দু’বার মন্ত্রী হয়েছি দু’বারই ফোন দিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ॥ মতিয়া

আল্লাহ রহমত করেছেন, আর প্রধানমন্ত্রী সুযোগ দিয়েছেন- তাই দু’বার মন্ত্রী হয়েছি। দেশের জনগণের জন্য কাজ করছি। আর দু’বারই বঙ্গভবনে যাওয়ার জন্য ফোন দিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। অন্য সব মন্ত্রীর ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কখনই কারোর সঙ্গে আলোচনা করে বলেননি আপনাকে মন্ত্রী করা হচ্ছে, ওমুক মন্ত্রণালয় দেয়া হচ্ছে।


আমার মান-অপমান বোধ হয়ত কম, তাই মন্ত্রিপরিষদ সচিবের ফোন পাওয়ার পর বঙ্গভবনে গিয়েছি, শপথ নিয়ে মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছি।’
‘একজন সচিবের কাছ থেকে আমন্ত্রণে কোন সভ্য দেশে মন্ত্রী হয় কি না, আমার জানা নেই’- মন্ত্রিত্বের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পর ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের এমন অভিযোগ সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী অগ্নিকন্যা খ্যাত বেগম মতিয়া চৌধুরী জনকণ্ঠের কাছে এসব কথা বলেন।
দু’বারের মন্ত্রী হওয়ার অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করতে গিয়ে বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, রাশেদ খান মেননের ‘সেন্টিমেন্ট’ সম্পর্কে আমি কোন ব্যাখ্যা দেব না। তাঁর সেন্টিমেন্ট তাঁর কাছে। তবে আমার অভিজ্ঞতা হচ্ছে- ’৯৬ সালে যখন আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রিসভা গঠন করা হয় তখন আজকের মতো এত উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা বা ঘরে ঘরে মোবাইলও ছিল না। আমার নিজেরও মোবাইল ছিল না।
তিনি বলেন, যেদিন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ করা হয়, সেদিন সকালে আমি বাসায় ছিলাম না। এক আত্মীয়ের বাসায় এক অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম। আমাকে না পেয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বজলুর রহমানের (প্রয়াত দৈনিক সংবাদের সম্পাদক ও মতিয়া চৌধুরীর স্বামী) মাধ্যমে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে বলেন, আমাকে বঙ্গভবনে যেতে হবে মন্ত্রিপরিষদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে। আমি তখনও জানি না আমাকে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে হবে। আমি মনে করেছি শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে হবে। কিন্তু বঙ্গভবনে গিয়ে আমাকে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে প্রথমে তিনটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। ৮ মাসের মাথায় তালুকদার আবদুল খালেক ত্রাণ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। পরে দু’বছরের মাথায় ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুকে আমার খাদ্য মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী এবং সাড়ে চার বছরের মাথায় আমির হোসেন আমুকে খাদ্য মন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয়।
মতিয়া চৌধুরী বলেন, এবারের সরকার গঠনের সময়েও মন্ত্রিপরিষদ সচিব আমাকে ফোন করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী কখনই বলেননি আপনি মন্ত্রী হচ্ছেন বা আপনাকে ওমুক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে। শপথ গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী নিজেই বলেছেন, আপনাদের দু’দিন ছুটি। যে মন্ত্রী যে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাবেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবরা এসে তাঁদের সে সে মন্ত্রণালয়ে নিয়ে যাবেন।
রাশেদ খান মেননের অভিযোগের জবাব দিতে অপারগতা প্রকাশ করে অগ্নিকন্যা মতিয়া চৌধুরী শুধু এটুকু বলেন, আল্লাহ রহমত করেছেন আর প্রধানমন্ত্রী সুযোগ দিয়েছেন বলেই গতবার মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে দেশকে খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছিলাম, আর এবার দায়িত্ব পেয়ে ৪৫ টাকা কেজির চাল ২৫ টাকায় কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। জনরায়ের মাধ্যমে জনগণকে সেবা দেয়াকেই আমি সক্ষমতা বলে মনে করি।

No comments

Powered by Blogger.