চবির প্রলম্বিত শিক্ষাজীবন

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেন দেখে উৎফুল্ল হবেন যে কেউ। শহর থেকে ক্যাম্পাসে যাতায়াত করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ পরিবহনের ব্যবস্থা করে। শাটল ট্রেনের যাত্রা অনেক মধুর। কিন্তু এ মধুরতার আড়ালে রয়েছে নৃশংসতার ভয়াল থাবা। বগিভিত্তিক ছাত্ররাজনীতির ফলে আমাদের শাটল ট্রেন এখন হয়েছে মৃত্যুপুরী।


একের পর এক সহিংস ঘটনায় আহত হয়েছেন অনেকে, এমনকি নিহতও হয়েছেন বেশ কয়েকজন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ অপ্রীতিকর ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে শাটল ট্রেন। নিজেদের আধিপত্যকে কেন্দ্র করে প্রায়ই সংঘাত লাগে। প্রথমে তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে সংঘাত শুরু হলেও পরে এগুলো ভয়াবহ রূপ নেয়। ভিএক্স, সিএফসি, উল্কা, সিক্সটিনাইন, একাকার, ককফাইট প্রভৃতি নামে পরিচিত বগিভিত্তিক সংগঠনগুলো চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বগিভিত্তিক কোন্দল নিরসনের উদ্যোগ গ্রহণ করলেও তাতে কোনো সুফল আসেনি। অনেকবার শাটল ট্রেনকে নতুন করে সাজিয়ে রঙ দিয়ে সব নাম মুছে ফেললেও এসব গ্রুপের কর্র্মীরা আবার নিজেদের বগির নাম লিখে শুরু করে কার্যক্রম। বগিভিত্তিক এ সংগঠনগুলোর শক্তির পেছনে কাজ করছে রাজনৈতিক শেল্টার, যার সঙ্গে জড়িত আছেন চট্টগ্রামের অনেক বাঘা রাজনীতিক। বগিভিত্তিক এ সংগঠনের কর্মীরা সবাই ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে জড়িত। একই সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকলেও নিজেদের কোন্দলে একে অপরের প্রতি চড়াও হয় দানবরূপে। বগিভিত্তিক এসব ক্যাডার ছাত্রলীগের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে এর ভাবমূর্তি নষ্ট করছে চরমভাবে। তাদের সন্ত্রাসী কার্যক্রমে সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের কাছে ছাত্রলীগ পরিচিত হচ্ছে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে। এসব কর্মীর কুকর্মের ফলে বারবার বিঘি্নত হচ্ছে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ।
সম্প্রতি শাটল ট্রেনের বগিভিত্তিক দুটি সংগঠন ভিএক্স এবং সিএফসি দুই গ্রুপের সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন সাতজন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আনতে পেরে সিন্ডিকেট বৈঠক করে ২ থেকে ১২ মে পর্যন্ত সব বিভাগের ক্লাস এবং পরীক্ষা বন্ধ ঘোষণা করে। প্রশাসন ক্যাম্পাসকে শান্ত রাখতে গতানুগতিক সিদ্ধান্তের দ্বারস্থ হয়। কিন্তু এতে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীরা। আবার সেশনজটের কবলে জর্জরিত হলো আমাদের জীবন। অনেক বিভাগের শিক্ষার্থীরা মাস্টার্স পরীক্ষা দিচ্ছিলেন। তারা চাকরিতে যোগদানের চিন্তা করছিলেন। কিন্তু তাদের সে চিন্তা থমকে দাঁড়াল। ক্যাম্পাসে আবার অপেক্ষার প্রহর গুনতে হবে কমপক্ষে তিন থেকে চার অথবা ছয় মাস। ১ জুলাই থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্ষাকালীন ছুটি শুরু হয়। যার ব্যাপ্তি থাকে দীর্ঘ এক মাস। এমনিতেই পুরো জুলাই মাস বন্ধ, তার মাঝে আবার অনাকাঙ্ক্ষিত এ বন্ধ আমাদের ফেলে দিয়েছে সেশনজটে। বারবার এমন সংঘাতের ফলে ব্যাহত হচ্ছে আমাদের শিক্ষাজীবন। ক্যাম্পাসে সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক সব কার্যক্রম চলছে অবাধে। প্রশাসন এক্ষেত্রে পালন করছে নীরব ভূমিকা। প্রশাসনের এ নীরবতা রাজনৈতিক সহিংসতা বাড়িয়ে দিয়েছে চরম আকারে। আমরা এসব সহিংসতার অবসান চাই। চাই শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ। মুষ্টিমেয় কয়েক অসাধু শিক্ষার্থীর কুকর্মে আমরা সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবো_ এটা মেনে নেওয়া যায় না। তাই আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনসহ দেশের সব কর্তাব্যক্তির কাছে অনুরোধ, আমাদের শিক্ষাজীবন রক্ষার্থে একটু আন্তরিক হোন। বারবার সন্ত্রাসীদের প্রশ্রয় না দিয়ে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করান। আপনাদের একটু আন্তরিকতা আমাদের এনে দেবে শিক্ষাজীবনের নিরাপত্তা।
হ লেখকগণ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী
 

No comments

Powered by Blogger.