আলোচনা- 'হিমালয়ের কোলে এক টুকরো দক্ষিণ এশিয়া' by মশিউল আলম

ড় নির্দয় শীত; কিন্তু বড় হলঘরটির ভেতরে মানুষের উষ্ণতা। এখানে মিলেছে শ দেড়েক মানুষ। আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ভুটান আর মালদ্বীপ—এই ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক ভূখণ্ড মিলিয়ে তাঁদের অভিন্ন হার্দিক ও মানবিক পরিচয়: দক্ষিণ এশিয়া। ‘সাউথ এশিয়ানস ফর হিউম্যান রাইটস’ (এসএএইচআর) নামের এক আঞ্চলিক সংগঠনের উদ্যোগে কাঠমান্ডু উপত্যকার ললিতপুর এলাকায় গোদাবরি ভিলেজ রিসোর্টে গত ২৭ থেকে ২৯ নভেম্বর চলল আটটি দেশের শ দেড়েক মানুষের আলাপ-আলোচনা,
অভিজ্ঞতাবিনিময় ও ভবিষ্যতের কর্মপরিকল্পনা: ‘দ্য চ্যালেঞ্জেস ফর সাউথ এশিয়া: হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি’। মানবাধিকারকে গণতন্ত্র থেকে আলাদা করে দেখার কোনো সুযোগ তো নেই; এ দুটো ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো কী ধরনের সমস্যা বা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি রয়েছে, কী করে সেসব সমস্যার সমাধান বা মোকাবিলা করা যায়—এসব নিয়ে আলোচনায় বক্তারা প্রায়ই পেরিয়ে যাচ্ছিলেন নিজের দেশের সীমানা, অনেক উঁচুতে তুলে ধরছিলেন নিজেদের ‘সাউথ এশিয়াননেস’ বা দক্ষিণ এশীয়ত্ব। কাঠমান্ডুর এক অধ্যাপক তো বলেই ফেললেন, ‘আমি ঘটনাক্রমে নেপালি, কিন্তু অনিবার্যভাবে একজন দক্ষিণ এশীয়।’ নেপালেরই আরেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও লেখক সি কে লাল বললেন, ‘ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট’ বা জাতীয় স্বার্থ বলে ভালো কিছু নেই; আছে আঞ্চলিক স্বার্থ, সর্বোপরি মানবিক স্বার্থ। এই স্বার্থ রক্ষিত হয় মানুষে মানুষে মিলনে, বিভেদে-বিচ্ছিন্নতায় নয়। রাষ্ট্রগুলো মানুষকে মানুষ থেকে বিচ্ছিন্ন করে, তার স্বাধীন চলাফেরায় বাদ সাধে, তার পদচারণে সীমারেখা টেনে দেয়। রাজনৈতিক দল ও সেসবের নেতারাও মানুষে মানুষে বিভেদ আর বিচ্ছিন্নতাকেই যেন হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চায়।
দিল্লির আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী ব্রিন্দা গ্রোভার বলছিলেন পৃথিবীর বৃহত্তম গণতন্ত্র বলে পরিচিত রাষ্ট্র ভারতে রাষ্ট্র কর্তৃক ব্যক্তির নিগ্রহ-নিপীড়নের কথা। প্রত্যেক নাগরিকের আচার-আচরণ, চলাফেরা, চিন্তাভাবনার ওপর রাষ্ট্রের নজরদারি নিরঙ্কুশ করার লক্ষ্যে ভারত সরকার শুরু করেছে, ব্রিন্দার ভাষায়, ‘টোটাল অথোরিটারিয়ানিজমের ডিজিটাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার’ নির্মাণের কাজ। এক অরওয়েলীয় কর্তৃত্ববাদী সমাজ হয়ে উঠছে ‘গণতান্ত্রিক ভারত’। হিউম্যান রাইটস কমিশন অব পাকিস্তান নামের এক বেসরকারি সংস্থার চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট সাংবাদিক আই এ রহমান বললেন তাঁর দেশের দুর্দশার কথা: পাকিস্তানে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের অবস্থা বড়ই ভঙ্গুর: রাজনৈতিক শক্তি, সামরিক শক্তি আর এখন জঙ্গিবাদী ধর্মীয় শক্তির উত্থানে পাকিস্তানের সমাজ বিভক্ত এবং নানা কারণে নানাভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে মানবাধিকার। আফগানিস্তান থেকে আসা অধ্যাপক সরোয়ার মাহমুদের মুখেও শোনা গেল প্রবলের হাতে দুর্বলের নিপীড়ন-নিগ্রহের কথা। মালদ্বীপের তরুণী আইনজীবী জেনিফার লতিফ ও তাঁর বাবা এম লতিফ এসেছিলেন তাঁদের দুর্দশার কথা জানাতে। সরকারিভাবে ঘোষিত শতভাগ মুসলমানের দেশ মালদ্বীপে শুরু হয়েছে উগ্র ধার্মিকতার চর্চা, যার সবচেয়ে বড় শিকার দেশটির নারীরা।
নিরুপদ্রব সুখী রাজ্য বলে পরিচিত ভুটানের একমাত্র প্রতিনিধি টেক নাথ রিজাল জানালেন দেশটিতে যেসব নেপালি ভাষাভাষী মানুষ কয়েক শতাব্দী ধরে বাস করে আসছে, রাষ্ট্রের হাতে তাদের নিগ্রহের গল্প। ভুটান সরকারের ‘এক ভাষা এক দেশ’ নীতির শিকার হয়ে দেশটির দক্ষিণাংশ থেকে প্রায় এক লাখ ১০ হাজার মানুষ নিজেদের বাস্তুভিটা থেকে বিতাড়িত হয়ে আশ্রয় নিয়েছে নেপালে। কারণ, তারা কথা বলে নেপালি ভাষায়। নেপালি ভাষাভাষী যারা এখনো ভুটানে রয়েছে, ভুটান সরকার তাদের নাগরিক বলে স্বীকার করে না। রিজাল জানালেন, ভুটানে ২০০৮ সালের নির্বাচনে ৮০ হাজার নেপালি ভাষাভাষী নারী-পুরুষকে ভোট দিতে দেয়নি সে দেশের সরকার। টেক নাথ রিজাল, ভুটানের সরকার যাঁকে কারারুদ্ধ করে রেখেছিল দীর্ঘ ১০ বছর, তারপর পালিয়ে ঢুকেছেন নেপালে এবং এখন কাঠমান্ডুতে বাস করেন শরণার্থী হিসেবে; তাঁর ব্যক্তিগত নির্যাতন-নিগ্রহের কাহিনি রোমহর্ষক। মালদ্বীপের জেনিফার লতিফ যেমন তাঁর পিতামহের পুরো পরিবারের ওপর অমানুষিক নির্যাতনের কাহিনি বলতে গিয়ে অশ্রুসজল হয়েছিলেন, টেক নাথ রিজালের চোখ দুটিও তেমনই ছলছল করে উঠেছিল, যখন ব্যক্তিগতভাবে আলাপ হচ্ছিল তাঁর সঙ্গে। ‘মাইন্ড কন্ট্রোল’ নামের অত্যন্ত অমানবিক নিগ্রহমূলক এক পদ্ধতির কথা জানতে পারলাম তাঁর কাছে।
সম্মেলনের উদ্বোধনী দিনে নেপাল হিউম্যান রাইটস কমিশনের চেয়ারপারসন ও দেশটির সাবেক প্রধান বিচারপতি কেদারনাথ উপাধ্যায় বলছিলেন, দক্ষিণ এশিয়ার আটটি দেশের মধ্যে মানবাধিকার পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ পাকিস্তান ও ভুটানে। কারণ, ওই দুটি দেশে মানবাধিকার রক্ষার জন্য কোনো জাতীয় প্রতিষ্ঠান নেই। সঙ্গে সঙ্গে মনে পড়ল আমাদের জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কথা এবং একটু পরিহাস বোধ হলো। কারণ, আমাদের মানবাধিকার কমিশনের উচ্চকণ্ঠ চেয়ারম্যান ছাড়া আর কিছু নেই: না বিধিমালা, না অর্থ, না প্রয়োজনীয় লোকবল। কাঠমান্ডুতে এসএএইচআর সম্মেলনে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে আমাদের সঙ্গে মানবাধিকার কমিশনের অন্যতম কমিশনার নিরূপা দেওয়ানও ছিলেন। ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় তিনি জানালেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সব দিক থেকে এখনো একটি দুর্বল প্রতিষ্ঠান; বিধিমালা তৈরি হয়নি বলে কমিশনের কাজ বস্তুত শুরুই হয়নি। আমরা সম্মেলনে যাওয়ার কয়েক দিন আগে কমিশনের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বেশ জোরালো কণ্ঠে বলেছিলেন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগগুলো কমিশন নিজেই তদন্ত করবে। কারণ, সরকারের তদন্তগুলোর ফল ‘ভালো’ হয় না। ‘ক্রসফায়ার’ বা ‘এনকাউন্টারের’ ‘গল্প’গুলোর কথা ভাবছিলাম, সরকারের শব্দভান্ডারে যার অস্তিত্ব নেই। নিরাপত্তা হেফাজতে, জিজ্ঞাসাবাদ ও জবানবন্দী আদায়ের সময় নির্যাতনের অভিযোগগুলোও মন থেকে সরে না। কারণ, মর্মান্তিক আর বিভীষিকার গল্পগুলো ভাগাভাগি করতেই যেন আমরা আটটি দেশের শ দেড়েক মানুষ কাঠমান্ডুতে জড়ো হয়েছি।
কিন্তু দক্ষিণ এশিয়ার এই নাগরিকেরা, যাঁদের কেউ বিশিষ্ট আইনজীবী, কেউ আইনের অধ্যাপক, কেউ মানবাধিকার রক্ষার লড়াইয়ে আন্দোলনে নিয়োজিত এনজিওকর্মী, কেউ সাংবাদিক—প্রত্যেকেই নিজেদের দেখেন একেকজন যোদ্ধা হিসেবে। দিল্লির মানবাধিকার নেত্রী কমলা ভাসিন যেমন বলছিলেন, যেসব শক্তির বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই, তারা অত্যন্ত প্রবল; এই লড়াইয়ে শক্ত পায়ে আপন জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকাই কঠিন, সামনে অগ্রসর হওয়া বেশ দুরূহ। মানবাধিকারকর্মীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, প্রাণনাশের হুমকিও বিরল ঘটনা নয়।
দুই দিনের আলোচনা শেষে এসএএইচআর দক্ষিণ এশিয়ায় মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের ক্ষেত্রে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য যেসব লক্ষ্য ও করণীয় স্থির করল, সে সম্পর্কে সংক্ষেপে কিছু কথা এবার তুলে ধরি। যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনটি প্রথমেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এই মর্মে যে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে, আর আইন প্রণয়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় নাগরিকদের অংশগ্রহণের সুযোগ নেই। সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে গৃহীত গণতন্ত্রের সনদ রচনার প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে বলা হয়েছে, এই সনদের খসড়া প্রণয়নে আমলাতান্ত্রিক কর্তৃত্বের চর্চা চলেছে, এ বিষয়ে নাগরিক সমাজের বক্তব্য শোনার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়নি। অভিন্ন সাংস্কৃতিক বন্ধন, অভিন্ন ইতিহাস ও ভৌগোলিক অবস্থানের নৈকট্য সত্ত্বেও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর কঠোর ভিসা-ব্যবস্থার কারণে এই অঞ্চলের মানুষের চলাচল সীমাবদ্ধ ও ঝক্কি-ঝামেলাপূর্ণ। সীমান্ত এলাকাগুলোতে নিরাপত্তারক্ষীদের হাতে প্রচুর মানুষের মৃত্যু হচ্ছে, অনেক মানুষকে কারারুদ্ধ হতে হচ্ছে প্রতিবেশী দেশের কারাগারে। সামরিকীকরণ বৃদ্ধি, সন্ত্রাসবিরোধী ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত নতুন নতুন আইন করা হচ্ছে, যেগুলোর দ্বারা খর্ব হচ্ছে ব্যক্তি নাগরিকের মুক্তি ও স্বাধীনভাবে চলাফেরা করার অধিকার। সন্ত্রাস দমন ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা রক্ষার অজুহাতে ব্যক্তি নাগরিকের ওপর চলছে নিগ্রহ-নির্যাতন। কিন্তু এসবের জন্য আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষের কোনো জবাবদিহির ব্যবস্থা নেই; তাদের দায়মুক্তি দেওয়া হচ্ছে। অসাম্প্রদায়িকতার আদর্শে ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে নাগরিক অধিকার। রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। জঙ্গিবাদী তৎপরতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নারীর নিরাপত্তা, চলাফেরা ও স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ ক্ষীণ হয়ে আসছে। রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষার নামে জরুরি আইনসমূহ আরোপের ফলে জনসাধারণের সার্বভৌমত্ব লোপ পায়; সে কারণে পার্লামেন্টগুলোকে হতে হবে স্বচ্ছ এবং জনসাধারণের অংশগ্রহণের জন্য অবারিত, যাতে করে গৃহীত আইনসমূহে মানবাধিকারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। অসাম্প্রদায়িক হিসেবে পরিচিত দেশেও ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহারের মাধ্যমে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণের ঘটনায় সংগঠনটি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, সংবিধানে জাতি, ধর্ম, শ্রেণী, লিঙ্গ-নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকার খোদ সংবিধানে নিশ্চিত করার পরেও ধর্মীয় সংখ্যালঘু মানুষ ও তাদের উপাসনালয়ে আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু অপরাধীদের বিচার হয়নি। সশস্ত্র সংঘাত, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জলবায়ু পরিবর্তন ইত্যাদি কারণেও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে মানুষের অভ্যন্তরীণ অভিবাসন ঘটে চলেছে এবং এসবের কারণে দারিদ্র্য ও বঞ্চনা বাড়ছে।
এসব পর্যবেক্ষণ থেকে কাঠমান্ডু সম্মেলনে এসএএইচআর দক্ষিণ এশিয়ার সরকারগুলোর প্রতি এসব আহ্বান জানিয়েছে: সার্ক গণতন্ত্র সনদ প্রণয়নের কাজে নাগরিকদের মতামত গ্রহণের ব্যবস্থা করা হোক। নিরাপত্তাসংক্রান্ত আইনগুলো বাতিল বা এমনভাবে সংশোধন করা হোক, যাতে মানবাধিকার সংযুক্ত থাকবে। নির্যাতন করা যাবে না, এই মর্মে সাংবিধানিক নিশ্চয়তা বাস্তবায়ন করা। ভুটানের সরকারকে রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানানো, কার্যকর ও দক্ষ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, যারা মানবাধিকার পরিস্থিতির ওপর নজর রাখবে। ভুটানি শরণার্থীদের স্বদেশে ফেরা ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ। মৌলিক অধিকারসমূহ খর্ব করা ও বিরুদ্ধমত দমন করতে জরুরি আইনের ব্যবহার বন্ধ করা। মতামত ও স্বাধীন চিন্তা নির্ভয়ে প্রকাশের সংবিধানপ্রদত্ত অধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করা। প্যারিস নীতির অনুসরণে কারাবন্দীদের সঙ্গে আচরণ সম্পর্কে একটি দক্ষিণ এশীয় প্রটোকল তৈরি করা এবং অভ্যন্তরীণ অভিবাসীদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে এ বিষয়ে জাতিসংঘের নির্দেশনামূলক নীতিমালার আলোকে একটি আঞ্চলিক সনদ প্রণয়ন। শরণার্থী ও অভিবাসী শ্রমিকদের এবং তাঁদের পরিবারবর্গের অধিকার-সংক্রান্ত জাতিসংঘ সনদে অনুস্বাক্ষর করা এবং দ্বিপক্ষীয় চুক্তিগুলোতে অভিবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষা-সংক্রান্ত বিধান যুক্ত করা।
প্রবলের ওপর দুর্বলের, নাগরিকের ওপর রাষ্ট্রের, নিরস্ত্রের ওপর সশস্ত্রের অন্যায়-অন্যায্য আচরণের সমস্যাই বোধ করি মানবজাতির সবচেয়ে কঠিন সমস্যা। কিন্তু হিমালয়ের কোলে দক্ষিণ এশিয়ার আটটি দেশের দেড় শ মানুষ যখন এক হয়েছিলাম, অভিন্ন ইতিহাস-ঐতিহ্য-ভূগোল সত্ত্বেও রক্তপাত, বাস্তুচ্যুতি, গণহত্যা এবং ভয়াবহ মাত্রার যুদ্ধের ঘটনাগুলোও যাদের ইতিহাসেরই অংশ, সেই মানুষগুলোর কথাবার্তায় আচার-ব্যবহারে মনে হলো না এক সুখী, শান্তিময়, বৈষম্য-বঞ্চনাহীন, নিগ্রহ-নির্যাতনমুক্ত দক্ষিণ এশিয়া গড়ে তোলা অসাধ্য কোনো কাজ। নাগরিক পর্যায়ের এই সংহতি, সৌহার্দ্য যদি রাষ্ট্রীয় পর্যায়েও গড়ে তোলা যায়, তবে সত্যিই দক্ষিণ এশিয়া হবে পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী, সুন্দর শান্তিময় একটি অঞ্চল।
=============================
স্মরণ- 'মানুষের জন্য যিনি জেগে থাকতেন'  রাজনৈতিক আলোচনা- 'আবার আসিব ফিরে!'  আলোচনা- 'রাজকীয় সম্মেলন'  যুক্তি তর্ক গল্পালোচনা- 'অসারের তর্জন-গর্জন'  আলোচনা- 'একজন নোবেল বিজয়ী, বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ও ক্ষুদ্রঋণের ফাঁদ'  স্মৃতি ও গল্প- সেই আমি এই আমি  গল্প- 'ঘুঁটি'  আন্তর্জাতিক- অং সান সু চির মুক্তি : মিয়ানমারে কি কি গণতন্ত্র আসছে?  শিল্পি- শিল্পগুরু সফিউদ্দীন আহমেদের সৃষ্টিসমগ্র  সাহিত্যালোচনা- তান তুয়ান এঙের উপন্যাস দ্য গিফট গিফট অব রেইন  খবর- বন্ধ তাবানীতে লোক নিয়োগ  ইতিহাস- আমাদের ভাববিশ্ব ও বৌদ্ধবিহার  স্মৃতি ও ইতিহাস- ঢাকায় আমার প্রথম তিন দিনের স্মৃতিরোমন্থন  আলোচনা- একমাত্র প্রবাল দ্বীপটি কি হারিয়ে যাবে  আলোচনা- বাংলাদেশের সমাজ : মধ্যবিত্ত সমাচার  গল্প- দূর গাঁয়ের গল্প  সাহিত্যালোচনা- কবিতার হয়ে ওঠা  সাহিত্যালোচনা- কবিতার হয়ে ওঠাই কবির তপস্যা  পাঁচ গাড়িসহ দুই ছেলের মালপত্র বুঝে নেওয়া হলো আজ বাকিগুলো  গল্প- 'কোনো এক গাঁয়ের বিয়ে'  গল্প- মৌরস ভৌরস  শিল্পি- ড্রয়িং, স্কেচ না পূর্ণাঙ্গ চিত্রকর্ম  গল্পসল্প- নারী শিক্ষা মন্দির  স্মৃতি ও গল্প- ছিন্নস্মৃতি  স্মৃতি ও গল্প- স্কুল জীবনে বাঁকুড়া, জলপাইগুড়ি ও যশোর  ফিচার- তাঁহাদের দান  ফিচার- ডায়ানার আংটি  গল্প- 'অভিমান'  গল্প- 'মাটির ব্যাংক'  গল্পসল্প- 'সাগরকে যাঁরা পোষ মানালেন'  স্মরণ- 'আমাদের সেলিনা আপা'  আলোচনা- 'বেতন-ভাতা না নেওয়ার ‘নীতিগত’ সিদ্ধান্ত নয় কেন?


দৈনিক প্রথম আলো এর সৌজন্যে
লেখকঃ মশিউল আলম


এই আলোচনা'টি পড়া হয়েছে...
free counters

No comments

Powered by Blogger.