সময়চিত্র-আমরা কোথায় যাচ্ছি? by আসিফ নজরুল

আমার ছাত্রদের প্রায়ই বলি, আইন হচ্ছে সহজ বিষয়। আইন মানে কমন সেন্স। সাধারণ বুদ্ধিতে সরল মনে যে আইনের যৌক্তিকতা বোঝা যায় না, সেটি ভালো আইন নয়। আবার আদালতের যে রায়ের কারণ ও যৌক্তিকতা বোঝা যায় না, সেটিও উত্তম রায় নয়।

সে জন্যই আইনশাস্ত্রে বলা হয়, ন্যায়বিচার শুধু করলে হবে না, ন্যায়বিচার যে হয়েছে তা মানুষের কাছে বোধগম্য হতে হবে। বিএনপি সরকারের সময় সর্বোচ্চ আদালত রায় দিয়েছিলেন যে নির্বাচনে প্রার্থীদের নিজেদের সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। আমি তখন প্রথম আলোতে ‘এটি কেমন রায়’ শিরোনামে তীব্র সমালোচনামূলক একটি লেখা লিখি। তত্ত্বাবধায়ক সরকারসংক্রান্ত আপিল বিভাগের রায় দেখে একই শিরোনামে একটি লেখা লিখতে ইচ্ছে হচ্ছে। কিন্তু রায়টির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ লেখা হয়নি, কেবল সংক্ষিপ্ত আদেশ দেওয়া হয়েছে। এই সংক্ষিপ্ত আদেশ দেখে বিচলিত হয়ে তাই কেবল কিছু প্রশ্ন উত্থাপন করছি। এই প্রশ্নগুলো খুব জরুরি। কারণ, এসব নিয়ে খোলামেলা আলোচনা না হলে ভয়াবহ এক বিপর্যয়ের মুখে অচিরেই পড়তে হতে পারে আমাদের।

২.
সর্বোচ্চ আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী এখন থেকে অবৈধ। আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন করার আর কোনো সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা তাই বর্তমান সরকারের নেই। আদালত ইংরেজি ‘মে’ শব্দ ব্যবহার করে বলেছেন, বাস্তব প্রয়োজনে, দেশ ও জনগণের স্বার্থে আগামী দুটি নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হতে পারে। হতে পারে বলার মানে হচ্ছে, এটি বাধ্যতামূলক নয়। আদালত মনে করছেন, বাস্তবতার নিরিখে, দেশ ও জনগণের স্বার্থে আগামী দুটি নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হওয়া প্রয়োজন, কিন্তু এটি করার কোনো বাধ্যবাধকতা আবার আদালত সৃষ্টি করেননি। সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে তাই দেশ ও জনগণের বৃহত্তর স্বার্থকে অগ্রাহ্য করে দলীয় সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এখন রায়ের আলোকে আগামী নির্বাচন মহোজোট সরকারের অধীনে হতেও পারে, না-ও হতে পারে। আমরা যদি মনে করি, আদালতের প্রত্যাশা অনুসারে মহাজোট সরকার দেশ ও জনগণের বৃহত্তর স্বার্থকে গ্রাহ্য করে অবশ্যই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন করবে, তাহলে সে দৃষ্টিকোণ থেকে এটি ঠিক আছে। কিন্তু আদালতের সে প্রত্যাশার ভিত্তি কী? আর অবৈধ ঘোষিত একটি ব্যবস্থা আরও এক যুগ অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা আদালত কীভাবে ব্যক্ত করতে পারেন?
আমার দ্বিতীয় প্রশ্ন, সর্বোচ্চ আদালত আগামী দুটি মেয়াদের নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত করা দেশ ও জনগণের স্বার্থে প্রয়োজন মনে করছেন। তাহলে এই দুটি নির্বাচনের পরের নির্বাচনগুলোও নয় কেন? আমরা জানি, নির্বাচন কমিশন স্বাধীন হলে এবং রাজনৈতিক দলের জবাবদিহি সুনিয়ন্ত্রিত করা গেলে দেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের সম্ভাবনা জোরালো হয়। আগামী ১২ বছরে এগুলো না করা হলে আগামী তৃতীয় বা চতুর্থ মেয়াদের নির্বাচনও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত করার যৌক্তিকতা রয়ে যাবে। আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায়ে আমরা কি এসব বাধ্যবাধকতা আরোপ করতে দেখব? আদালত কি আসলেই এমন বাধ্যবাধকতা সংসদের ওপর আরোপ করতে পারেন? এ ধরনের বাধ্যবাধকতা সর্বোচ্চ আদালত ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার ও রিমান্ডের বিষয়ে আরোপ করেছিলেন। কোনো সরকার তার প্রতি যথার্থ সম্মান দেখায়নি, এসব নির্দেশনার আলোকে সংসদে কোনো আইনই প্রণীত হয়নি। সুষ্ঠু নির্বাচনের সদিচ্ছা এবং সে অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণ সে ক্ষেত্রে সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক দলগুলোর এবং আরও সুনির্দিষ্টভাবে তাদের সাংসদদের বিষয়। আদালত যদি তা সুনিশ্চিত করতে না পারেন, তাহলে সব দলের মতৈক্যের ভিত্তিতে এ লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত একটি বিরাজমান ব্যবস্থা (তত্ত্বাবধায়ক সরকার) বাতিল করার যৌক্তিকতা সেই একই আদালতের রয়েছে কি?

৩.
সর্বোচ্চ আদালতের ক্ষমতা রয়েছে, কোনো সংশোধনীকে সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে সংঘাতমূলক মনে হলে তাকে অবৈধ ঘোষণা করার। সংবিধানের মৌলিক কাঠামো আসলে কী, আদালত কর্তৃক এটি নির্ধারণের যৌক্তিকতা আসলে রয়েছে কি না, এ নিয়ে অবশ্য বিভিন্ন দেশে আইনবেত্তাদের মধ্যে বিতর্ক রয়েছে। আমাদের দেশেও এই বিতর্ক অনুপস্থিত নয়। তার পরও বিভিন্ন সময়ে আমাদের সর্বোচ্চ আদালতের বিচারকেরা মৌলিক কাঠামোর তালিকা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর করেছেন। এর সবকিছু জনকল্যাণকর বা জনস্বার্থমূলক হিসেবে না-ও বিবেচিত হতে পারে ভবিষ্যতে। যেমন, অষ্টম সংশোধনী মামলার রায়ে বাংলাদেশ যে এককেন্দ্রিক রাষ্ট্র, তা আমাদের সংবিধানের মৌলিক কাঠামো হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সব দল মিলে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য যদি সংবিধান সংশোধন করে, তাহলে তা উপরিউক্ত মৌলিক কাঠামোবিরোধী হিসেবে অবৈধ ঘোষণা করার ক্ষমতা আদালত প্রয়োগ করবেন কি বা তা করা উচিত হবে কি? আমি যা বলতে চাইছি তা হচ্ছে, ক্ষমতা থাকলেই আদালতকে তা প্রয়োগ করতে হবে এবং সেটিও বৃহত্তর জনস্বার্থকে জনগণের প্রতিনিধিরা যেভাবে ব্যাখ্যা করেন, তাকে নাকচ করে দিয়ে, এটি সমর্থনযোগ্য নয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকার আওয়ামী লীগসহ বহু দলের আন্দোলনের মুখে বিএনপির নেতৃত্বাধীন সংসদে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এ সরকারব্যবস্থা বাতিলের ইচ্ছে আজ পর্যন্ত কোনো দল তার নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষণা করেনি, মাত্র কিছুদিন আগেও এই ব্যবস্থা কিছু সংস্কার সাপেক্ষে অব্যাহত রাখার পক্ষে মত দিয়েছে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো। তার পরও তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করার সাংবিধানিক অধিকার আওয়ামী লীগের রয়েছে। সংকীর্ণ দলীয় স্বার্থে আওয়ামী লীগ তা করলে তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মসূচি ও দেশব্যাপী আন্দোলন গড়ে তোলার অধিকার ও সুযোগ বিরোধী দলগুলোর রয়েছে। কিন্তু সর্বোচ্চ আদালত এটি অবৈধ ঘোষণা করেছেন—এ অজুহাতেই আওয়ামী লীগ এটি সংবিধানে পুনঃস্থাপিত না করলে জনগণ কীভাবে এবং কার বিরুদ্ধে তাদের ক্ষোভ জানাবে?
নিরেট আইনি ব্যাখ্যায় কেউ বলতে পারেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা গণতন্ত্র (এবং সে কারণে সংবিধান) বিরোধী হলে এটি আপিল বিভাগ বাতিল করবেন না কেন? আইনি ব্যাখ্যায় আমাদের হাইকোর্ট এবং একজন বাদে আপিল বিভাগের নিযুক্ত কোনো অ্যামিকাস কিউরির কাছেই কিন্তু এটি অবৈধ মনে হয়নি। এমনকি আপিল বিভাগ বিভক্ত রায় দিয়েছেন বলে আমরা এটিও বলতে পারি যে, সেখানকার কোনো কোনো বিচারকের কাছেও এটি অবৈধ মনে হয়নি। কেবল আপিল বিভাগের সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে হাইকোর্ট, প্রায় সব রাজনৈতিক দল, অধিকাংশ আইন বিশেষজ্ঞ ও নাগরিক সমাজের কাছে বৈধ ও গ্রহণযোগ্য বিবেচিত একটি ব্যবস্থা বাতিল করে দেওয়া কি আমাদের সংবিধানের মূল চেতনার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ?

৪.
কিছু বিষয় মূলত রাজনৈতিক, কিছু বিষয় মূলত আইনগত। রাজনৈতিক বিষয় নিয়ন্ত্রণ করার প্রবণতা আমরা গত দুই বছরে সুপ্রিম কোর্টের কাছে প্রত্যক্ষ করছি। এর ফলে এমন কিছু সংকট ভবিষ্যতে তৈরি হবে, যা সামাল দেওয়া রাজনীতিবিদদের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে। জাতি হিসেবেও আমরা নানা বিভ্রান্তি, অনিশ্চয়তা ও অস্বস্তির মধ্যে পড়ব। আমি এখনই অস্বস্তি নিয়ে ভাবি, গত দুই বছরে উচ্চ আদালত প্রত্যক্ষ ও অপ্রত্যক্ষভাবে আমাদের প্রায় সবকিছুকেই অনেকাংশে অবৈধ ঘোষণা করে ফেলেছেন। জিয়াউর রহমান ও এরশাদের শাসনকাল অবৈধ ঘোষিত হয়েছে। আদালতের রায় অনুসারে তত্ত্বাবধায়ক সরকার যদি এখন থেকে অবৈধ হয়, তাহলে আমরা বলতে পারি যে এটি শুরুর সময়ও অবৈধ ছিল। অবৈধ সরকারের অধীনে নির্বাচন এবং তার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত নির্বাচিত সরকারও তাহলে এক অর্থে অবৈধ ছিল, নয় কি? এই রাষ্ট্রের জন্মের পর ৪০ বছরের প্রায় ৩০ বছরই আমরা সরাসরি বা প্রকারান্তরে অবৈধ শাসনামলে অতিবাহিত করেছি? অবৈধ সরকারগুলোর আমলে উচ্চ আদালতের বিচারকসহ সব সরকারি নিয়োগ, বাজেট পাস, উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড, প্রণীত আইন, নীতিমালা, জন্মনিবন্ধন, আন্তর্জাতিক চুক্তিতে স্বাক্ষর দান—সবকিছুর মধ্যে কোনো না কোনোভাবে অবৈধতার ছোঁয়া রয়েছে তাহলে? এই রাষ্ট্রের তাহলে থাকল কী আর? ভবিষ্যতে কোনো আদালত ১৯৭২ সালের গণপরিষদ গঠন, ১৯৭৪ সালের বাকশাল, ১৯৯০ সালের সাহাবুদ্দীনের সরকার—এসবই অবৈধ ঘোষণা করে দিতে পারেন। তাত্ত্বিকভাবে হলেও এটি করা অসম্ভব নয়।
জাতি ও রাষ্ট্র গঠনের প্রাথমিক পর্যায়ে তাই সবকিছু শুধু কঠিন আইনের নিরিখে দেখলে হয় না। সবার আগে দেশ ও বৃহত্তর জনস্বার্থ। এই বড় ক্যানভাসে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রজ্ঞা না থাকলে সত্যি সত্যি বাংলাদেশের মতো গণতন্ত্রের পথে নিত্য-সংগ্রামশীল রাষ্ট্রের সবকিছু অবৈধ ঘোষণা করে ফেলা সম্ভব। এমনকি অশুভ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কোনো কূটবুদ্ধির বিচারকের পক্ষে ১৯৭০ সালে পাকিস্তানের সংবিধান প্রণয়নের জন্য নির্বাচিতদের ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের আইনগত এখতিয়ার আছে কি না, এই প্রশ্ন তুলে ১৯৭২ সালের সংবিধানকে অবৈধ ঘোষণা করে ফেলা সম্ভব!
বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগের বাড়াবাড়িতে প্রজাতন্ত্রে বিপর্যয় ঘটেছে—এমন নজির পৃথিবীতে আছে। আমরা কি এসব বিষয়ে সচেতন আছি? সাময়িক সুবিধা হচ্ছে বলে কোনো গভীর বিশ্লেষণ ছাড়া কোনো রায়কে ‘মহত্তম’ বা কখনো ‘যুগান্তকারী’ বলে ফেলার পরিণতি পরবর্তী সময়ে কী হতে পারে, আমরা কি তা ভেবে দেখছি?

৫.
তত্ত্বাবধায়ক সরকারসংক্রান্ত রায় প্রসঙ্গে ফিরে আসছি। এই রায় নানা আশঙ্কা সৃষ্টি করছে এবং করবে। তার পরও বলি, চূড়ান্ত কোনো সর্বনাশ এ জন্য এখনো ঘটে যায়নি। সর্বোচ্চ আদালতের রায়কে অপব্যবহার করে দলীয় সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচনের উদ্যোগ নিলে দেশে অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে। আবার এই রায়কে দেশ ও বৃহত্তর জনস্বার্থে সুচিন্তিতভাবে ব্যবহার করে সর্বনাশ ঠেকানোও সম্ভব। সে জন্য আগামী দুই মেয়াদের জন্য হলেও তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে সংবিধানে পুনঃস্থাপিত করতে হবে। আপিল বিভাগ অবসরপ্রাপ্ত বিচারকদের তত্ত্বাবধায়ক সরকারে না রাখার পরামর্শ দিয়েছেন সংসদকে। এই পরামর্শ যে ভাষায় দেওয়া হয়েছে, তা বাধ্যতামূলক নয়। আমি মনে করি, শ্রেয়তর বিকল্প না পাওয়া গেলে এবং প্রধান দুটি দলের মতৈক্য প্রতিষ্ঠিত না হলে সর্বশেষ অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে রাখা মঙ্গলজনক হবে। বর্তমান প্রধান বিচারপতি অবসরে যাওয়ার পর পুনরায় জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে পরবর্তী প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেওয়ায় তিনিই হবেন পরবর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান। তাঁর ব্যাপারে প্রবল আপত্তি উত্থাপিত হলে তাঁর আগে অবসর নেওয়া প্রধান বিচারপতিদের নিয়োগ করার সুযোগ থাকবে। এ নিয়ে এখনই আশঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
আমাদের জনপ্রতিনিধিরা পারেন দেশকে বিচারিক রায়জনিত অনিশ্চয়তা থেকে রক্ষা করতে। তাঁরা যদি ব্যর্থ হন, তাহলে দেশে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে, তার সবচেয়ে বড় শিকার হবেন তাঁরাই, বিচারকেরা নন। গুত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তা-ই হয়েছিল।
আসিফ নজরুল: অধ্যাপক, আইন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

No comments

Powered by Blogger.