অ্যাপেক সম্মেলন-বিশ্ব অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগ চীন-রাশিয়ার

বৈশ্বিক অর্থনীতির ব্যাপারে চীন ও রাশিয়ার সতর্কতা উচ্চারণের মাধ্যমে গতকাল শনিবার এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থার (অ্যাপেক) বার্ষিক সম্মেলন শুরু হয়েছে। রাশিয়ার বন্দরনগরী ভ্লাদিভস্তকে অ্যাপেকের ২১ সদস্যের প্রতিনিধিরা মিলিত হয়েছেন।


রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধারের জন্য দেশগুলোকে সংরক্ষণনীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের আহ্বান জানিয়েছেন। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদারের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
ভ্লাদিভস্তকে অ্যাপেকের ২৪তম বার্ষিক সম্মেলন শুরু হয় গতকাল। অর্থনৈতিক দুরবস্থা কাটিয়ে ওঠার আলোচনাই এ সম্মেলনে মূল বিষয়ে পরিণত হয়েছে। সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্যে পুতিন বলেন, 'সমন্বয় বাড়ানোর ব্যাপারে আমাদের আরো আগ্রহী হওয়া উচিত। বিশ্ব অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া দুর্বল হয়ে পড়েছে। পণ্য ও সেবার পরিমাণ এবং বিনিয়োগের প্রবাহ বাড়ানোর মাধ্যমে অর্থনীতির নেতিবাচক প্রবণতাগুলো কাটিয়ে ওঠা যায়।'
অ্যাপেকভুক্ত দেশগুলো বিশ্ব অর্থনীতির প্রায় ৫৪ শতাংশ এবং বিশ্ব বাণিজ্যের ৪৪ শতাংশ দখল করে আছে। বিশ্বের জনসংখ্যার প্রায় ৪০ শতাংশই এ দেশগুলোর নাগরিক। অ্যাপেকের অন্যতম সদস্য ও বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ চীনের প্রেসিডেন্ট হু চিনথাও বলেছেন, তাঁর দেশে আমদানীকৃত পণ্যের চাহিদা বাড়িয়ে অর্থনীতির গতিশীলতা বাড়ানোর চেষ্টা করবেন। বিশ্বের সব দেশকে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে চিনথাও বলেন, 'বিশ্বের অর্থনীতি খুবই ধীরগতিতে আগের অবস্থায় ফিরে আসছে। তবে এখনো অস্থিতিশীল কিছু উপাদান ও অনিশ্চয়তা কাজ করছে। অর্থনৈতিক অস্থিরতার মূলগত কারণগুলো কাটিয়ে ওঠা এখনো অনেক দূরের বিষয়। স্থিতিশীল ও তেজি উন্নয়নের ধারা বজায় রাখা, অর্থনৈতিক কাঠামোর সঙ্গে এর মেলবন্ধন এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আমাদের ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে।'
প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মুক্ত বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে দেশগুলোকে বিধি-নিষেধ উঠিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ অঞ্চলে রাশিয়ার আরো সক্রিয় ভূমিকা মেনে নিতে প্রস্তুত বলেও জানিয়েছে দেশটি। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন গতকাল জানান, রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে চান তাঁরা। মার্কিন কম্পানিগুলোর জন্য রাশিয়ার বাজার উন্মুক্ত করে দেওয়ারও সুযোগ চান। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার পরিবর্তে অ্যাপেক সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন তিনি। হিলারি বলেন, 'রাশিয়ার বাজারে মার্কিন কম্পানিগুলোর প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মার্কিন কংগ্রেসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছি আমরা। স্নায়ুযুদ্ধকালীন জ্যাকসন-ভ্যানিক অধ্যাদেশ (১৯৭৪ সালে প্রণীত সোভিয়েত রাশিয়াকে বাণিজ্য সুবিধা না দেওয়া সংক্রান্ত আইন) উঠিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছি। আমাদের প্রত্যাশা, চলতি মাসেই কংগ্রেস এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেবে।' রাশিয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া সহযোগিতাসংক্রান্ত কয়েকটি চুক্তিও সই করেন হিলারি। সূত্র : রয়টার্স, বিবিসি।

No comments

Powered by Blogger.