বীমা খাতের ১৫ হাজার কোটি টাকা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের প্রস্তাব by আবু কাওসার

বীমা খাতের পুঞ্জীভূত তহবিল (লাইফ ফান্ড) শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের প্রস্তাব করেছেন বীমা কোম্পানির মালিকরা। পুঁজিবাজার চাঙ্গা করতে এ সংক্রান্ত প্রস্তাবনা সম্প্রতি নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (এসইসি) পেশ করা হয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা অনুমোদনের পর একটি নীতিমালা তৈরি করা হবে। ওই নীতিমালার আলোকে পুঁজিবাজারে লাইফ ফান্ডের টাকা খাটানো হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।বর্তমানে বীমা খাতে লাইফ ফান্ডের পরিমাণ ১৫ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। দেশের ১৭টি জীবন বীমা কোম্পানির কাছে বিপুল পরিমাণ এ টাকা অলস পড়ে আছে। প্রতি বছর ২০ শতাংশ হারে এ তহবিলের পরিমাণ বাড়ছে।


আগামী ২০১৩ সালের মধ্যে তহবিলের পরিমাণ ২০ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়াবে। সম্প্রতি বীমা কোম্পানির মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের এক সভায় লাইফ ফান্ডের টাকা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। ওই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও সন্ধানী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহসানুল ইসলাম টিটুর নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। লাইফ ফান্ডের অর্থ কীভাবে বিনিয়োগ করা যাবে সে বিষয়ে একটি নীতিমালা তৈরি করার দায়িত্ব দেওয়া হয় কমিটিকে। কমিটি তাদের কাজ শুরু করেছে। সূত্র জানায়,সম্প্রতি কমিটির পক্ষ থেকে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসির সঙ্গে দেখা করে লাইফ
ফান্ডের টাকা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের প্রস্তাব করা হয়েছে। তাদের দেওয়া প্রস্তাবনায় প্রাথমিক শেয়ারে বিনিয়োগের কথা বলা হয়েছে। বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখছে এসইসি।
কমিটির একটি সূত্র জনায়, কোম্পানিগুলো লাইফ ফান্ডের টাকা প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, লাইফ ফান্ডের টাকা দিয়ে বীমা গ্রহীতার দাবি নিষ্পত্তি করা হয়। কাজেই বিনিয়োগ এমনভাবে করতে হবে যাতে বীমা গ্রহীতার স্বার্থ সংরক্ষিত হয়। বর্তমানে সেকেন্ডারি মার্কেটে শেয়ার বিনিয়োগ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এ অবস্থায় কোনো কোম্পানি তার লাইফ ফান্ডের টাকা এখানে বিনিয়োগ করতে চাইবে না। অপরদিকে, আইপিওতে বিনিয়োগ ঝুঁকির আশঙ্কা কম থাকে। আইপিওতে কোটা বরাদ্দ রাখা হলে লাইফ ফান্ডের একটি অংশ বীমা কোম্পানিগুলো এখানে বিনিয়োগ করতে পারে। এখন এসইসি অনুমোদন দিলে আমরা কাজ শুরু করতে পারি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইন্স্যুরেন্স রেগুলেটরি অথরিটির চেয়ারম্যান এম শেফাক আহমেদ (অ্যাকচুয়ারি) সমকালকে বলেন, লাইফ ফান্ডের টাকা পলিসি হোল্ডারদের দাবি মেটানোর জন্য। কাজেই ওই টাকা এমনভাবে বিনিয়োগ করতে হবে, যাতে কোনো ক্ষতি না হয়। আইপিওতে বীমা কোম্পানির বিনিয়োগ প্রস্তাবটি ভালো। কেননা, এখানে বিনিয়োগ করলে ঝুঁকি কম। বেসরকারি বীমা কোম্পানি প্রোগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএ করিম বলেন, লাইফ ফান্ডের পুরো টাকাই বীমা গ্রহীতাদের। কাজেই তাদের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য ওই টাকার নিশ্চয়তা দিতে হবে। আমাদের কাছে দুটো বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। নিরাপদ বিনিয়োগ এবং ভালো মুনাফা। এই দুটো বিষয় নিশ্চিত করতে পারলে টাকা দিতে কোনো অসুবিধা নেই। তিনি বলেন, আইপিওতে বিনিয়োগ ঝুঁকিমুক্ত। এ বিষয়ে এসইসির কাছে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখছে।
বর্তমানে বীমা কোম্পানির লাইফ ফান্ডের টাকা সরকারি ট্রেজারি বন্ড এবং সরকার অনুমোদিত সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ করার বিধান রয়েছে। এর মধ্যে ফান্ডের ৩০ শতাংশ অর্থ কমপক্ষে ট্রেজারি বন্ডে বাধ্যতামূলক বিনিয়োগের বিধান রয়েছে। তবে ফান্ডের সামান্য কিছু অংশ রিয়েল এস্টেটসহ অন্যান্য খাতে বিনিয়োগ করছে কোনো কোনো কোম্পানি। বীমা উদ্যোক্তারা বলেছেন, ট্রেজারি বন্ডে সুদ খুবই কম হওয়ায় কোম্পানিগুলো ভালো মুনাফা পাচ্ছে না। এ প্রসঙ্গে প্রোগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির এমডি এমএ করিম বলেন, আইপিওতে লাইফ ফান্ডের টাকা বিনিয়োগের সুযোগ দিলে অনেকেই এখানে বিনিয়োগে এগিয়ে আসবেন। এতে শেয়ারবাজার চাঙ্গা হবে।

No comments

Powered by Blogger.