ইউএনডিপির মানব উন্নয়ন রিপোর্ট-২০১১ : বিশ্ব প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অবস্থান এখনও দুর্বল

বাংলাদেশে ইউএনডিপির কান্ট্রি ডিরেক্টর স্টিফেন প্রিজনার বলেছেন, মানব উন্নয়ন সূচকের অগ্রগতি ধরে রাখার জন্য পরিবেশগত বিপর্যয় মোকাবিলায় বাংলাদেশকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। গতকাল ইউএনডিপির মানব উন্নয়ন রিপোর্ট-২০১১ প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন। ইউএনডিপি এবং ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ডিকাব) যৌথভাবে এই রিপোর্ট প্রকাশ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। হোটেল সোনারগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত এই রিপোর্ট প্রকাশ অনুষ্ঠানে ইউএনডিপির সহকারী কান্ট্রি ডিরেক্টর একেএম মোর্শেদ, ডিকাব সভাপতি রাহিদ এজাজ এবং ডিকাব সাধারণ সম্পাদক আবদুল মজিদ বক্তব্য রাখেন।


স্টিফেন প্রিজনার তার বক্তৃতায় বলেন, মানব উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশ যথেষ্ট অগ্রগতি অর্জন করেছে। বিশেষ করে নারী-পুরুষের অসমতা কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাফল্য ব্যাপক। গত এক বছরে এই অসমতার মাত্রা অন্তত ২৫ শতাংশ কমেছে। তিনি বলেন, মানব উন্নয়ন সূচকে
বাংলাদেশ যেভাবে অগ্রগতি অর্জন করছে তাতে আগামী ১ বছরের মধ্যে নিম্ন মানব উন্নয়ন অংশ থেকে মধ্য মানব উন্নয়ন অংশে উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বাংলাদেশের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো পরিবেশগত বিপর্যয় মোকাবিলা করা। মানব উন্নয়ন সূচকের অগ্রগতি ধরে রাখার জন্য পরিবেশগত বিপর্যয় মোকাবিলায় বাংলাদেশকে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা নিতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বাংলাদেশের মানব উন্নয়নের অগ্রগতিকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার প্রেক্ষাপটে মানব উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশের অগ্রগতি ব্যাপক। তবে বিশ্ব প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অবস্থান এখনও দুর্বল স্থানে। শিশু ও মাতৃমৃত্যু হার কমানো, নারীর ক্ষমতায়ন, প্রাথমিক শিক্ষার অগ্রগতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাফল্য সন্তোষজনক। তবে মানবাধিকারের মতো ইস্যুগুলোতে বিশেষ নজর দিতে হবে।
দারিদ্র্য বিমোচনে অনেক সাফল্য আছে, তবে বাংলাদেশে এখনও ২৬ শতাংশ মানুষ চরম দারিদ্র্যসীমার মধ্যে রয়েছে। ইউএনডিপির মানব উন্নয়ন রিপোর্ট ২০১১-তে বলা হয়, ১৮৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৪৬ নম্বরে। ১৮৭টি দেশকে যে চারটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে তার মধ্যে বাংলাদেশ রয়েছে নিম্ন মানব উন্নয়ন অংশে। এই প্রতিবেদনের শীর্ষস্থানে আছে নরওয়ে এবং দ্বিতীয় অবস্থানে অস্ট্রেলিয়া। এমন অবস্থাতেও এবারে বাংলাদেশের অর্জন হলো নারী-পুরুষের বৈষম্য কমিয়ে আনা। এটার প্রধান কারণ মাতৃমৃত্যুর হার বাংলাদেশ ব্যাপকভাবে কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। নারী-পুরুষের সমতা অর্জনের ক্ষেত্রে মাতৃমৃত্যুর হার কমিয়ে আনা একটি বড় মাপকাঠি।
মানব উন্নয়ন প্রতিবেদনে ইউএনডিপি প্রধানত তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দেয়। শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং মানুষের আয়। দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশের চার ভাগের এক ভাগ মানুষ এখনও চরম দরিদ্র। ইউএনডিপির সার্বিক সূচকে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশ যেমন—শ্রীলঙ্কা, ভারত, ভুটান ও পাকিস্তানের চেয়ে কিছুটা পিছিয়ে আছে। যদিও কোনো কোনো ক্ষেত্রে এ দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের অগ্রগতি ভালো, যার একটি হলো নারীর প্রতি বৈষম্য কমিয়ে আনা। ইউএনডিপি বলেছে, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে এবারের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের নতুন কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।
এদিকে প্রতিবেদনে ভারত সম্পর্কে যেসব সূচক দেয়া হয়েছে তাতে বলা হয়, ভারতে মোট ৬১ কোটি ২০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে রয়েছে। বিশ্বের আর কোথাও এত দরিদ্র মানুষ নেই। আর এই সংখ্যাটা ভারতের জনসংখ্যার অর্ধেক। নারী-পুরুষ বৈষম্যের ক্ষেত্রে ভারত বাংলাদেশ বা পাকিস্তান থেকে পিছিয়ে আছে।

No comments

Powered by Blogger.