২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার অভিযোগপত্র দাখিল - বিচার-প্রক্রিয়া দ্রুত চলুক

২০০৪ সালের ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলার সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করার মধ্য দিয়ে তদন্তকাজ শেষ হলো এবং বিচার-প্রক্রিয়া শুরু হলো। এতে নতুন আসামি করা হয়েছে ৩০ জনকে, যাঁদের মধ্যে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী


আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ এবং গোয়েন্দা সংস্থা ও পুলিশ বিভাগের কয়েকজন সাবেক শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাও আছেন। গত রোববার তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি ঢাকার মুখ্য মহানগর আদালতে এই সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করে। আসামিদের মধ্যে ১২ জন কারাগারে আটক আছেন। আদালত নতুন করে ১৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। গতকাল তিন সাবেক আইজিপি আদালতে হাজির হলে তাঁদের কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘২০০৪ সালের ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার সঙ্গে চারদলীয় জোট সরকারের সর্বোচ্চ মহলের হাত ছিল বলে তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। তা ছাড়া কিছু ব্যক্তিকে বাঁচাতে মামলাটি ভিন্ন খাতে নেওয়া হয়।’
২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার ঘটনাটি ছিল বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের নৃশংসতম হত্যাকাণ্ড। একটি প্রধান রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে নিশ্চিহ্ন করার উদ্দেশ্যেই এ হামলা চালানো হয় এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনাই ছিলেন মূল লক্ষ্য। তবে তিনি বেঁচে গেলেও এই হামলায় ২২ জন নেতা-কর্মী নিহত হয়েছেন। তদন্তে যেসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে, তাতে দেখা যায়, চারদলীয় জোট সরকারের কেউ কেউ এই অপরাধ সংঘটনে সক্রিয় সহায়তা করেছেন, কেউ কেউ অপরাধীদের বাঁচাতে নানা অপকৌশলের আশ্রয় নিয়েছেন। ঘটনার পরপরই আলামত নষ্ট করে ফেলা হয়। এমনকি তদন্তের নামে ‘জজ মিয়ার’ আষাঢ়ে গল্প ফাঁদতেও পিছপা হয়নি এই চক্র। জোট সরকারের বানানো এসব কল্পকাহিনি প্রথম আলোই প্রথম পাঠকের নজরে আনে এবং সত্য উদ্ঘাটনে ৫০টির মতো অনুসন্ধানী প্রতিবেদনসহ বহু সম্পাদকীয়-উপসম্পাদকীয় প্রকাশ করে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে প্রথমবারের মতো এ মামলার অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়; যাতে চারদলীয় জোট সরকারের উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু ও তাঁর ভাই তাজউদ্দিনের নাম বেরিয়ে আসে। তাজউদ্দিনই পাকিস্তানি জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তাইয়েবার নেতা মজিদ বাটের মাধ্যমে হামলায় ব্যবহূত আর্জেস গ্রেনেডগুলো নিয়ে আসেন।
মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর আশা করা গিয়েছিল, মামলার কাজ দ্রুত শেষ হবে, কিন্তু নানা কারণে তা হয়নি। সত্য উদ্ঘাটনের স্বার্থে অধিকতর তদন্তের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করা যায় না। এ মামলায় যেহেতু রাজনৈতিক নেতাদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, তাই মামলা পরিচালনা, সাক্ষী ও তথ্যপ্রমাণ হাজিরের কাজটি সর্বোচ্চ স্বচ্ছতার সঙ্গে করতে হবে; যাতে এ নিয়ে কোনো প্রশ্ন না ওঠে। বিলম্বে হলেও সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। এখন আদালতের বিচারকাজ এগিয়ে নেওয়ার পালা। ইতিহাসের বর্বরোচিত এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত ও ন্যায়বিচারই প্রত্যাশিত।

No comments

Powered by Blogger.