চরাচর-বিশ্বসেরা একটি আধুনিক ভবন by শারমিন শানু
আমাদের সংসদ ভবন আমাদের গণতন্ত্র চর্চার প্রধান পাদভূমি। এই ভবনটি বিশ্বসেরা আধুনিক ভবনের একটি (নিউ ইয়র্ক টাইমস, ৩০ নভেম্বর ২০০৩)। ঢাকার শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত আধুনিক স্থাপত্য আর প্রযুক্তির এক বিস্ময়। পৃথিবীর অন্যতম সব বিশাল আর চমকপ্রদ ভবনগুলোর তালিকার মধ্যে স্থান পেয়েছে আমাদের সংসদ ভবনের। এই ভবনটির নকশা তৈরি করেছিলেন আমেরিকান স্থপতি লুই কান।
তাঁর করা নকশায় এই সংসদ ভবন আজ আমাদের কাছে যেমন চিরবিস্ময়ের তেমনি এই স্থপতির জীবনও কম বিস্ময়কর ছিল না। ইহুদি এই অভিবাসী এস্তোনিয়ায় জন্মেছিলেন। ১৯৭৪ সালে ৭৩ বছর বয়সে তিনি মারা যান। মৃত্যুর সময় তাঁর পরিচয় ছিল বিশ্বসেরা একজন স্থপতি হিসেবে। সেরা এই স্থপতির নকশায় আমাদের সংসদ ভবন নির্মিত হলেও এর কাজের সমাপ্তি তিনি দেখে যেতে পারেননি। নয়টি স্বতন্ত্র বিভাগে বিভক্ত মূল ভবনটির কোথাও কোনো কলাম নেই। শূন্য স্থানের অংশ হিসেবে ফাঁপা কলাম থাকলেও তা কেবলই কাঠামো নকশায় ভারসাম্য রক্ষায় ব্যবহৃত হয়েছে। বিশিষ্ট এই ভবনটি ক্রিসেন্ট লেক নামের কৃত্রিম লেক দ্বারা পরিবেষ্টিত। এই ভবনটির নকশায় সূর্যের আলো এবং বৃষ্টির প্রতিরোধকে বিবেচনা করা হয়েছে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে। গতানুগতিকভাবে আমরা বিভিন্ন ভবনে যে দরজা-জানালা দেখে অভ্যস্ত এই ভবনটি হঠাৎ দেখে তেমন কোনো দরজা-জানালা চোখে না পড়লেও এর মূলত দরজার সংখ্যা এক হাজার ৬৩৫টি এবং জানালা ৩৩৫টি (বাংলাপিডিয়া অনুসারে)। ছাদ দিয়ে প্রবেশ করা আলো বিভিন্ন জায়গাকে যেভাবে আলোকিত করেছে তাতে মনে হয় যেন আলোকচ্ছটা ঝরে পড়ছে স্বর্গ থেকে। আর যে দক্ষতার সঙ্গে প্রকৃতির আলোর এই ব্যবহারের প্রয়োগ ঘটানো হয়েছে সেখানেই লুই কানের শ্রেষ্ঠত্ব আরেকবার ধরা পড়ে। বাংলাদেশের গণতন্ত্রের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এই জাতীয় সংসদ ভবন বিভিন্ন কল্যাণকর উপায়ে দেশটিকে যে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল, বর্তমান ও ভবিষ্যতেও সেই ধারা অব্যাহত থাকবে_এটাই সবার প্রত্যাশা। বিশ্বসেরা স্থাপত্যগুলোর মধ্যে আজ আমাদের সংসদ ভবন একটি। আর তাই কোনো একটি ক্ষেত্রে বিশ্বসেরাদের কাতারে যখন আমাদের সংসদ ভবনের নামের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের নাম চলে আসে, ঠিক তেমনি বাংলাদেশের নামের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে লুই কানের নাম। আমাদের তাজমহল নেই, আইফেল টাওয়ার নেই, নেই বুর্জ খলিফা। তবে আজকের শ্রেষ্ঠ স্থাপত্যকর্মের একটি 'বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ ভবন' আছে সেটাই বা কম কিসের।
শারমিন শানু
শারমিন শানু
No comments