ফের সক্রিয় যুবক-প্রতারণার ফাঁদ কি বিস্তৃত হতেই থাকবে?

যুবক নামক একটি প্রতিষ্ঠানের স্বেচ্ছাচারিতা, অসাধুতা, প্রতারণা ছয় বছর আগে প্রতিবাদ-প্রতিরোধের প্রাচীর গড়ে তুললেও আজ পর্যন্ত এর আইনি প্রতিকার নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তখন বিষয়টি তদন্তক্রমে আইনি সুরাহার লক্ষ্যে 'যুবক কমিশন' নামে একটি কমিশন গঠন করা হলেও এর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হতে না হতেই ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে যুবক।


প্রতারিত গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতির পরও সরকার এখনো তা করতে পারেনি। সম্প্রতি 'যুবক কমিশন' যখন যুবকের সম্পত্তি বিক্রি করে গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ জোরদার করেছে, তখনই যুবকের কর্মকর্তারা জমি দেওয়ার নাম করে আবারও মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অপপ্রক্রিয়া শুরু করেছেন। ২ জুন শনিবার এ সম্পর্কিত কালের কণ্ঠে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেছে, যুবকের নির্বাহী পরিচালক নতুন করে টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
কয়েক বছর ধরে এরকম একাধিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জনগণের পকেট থেকে কয়েক শ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতিও এমন কয়েকটি ঘটনা উন্মোচিত হয়েছে। ২ জুন কালের কণ্ঠে প্রকাশিত ভিন্ন একটি প্রতিবেদন থেকে জানা গেল, রাজধানীর কলাবাগান থানা এলাকায় অফিস বসিয়ে স্কাইল্যান্সার নামক একটি প্রতিষ্ঠান প্রতারণা চালাচ্ছে। প্রতারিত শত শত মানুষ বিক্ষুব্ধ হয়ে ১ জুন কলাবাগান থানার সামনে বিক্ষোভ করে। তারা প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়েও ভাঙচুর চালায়। এর আগে প্রতিষ্ঠানটির কথিত চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান ওরফে নীল নামে একজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। আরো জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি ইতিমধ্যে প্রায় ৯০ হাজার মানুষকে তাদের গ্রাহক বানিয়ে ২০ কোটি টাকা তুলে নেয়। সহজ-সরল মানুষকে প্রলোভনের ফাঁদে ফেলে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়টি নতুন কিছু নয়। সর্বস্ব হারিয়ে প্রতারিতরা যখন রাস্তায় নামছে, তখন আইনি সংস্থাগুলোর ঘুম ভাঙছে। এরপর দফায় দফায় তদন্ত চলে, কিন্তু কোনো কিছুরই আইনানুগ সুরাহা হয় না। এরই সুযোগ নিচ্ছে প্রতারক চক্র। ইতিমধ্যে এমন কয়েকটি প্রতারক চক্রের হোতা কিংবা প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তিরা উধাও হয়ে গেছেন। এসব ব্যাপারে খোদ সরকারের তথ্য বিবরণীতে যা প্রকাশিত হয়েছে এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের অভিজ্ঞতার যে চিত্র পাওয়া গেছে তা ভয়াবহ। অথচ এর পরও দৃষ্টান্তমূলক প্রতিকারে পরিলক্ষিত হচ্ছে দীর্ঘসূত্রতা!
মানুষকেও তাদের কষ্টার্জিত টাকার সর্বোচ্চ ব্যবহার ও নিরাপত্তার ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। তা না হলে এরকমভাবে প্রতারিত হওয়া মানুষের সংখ্যা বাড়তেই থাকবে এবং এর বিরূপ প্রভাব সমাজ ও রাষ্ট্রজীবনে ভয়াবহ হয়ে উঠবে। মানুষকে যেমন লোভ সংবরণ করতে হবে, তেমনি সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেও এ ব্যাপারে কঠোর ও সতর্ক অবস্থান নিতে হবে। প্রতারণার ফাঁদ বিস্তৃত হতেই থাকবে, আর এর বিপরীতে সরকারের কিছু করার থাকবে না, তা হতে পারে না। প্রতারণার মাধ্যমে সহজে বিরাট অঙ্কের টাকা আত্মসাতের সুযোগ থাকলে বারবার এর পুনরাবৃত্তি ঘটতে বাধ্য। এখানে তাই হচ্ছে। যুবক কী করে ফের প্রতারণায় মেতে উঠল, এর ব্যাখ্যা সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদেরই দিতে হবে।

No comments

Powered by Blogger.