হাসিনাকে মনমোহন-তিস্তা চুক্তি নিয়ে ভারত আন্তরিক

ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং বলেছেন, তিস্তা নদীর পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে তাঁর দেশের মনোভাব আন্তরিক। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী কিছুটা সময় চেয়েছেন। তবে শিগগিরই চুক্তি সম্পাদনের ব্যাপারে তিনি আশাবাদী। মালদ্বীপে সার্ক শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। বৈঠকে ট্রানজিট, ছিটমহল বিনিময়, বিদ্যুৎ ক্রয়সহ দ্বিপক্ষীয় অন্যান্য বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।মালদ্বীপের আদ্দু নগরীতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবারের ১৭তম সার্ক শীর্ষ সম্মেলন।


আদ্দুর অদূরে শাংরিলার ভিলিঙ্গিলি রিসোর্টে গতকাল স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত বাংলাদেশ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে পূর্বনির্ধারিত বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিবেশী দুই দেশের সরকারপ্রধানের এই বৈঠক শেষে আদ্দুতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. দীপু মনি সাংবাদিকদের জানান, দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে আলোচনায় তিস্তা নদীর পানিবণ্টন নিয়ে প্রস্তাবিত চুক্তির ব্যাপারে কথা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব আবুল কালাম আজাদ উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, বৈঠকে উভয় নেতা তিস্তার পানিবণ্টন, ট্রানজিটসহ বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা করেন। পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়েও আলোচনা হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আশা প্রকাশ করেন, শিগগিরই অবশিষ্ট ছিটমহলগুলোকে শনাক্তকরণ ও নকশা প্রণয়নের কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্যে একটি চুক্তি এবং স্থল সীমানা চুক্তি (এলবিএ) সংক্রান্ত একটি প্রটোকল স্বাক্ষরিত হবে। শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ আশা করে বুড়িমারী-চ্যাংড়াবান্দা এবং বেনাপোল-পেট্রাপোল দিয়ে জিরো লাইন থেকে ২০০ গজের মধ্যে ভুটানি ও ভারতীয় ট্রাক প্রবেশের লক্ষ্যে শিগগিরই নিরাপত্তা চৌকি চালু হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ মিজোরাম ও ত্রিপুরা সীমান্তে হাট শুরুর জন্য ভারতের অনুরোধের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।
শেখ হাসিনা বাংলাদেশের ওপর দিয়ে নেপালের ট্রানজিট কার্গোর জন্য রোহনপুর-সিঙ্গাবাদ রেলরুট অনুমোদনের জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এতে তিনটি দেশই উপকৃত হবে। শেখ হাসিনা বাংলাদেশে আশুগঞ্জ থেকে ত্রিপুরার আগরতলার মধ্যে তিন দফায় পরীক্ষামূলকভাবে বহুমুখী যান চলাচলের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশ এ ব্যাপারে এগিয়ে যেতে জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে।
দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী ভারত থেকে বিদ্যুৎ কেনার বিষয়েও আলোচনা করেন। তাঁরা এ ব্যাপারে শিগগির চুক্তি স্বাক্ষরের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। শেখ হাসিনা আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ ত্রিপুরার পালাটানা বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং উত্তর-পূর্ব ভারত, ভুটান ও নেপালের অন্যান্য বিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে বিদ্যুৎ কিনতে পারবে। তিনি বলেন, ভারতের আর্থিক সহায়তায় শিগগিরই ফেনী সেতু নির্মাণ, আখাউড়া-আগরতলা রেলসংযোগ স্থাপন এবং আশুগঞ্জ থেকে আখাউড়া পর্যন্ত সড়ক সংস্কার করা হবে।
মনমোহন সিং বিভিন্ন ইস্যুতে ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করে বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে এবং আগামী দিনগুলোতে এটা আরো মজবুত হবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি, অ্যাম্বাসাডর অ্যাট লার্জ এম জিয়াউদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব শেখ ওয়াহিদুজ্জামান, পররাষ্ট্রসচিব মিজারুল কায়েস ও প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব আবুল কালাম আজাদ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের এক কর্মকর্তা জানান, বৈঠকে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তির বিষয়টি তোলা হয় ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের পক্ষ থেকেই। এ সময় তিনি শেখ হাসিনাকে বলেন, 'চুক্তির বিষয়টি নিয়ে ভারত আন্তরিকভাবে চেষ্টা করছে।' এ ব্যাপারে মনমোহন সিং আরো বলেন, 'পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তিস্তা চুক্তির জন্য কিছুটা সময় চেয়েছেন।'
বৈঠকের একটি সূত্র জানায়, হাসিনা-মনমোহন বৈঠকে ট্রানজিট বা ট্রান্সশিপমেন্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে। আশুগঞ্জে চলমান পরীক্ষামূলক ট্রানজিটের বিষয়টি আলোচনায় এলে দুই পক্ষ থেকেই বলা হয়, 'পরীক্ষামূলক ট্রানজিটকালে ত্রুটি-বিচ্যুতি খুঁটিয়ে দেখে ভবিষ্যতে পূর্ণাঙ্গ ট্রানজিট চালু করা হবে।'
ভারতের দেওয়া ১০০ কোটি ডলার ঋণের প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দেওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করেন মনমোহন সিং।

No comments

Powered by Blogger.