বেড়েছে মূলধনী যন্ত্রপাতির আমদানি

শিল্পের মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি ব্যাপক হারে বাড়ছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি হয়েছে এক হাজার ৬৬৯ কোটি টাকার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় দ্বিগুণের কাছাকাছি।দেশের ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের শীর্ষস্থানীয় সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি এ কে আজাদ জানান, বিদ্যুৎ পরিস্থিতির যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিনিয়োগ প্রবণতা বাড়ছে। বিনিয়োগ বোর্ডে শিল্পের নিবন্ধনের হারও বাড়ছে। সে কারণেই মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি হচ্ছে বেশি হারে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অবকাঠামোগত দুর্বলতা দূর করতে পারলে বিনিয়োগের পরিমাণ আরো বাড়বে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ সেপ্টেম্বর মাসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি ২০১১-১২ অর্থবছরের জুলাই মাসে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি হয়েছে এক হাজার ৬৬৯ কোটি টাকার। গত অর্থবছরের প্রথম মাসে উদ্যোক্তারা ৯১১ কোটি টাকার মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি করেছিলেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে চলতি অর্থবছরের জুলাই মাসে দেশে স্ট্যাবল ফাইবার আমদানি হয়েছে এক হাজার ১৫৭ কোটি টাকার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এর আমদানি ব্যয় ছিল ৪৯ কোটি টাকা। আর ২০০৯-১০ অর্থবছরের জুলাই মাসে স্ট্যাবল ফাইবার আমদানি হয়েছিল ৮৯ কোটি টাকার।
তৈরি পোশাক শিল্প প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী জানান, সাধারণত সিনথেটিক জাতীয় কাপড়ে স্ট্যাবল ফাইবার ব্যবহৃত হয়ে থাকে। বাংলাদেশে তৈরি পোশাকের প্রধান বাজারগুলোয় এ জাতীয় কাপড়ের পোশাকের চাহিদা বাড়ায় আমদানি বাড়ছে।
পোশাক শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত কাপড় ও অন্যান্য উপকরণের আমদানিও বাড়ছে। চলতি ২০১১-১২ অর্থবছরের জুলাই মাসে এসব পণ্য আমদানির পেছনে ব্যয় হয়েছে এক হাজার ৯৫৯ কোটি টাকা। আগের দুই অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল এক হাজার ৩১৭ কোটি ও এক হাজার ২৩০ কোটি টাকা।
গত অর্থবছরের জুলাই মাসের তুলনায় চলতি অর্থবছরের একই সময়ে সুতা আমদানির পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ২০১০-১১ অর্থবছরের জুলাই মাসে দেশে সুতা আমদানি হয়েছিল ৫৯০ কোটি টাকার। আর চলতি অর্থবছরের জুলাই মাসে এর পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৫৩ কোটি টাকা। আর ২০০৯-১০ অর্থবছরের জুলাই মাসে এর পরিমাণ ছিল ৪৪৮ কোটি টাকা।
পোশাক ও বস্ত্র খাতের ব্যবসায়ীরা বলছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন রুলস অব অরিজিনের শর্ত শিথিল করার পর থেকেই সুতা আমদানি বেড়ে গেছে। মূলত গত জানুয়ারি মাস থেকেই ইউরোপীয় ইউনিয়নে সিঙ্গেল স্টেজ রুলস অব অরিজিন চালু হয়েছে। আর গতবছর আন্তর্জাতিক বাজারে তুলার দাম যখন ব্যাপক হারে বাড়ছিল, তখন তুলার দাম আরো বাড়ার আশঙ্কায় বেশি দামে বিপুল তুলা আমদানি করে রাখেন বাংলাদেশের স্পিনাররা; কিন্তু বিশ্ববাজারে তুলার দাম কমে যাওয়ায় সুতার দামও অনেক কমে যায়। এতে দেশে উৎপাদিত সুতার দাম আমদানি করা সুতার তুলনায় অনেক বেশি পড়ে যায়। ফলে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প মালিকরা দেশীয় সুতা ব্যবহারের বদলে আমদানির দিকে ঝুঁকে পড়ায় সুতা আমদানি বাড়ছে।

       

No comments

Powered by Blogger.