এক সপ্তাহের মধ্যে সিলেটের সড়ক দখলমুক্ত করার নির্দেশ অর্থমন্ত্রীর

সিলেট মহানগরের যানজট নিরসনে সড়কের অবৈধ দখল এবং ভাসমান হকার উচ্ছেদের কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। আগামী রবিবার থেকে এক সপ্তাহের মধ্যে প্রধান প্রধান সড়ক দখলমুক্ত করতে তিনি পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দেন। গতকাল বৃহস্পতিবার জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় অর্থমন্ত্রী এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।সিলেটের দীর্ঘদিনের এক দুর্ভোগের নাম যানজট। সাম্প্রতিককালে যানজট ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। নগরের যেসব সড়কে কোনো দিন যানজট দেখা দেয় না, এখন সেখানেও দীর্ঘক্ষণ যানজট থাকে।


নগরের চৌহাট্টা-সংলগ্ন রাস্তা অন্যান্য রাস্তার চেয়ে অনেক বড় হলেও এখন এ রাস্তায়ও প্রতিদিন দীর্ঘ লাইন থাকে যানবাহনের। এ ছাড়া আম্বরখানা, জিন্দাবাজার, তালতলা, বন্দর বাজার, মেডিক্যাল রোড, পূর্ব জিন্দাবাজার, জেল রোড, সোবহানীঘাট, শিবগঞ্জ, নতুন পুলের মুখ রাস্তায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজট লেগে থাকে। নগরে এ যানজটের পেছনে অনেক কারণ জড়িত। এর মধ্যে রয়েছে অবৈধ রিকশার আধিক্য, সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও ট্রাফিক পুলিশের দুর্নীতি, নগরজুড়ে অবৈধ স্ট্যান্ড, অপরিকল্পিতভাবে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠা, ফুটপাত ও সড়ক দখল, যত্রতত্র খোঁড়াখুঁড়ি এবং সিটি করপোরেশনের বিভাগগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা।
মহানগরের যানজট নিরসনে গত ১৬ জুলাই স্থানীয় সংসদ সদস্য ও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের উপস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা কমিটির এক বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সিলেটের মেয়রসহ অন্যান্য আসনের সংসদ সদস্য, বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতা ও প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় এ সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে সিলেটের মেয়রকে আহ্বায়ক এবং পুলিশের উপকমিশনার রেজাউল করিমকে সদস্যসচিব করে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়। কিন্তু এ কমিটি দীর্ঘ তিন মাস পর গত ২৬ অক্টোবর নগর ভবনে প্রথম সভায় মিলিত হয়। সভায় বিস্তারিত আলোচনার পর প্রাথমিক পর্যায়ে পরদিন থেকেই রাস্তার অবৈধ দখল উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু আজ পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়নি।
এ অবস্থায় গতকাল মন্ত্রীর উপস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বিষয়টি উত্থাপন করা হয়। কমিটির সদস্যরা সিদ্ধান্ত কার্যকর না হওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেন। একাধিক সদস্য বিষয়টিকে রহস্যজনক বলেও মন্তব্য করেন। অর্থমন্ত্রী নিজেও এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সঙ্গে সঙ্গে তিনি উপস্থিত সিলেটের পুলিশ কমিশনারকে এক সপ্তাহের মধ্যে নগরের প্রধান প্রধান সড়ক দখলমুক্ত করার নির্দেশ দেন। আগামী রবিবার থেকেই এ কার্যক্রম শুরু করতে বলেন তিনি। এ ছাড়া সিলেট রেজিস্টারি মাঠ থেকে হকার উচ্ছেদের ব্যাপারেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বলেন তিনি।
সভায় সিলেটের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে করণীয় এবং সমস্যা কোথায়, তা খুঁজে বের করার জন্য অর্থমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, প্রয়োজনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সিলেটে নিয়ে এসে সবার বক্তব্য শুনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সিলেটের পরিবেশ সুরক্ষা, পাহাড় কাটা বন্ধ করা এবং জাফলং ও ভোলাগঞ্জের পাথর সম্পদ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি নির্দেশ দেন।
জেলা প্রশাসক খান মোহাম্মদ বিলালের সভাপতিত্বে সভায় বক্তৃতা করেন সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান চৌধুরী, মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী, ইমরান আহমদ ও সৈয়দা জেবুন্নেসা হক, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আ ন ম শফিকুল হক, সহসভাপতি আবদুজ জহির চৌধুরী ছুফিয়ান, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এমাদউল্লাহ শহিদুল ইসলাম, সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি আহমেদ নূর, সিলেট চেম্বারের সভাপতি ফারুক আহমদ মিছবাহ এবং জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা।

No comments

Powered by Blogger.