সীমান্ত উন্মুক্ত হলে ভারতেরই লাভ-কূটনীতি by নুরুল ইসলাম বিএসসি
ভারতের মন্ত্রী এক সময় বলেছিলেন, সীমান্তে আর একটি গুলির ঘটনা ঘটবে না। বাংলাদেশের মানুষ খুশি হয়েছিল। কিন্তু মাস না যেতেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি। সাধারণ মানুষের মনে সন্দেহের দানা বড় হতে শুরু করেছে। বেশি দূরে যাওয়ার প্রয়োজন নেই।
আমরা মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর বর্ডারের দিকে তাকাতে পারি, এক দেশের নাগরিক অন্য দেশে যেতে কোনো ভিসার প্রয়োজন পড়ে না
আমরা জানি, ভারত একটি বড় অর্থনৈতিক দেশ। ভারতে উৎপাদিত হয় না এমন দ্রব্য নেই। মধ্যপ্রাচ্যের সব দেশই এখন ভারতীয় পণ্যের দখলে। শ'-দুইশ' কোটি ডলার ভারতের জন্য অতি সামান্য বিধায় কিছু দিন আগে ভারত বাংলাদেশকে একশ' কোটি ডলার যখন দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল, ওই টাকাটা ঋণ না হয়ে অনুদান হলে ভারতের ভাবমূর্তি এ দেশে বহুলাংশে বৃদ্ধি পেত। ভারত এ দেশের বুক ভেদ করে ট্রানজিট চায়, ওই ট্রানজিট দিতে রাস্তাঘাটসহ অবকাঠামো নির্মাণে ওই একশ' কোটি ডলার দেওয়ার কথা। অনুদান না হলেও অন্তত ওই ঋণের টাকা সঙ্গে সঙ্গে পাওয়া গেলে, বিরুদ্ধে যারা কথা বলেন ওদের মুখ বন্ধ হওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু না, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তা করেনি। ফলে জামায়াত, শিবির, বিএনপির প্রচারণা কূল পেয়ে যাচ্ছে।
সীমান্ত হত্যা না করলেই কি নয়? সীমান্তে উলঙ্গ করে বাংলাদেশিদের পিটিয়ে মর্দানি প্রদর্শন করতে গেলেই মানবতা ভূলুণ্ঠিত হয়। জামায়াতিরা তিলকে তাল করে ভারতবিরোধী প্রচারণা চালিয়ে এ সরকারকে ভারতের খয়ের খাঁ বলে দোষারোপ করে। অথচ বাস্তবতা এই যে, এ সরকারের আমলেই ভারতের সঙ্গে সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক নির্মাণ সম্ভব। গরু ব্যবসা যারা করে, তারা কারা ভারতের বিএসএফও জানে, বাংলাদেশের বর্ডার গার্ডও জানে। হিসাবে একটুখানি গোলমাল হলেই গুলি চলে। ভারতীয় বিএসএফ যদি সৎ ও চরিত্রবান হতো, শত শত সাদা গরু আসে কোন আকাশ পথে? প্রকৃত ঘটনা সব হিসাবের হেরফের। মানুষকে হত্যা করে কাঁটাতারের বেড়ার ওপর লটকিয়ে প্রদর্শন করা হয়, এ কোন মানবিক আচরণ? সীমান্ত অতিক্রম করলে জেলের ব্যবস্থা আছে, আইনের দরজা খোলা আছে। দেখামাত্র গুলি করার অধিকার, একজনের বেঁচে থাকার অধিকার হরণ করা পৃথিবীর কোনো আইনই কাউকে দেয়নি। দু'দেশের সীমান্তের চাষাবাদযোগ্য জমিগুলোতে সীমানা পিলার দেওয়া আছে। যেখানে পিলার নেই, ওখানে পিলার দেওয়ার ব্যবস্থা দু'দেশের সরকারের। কিন্তু ওই জমিতে চাষ করতে গিয়ে কেউ লাশ হয়ে ঘরে ফিরবে_ এমনটি আশা করা যায় না।
ভারতের মন্ত্রী এক সময় বলেছিলেন, সীমান্তে আর একটি গুলির ঘটনা ঘটবে না। বাংলাদেশের মানুষ খুশি হয়েছিল। কিন্তু মাস না যেতেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি। সাধারণ মানুষের মনে সন্দেহের দানা বড় হতে শুরু করেছে। বেশি দূরে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। আমরা মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর বর্ডারের দিকে তাকাতে পারি, এক দেশের নাগরিক অন্য দেশে যেতে কোনো ভিসার প্রয়োজন পড়ে না। জোহা বারুর শত শত লোক সীমান্ত পার হয়ে সিঙ্গাপুরে চাকরি করে সন্ধ্যায় আবার ফেরত আসে। কোনো বাধা নেই, কোনো জটলা নেই। পানির মতো চলছে দু'দেশের সম্পর্ক। ভারত-বাংলাদেশের কি অনুরূপ ব্যবস্থা চালু করা যায় না? নিশ্চয়ই যায়। শুধু আন্তরিকতা ও বিশ্বাসের দরকার। ভারতীয় ভিসা এখন আমেরিকার ভিসা থেকেও কঠিন করা হয়েছে। চিকিৎসা, আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ ছাড়াও শত শত মানুষ আজমির যেতে চায়; কিন্তু ভিসা পাওয়া এখন কঠিন হয়েছে। আমরা কি ভিসা ব্যবস্থা রহিত করতে পারি না? সীমান্তে যে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করা হয়েছে, ওটাকে কে, কীভাবে গ্রহণ করবেন আমি জানি না; তবে আমরা গরু-মহিষের হাত থেকে ফসল রক্ষা করার জন্য সাধারণত ঘেরা-বেড়া নির্মাণ করি। মোদ্দা কথা, ভারত সরকার ও জনগণই পারে সন্ত্রাস দমনে এ সরকারকে সাহায্য করতে। সীমান্ত হত্যা বন্ধ, দহগ্রাম-আঙ্গরপোতায় চুক্তি অনুযায়ী সুবিধা বৃদ্ধিসহ সব প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে প্রগতির স্রোতে বাংলাদেশকে ভারতের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে সাহায্য করলে ভারতের লাভ ছাড়া কোনো ক্ষতি নেই। আমরা সবাই বাঁচতে চাই। বাঁচার তাগিদে একে অন্যের সহযোগিতা চাই।
নুরুল ইসলাম বিএসসি :সংসদ সদস্য ও
কলাম লেখক
আমরা জানি, ভারত একটি বড় অর্থনৈতিক দেশ। ভারতে উৎপাদিত হয় না এমন দ্রব্য নেই। মধ্যপ্রাচ্যের সব দেশই এখন ভারতীয় পণ্যের দখলে। শ'-দুইশ' কোটি ডলার ভারতের জন্য অতি সামান্য বিধায় কিছু দিন আগে ভারত বাংলাদেশকে একশ' কোটি ডলার যখন দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল, ওই টাকাটা ঋণ না হয়ে অনুদান হলে ভারতের ভাবমূর্তি এ দেশে বহুলাংশে বৃদ্ধি পেত। ভারত এ দেশের বুক ভেদ করে ট্রানজিট চায়, ওই ট্রানজিট দিতে রাস্তাঘাটসহ অবকাঠামো নির্মাণে ওই একশ' কোটি ডলার দেওয়ার কথা। অনুদান না হলেও অন্তত ওই ঋণের টাকা সঙ্গে সঙ্গে পাওয়া গেলে, বিরুদ্ধে যারা কথা বলেন ওদের মুখ বন্ধ হওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু না, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তা করেনি। ফলে জামায়াত, শিবির, বিএনপির প্রচারণা কূল পেয়ে যাচ্ছে।
সীমান্ত হত্যা না করলেই কি নয়? সীমান্তে উলঙ্গ করে বাংলাদেশিদের পিটিয়ে মর্দানি প্রদর্শন করতে গেলেই মানবতা ভূলুণ্ঠিত হয়। জামায়াতিরা তিলকে তাল করে ভারতবিরোধী প্রচারণা চালিয়ে এ সরকারকে ভারতের খয়ের খাঁ বলে দোষারোপ করে। অথচ বাস্তবতা এই যে, এ সরকারের আমলেই ভারতের সঙ্গে সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক নির্মাণ সম্ভব। গরু ব্যবসা যারা করে, তারা কারা ভারতের বিএসএফও জানে, বাংলাদেশের বর্ডার গার্ডও জানে। হিসাবে একটুখানি গোলমাল হলেই গুলি চলে। ভারতীয় বিএসএফ যদি সৎ ও চরিত্রবান হতো, শত শত সাদা গরু আসে কোন আকাশ পথে? প্রকৃত ঘটনা সব হিসাবের হেরফের। মানুষকে হত্যা করে কাঁটাতারের বেড়ার ওপর লটকিয়ে প্রদর্শন করা হয়, এ কোন মানবিক আচরণ? সীমান্ত অতিক্রম করলে জেলের ব্যবস্থা আছে, আইনের দরজা খোলা আছে। দেখামাত্র গুলি করার অধিকার, একজনের বেঁচে থাকার অধিকার হরণ করা পৃথিবীর কোনো আইনই কাউকে দেয়নি। দু'দেশের সীমান্তের চাষাবাদযোগ্য জমিগুলোতে সীমানা পিলার দেওয়া আছে। যেখানে পিলার নেই, ওখানে পিলার দেওয়ার ব্যবস্থা দু'দেশের সরকারের। কিন্তু ওই জমিতে চাষ করতে গিয়ে কেউ লাশ হয়ে ঘরে ফিরবে_ এমনটি আশা করা যায় না।
ভারতের মন্ত্রী এক সময় বলেছিলেন, সীমান্তে আর একটি গুলির ঘটনা ঘটবে না। বাংলাদেশের মানুষ খুশি হয়েছিল। কিন্তু মাস না যেতেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি। সাধারণ মানুষের মনে সন্দেহের দানা বড় হতে শুরু করেছে। বেশি দূরে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। আমরা মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর বর্ডারের দিকে তাকাতে পারি, এক দেশের নাগরিক অন্য দেশে যেতে কোনো ভিসার প্রয়োজন পড়ে না। জোহা বারুর শত শত লোক সীমান্ত পার হয়ে সিঙ্গাপুরে চাকরি করে সন্ধ্যায় আবার ফেরত আসে। কোনো বাধা নেই, কোনো জটলা নেই। পানির মতো চলছে দু'দেশের সম্পর্ক। ভারত-বাংলাদেশের কি অনুরূপ ব্যবস্থা চালু করা যায় না? নিশ্চয়ই যায়। শুধু আন্তরিকতা ও বিশ্বাসের দরকার। ভারতীয় ভিসা এখন আমেরিকার ভিসা থেকেও কঠিন করা হয়েছে। চিকিৎসা, আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ ছাড়াও শত শত মানুষ আজমির যেতে চায়; কিন্তু ভিসা পাওয়া এখন কঠিন হয়েছে। আমরা কি ভিসা ব্যবস্থা রহিত করতে পারি না? সীমান্তে যে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করা হয়েছে, ওটাকে কে, কীভাবে গ্রহণ করবেন আমি জানি না; তবে আমরা গরু-মহিষের হাত থেকে ফসল রক্ষা করার জন্য সাধারণত ঘেরা-বেড়া নির্মাণ করি। মোদ্দা কথা, ভারত সরকার ও জনগণই পারে সন্ত্রাস দমনে এ সরকারকে সাহায্য করতে। সীমান্ত হত্যা বন্ধ, দহগ্রাম-আঙ্গরপোতায় চুক্তি অনুযায়ী সুবিধা বৃদ্ধিসহ সব প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে প্রগতির স্রোতে বাংলাদেশকে ভারতের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে সাহায্য করলে ভারতের লাভ ছাড়া কোনো ক্ষতি নেই। আমরা সবাই বাঁচতে চাই। বাঁচার তাগিদে একে অন্যের সহযোগিতা চাই।
নুরুল ইসলাম বিএসসি :সংসদ সদস্য ও
কলাম লেখক
No comments