কার্বাইডে ফল পাকানো-চড়া দামে বিষ কেনা

ভারত থেকে আমদানি করা আম কার্বাইড মিশিয়ে পাকানো হচ্ছে বলে বৃহস্পতিবার সমকালের শেষ পৃষ্ঠায় একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এসব পাকানো আম ঢাকার কারওয়ানবাজার, হাতিরপুল, পলাশী বাজারসহ সর্বত্র বিক্রি হচ্ছে।


১১০ থেকে ১৮০ টাকা পর্যন্ত কেজি দরে যারা শখ করে বাজারে আসা নতুন আম নিয়ে বাড়ি ফিরছেন, তারা এর মধ্যে যে ক্ষতিকারক রাসায়নিক উপাদান রয়েছে, তা জানেন না। আর না জেনেই তারা অর্থ দিয়ে লিভারের পক্ষে ক্ষতিকারক ও ক্যান্সার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এমন উপাদান মিশ্রিত আম কিনে প্রতারিত হচ্ছেন। সুন্দরী, মহুয়া, সূর্যরাঙাসহ নানা বাহারি নামের কার্বাইড দিয়ে পাকানো ও মনোহারী এসব আম খেতে কিন্তু মোটেই সুস্বাদু নয়। আর কিছুদিনের মধ্যে যখন দেশি জাতের আম বাজারে উঠবে সেগুলোও নিশ্চয়ই ক্ষতিকারক রাসায়নিক মিশ্রিতই হবে। এভাবে খাদ্যপণ্যে ক্ষতিকারক রাসায়নিকের মিশ্রণ বন্ধ করতে না পারলে জাতীয় স্বাস্থ্যের জন্য তা ভবিষ্যতে বিরাট বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থা খাদ্যপণ্যে ভেজাল ও ক্ষতিকারক উপাদান মেশানোর জন্য প্রায়ই বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করে থাকে। এটা একপ্রকার রুটিন ওয়ার্ক বলা যায়। কিন্তু দেখা যায়, যে প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিকে জরিমানা করা হয়, তারা আবার একই ধরনের অপরাধ সংঘটন করে। তাই এই সর্বনাশা প্রবণতা কেবল জেল-জরিমানা করে বন্ধ করা সম্ভব নয় বলেই মনে হচ্ছে। এজন্য নাগরিক বা ভোক্তা সচেতনতা গড়ে তোলা জরুরি। কার্বাইড মিশ্রিত আম দেখতে কেমন, আবার ফরমালিন মেশালে মাছ বা তরকারি অথবা দুধের অবস্থা কী হয়_ সে সম্পর্কে ভোক্তাদের সচেতন করা প্রয়োজন। তাহলে ভোক্তারা এসব ভেজাল ও ক্ষতিকারক উপাদান মেশানো খাদ্যপণ্য আর কিনবেন না। এমনকি ভোক্তারাই তখন এসব অসাধু ব্যবসায়ীকে আইনের হাতে তুলে দিতে এগিয়ে আসবেন। খাদ্যপণ্যে ক্ষতিকারক উপাদান মেশানোর বিরুদ্ধে জনমত গঠন এটা বন্ধের পূর্বশর্ত। একই সঙ্গে সরকারকেও ভাবতে হবে_ আর কী পদ্ধতি প্রয়োগ করলে জনস্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকারক এ ধরনের ব্যবসায়িক কুবুদ্ধি পুরোপুরি রোধ করা যাবে।

No comments

Powered by Blogger.