্যশৃঙ্খলে ব্যাঘাত ঘটবে। মাটির পুষ্টির বিকাশ ধীর হয়ে যাবে। পরিবেশগত স্বাস্থ্য নষ্ট হবে, যা আমাদের গ্রহের সূক্ষ্ম ভারসাম্যকে প্রভাবিত করবে।

অনেকেই তেলাপোকাবিহীন বিশ্বকে আরও পরিচ্ছন্ন ও শান্ত জায়গা হিসেবে কল্পনা করেন। রান্নাঘরে হঠাৎ দৌড়াদৌড়ি থাকবে না। কিচেন সিঙ্কের নিচে তাদের দেখা যাবে না। খাদ্য সংরক্ষণে কোনো উপদ্রব হবে না। এমন ধারণা আকর্ষণীয় মনে হলেও তখন কিন্তু বাস্তবতা অনেক বেশি জটিল হয়ে যাবে। তেলাপোকা লাখ লাখ বছর ধরে টিকে আছে। তারা এমন পরিবেশগত ভূমিকা পালন করে, যা অন্য প্রজাতি সহজে প্রতিস্থাপন করতে পারে না। আর তাই তেলাপোকা বিলুপ্ত হলে নীরবে আমাদের নির্ভরশীল প্রাকৃতিক ব্যবস্থা ব্যাহত হবে। প্রসিডিংস অব দ্য ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেসের এক গবেষণায় দেখা যায়, তেলাপোকা অন্যান্য সহজীবী ব্যাকটেরিয়ার ওপর নির্ভর করে, যা বর্জ্য থেকে নাইট্রোজেনকে অত্যাবশ্যক পুষ্টিতে পুনর্ব্যবহার করে। তেলাপোকার অনেক প্রজাতি মানুষের বাড়ি থেকে দূরে বনের গভীরে বাস করে, যেখানে তারা পচনশীল কাঠ, পাতা ও উদ্ভিজ্জ পদার্থ খেয়ে বেঁচে থাকে। বিভিন্ন উপাদান ভেঙে ফেলার মাধ্যমে তেলাপোকা পচনের প্রক্রিয়াকে দ্রুত করে।

নাইট্রোজেন ও অন্যান্য অত্যাবশ্যক পুষ্টি উপাদানকে মাটিতে ফিরিয়ে দেয়। যদি তেলাপোকা অদৃশ্য হয়ে যায়, তবে বনের মেঝেতে আরও বেশি জৈব ধ্বংসাবশেষ জমা হবে। পুষ্টির চক্র ধীরগতিতে সম্পন্ন হবে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তখন বনের গাছের বৃদ্ধি কমে যাবে।

তেলাপোকা টিকটিকি, ব্যাঙ, ছোট পাখি, ইঁদুরসহ অনেক প্রাণীর জন্য একটি নির্ভরযোগ্য খাদ্য উৎস। তেলাপোকা হারিয়ে গেলে খাদ্যশৃঙ্খলে তাৎক্ষণিকভাবে একটি শূন্যতা তৈরি করবে। যেসব শিকারি প্রাণী তেলাপোকার ওপর নির্ভর করে, তারা কম খাবারের জন্য প্রতিযোগিতা করতে বাধ্য হবে বা বিকল্প শিকারের দিকে ঝুঁকবে। এতে স্থানীয় বন্য প্রাণীর জনসংখ্যা অস্থিতিশীল হয়ে যাবে। পোকামাকড়কে তুচ্ছ মনে হতে পারে, কিন্তু বাস্তুতন্ত্রে তাদের স্থিতিশীল শক্তি স্থানান্তরের ওপর নির্ভর করে ভারসাম্য বজায় থাকে।

তেলাপোকার মধ্যে ব্লাট্টাব্যাকটেরিয়াম নামে একধরনের ব্যাকটেরিয়া থাকে, যা বর্জ্য পণ্যকে অ্যামিনো অ্যাসিড ও ভিটামিনে রূপান্তরিত করে। এটি কঠোর, পুষ্টিহীন পরিবেশে বেঁচে থাকতে সাহায্য করে তেলাপোকাকে। আর তাই তেলাপোকা এমন পরিবেশে থাকে, যেখানে খুব কম পোকামাকড় বেঁচে থাকতে পারে। এ ছাড়া উদ্ভিজ্জ বর্জ্য ও পশুর মল পচনে সহায়তা করে তেলাপোকা।

বিজ্ঞানীদের মতে, তেলাপোকাবিহীন পৃথিবী মানবসভ্যতার অবসান ঘটাবে না, তবে তেলাপোকারা হারিয়ে গেলে প্রাকৃতিক ব্যবস্থায় নীরবে শূন্যতা তৈরি হবে। বনাঞ্চলে পচন ধীর হবে, মাটি পুষ্টি হারাবে ও খাদ্যশৃঙ্খল কম স্থিতিশীল হবে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

তেলাপোকা
তেলাপোকা। ফাইল ছবি: ফ্রিপিক

জন্মভূমিতে চিরনিদ্রায় শায়িত আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি

নিজ জন্মভূমি মাশহাদে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) মাশহাদের ইমাম রেজা মাজারে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার ইমাম রেজার মাজারে দাফনের আগে শেষ জানাজা ও শোকযাত্রায় অংশ নিতে ভোর থেকেই মাজারমুখী সড়কগুলো শোকার্ত মানুষের ভিড়ে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে। মার্কিন হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বেশ কয়েকটি মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালায় ইরান। দেশটির রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানায়, বাহরাইন ও কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের ৮৫টি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এ হামলা পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়। তবে এতেও খামেনির শোকযাত্রা থামেনি। ইরানের পবিত্র শহর কোম-এ বিশাল শোকযাত্রা শেষে মঙ্গলবার রাতেই খামেনির লাশ ইরাকের নাজাফ শহরে নেওয়া হয়।

সেখানে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং খামেনির বড় ছেলে মোস্তাফা হোসেইনি খামেনির উপস্থিতিতে ইরাকি কর্মকর্তা ও জ্যেষ্ঠ রাজনীতিকরা কফিন গ্রহণ করেন। গত বুধবার (৮ জুলাই) নাজাফ শহরে শোকযাত্রা হয়।

নাজাফের কর্মসূচি শেষে খামেনির লাশ প্রায় ৬০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত কারবালায় নেওয়া হয়। সেখানে ইমাম হোসেনের মাজারে এবং আল-আব্বাসের মাজারে আরেকটি শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। শোকযাত্রার মধ্যেই বুধবার (৮ জুলাই) রাতে ইরানে ফের হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। পাল্টা হামলা করে ইরানও। এমন পরিস্থিতির মধ্যে আজ বৃহস্পতিবার ইরাক থেকে ইরানে নেওয়া হয় খামেনির লাশ।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি।- সূত্র: রয়টার্স ও প্রেসটিভি

জন্মভূমিতে চিরনিদ্রায় শায়িত আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি
ছবি: রয়টার্স

দুই দিনের ব্যবধানে পৃথিবীর পাশ দিয়ে চলে গেল তিনটি গ্রহাণু

প্রকাশ ২০ নভেম্বর ২০২৫ঃ মহাকাশ মাঝেমধ্যে আমাদের মনে করিয়ে দেয়, সৌরজগৎ আসলে কতটা সক্রিয় ও গতিশীল। মহাকাশে গতিশীল গ্রহাণু থাকায় প্রায়ই বিভিন্ন আকারের গ্রহাণু পৃথিবীর খুব কাছ দিয়ে চলে যায়। এ সপ্তাহে মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে তিনটি গ্রহাণু পৃথিবীকে পাশ কাটিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার বিজ্ঞানীরা।

নাসার তথ্যমতে, ১৮ নভেম্বর ‘২০২৫ ভিপি১’ ও ‘২০২৫ ভিসি-৪’ নামের দুটি গ্রহাণু পৃথিবীকে পাশ কাটিয়ে গেছে। ২০২৫ ভিপি১ গ্রহাণুটি আকারে প্রায় ৩৭ ফুট, যা একটি বাসের সমান। ৩ লাখ ৬১ হাজার মাইল দূর থেকে পৃথিবীকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সময় গ্রহাণুটির গতি ছিল ঘণ্টায় ১৮ হাজার ৩০০ মাইলের বেশি। অপর দিকে ‘২০২৫ ভিসি-৪’ নামের গ্রহাণুটি ১২ লাখ ৪০ হাজার মাইল দূর থেকে পৃথিবীকে পাশ কাটিয়ে গেছে। এই গ্রহাণুর আকারও ছিল একটি বাসের সমান।

১৯ নভেম্বর পৃথিবীকে পাশ কাটিয়ে গেছে ‘৩৩৬১ ওরফিয়াস’ গ্রহাণু। এটির আকার ছিল প্রায় ১ হাজার ৪০০ ফুট। বড় আকারের একটি সেতুর সমান গ্রহাণুটি ঘণ্টায় প্রায় ২০ হাজার মাইল গতিতে পৃথিবীর পাশ দিয়ে গেছে।

গ্রহাণু মূলত প্রায় ৪৬০ কোটি বছর আগে সৌরজগৎ গঠনের সময় তৈরি হওয়া পাথুরে বস্তু। এদের অধিকাংশকেই মঙ্গল ও বৃহস্পতির মধ্যবর্তী প্রধান গ্রহাণু বলয়ে পাওয়া যায়। কিছু গ্রহাণু সূর্যের কাছাকাছি আসার সময় পৃথিবীর কক্ষপথে প্রবেশ করে। এ ধরনের বস্তুকে নিয়ার-আর্থ অবজেক্টস বা পৃথিবীর কাছাকাছি বস্তু বলা হয়। এগুলো সূর্য থেকে প্রায় ১২ কোটি মাইল পর্যন্ত দূরত্বে ভ্রমণ করে। নাসা জানিয়েছে, এমন বেশির ভাগ বস্তু পৃথিবীর জন্য কোনো হুমকি সৃষ্টি করে না। যদিও কিছু বড় গ্রহাণুকে সম্ভাব্য বিপজ্জনক গ্রহাণু বলা হয়।

সূত্র: এনডিটিভি

গ্রহাণুর প্রতীকী ছবি
গ্রহাণুর প্রতীকী ছবি। নাসা

যুদ্ধের মাশুল ট্রাম্প কীভাবে দেবেন?

ইরানের সঙ্গে আবারও সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ায় রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনকে সামনে রেখে এই যুদ্ধ তার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে একটি সমঝোতা হলেও তা বেশিদিন টেকেনি। নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার পর বুধবার ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই হামলা চালানো হয়েছে।

এখন সেই যুদ্ধবিরতির চুক্তি ভেস্তে যাওয়া অধিকাংশ মার্কিন ভোটারই সমর্থন করেন না। আবার এই যুদ্ধ শুরু করা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতেও চান না। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর চার মাসেরও কম সময় বাকি। এ অবস্থায় ট্রাম্প এমন যুদ্ধে জড়িয়েছেন যা থেকে বের হওয়ার কোনো উপায় তিনি দেখছেন না। ফলশ্রুতিতে রাজনৈতিক মূল্যও চুকাতে হতে পারে ট্রাম্প ও তার রিপাবলিকান দলকে।

নতুন করে যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে এবং শেয়ারবাজারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। রিপাবলিকান দলের অনেক নেতা আশঙ্কা করছেন, জ্বালানির দাম বাড়তে থাকলে তার প্রভাব ভোটেও পড়তে পারে।

রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের সমর্থনকারী সংগঠন রিপাবলিকান মেইন স্ট্রিট পার্টনারশিপের প্রেসিডেন্ট সারাহ চেম্বারলেইন বলেন, নির্বাচনের আগে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়া তাদের জন্য উদ্বেগের বিষয়। কারণ ভোটারদের সবচেয়ে বড় চিন্তা এখন জীবনযাত্রার ব্যয়। তেলের দাম বাড়লে নিত্যপণ্যের দামও বাড়বে, যা নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

হোয়াইট হাউস অবশ্য ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস বলেন, ট্রাম্প জনমত জরিপ দেখে সিদ্ধান্ত নেন না। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেন।

এদিকে সাম্প্রতিক কয়েকটি জনমত জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক ইরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে জড়ানোর পক্ষে নন। ফক্স নিউজের এক জরিপে ৫৮ শতাংশ ভোটার বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করা ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। একই জরিপে ৮৭ শতাংশ মানুষ দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ এড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন।

ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করছেন। তাদের দাবি, যুদ্ধের কারণে জ্বালানি, পরিবহন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও বাড়বে এবং এর বোঝা সাধারণ মানুষকে বহন করতে হবে। তারা কংগ্রেসে 'ওয়ার পাওয়ার্স রেজ্যুলিউশন' কার্যকর করে ইরান থেকে মার্কিন বাহিনী ফিরিয়ে আনার দাবিও তুলেছেন।

অন্যদিকে ন্যাটো সম্মেলনে ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনার সুযোগ এখনো রয়েছে। তবে তিনি ইরানের নেতাদের কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছেন। প্রয়োজনে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও তেল স্থাপনায় আরও হামলার ইঙ্গিত দেন।

তথ্যসূত্র: দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার সঙ্গে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে। ছবি: রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার সঙ্গে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে। ছবি: রয়টার্স