শুরুতেই বাংলাদেশের পাকিস্তান-পরীক্ষা by তারেক মাহমুদ

অবসর পাচ্ছে না মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়াম। নিয়তই তার ব্যস্ততা। ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগ বাদ দিলেও গত এক বছরে এই মাঠ দেখেছে বিশ্বকাপ। দেখেছে অস্ট্রেলিয়া, ওয়েস্ট ইন্ডিজ আর পাকিস্তানের বিপক্ষে হোম সিরিজ। দেখেছে বিপিএলে দেশি-বিদেশি তারকাদের পায়ের ছাপ। আজ থেকে দেখবে এশিয়া কাপও।


আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এশিয়া কাপ ক্রমেই একটা মরীচিকার নাম হয়ে উঠছে। ১৯৮৪ সালে প্রথম এশিয়া কাপ হলো। এর পর থেকে দুই বছর অন্তর অন্তর টুর্নামেন্টটি হওয়ার কথা থাকলেও ১৯৯০-৯১, ২০০০ ও ২০০৪-এর এশিয়া কাপের পর বিরতি পড়ে চার বছর করে। মরীচিকা শুধু এ জন্যই বলা নয়। উপমহাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা আর ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের টানাপোড়েন এই টুর্নামেন্টের সময়সূচিটাকে বেশির ভাগ সময়ই ঠিক থাকতে দেয় না।
তার পরও এশিয়া কাপ উপমহাদেশের বিশ্বকাপ। সম্পর্কের সেতুবন্ধও। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়াম প্রথমবারের মতো ধারণ করছে এটি আয়োজনের গর্ব। বিশ্বকাপের রং এখনো ওঠেনি বলে নতুন করে খুব বেশি সাজতে হচ্ছে না। তবে ঢাকার মাঠ দিবারাত্রির এই এশিয়া কাপেই প্রথম দেখবে ডিজিটাল সাইটস্ক্রিন।
এ পর্যন্ত হওয়া ১০টি এশিয়া কাপে ভারতই চ্যাম্পিয়ন পাঁচবার। শ্রীলঙ্কা চারবার, পাকিস্তান একবার। ২০০০ সালের চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান মিসবাহ-উল-হকের নেতৃত্বে এবার ফিরে পেতে চায় এশিয়া কাপের ট্রফি। ভারতের বিপক্ষে গত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের পর থেকে সর্বশেষ ইংল্যান্ড সিরিজের আগ পর্যন্ত ১৯টি ওয়ানডে খেলে ১৬টিতেই জয় তাদের আত্মবিশ্বাসে ভালো জ্বালানি হতে পারত। সমস্যা বাধিয়েছে সর্বশেষ ইংল্যান্ড সিরিজটা। টেস্ট সিরিজে ইংল্যান্ডকে হোয়াইটওয়াশ করলেও ওয়ানডেতে উল্টো পাকিস্তানই হোয়াইটওয়াশ হয়েছে, হেরেছে টি-টোয়েন্টি সিরিজও!
অধিনায়ক মিসবাহ-উল-হক পরাজয়ের ওই স্মৃতি ভুলে যেতে চান। আঁকড়ে ধরতে চান সুখস্মৃতি! মিসবাহ তাই ফিরে গেলেন আরেকটু পেছনে, ‘প্রতিটি ম্যাচ, প্রতিটি সিরিজই নতুন খেলা। শুধু হেরে যাওয়া সিরিজের কথা মনে রাখলেই চলবে না। এর আগে তো টানা ছয়টা সিরিজেই আমরা জিতলাম! গত ওয়ানডে সিরিজটা ভুলে গিয়ে আমরা এখন সামনে তাকাতে চাই।’
সামনে তাকিয়ে প্রথমেই চোখ পড়ছে বাংলাদেশের ওপর। মুশফিকুর রহিমের দলের বিপক্ষে আজ মিসবাহদের ম্যাচ দিয়েই তো শুরু হচ্ছে এশিয়া কাপ! প্রথম ম্যাচেই টুর্নামেন্টের সবচেয়ে দুর্বল দলটি প্রতিপক্ষ, মিসবাহর খুশিই হওয়ার কথা। তবে কাল সংবাদ সম্মেলনে মুখে অন্তত যোগ্য প্রতিদ্বন্দ্বীর মর্যাদা দিলেন স্বাগতিকদের, ‘কোনো দলকে দুর্বল ভাবা ভুল। এই ভুল আমরা করতে চাই না। নিজেদের মাঠে বাংলাদেশ সব সময়ই কঠিন প্রতিপক্ষ। নিজেদের দিনে ঠিকই আপনাকে হতাশায় ডোবাবে। কাজেই ম্যাচটা জিততে আমাদের শতভাগ ঢেলে দিতে হবে।’
নিজেদের দিন, সেরা খেলা—এসব শর্ত পূরণ হলে বাংলাদেশ যে অপ্রতিরোধ্য, এটা সাকিব আল হাসানও গর্বিত চিত্তেই বললেন। সংবাদ সম্মেলনে এশিয়া কাপে দলের লক্ষ্য জানতে চাইলে হেসে উত্তর দিয়েছেন, ‘চ্যাম্পিয়ন হওয়া!’ টুর্নামেন্টের সব ম্যাচ যদি বাংলাদেশ খেলে নিজেদের দিনে, উপহার দেয় সেরা খেলা—শিরোপা জয় কি অসম্ভব? সাকিব অত বড় স্বপ্ন না দেখালেও এশিয়া কাপটাকে দেখছেন নিজেদের দেখার আয়না হিসেবে, ‘আমরা ভালো ক্রিকেট খেলতে চাই। নিজেদের মাটিতে এটা সম্ভব। আমাদের সামর্থ্য কতটুকু কিংবা আমাদের পারফরম্যান্স কীভাবে দেখাতে পারি, কতটুকু উন্নতি করা দরকার বা লেভেলটা এখন কোথায় আছে, সেসব জানার খুব ভালো জায়গা এটা।’
এশিয়া কাপের ঠিক আগে আগে বিতর্কে কেঁপেছে বাংলাদেশের ক্রিকেট। দল নির্বাচনে বোর্ড সভাপতির হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচকের পদত্যাগ কাঁপন তো ধরাবেই! তবে ড্রেসিংরুমে সেই কাঁপন অনুভূত হয়নি বলে দাবি সাকিবসহ সবার। দলের প্রস্তুতিতেও কোনো প্রভাব ফেলেনি সেটা।
বোর্ড সভাপতি প্রথমে তামিম ইকবালকে বাদ দিলেও টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচেই টিম ম্যানেজমেন্ট বাঁহাতি এই ওপেনারের ওপর আস্থা রাখছে বলে দল সূত্রের খবর। ম্যাচের ঠিক আগে কোনো অদলবদল না ঘটলে আজ নাজিমউদ্দিনকে নিয়ে ইনিংস শুরু করতে নামবেন তামিমই। কিন্তু ওপেনিংয়ে তাঁর নিয়মিত সঙ্গী ইমরুল কায়েস একাদশের বাইরে থাকলে সেটা অবশ্যই বিতর্কের দাবি রাখে। সর্বশেষ তিন আন্তর্জাতিক ম্যাচে মাত্র ১৭ রান করলেও গত প্রিমিয়ার লিগে তৃতীয় সর্বোচ্চ (৫০৭) স্কোরার এই বাঁহাতি। ফর্মে ফিরে লাভ হলো কি ইমরুলের!
প্রথম ম্যাচের দলে আরও নেই বাঁহাতি স্পিনার ইলিয়াস সানি, নেই নবাগত আনামুল হক আর পেসার নাজমুল হোসেনও। তার মানে, ১১ মাস পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরে প্রথম ম্যাচেই পেসার মাশরাফি বিন মুর্তজা সহযোদ্ধা হিসেবে পাচ্ছেন শফিউল ইসলাম আর শাহাদাত হোসেনকে।
বাংলাদেশ খেলবে তিন পেসার নিয়ে! অনেক বিতর্কের মধ্যেও এমন আক্রমণাত্মক মানসিকতার জন্য প্রশংসা পেতে পারে টিম ম্যানেজমেন্ট।

No comments

Powered by Blogger.