পরিণীতার পরিণতি

তাঁর নীতি ছিল—জীবনে যা কিছু অর্জন করবেন, সব নিজের মেধা ও পরিশ্রম দিয়ে। তাঁর কাজিন সাবেক বিশ্বসুন্দরী ও বলিউডের প্রথম সারির অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। চাইলেই প্রিয়াঙ্কার কাছ থেকে টিপস নিয়ে অভিনয় ক্যারিয়ারকে অন্যভাবে সাজাতে পারতেন তিনি। কিন্তু না, পরিণীতা নিজেই নিজের ইচ্ছাপূরণের মালিক।


পরিণীতা ম্যানচেস্টার বিজনেস স্কুল থেকে ব্যবসায়, ফিন্যান্স, অর্থনীতি নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। মন্দার কারণেই পরিণীতার ভারতে ফিরে আসা। বাবা-মাসহ পরিবারের অনেকেই বলেছিলেন লন্ডনে ফিরে গিয়ে চাকরির জন্য আরও চেষ্টা করতে। কিন্তু পরিণীতার দুচোখভরা স্বপ্ন তখন যশরাজ ফিল্মসের দিকে। সেখানেই ছয় মাস ইন্টার্নি করে বিপণন বিভাগে চাকরি জোটে তাঁর। কিন্তু যাঁর মন সব সময় পড়ে থাকে ডানা মেলে ধরতে, বাঁধাধরা কাজে ফাঁকি দিয়ে খেয়ালখুশি মাফিক জীবনের গান গাইতে—তার তো চাকরিতে বেশি দিন টিকে থাকার কথা নয়। পরিণীতারও অল্প সময়ে চাকরি চলে যায়। অভিযোগ ছিল, কাজের চেয়ে অকাজে পারদর্শী ছিলেন তিনি। নায়ক-নায়িকাদের দেখভাল করবেন কী, উল্টো তারকারাই পরিণীতার আহ্লাদিপনায় হাত বাড়াতেন। রানী মুখার্জি সুযোগ পেলেই পরিণীতাকে নাচ শেখাতেন। ব্যান্ড বাজা বারাত-এর পরিচালক মনীষ শর্মা তাঁর অভিনয় স্কুলে পরিণীতাকে অভিনয় শেখারও আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। অনেকটা দুষ্টুমির ছলেই পরিণীতা ভর্তি হন অভিনয় স্কুলে। নিজে পাঞ্জাবি বলে একদিন জাব উই মেট ছবির গীত চরিত্রটি ক্যামেরার সামনে মজার ছলে করে দেখান। সেই মজাই পরিণীতার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ফোন আসে আদিত্য চোপড়ার। তিন ছবির চুক্তি করতে এগিয়ে আসেন স্বয়ং যশ চোপড়া। কিছুদিন আগেও যে আনুশকা-রণবীর সিংয়ের প্রচারণার কাজ সামাল দিতেন পরিণীতা, তিনিই মিস চোপড়ার প্রথম ছবি লেডিস ভার্সেস রিকি ভেল-এ কাজ করেন এই দুজনের সঙ্গে। প্রথমে যদিও মন খারাপ হয়েছিল জীবনের প্রথম ছবিতে তিন নায়িকার সঙ্গে অভিনয়। ভয় ছিল ভিড়ে হারিয়ে যাওয়ার। কিন্তু পরিণীতার ডিম্পল চাদ্ধা চরিত্রটিই সাধারণ দর্শক থেকে সমালোচক সবার মন কেড়ে নেয়। প্রধান নায়িকা আনুশকার চেয়েও পরিণীতার চরিত্রটি দর্শকনন্দিত হয় বেশি। পরিণতি—এক ডজন পুরস্কার। এক বছর আগে যে সহকর্মীদের সঙ্গে পরিণীতা অফিস করতেন, তাঁরা এখন পরিণীতার দিন-রাতের শিডিউল দেখাশোনা করেন। পত্রিকা ও টিভি চ্যানেলের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করে দেন। পরিণীতার সরল স্বীকারোক্তি, ‘আমি আবিষ্কার করেছি, আমি অনেক জনপ্রিয়। কী অদ্ভুত, তাই না? আমার মত বেঁটে, মোটা মেয়েও এখন ছেলেদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু! হা হা হা!’ ইশাকজাদে মুক্তি পেয়েছে এ সপ্তাহে। প্রযোজক বনি কাপুরের ছেলে অর্জুন কাপুরের বিপরীতে পরিণীতার এই ছবি প্রথম দিনই তাক লাগিয়ে দিয়েছে সবাইকে। কারিশমা কাপুরের ছবি ডেঞ্জারাস ইশক পাত্তাই পায়নি পরিণীতার এই ছবির কাছে। যশরাজ ফিল্মসের ব্যান্ড বাজা বারাত, লেডিস ভার্সেস রিকি ভেল কিংবা এ বছরের স্বল্প বাজেটের সফল ছবি কাহানি, ভিকি ডোনার-এর চেয়েও ভালো ব্যবসা করছে ইশাকজাদে। যশরাজ ফিল্মস সাধারণত অ্যাকশন ছবিতে সফল হয় না। তবে হাবিব ফয়সালের দুর্দান্ত চিত্রনাট্য দর্শক লুফে নিয়েছে। পরিণীতা-অর্জুনের রসায়নকে অনেকে তুলনা করছে দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গের রাজ-সিমরান কিংবা বান্টি ঔর বাবলী ছবির বান্টি-বাবলীর সঙ্গে। শাবানা আজমী বলেন, ‘পরিণীতার বড় শক্তি, সে আর দশটা নায়িকার মতো নয়। অভিনয়ে নতুন এসেই ক্যামেরার সামনে এত সাবলীল—অপূর্ব!’ ইশাকজাদে ছবির শেষটুক চমকে দিয়েছে দর্শককে। পরিণীতা বলেন, ‘আমাকে ও অর্জুনকে দিয়ে যশরাজ ফিল্মস নিরীক্ষা করেছে। তারা এই নিরীক্ষায় জয় পেয়েছে। আর আমরা হয়েছি সুপারস্টার।’
কোনো রকম রাখঢাক না করে পরিণীতা জানিয়েছেন, লেডিস ভার্সেস রিকি ভেল ছবির পর সমুদ্রমুখী একটি অ্যপার্টমেন্টে উঠেছেন তিনি। তবে এখনো ফ্ল্যাট কেনার পয়সা হয়নি তাঁর। ভাড়া থাকছেন। পরিণীতার বিশ্বাস, ‘শিগগিরই আমি গাড়ি-ফ্ল্যাট কিনতে পারব। জনপ্রিয় নায়িকা বলে কথা! আমার পরিণতি নিশ্চয়ই খারাপ হবে না!’
 রুম্মান রশীদ খান
জি নিউজ, হিন্দুস্থান টাইমস, বলিউড হাঙ্গামা, মিড ডে, আইবিএন লাইভ, টাইমস অব ইন্ডিয়া ডটকম অবলম্বনে

No comments

Powered by Blogger.