টিপু সুলতান নির্যাতন- হাজারীর মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ by আদিত্য আরাফাত ও শেখ ফরিদ

ফেনীর সাংবাদিক টিপু সুলতানকে নির্যাতনের অভিযোগে জয়নাল হাজারির বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাটিকে রাজিনৈতিক হয়রানিমূলক হিসেবে চিহ্নিত করে প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ গত ১৮ নভেম্বর ফেনীর জেলা প্রশাসকের দপ্তরে পৌঁছ‍ুলেও কঠোর গোপনীয়তার কারণে তা প্রকাশ পায়নি।
ফেনী জেলা প্রশাসকের একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র বাংলানিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

সংশ্লিষ্ট্র সূত্র জানিয়েছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইন শাখা-১ এর সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ আবু সাঈদ মোল্লা গত ১৭ অক্টোবর চিঠিতে (স্মারক নং ৪৪.০০.০০০০.০৫৫.০৫.০০১.২০১২-১৩৯৩) স্বাক্ষর করেন।

চিঠিতে বলা হয়- ‘সরকার ফৌজদারি কার্যবিধির ১৮৯৮ এর ৪৯৪ ধারার আওতায় ফেনী থানার মামলা নং- ২২ তারিখ-১৭/৯/২০০১, ধারা-৩২৬/৩০৭/ ৩৪/১১৪/ দণ্ডবিধি-এর প্রসিকিউশন না চালানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। সে লক্ষে উক্ত মামলাটি প্রত্যাহারের জন্য ফেনী জেলার পাবলিক প্রসিকিউটরকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদানের অনুরোধ জানানো হচ্ছে।”

এদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে কর্মসূচি ঘোষণার জানান দিয়েছে ফেনী প্রেসক্লাব। গত বৃহস্পতিবার চিঠির কথা প্রকাশ হলে ফেনীতে কর্মরত সাংবাদিকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।

উল্লেখ্য, ২০০১ সালের ২৫ জানুয়ারি জয়নাল হাজারীর নেতৃত্বে তার ক্লাশ কমিটির (ব্যক্তিগত সন্ত্রাসী বাহিনী) সন্ত্রাসীরা বার্তা সংস্থা ইউএনবি’র ত‍ৎকালীন ফেনী জেলা প্রতিনিধি টিপু সুলতানকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে দেয়।

এ ঘটনায় টিপু সুলতান বাদী হয়ে ফেনীর পতিত গডফাদার জয়নাল হাজারীকে প্রধান আসামি করে ফেনী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

কিন্তু পুলিশ অভিযোগটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করা থেকে বিরত থাকে। পরবর্তীতে উচ্চ আদালতের নির্দেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে মামলাটি রেকর্ড করে পুলিশ।


অনুসন্ধানে জানা যায়, দীর্ঘ ৮ বছর ভারতে পালিয়ে থাকার পর প্রধান আসামি জয়নাল হাজারী মহাজোট সরকার গঠনের পর দেশে ফেরেন। ২০০৯ সালে রাজনৈতিক হয়রানিমূলক বলে দাবি করে ফেনী জেলা প্রশাসকের কাছে মামলাটি প্রত্যাহারের আবেদন করেন তিনি। একই বছরের ২৫ মে’র ফেনী জেলার রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার সংক্রান্ত যাচাই কমিটির দ্বিতীয় সভার সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে মামলাটি প্রত্যাহারের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠানো হয়।

ফেনীর তৎকালীন জেলা প্রশাসক আবদুল কুদ্দুস খানের সভাপতিত্বে সে সভায় উপস্থিত ছিলেন ফেনীর পুলিশ সুপার মল্লিক ফখরুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আলতাফ হোসেন চৌধুরী ও পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট হাফেজ আহাম্মদ।

ফেনীতে কর্মরত সাংবাদিকরা জানান, ২০০৩ সালের ১৫ এপ্রিল পুলিশ জয়নাল হাজারীসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেয় (চার্জশিট নং১৩০)। একই বছরের ৫ আগস্ট মামলাটির বিচার নিষ্পত্তির জন্য ফেনীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়। মামলার বাদী টিপু সুলতান আদালতে তার স্বাক্ষ্য দেওয়ার পর আসামি পক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট মামলাটির কার্যক্রমের উপর স্থগিতাদেশ দেন।

ফেনী জেলার রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার সংক্রান্ত যাচাই কমিটির সদস্য ও পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট হাফেজ আহাম্মদ বাংলানিউজকে বলেন, ``কমিটি মনে করেছে, মামলাটিতে বাদী প্রকৃত দোষীদের আসামি করেনি। যারা আসামি তাদের রাজনৈতিক হয়রানির উদ্দেশ্যে আসামি করা হয়েছে। সে বিবেচনায় যাচাই কমিটি সর্বসম্মতভাবে রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা হিসাবে সেটি প্রত্যাহারের জন্য ১০৯টি মামলার তালিকায় রেখে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠিয়েছে।``

তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রত্যাহারের অনুরোধপত্র প্রাপ্তির কথা স্বীকার করে বলেন, ``ফেনীর চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট না থাকায় পত্রটি এখনও আদালতে উপস্থাপন করা হয়নি।”

তাঁর মতে, প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ আদালতের এখতিয়ার।``    

ফেনী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বখতেয়ার ইসলাম মুন্না বাংলানিউজকে জানান, বৃহস্পতিবারই এ বিষয়ে সাংবাদিকরা অবগত হন। ফেনী জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় বিষয়টি আলোচনা হয়। সভায় রাজনৈতিক হয়রাননিমূলক মামলা হিসেবে যাচাই কমিটির সাংবাদিক টিপু সুলতান নির্যাতন মামলাটি তালিকাভুক্ত করায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের কঠোর প্রতিবাদ ও নিন্দা জানায় ফেনী প্রেসক্লাব।

এ বিষয় ফেনীর সাংবাদিকরা আন্দোলনে নামবে বলেও জানান তিনি।

No comments

Powered by Blogger.