প্রশিকা কার্যালয়ে কাজী ফারুক

প্রায় তিন বছর পর প্রশিকা কার্যালয়ে ঢুকেছেন প্রতিষ্ঠানটির সাবেক চেয়ারম্যান কাজী ফারুক আহমেদ। গতকাল রোববার সকালে অফিস শুরুর আগে নিজের সহযোগীদের নিয়ে তিনি প্রশিকায় যান। প্রশিকার কর্মীরা অভিযোগ করেছেন, কাজী ফারুক জোর করে প্রশিকা কার্যালয় দখল করেছেন।


তবে কাজী ফারুক দাবি করেছেন, কর্মীরাই তাঁকে প্রশিকায় ফিরিয়ে এনেছেন।
প্রতিষ্ঠানের নিয়ম ও বিধিবহির্ভূত কাজের জন্য ২০০৯ সালের ২৪ মে প্রশিকার পরিচালনা পর্ষদ (তখন যার চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি) তাঁকে অপসারণ করে। এরপর বিষয়টি আদালতে গড়ায়। আদালতের প্রতিটি সিদ্ধান্তও তাঁর বিরুদ্ধে যায়। এরই মধ্যে তিনি একাধিকবার নিজের সহযোগী ও ভাড়াটে লোক নিয়ে প্রশিকা কার্যালয়ে ঢোকার চেষ্টা করেন। কিন্তু প্রতিবারই ব্যর্থ হন। সর্বশেষ গতকাল কিছু বহিরাগত, কিছু নিকটাত্মীয় এবং প্রশিকা থেকে চাকরি হারানো কিছু লোক নিয়ে তিনি প্রশিকা ভবনে ঢোকেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, গতকাল সকাল নয়টায় অফিস শুরুর আগেই কাজী ফারুক একদল লোক নিয়ে মিরপুর ২ নম্বর সেকশনে প্রশিকার প্রধান কার্যালয়ে ঢোকেন। কিছু কর্মীসহ তাঁর সঙ্গের লোকজন প্রশিকার বিভিন্ন তলায় গিয়ে অবস্থান নেন। দুপুরে প্রশিকা কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গেও কথা বলেন কাজী ফারুক। এ সময় তিনি দাবি করেন, তিন বছর আগে একটি মহল অবৈধ পরিচালনা পর্ষদ তৈরির মাধ্যমে তাঁকে বিতাড়িত করে প্রতিষ্ঠানটিকে ধ্বংস করেছে। প্রশিকাকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়ার জন্যই কর্মীদের আহ্বানে তিনি ফিরে এসেছেন।
প্রশিকা থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও একই কথা বলা হয়েছে। কাজী ফারুকের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত নারগিস জাহান বানু স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রশিকায় কাজী ফারুক প্রত্যাবর্তন করেছেন। তিনি সব কর্মীকে প্রশিকা পুনর্গঠনের কাজে আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানিয়েছেন এবং বর্তমান সরকারের রূপকল্প-২০২১ এর সঙ্গে একাত্ম হয়ে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
আদালতের কোন রায় বা অন্য কোন পরিপ্রেক্ষিতে কাজী ফারুক কার্যালয়ে ঢুকলেন জানতে চাইলে নাসরিন জাহান বানু প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রশিকায় কয়েক বছর ধরে অনিয়ম ও দুর্নীতি চলছিল। এ জন্য প্রশিকার কর্মীরা গত বুধবার আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তাঁরাই কাজী ফারুককে নিয়ে এসেছেন।’
১৯৭৫ সালে বেসরকারি সংস্থা প্রশিকার কার্যক্রম শুরু হয়। গত তিন দশকে সংস্থাটি দেশের দারিদ্র্য দূরীকরণসহ বিভিন্ন খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তবে কাজী ফারুকের বিরুদ্ধে কয়েক বছর ধরেই প্রশিকাকে ব্যক্তি ও রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। প্রশিকার গঠনতন্ত্র না মেনে নিজের ইচ্ছামতো প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, বিভিন্ন খাতে কর্মীদের জমানো টাকা না দেওয়া, চাকরি ছেড়ে দেওয়া কিংবা অবসর নেওয়া কর্মীদের পাওনা পরিশোধ না করা, অপর দিকে নিজের ঘনিষ্ঠজনদের বিধিবহির্ভূত নানা সুযোগ-সুবিধা দেওয়াসহ অনেক অভিযোগ ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। জরুরি অবস্থার সময় রাজনীতিও করেন কাজী ফারুক। ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে নিজে একটি রাজনৈতিক দল করে তিনি নির্বাচনও করেন।
২০০৯ সালে কাজী ফারুকের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন কর্মীরা। এরপর পরিচালনা পর্ষদ তাঁকে সরিয়ে দেয়। বিষয়টি আদালতে গড়ালে প্রশিকার দায়িত্ব পান মাহবুবুল করিম। এরপর গত বছরের আগস্ট মাসে কাজী ফারুক দলবল নিয়ে প্রশিকা কার্যালয়ে ঢোকার চেষ্টা করলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। তবে আদালতের রায় নিয়ে মাহবুবুল করিমই এত দিন প্রশিকা চালাচ্ছিলেন।
কাজী ফারুকবিরোধী প্রশিকার কয়েকজন পরিচালক ও সহকারী পরিচালক প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, কাজী ফারুকের হঠাৎ করে ফিরে আসা নিয়ে তাঁরা ফের আদালতে যাবেন। আইনি প্রক্রিয়ায় কীভাবে বিষয়টি মোকাবিলা করা যায়, তা নিয়ে ইতিমধ্যে কর্মীরা কথা বলেছেন। দু-এক দিনের মধ্যে সারা দেশের মাঠকর্মীরাও এ নিয়ে আলোচনায় বসবেন।

No comments

Powered by Blogger.