কিছু ঘটনায় র্যাবের সাফল্যে কালিমা লেগেছে: মজিনা

তীতের কিছু ঘটনায় সন্ত্রাসবাদ ও অপরাধের বিরুদ্ধে র্যাবের তুলনামূলক সাফল্যে কালিমা লেগেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজিনা। রাষ্ট্রদূত গতকাল বুধবার র্যাব সদর দপ্তরে র্যাবের নবগঠিত অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধান সেলের সদস্যদের প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন।


বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রশিক্ষণ গ্রহণকারী র্যাব সদস্যদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা র্যাবের ইতিহাসের সেই অধ্যায়ের সমাপ্তির এবং নতুন একটি অধ্যায় উন্মোচনের চাবিকাঠি, যেই অধ্যায়ে দেশের সংবিধান, আইন, মানুষের অধিকার ও সম্মানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে র্যাব সদস্যরা পেশাদার আইন প্রয়োগকারীর মতো আচরণ করবেন।’
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ তত্ত্বাবধানে গত বছর ২৭ নভেম্বর থেকে পাঁচ সপ্তাহব্যাপী এ প্রশিক্ষণ হয়। প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া র্যাবের ১৯ জন কর্মকর্তাকে সনদ দেওয়া হয়।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন বলেন, মানবাধিকার সুরক্ষা, র্যাবের স্বচ্ছতা, জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করবে নবগঠিত এই সেল।
বিশেষ অতিথি স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক বলেন, পরিশুদ্ধ হয়ে সুন্দরভাবে র্যাব যেন দেশ ও জাতির জন্য কাজ করতে পারে সে জন্য এই প্রয়াস।
অনুষ্ঠানে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হাসান মাহমুদ খন্দকার ও র্যাবের মহাপরিচালক মোখলেছুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। এই অভ্যন্তরীণ তদন্ত সেল চলবে র্যাবের মহাপরিচালকের তত্ত্বাবধানে। র্যাবের কোনো কর্মকর্তা বা সদস্যের বিরুদ্ধে যেকোনো অভিযোগ উঠলে এ সেল তদন্ত ও তথ্য সংগ্রহ করবে।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রশিক্ষণ নেওয়া কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘এই সেল র্যাবের সব সদস্যকে তাঁদের আচরণের জন্য জবাবদিহিতার আওতায় আনবে। এই সেলের সদস্য হিসেবে আপনাদের হয়তো অনেক চাপের সম্মুখীন হতে হবে। বাংলাদেশের আইনের প্রতি উপহাস করে এবং নিয়মকানুনের প্রতি অশ্রদ্ধা দেখিয়ে যখন কেউ নিজের হাতে আইন তুলে নেবে, তখন হয়তো আপনাদের অন্য দিকে মুখ ফিরিয়ে রাখতে বলা হতে পারে। অনেকেই আপনাদের বলবে, রাস্তার বিচারই একটি বিচারহীন অবস্থা থেকে উত্তম। এসব সহজ কথায় প্রলোভিত হবেন না।’
ড্যান ডব্লিউ মজিনা বলেন, র্যাবের এখন একটি আচরণবিধি রয়েছে, যা আগে ছিল না। এই সেল নাগরিকদের অভিযোগ গ্রহণ, নিবন্ধন এবং সেগুলোর প্রতি সাড়া দেওয়ার একটি নতুন পদ্ধতি প্রণয়ন করেছে।
অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন পর্বে র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মুজিবুর রহমান বলেন, শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ইতিমধ্যে অনেক র্যাব সদস্য শাস্তির সম্মুখীন হয়েছেন। বিভিন্ন অভিযোগে র্যাবের ৪০০ জনকে গুরুদণ্ড ও ৮৬৮ জনকে লঘুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। র্যাবের কোনো সদস্যই জবাবদিহির ঊর্ধ্বে কখনোই ছিল না, এখনো নেই।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক এম সোহায়েল।

No comments

Powered by Blogger.