গল্প- বৃষ্টি by শওকত চৌধুরী

লাকায় সার্কাস পার্টি এসেছে। নাম বেহুলা বেঙ্গলস পার্টি। বেঙ্গলস বলতে কী বোঝাচ্ছে? কলকাতা নাকি বাংলাদেশ? ফরহাদকে প্রশ্নটা করতেই সে ভ্রু কুঁচকে তাচ্ছিল্যের একটা বাড়ি ছুড়ে দিল, ‘তুই না এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে যাস? এখনো তুই বুঝিস না বেঙ্গলস বলতে কী বোঝায়?’
বেঙ্গলস না বোঝার সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার সম্পর্ক আমি কিছুতেই বুঝতে পারলাম না। ফলে আমার মুখটা দেখতে অধিকতর বোকাদের মতো হয়ে গেল।
ফরহাদ কণ্ঠে ঝাঁকি দিয়ে বলল, ‘আরে কলকাতা গাধা! কলকাতা ছাড়া বেহুলার মতো জিনিস কি এই বঙ্গে তুই পাবি? দেখেছিস না কেমন ঘাঘড়া পরে পরে ঘুরছে? বাংলাদেশের কয়টা মেয়ে ঘাঘড়া পরে?’
আমি যেন আরও বোকা হয়ে গেলাম। সে ইতিমধ্যে বেহুলাকেও দেখে ফেলেছে? রাজ্যের মানুষ সার্কাস তাঁবুর বাইরে টিকিটের জন্য হইচই করছে। কাউন্টার থেকে বারবার বলা হচ্ছে, টিকিট শেষ।
টিকিট আসলেও শেষ। কালোবাজারিরা কারসাজি করে সব টিকিট কিনে নিয়েছে। দেড় শ টাকার টিকিট আড়াই শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দুটো টিকিট আড়াই শ করে পাঁচ শ টাকা দেওয়ার মতো ক্ষমতা ফরহাদের নেই। ফরহাদের নেই বলছি কেন? সার্কাস নামের জিনিসটার প্রতি আমার কোনো আগ্রহ নেই। আমাকে সে অনেকটাই জোর করে সার্কাস দেখাতে নিয়ে এসেছে। আগ্রহ না থাকার অন্যতম কারণ হয়তো এই সম্পর্কে আমার জ্ঞানশূন্যতা।
ফরহাদ বলেছিল, ‘কিরে তুই যাবি না? জলদি কর!’
আমি কিছু না ভেবেই বললাম, ‘কী বলিস, যাব?’
‘আরে গাধা, যাবি মানে! জলদি!’
আমি জলদি কাপড় বদলে তৈরি হয়ে গেলাম। আমার মনের ভেতর অজানা এক শঙ্কা ভর করে থাকল। কি জানি কি হয়! বাইরে বের হয়ে দেখলাম চনমন করছে রোদ। বৈশাখের খাঁ-খাঁ রোদ। দু কদম হাঁটা মাত্রই শরীর ঘামে নেতিয়ে গেল। জামার পৃষ্ঠদেশ পিঠের সঙ্গে এঁটে গেল।
ফরহাদ আরও একবার তাড়া দিল এর ভেতর, ‘গিয়ার বাড়া।’
আমি ফরহাদের দিকে তাকালাম। যখনই একটু তাড়াতাড়ি হাঁটার প্রয়োজন পড়ে ও গিয়ার বাড়ানোর কথাটি বলে। আমাদের ফরহাদ অনেক মজার মানুষ। আমরা বন্ধুরা তার সবকিছুতে একটা আলাদা মজা খুঁজে পাই। ফলে ওর সঙ্গে কোথাও গিয়ে আমরা কখনো ‘বোরড’ হই না।
গিয়ার বাড়ানোর পর হঠাৎ পকেটে হাত দিতে গিয়ে মনে পড়ল, টাকা তো আনিনি!
ফরহাদ আবারও ভ্রু কুঁচকে ঝামটি দিল, ‘তোকে টাকা আনতে কে বলেছে? টাকা আমি দেব।’
‘তুই দিবি?’
‘হ্যাঁ, আমি দেব। আজ টিউশনির টাকা পেয়েছি। শুধু টিকিটের টাকা না, শো শেষে তোকে ফুচকা-চটপটিও খায়াব।’
ফরহাদের বাড়ি নদীর ওপারে। তাকে শহরে টিকে থাকার জন্য টিউশনি করতে হয়। শোনা যাচ্ছে, টিউশনির ছাত্রীর সঙ্গে ইতিমধ্যে তার একটা ভাব-সম্পর্ক জমে উঠেছে। ছাত্রীর নাম মল্লিকা। ফরহাদ ওর নাম ছোট করে ওকে মলি ডাকে। ফরহাদ ও মলিকে নিয়ে আমরা বন্ধুরা মাঝে মাঝে রঙ্গরস করার চেষ্টা করি। যেমন দুলাল বলল, ‘তুই এই পিংক কালারের অদ্ভুত জামাটি কোথায় পেয়েছিস? সাইজেও তো দুই হাত বড়! মলি দিয়েছে, না?’
ফরহাদ সিগারেটে আগুন ধরায়। ‘পিংক কালারকে তুই অদ্ভুত বললি কেন?’
‘পিংক ও ফিরোজা হচ্ছে কাওয়ালি সিঙ্গারদের জাতীয় জামা। তোকে এখন দেখতে কাওয়ালি সিঙ্গারদের মতো লাগছে।’
কাওয়ালি সিঙ্গার হোক আর ভাওয়াইয়া সিঙ্গার হোক, ফরহাদ তাতে কিছু মনে করে না। জামার রং নিয়ে অত আদিখ্যেতা ওর নেই। তার প্রসঙ্গ ভিন্ন। সে সিগারেটে লম্বা টান দিয়ে বলল, ‘মলি কি আর আমাকে জামা দেয় রে! জীবনে একটা জিনিসই সে আমাকে দিয়েছে।’
আমি আর দুলাল আগ্রহ নিয়ে ওর দিকে তাকিয়ে থাকি। মলি ওকে কী দিয়েছে?
‘এই দেখছিস না? এটা দিয়েছে।’
আমি আর দুলাল দেখি। জিনিসটা আর কিছু নয়। সিনা থেকে চার আঙুল উঁচু ভুঁড়িটি। দুলাল বলল, ‘মানে?’
‘রোজ মলিকে পড়াতে যাই। মলির মা রোজ তেলে ভাজা জিনিস দেয়। বলি, খালাম্মা, তেলের জিনিস শরীরের জন্য ভালো না। হূদরোগের জন্য তো আরও খারাপ। মলির মায়ের কানেই যায় না। তিনি হাসতে হাসতে বলেন, বাবা কি যে বল? এই বয়সে তুমি হূদরোগের কথা ভাব?’
ফরহাদ আরও বলল, ‘হূদরোগ হয়নি ঠিকই। কিন্তু ভুঁড়ি তো গজিয়ে গেছে। সাথে আরও একটা নতুন জিনিস!’
আমি আর দুলাল আগ্রহ নিয়ে ওর দিকে আরও একবার তাকাই, ‘নতুন জিনিসটা আবার কী?’
এবারের উত্তরটি ফরহাদকে মুখে দিতে হয়নি। উত্তরটি দিয়েছে ভিন্ন কায়দায়।
উত্তর পাওয়ার পর অবশ্য আমাদের সঙ্গে সঙ্গে নাক চেপে ধরতে হলো। ফরহাদ ছোট করে উত্তর দেয়, ‘বুঝেছিস?’
আমরা কোনো কথা বলি না।
‘গ্যাস্ট্রোপ্যাথি। এবার বুঝেছিস?’
আমি আর দুলাল নাক থেকে হাত সরাই না। ফরহাদ সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান ভালোই আছে। ও গুনে গুনে একশটা ‘গন্ধ’ দিতে পারে। গন্ধের কোনো কম্পিটিশন হলে ওরই প্রথম পুরস্কার পাওয়ার কথা।
ফরহাদ আমার কাছে এসে মুখ নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে।
আমি বললাম, ‘টিকিট বোধহয় কালোবাজারেও পাবি না! দাম তো লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। একটু আগে ছিল আড়াই শ, এখন বলছে তিন শ। ছয় শ টাকায় টিকিট কিনবি?’
আমি বুঝতে পারলাম, ঘটনার সঙ্গে নিজেও জড়িয়ে যাচ্ছি। যেন অ্যকশন চলছে। পরপর মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে সবাই উত্তেজিত। যে দাম হাঁকছে সে যেমন উত্তেজিত, আবার যে দেখছে সেও।
অ্যকশনিয়ার কণ্ঠে অতিরিক্ত শক্তি ঢেলে চেঁচাচ্ছে: ‘ফিফটি ডলার!’ ‘ফিফটি ডলার!
‘এনিওয়ান মোর!’ ‘এনিওয়ান মোর!’
এমন সময় একজন ক্রেতা বলল, ‘ফিফটি টু।’
অ্যকশনিয়ারের গলার শক্তি আরও বেড়ে গেল: ‘ফিফটি টু।’ ‘ফিফটি টু।
‘এনিওয়ান মোর!’ ‘ফিফটি টু!
‘ফিফটি টু!’ অন্য একজন ক্রেতা বলল, ‘সিক্সটি।’
অ্যকশনিয়ার আবারও জপমন্ত্র পড়ল:
‘সিক্সটি।’ ‘সিক্সটি।’ ‘সিক্সটি।’
ফরহাদ বলল, ‘আরে পাঁচ শ টাকা ছয় শ টাকা বাদ দে! সামনে বসবি কি না তাই বল?’
আমি বললাম, ‘সামনে বসলে টাকা তো আরও বেশি লাগবে, লাগবে না?’
‘তা লাগবে। কিন্তু সামনে বসলে বেহুলাকে সাক্ষাৎ চোখের সামনে দেখতে পাবি। ব্লাউজের উপর “টিটস”!’
‘কী সব আজেবাজে কথা বলছিস!’
ফরহাদ হেসে ফেলল। ‘তুই একটু দাঁড়া! দেখ, আমি সব ব্যবস্থা করে ফেলছি।’
ফরহাদ সত্যি ব্যবস্থা করে ফেলল। ছয় শ টাকার টিকিট চার শ টাকায় নিয়ে এল। শুধু তাই নয়, টিকিট বিক্রেতাদের একজন লোক ভেতরে থাকবে যে আমাদের দুজনকে সামনে নিয়ে বসাবে, সে ব্যবস্থাও সে করে ফেলল। লোকটির নাম বিশু।
আমরা আশায় আছি কখন তাঁবুর দরোজার পর্দা সরানো হবে আর আমরা ঢুকব। ফরহাদকে দেখলাম বারবার সে ঘড়ি দেখছে।
বললাম, ‘তুই একটু পরপর ঘড়ি দেখছিস কেন?’
ফরহাদ কপালের ওপর ফোঁটা ফোঁটা হয়ে ভেসে ওঠা ঘামের বিন্দুগুলো মুছে নিয়ে বলল, ‘একটা ঝামেলা হয়ে গেছে।’
‘কী ঝামেলা?’
‘মলিকে বলেছি মতি টাওয়ারের সামনে দুটোর সময় দাঁড়াতে।’
‘দুটো বাজতে এখনো এক ঘণ্টা বাকি। তুই তাহলে এক কাজ কর। চলে যা। আমি টিকিট রিটার্ন করছি।’
ফরহাদ আমাকে ঝামটি দিয়ে বলল, ‘আরে না! এই রকম কত মেয়ে এসে দাঁড়িয়ে থাকবে!’
ফরহাদ সিগারেট ধরাল। লাইনের মাঝখানে দাঁড়িয়ে সিগারেট ধরানোটা সাক্ষাৎ অন্যায়। কিন্তু সবাই এই অন্যায়টা করছে।
‘শসা খাবি?’
আমি বললাম, ‘শসা খাব কেন?’
‘বৈশাখে শসা, কাঁচা আম—এই সব খেতে হয়।’
‘আমরা ফেরিঅলা থেকে সরিষামাখা শসা ও কাঁচা আম খেলাম।’
‘শোন, সার্কাস সম্পর্কে তোকে একটা ধারণা দেই। তুই কি দেখতে পাচ্ছিস দড়ির ওপর দিয়ে এক চাকার একটা সাইকেলে চড়ে একটা খেলার ছবি?’
‘আমি সার্কাসের তাঁবুর ওপর লাগানো ছবিটি ভালো করে খেয়াল করলাম। করে প্রায় উত্তেজিত হয়ে গেলাম।’
‘এ-ও কি সম্ভব?’
‘এই খেলাটা হচ্ছে একটা বিশেষ খেলা। এটা দেখানো হবে সবার শেষে। এটা কীভাবে করে জানিস?’
ফরহাদ তার স্টুডেন্টদের যেভাবে পড়ায় ওভাবেই পড়ানোর ভঙ্গিতে বলল, ‘সব ব্যালান্স! হাতের উপর ওই যে বাঁশের মতো একটা জিনিস দেখছিস না, ওটা দিয়ে দু পাশে ভারসাম্য বজায় রাখে।’
আমার মুখ থেকে অজান্তে বেড়িয়ে গেল, ‘ও!’
‘ওই যে দড়ির উপর সাইক্লিং, হাতির পিটে হাতির খেলা—ওগুলো আসলে সার্কাসের কোনো আকর্ষণই না। সার্কাসের মেইন আকর্ষণ কী জানিস?’
‘কি?’
‘বেহুলা।’
‘বেহুলা?’
‘হু। বেহুলার নাচ। বেহুলা নাচতে নাচতে হঠাৎ করে তার পরনের কাপড়টা উঠিয়ে নেয়!’
আমি যেন এমন অদ্ভুত কথা জীবনেও শুনিনি!
‘একবার কি হয়েছ শোন! বেহুলা তখন ইস্ট-ওয়েস্ট পার্টির সদস্য। ইস্ট-ওয়েস্ট বুঝলি তো?’
‘না।’
‘ইস্ট বেঙ্গল অ্যান্ড ওয়েস্ট বেঙ্গল একসাথে ইস্ট-ওয়েস্ট। সেবারও বৈশাখ উপলক্ষে এই রকম মেলা হবে। মেলায় ইস্ট-ওয়েস্ট আসবে। পত্রিকায় রোজ রোজ বেহুলার ইস্ট-ওয়েস্টের ছবি ছাপা হচ্ছে। আমি কি আর ঘরে থাকার লোক? কিনলাম একটা টিকেট! দেখি কী হয়! কী দেখলাম জানিস?’
‘কী দেখলি?’
‘সব আজিব আজিব জিনিস! বেহুলার বয়স তখন মাত্র তেরো! বুঝেছিস?’
‘মাত্র তেরো?’
‘তারপর সারা জীবন আমি পণ করেছি, যদি কারও সার্কাস দেখি বেহুলারই দেখব।’
ফরহাদ আর একটা সিগারেট জ্বালাল। ‘কিছুদিন আগে পত্রিকায় দেখেছি, বেহুলাকে এক লাখ কুড়ি হাজার টাকায় বেঙ্গলস কিনে নিয়েছে।’
‘এত টাকা?’
‘বোঝ তাহলে! তাও তো ওর এখন একটু বয়স হয়েছে! এখন বোধ হয় উনিশ চলছে! সুইট নাইনটিন!’
ফরহাদ গাঁজায় টান দেওয়ার মতো করে সিগারেটে টান দিচ্ছে।
আমরা লাইনে দাঁড়াতে দাঁড়াতে লক্ষ করলাম, হঠাৎ করে চারপাশটা যেন বদলে গেল। রোদের ঠা-ঠা ভাবটা নিস্তেজ হয়ে এল। কিছুটা ঠান্ডা বাতাস বইতে শুরু করল। বৈশাখ এমনই। এই রোদ এই মেঘ।
আমি বললাম, ‘বৃষ্টি আসবে নাকিরে?’
ফরহাদ চারপাশে একবার চোখ বুলিয়ে নিল। ‘বৃষ্টি এলেই ভালো। ভেতরে দোজখের গরম। মরে যাবি। রেইন অলওয়েজ ব্লেসিং।’
আমি একবার আকাশের দিকে তাকালাম। পেঁজা পেঁজা হয়ে আকাশে মেঘ জমছে।
অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁবুর দরোজা খোলা হবে। দরোজার ভেতর দিয়ে মাঝে মাঝে দু-একজন মেয়ে আসা-যাওয়া করছে। তাদের কালো কালো ঘাড়ে দূর থেকে শাদা পাউডারের ছাপ দেখা যাচ্ছে। ফরহাদ একবার ইশারা দিল, ‘দেখছিস কিছু?’
আমি বললাম, ‘কী?’
‘এইগুলো সব পাওয়া যায়।’
‘পাওয়া যায় মানে?’
‘টাকা দিলেই পাওয়া যায়। রিজন্যাবল রেট। তবে বেহুলারটা একটু হাই। আমার একবার শখ কি জানিস? আমি হাই একটা রেট দিয়ে বেহুলাকে বাসায় নিয়ে যাব। নিয়ে গিয়ে বলব, আজ তোমার ছুটি। তুমি শুধু ঘুমাবে।’
‘ঘুমাবে?’
‘হুঁ। বেহুলার এত পরিশ্রম হয়! সেবার দেখেছি চোখ তার ক্লান্তিতে কাদা।’
ফরহাদের কথা শুনে আমি কিছুটা অবাক হলাম। ক্লান্তিতে কাদাজাতীয় ভাষা ব্যবহার করার মতো লোক সে নয়। বাতাস ক্রমশ ভারী হয়ে উঠছে। যেকোনো সময় বৃষ্টি নামতে পারে। আবহাওয়া পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কি ফরহাদের ভাষাও বদলাতে শুরু করেছে?
হতে পারে। ফরহাদ কি জানি একটা কবিতার লাইন বলার চেষ্টা করছে।
আমারে দু দণ্ড শান্তি দিয়েছিল নাটোরের বনলতা সেনের মতো আমি ওকে দু দণ্ড শান্তি দিতে চাই।
ফরহাদের কবিতা উদ্ধৃতি আমাকে খুব বেশি আকর্ষণ করল না। তাঁবুর পর্দা উন্মোচিত হয়েছে। আমার সমস্ত দৃষ্টি এখন সেদিকে। লাইনের মানুষগুলো একটা একটা করে ঢুকতে শুরু করেছে। ভেতরে বিরাট শব্দে গান চলছে। গান চলছে সমকালীন সুপারহিট একটা গানের প্যারোডি ভার্সনে। গানের প্রতিটা বিটে মানুষ চেঁচাচ্ছে বেহুলা বেহুলা বলে!
বেহুলা বেহুলা বলে চিৎকার-চেঁচামেচির কী আছে আমি জানি না। তার পরও আমার ভেতর একটা গোপন আগ্রহ কাজ করছে, যেন রহস্যের কোনো একটা দিগন্ত আজ আমার সামনে উন্মোচিত হবে। আমি বারবার লাইনের সামনের দিকে তাকালাম। লাইন যেন শেষই হতে চায় না! এদিকে আকাশ ক্রমশ ভারি হয়ে উঠছে। যেকোনো সময় বৃষ্টি শুরু হয়ে যেতে পারে। বৈশাখের বৃষ্টি।
তাঁবুর দরোজার কাছে আসতে না আসতেই মোটা মোটা ফোঁটায় বৃষ্টি শুরু হয়ে গেল। আমি উত্তেজিত কণ্ঠে ফরহাদকে বললাম, ‘দেখেছিস! ভাগ্যিস...যদি আর একটু আগে বৃষ্টি নামত, কী যন্ত্রণাতেই না পড়তে হতো!’
ফরহাদ গম্ভীর মুখে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। তাকে কিছুটা অস্থিরও দেখাচ্ছে। কোনো কারণে কি ও রহস্যের তাঁবুতে ঢুকতে চাইছে না?
বললাম, ‘ঘটনা কী? ঢুকবি না?’
ফরহাদ টিকিট দুটো আমার হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলল, ‘মলি মতি টাওয়ারের ওখানে দাঁড়িয়ে আছে। বৃষ্টির বড় বড় ফোঁটা পড়ছে! বৃষ্টি থেকে বাঁচার জন্য বুদ্ধি করে যে কোনো একটা দোকানে ঢুকে পড়বে সে বুদ্ধিটাও ওর নেই। বোকা মেয়ে! কী করি বল তো?’
আমি ফরহাদকে কণ্ঠের গভীরতা দিয়ে বললাম, ‘তুই সিএনজি করে দ্রুত চলে যা!’
ফরহাদ আর এক মুহূর্তও দাঁড়াল না। সে দৌড়াতে শুরু করল। যেন সে এতক্ষণ আমার এই কথাটির জন্যই অপেক্ষা করছিল। আমি সারা জীবনই বোকা ধরনের মানুষ। কেন জানি আমার কান্না পেতে থাকল। আমি কান্না লুকোনোর জন্য একবার আকাশের দিকে তাকালাম। আকাশ এক মহা বিস্ময়। সে বিস্ময়াভিভূত হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।
পেছন থেকে লাইনের লোকজন চেঁচাচ্ছে! ‘ওই মিস্টার, জলদি! জলদি!’
============================
শহীদুল্লা কায়সারঃ রাজনৈতিক সৃষ্টিশীলতা  আনোয়ার পাশাঃ জাতিরাষ্ট্রের অংশ ও প্রেরণা  মুনীর চৌধুরীঃ তাঁর নাটক  জেগে ওঠার গল্প  এখন শুনবেন বিশ্ব-সংবাদ  বাঘ  বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি ২০১০  তাঁরা সমালোচিত, আমরা বিব্রত  মুজিবকে নিয়ে সিরাজের একমাত্র লেখা  ঢাকা সিটি করপোরেশন বিভক্তির উদ্যোগ  মহাস্থানগড়ের ধ্বংস-পরিস্থিতিঃ পর্যবেক্ষণ  ওয়ান-ইলেভেনের চেয়ে ভয়াবহ দুর্যোগ আসছে!  ডিসেম্বরঃ গৌরব ও গর্বের মাস  উইকিলিকস বনাম যুক্তরাষ্ট্র  দুর্নীতি বেড়েছে দুনিয়াজুড়ে  উইকিলিকসঃ বাঘের ঘরে ঘোগ  আইন অপূর্ণাঙ্গঃ মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার কঠিন  ১০০ কোটি ডলারে ঋণঃ ভারতের সিদ্ধান্তই চুড়ান্ত  ট্রেন দুর্ঘটনাঃ চালকের ভুল নাশকতারও গন্ধ!  ‘যুদ্ধ’ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা উইকিলিকস সমর্থকদের  কানকুনঃ মুমূর্ষু পৃথিবীর নিষ্ঠুর মানুষ  নারীর হার-নারীর জিত, বেগম রোকেয়া প্রাসঙ্গিক  সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার মধ্যে দুর্নীতির বীজ লুক্কায়িত  বরুণ রায়—কিংবদন্তিতুল্য এক ব্যক্তিত্ব  মুক্তির গান  এক-এগারোর জুজুটাকে হিমাগারে পাঠান  জব্দকৃত অর্থ ফিরিয়ে দিয়ে জাতীয় অর্থনীতিতে জাগরণ সৃষ্টি করুন  সংসদীয় গণতন্ত্রের গল্পসল্প  রাষ্ট্রীয় সমাজে চিন্তা করার স্বাধীনতার প্রয়োজন  বাঙালের জলবায়ু দর্শন: ইঁদুরই কি শ্রেষ্ঠ জীব  প্রকৃতি- পাহাড়টির সঙ্গে ধ্বংস হবে ঐতিহ্যও  স্মরণ- আজও প্রাসঙ্গিক বেগম রোকেয়া  আলোচনা- উইকিলিকসঃ জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের ত্রিমুখী সংগ্রাম  মুক্তিযুদ্ধ- মুজিব বললেনঃ তোমাদের এখনই ঢাকা ত্যাগ করা উচিত  আলোচনা- ডিজিটাল-প্র্রযুক্তিই মানুষকে আরও বেশি মানবিক করে!


দৈনিক প্রথম আলো এর সৌজন্যে
লেখকঃ শওকত চৌধুরী


এই গল্প'টি পড়া হয়েছে...
free counters

No comments

Powered by Blogger.