শিশুর শিক্ষা ও অভিভাবকের করণীয়-শিক্ষা by মোঃ সিদ্দিকুর রহমান

শিক্ষার বড় উদ্দেশ্য জ্ঞান অর্জন। অপরিপকস্ফ বয়সে না বুঝে মুখস্থ করা হলে ভবিষ্যতে ভুলে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। শিশুর জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের জন্য প্রয়োজন বয়স, রুচি, সামর্থ্য অনুযায়ী মনোবিজ্ঞানসম্মত শিক্ষা শিশু জন্মের পরই অঙ্গভঙ্গি ও কান্নার মাধ্যমে তার মনের ভাব প্রকাশ করে থাকে। আমরা বড়রা গভীর অনুভূতির মাধ্যমে শিশুর এ মনোভাব উপলব্ধি করে থাকি।


দিন দিন শিশু বড় হয়, কথা বলতে শেখে এবং চাওয়া-পাওয়ার মানসিকতা অর্জন করে। অথচ আমরা তাদের চাওয়া-পাওয়ার সফল বাস্তবায়নের পরিবর্তে অসহযোগিতা করি। যেমন ৩ থেকে ৬ বছরের যে শিশুটি হাসবে, খেলবে, দৌড়াবে, প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকে জ্ঞান অর্জন করবে, আমরা শিশুর সেই হাসি-খুশি আনন্দময় পরিবেশকে বদ্ধ ঘরে আটকে রেখে অমনোবিজ্ঞানসম্মত শিক্ষা নিতে বাধ্য করি। শিশুর বয়স, রুচি, সামর্থ্য ও যোগ্যতা মোটেই যাচাই না করে কঠিন এবং অপ্রয়োজনীয় শব্দমালা মুখস্থ করাই। শাসন-নির্যাতনের ভয়ে শিশু এসব কিছু মুখস্থ করে ঠিকই; কিন্তু সে সবসময়ই ভীত-সন্ত্রস্ত থাকে। এ অমানবিক মানসিক চাপের মুখে শিশু যখন ধীরে ধীরে বড় হয়, তখন অভিভাবকদের বলতে শোনা যায়, ছোটবেলায় আমার সন্তান ভালো ছিল, বড় বড় কঠিন শব্দ শিখেছে। আর এখন ভালো ফল করতে পারছে না। শিক্ষার বড় উদ্দেশ্য জ্ঞান অর্জন। অপরিপকস্ফ বয়সে না বুঝে মুখস্থ করা হলে ভবিষ্যতে ভুলে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। শিশুর প্রকৃত জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের জন্য প্রয়োজন বয়স, রুচি, সামর্থ্য অনুযায়ী মনোবিজ্ঞানসম্মত শিক্ষা। অথচ কিন্ডারগার্টেন ও নামিদামি বিদ্যালয়ে শিশুর প্রতিভা বিকাশের সুযোগ হরণ করে অপ্রয়োজনীয় পুস্তক পড়ানো হচ্ছে। আমরা শিশুর অধিকার হরণ করে নামিদামি বিদ্যালয়গুলো 'তেলা মাথায় তেল দেওয়া' নীতিতে তাদের শিক্ষাক্রম পরিচালনা করছি। এ ব্যাপারে আমরা কেউ ভেবে দেখি না। অন্যদিকে দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর সন্তানদের নিয়ে একটু চিন্তা-ভাবনা করতে পারেন না? সম্প্রতি বিভিন্ন স্কুলে শেষ হলো ভর্তি পরীক্ষা। অভিভাবকরা অস্থির হয়ে উঠেছিলেন, কারণ সন্তানকে নামিদামি স্কুলে ভর্তি করাতে হবে। কোমলমতি এসব শিশুকে এখনই এত বড় প্রতিযোগিতার মুখোমুখি দাঁড় না করিয়ে নামিদামি বিদ্যালয়গুলোর কর্তৃপক্ষ কি পারে না সমাজের দারিদ্র্যক্লিষ্ট বৃহৎ জনগোষ্ঠীর শিশুদের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নিতে? সভ্য সমাজের প্রগতিশীল মানুষ হিসেবে আমরা কি পারি না আমাদের শিশুদের সঙ্গে স্ববিরোধী কাজ থেকে বিরত থাকতে।
আগামী প্রজন্মের অভিভাবকদের কাছে অনুরোধ, আসুন আমরা প্রত্যেকে দেশের প্রতিটি শিশুকে আপন সন্তান মনে করে তাদের শিক্ষার অধিকার বাস্তবায়নে এগিয়ে আসি এবং একটি সুন্দর সমৃদ্ধিশালী জাতি গঠন করি।

মোঃ সিদ্দিকুর রহমান : সাধারণ সম্পাদক বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি

No comments

Powered by Blogger.